ইতিহাস ও ঐতিহ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইতিহাস ও ঐতিহ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২১ মে, ২০১৩

হাজার বছরের চট্টগ্রাম – টাইমলাইন

চট্টগ্রামের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। তাই এই শহরটা ঐতিহ্যে ভরপুর। অনলাইনে কিছু টুকটাক গবেষনা করে কিছু ইন্ফরমেশন বের করলাম। শেয়ার করার মত একটা টাইমলাইন পেলাম। হাজার বছরের চট্টগ্রামের একটা টাইমলাইন। চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য ইতিহাসগুলো তুলে ধরা হয়েছে। শেয়ার করুন, জানুন আর অবাক হোন!

হাজার বছর ধরে : ঘটনাপঞ্জি

সময়কাল
বর্ণনা
৬-৭ শতক বর্মী ইতিহাস-পঞ্জি অনুসারে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ রাজাদের শাসনাধীন ছিল।
৯৫৩-৯৫৭ আরাকান রাজা ছুলা-তাইং-ছন্দ্র চট্টগ্রাম অধিকার ও শাসন করেন।
১০ শতক আরব বণিকদের চট্টগ্রাম আগমনের সূচনা।
১১ শতক অনরহ্তা (১০৪৪-৭৭) নামে একজন বর্মী রাজা চট্টগ্রামে আসেন।
১১৫৩ আরব ভৌগোলিক আল-ইদ্রিসি চট্টগ্রামে আসেন বলে ধারণা।
১২৪৩ ত্রিপুরার মহারাজ দামোদর দেব ১২৪০-এর দিকে চট্টগ্রামে রাজত্ব করেন। তারনামাঙ্কিত ১২৪৩ সালের তাম্রশাসন থেকে এর সমর্থন মেলে।
১২৯১-৯২ ইতালীয় পরিব্রাজক মার্কো পোলোর চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন।
আনু. ১৩৪০ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে সেনাপতি কদল খাঁ গাজী আরাকানিদেরবিতাড়িত করেন। চট্টগ্রামে সর্ব প্রথম মুসলিম শাসন কায়েম।
১৩৪৫-৪৬ আরব বিশ্ব পর্যটক ইবনে বতুতার চট্টগ্রাম সফর ।
১৩৫০ সমুদ্র পারের খুব সুন্দর স্থান হিসেবে চট্টগ্রামের পরিচিতি লাভ ।
১৪০০ চীন সম্রাটের একজন দূত ৬০টি বড় বড় জাহাজ নিয়ে যোগাযোগ ও বাণিজ্য করতে চট্টগ্রাম আগমন।
১৪০০ ভেনিসীয় পর্যটক নিক্কোলো দে কন্তি চট্টগ্রাম হয়ে আরাকান ভ্রমণ করেন।
১৫ শতক আরাকান রাজ্যের সঙ্গে চট্টগ্রামের সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়।
১৪০৬ চীনা বিবরণকার মা হুয়ান চট্টগ্রাম সফর করেন।
১৪১৫ একটি চীন রাজপ্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে আসেন। ঐ দলে বিখ্যাত চীনা বিবরণ লেখক মা হুয়ানও ছিলেন।
১৪১৭ রাজা গণেশ ওরফে দনুজ মর্দন দেব-এর নামাঙ্কিত ১৪১৭ সালের একটি মুদ্রায় ‘চাটিগ্রাম’ নাম খোদিত দেখা যায়।
১৪১৭ চট্টগ্রাম ছিল রাজা মহেন্দ্র দেবের অধিকারে।
১৪৭৪ রাস্তি খান হাটহাজারিতে সমজিদ নির্মাণ করেন।
১৪৮৭ জয়চন্দ্র চক্রশালার অধিপতি হন।
১৬ শতক এই শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের রাজা আলাউদ্দিন হুসেন শাহ, ত্রিপুরার রাজা ধন্যমাণিক্য ও আরাকানের রাজা মিনুয়াজা- এ তিন শক্তির ত্রিমুখী লড়াই চলে চট্টগ্রামকে করায়ত্ত করার জন্য।
১৫০৫ জালাল হালভি চট্টগ্রাম সফল করেন।
১৫১৩ ত্রিপুরার রাজা ধন্যমাণিক্য চট্টগ্রাম অধিকার করেন।
১৫১৩ গৌড়েশ্বর হোসেন শাহ চট্টগ্রামের উত্তরাংশ দখল করেন।
১৫১৩-১৭ চট্টগ্রামের অধিকার নিয়ে ধন্যমাণিক্য ও হোসেন শাহের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলে।
১৫১৭-১৮ হোসেন শাহ সমগ্র চট্টগ্রাম ও আরাকানের উত্তরাংশ করায়ত্ত করেন।
১৫১৭ পর্তুগিজ ক্যাপটেন জোয়া দা সিলভেইরা প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরে তার ‘লুপু সোয়ান’ জাহাজ ভেড়ান।
১৫২২ ত্রিপুরা-রাজ দেবমাণিক্য চট্টগ্রাম অধিকার করেন।
১৫২৪ হোসেন শাহের পুত্র নসর উদ্দিন নসরত শাত চট্টগ্রাম জয় করেন।
১৫২৬ পর্তুগিজ ক্যাপ্টেন সাজ পেরেইরা চট্টগ্রাম সফর করেন।
১৫৩৩ পর্তুগিজ ক্যাপ্টেন আলফনসো দে মেল্লো চট্টগ্রাম আসেন এবং পাঠান প্রশাসক হামজাখানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৫৩৭ সুলতান মাহমুদ শাহ শেরশাহের বিরুদ্ধে পর্তুগিজদের সমর্থন আদায়ের জন্য নানোফার্নান্দেজ ফ্রেইরেকে চট্টগ্রামের শুল্ক ভবনের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত করেন। এবং পর্তুগিজদের চট্টগ্রামে কারখানা নির্মাণের অনুমতি দেন।
১৫৩৮-৪৫ চট্টগ্রাম ছিল সম্রাট শেরশাহের অধীনে।
১৫৩৮-৮০ চট্টগ্রাম ছিল মূলত আফগান শামসাধীন।
১৫৪২ আরাকানরাজ চান্দিলা রাকাকে চট্টগ্রামের শাসক নিযুক্ত করেন।
১৫৫৪ তুর্কি সুলতান প্রেরিত নৌ-অধ্য ক্যাপটেন সিদি আলী চেহেলভির চট্টগ্রাম আগমন।
১৫৫৫ মাহমুদ খান চট্টগ্রাম অধিকার করেন।
১৫৫৬ ত্রিপুরার রাজা বিজয় মাণিক্য চট্টগ্রাম আক্রমণ করে সাময়িকভাবে দখল করে নেন। ১৫৬৬ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ত্রিপুরা অধিকার বলবৎ থাকে।
১৫৬০-৮১ চট্টগ্রাম বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করে।
১৫৬৭ সিজার ফ্রেদেরিকো চট্টগ্রাম সফর করেন।
১৫৬৭ চট্টগ্রামের শাসক নরসত খান আরকানিদের হাতে নিহত হন।
১৫৭৩ দাউদ কররানি চট্টগ্রাম অধিকার করেন।
১৫৮১-১৬৬৬ চট্টগ্রাম মূলত ছিল আরাকান রাজাদের শাসনাধীন।
১৫৮৫ রেলফ ফিচ চট্টগ্রামে অবস্থান করেন।
১৫৮৫ পর্তুগিজদের সাহায্য নিয়ে আরাকানরাজ পুনরায় চট্টগ্রাম করায়ত্ত করেন।
১৫৮৫-১৭৬০ চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল ও জলভাগে পর্তুগিজদের কর্তৃত্ত বজায় ছিল।
১৫৯০ আন্তেনিও গোদিনহোর নেতৃত্বে ভাড়াটে পর্তৃগিজ সেনারা সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম দখল।
১৫৯৯ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা বৌদ্ধ ধর্মপন্ডিত মহাপিন্ন্যগ্য-র মৃত্যু।
১৬০১ চট্টগ্রাম থেকে মিন রাজাগী-র মুদ্রা চালু করা হয়।
১৬০২ কারভালহো-র নেতৃত্বে পর্তুগিজরা সন্দ্বীপ দখল করে এবং চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে।
১৬০২ পর্তুগিজরা চট্টগ্রামের শাসনকর্তা আরকান রাজার সভাসদ সিনাবাদিকে হত্যা করে।
১৬০৫ অধিকৃত জায়গা থেকে পর্তুগিজদের উচ্ছেদ করা হয়। এবং আরকানরাজ সন্দ্বীপপুনর্দখল করেন।
১৬০৭ ফরাসি পরিব্রাজক ডি লাভাল চট্টগ্রামে অবস্থান করেন।
১৬১৪ মেং সোয়া পিউ চট্টগ্রামের শাসক নিযুক্ত হন।
১৬১৬ কাসিম খানের চট্টগ্রাম দখল অভিযান ব্যর্ত হয়।
১৬২১ ইব্রাহিম খানের চট্টগ্রাম দখল অভিযান ব্যর্ত হয়।
১৬২৮ রাজ-বিদ্রোহী আরকান সেনাপতি মুকুট রায় চট্টগ্রাম দখল করেন এবং দিল্লির সম্রাটের কাছে একে হস্তান্তর করেন।
১৬৩০-৩৪ পর্তুগিজ মিশনারি পাদ্রি ম্যানরিক চট্টগ্রামে অবস্থান করেন।
১৬৬০ সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা বর্মা পলায়নকালে চট্টগ্রাম-এর ওপর দিয়ে যান।
১৬৬৬ শায়েস্তা খানের সেনাবাহিনী আরাকানের রাজাদের হাত থেকে চট্টগ্রাম ছিনিয়ে নিলে এখানে মোগল আদিপাত্য বিস্তৃত হয়। নওয়াব বুজুর্গ উম্মেদ খান চট্টগ্রামের প্রথম তোগল ফৌজদার (জেলা-অধিকর্তা) নিযুক্ত হন। এই সময় চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
১৬৬৯ আন্দরকিল্লায় জামে সমজিদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
১৬৮২ হামজা খানের সমজিদ নির্মিত হয়।
১৬৮৫ অ্যাডমিরাল নিকলসন চট্টগ্রাম অধিকারের প্রচেষ্টা চালান।
১৬৮৮ কমান্ডার হিথ চট্টগ্রাম দখলের প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।
১৭১৩ ওয়ালি বেগ খান চট্টগ্রামে সমজিদ নির্মাণ করেন।
১৭১৯/১৭২৩ মোগল শাসক এয়াসিন খান কদম মোবারক সমজিদ নির্মাণ করেন।
১৭৪৭ প্রথম ফরাসি ফ্যাক্টরি বিল্ডিং নির্মিত হয়।
১৭৫১ ফরাসিরা নোতরদাম-দে-গার লুপ আ কঁ কঁ নামে একটি উপাসনালয় নির্মাণ করে।
১৭৬০ ২৭ সেপ্টেম্বরের সন্ধির শর্ত অনুসারে মির কাশিম মেদিনীপুর ও বর্ধমানের সঙ্গে চট্টগ্রামকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেন। চট্টগ্রামের চিফ হয়ে আসেন হেরি ভেরেলেষ্ট। তাঁর সঙ্গে আসেন কাউন্সিল সদস্য টমাস রামবোল্ড ও বেন ডলফ। এঁদের সঙ্গে সহকারী হিসেবে আসেন ওয়ালটার উইলফেস ও দেওয়ান হিসেবে আসেন গোকুলচন্দ্র ঘোষল।
১৭৬১ ৫ জানুয়ারি: হেরি ভেরেলেস্ট চিফ হিসেবে নাবাব রেজা খাঁ-র কাছ থেকে ইসলামবাদের (চট্টগ্রামের) দায়িত্ব ভার বুঝে নেন।
১৭৬১ চট্টগ্রামে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনি প্রথম কারখানা নির্মাণ করে।
১৭৬৫ চট্টগ্রামে প্রথম জরিপ কাজ শুরু হয়।
১৭৭২ রাজস্ব বোর্ড গঠন করা হয়।
১৭৭৪ ১২ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে দাস প্রথা রহিত হয়।
১৭৭৭ নভেম্বর: চট্টগ্রামের পার্বত্য প্রদেশে বসবাসরত কুকি উপজাতীয়দের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়।
১৭৭৮ চট্টগ্রাম-ঢাকা সড়কের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায়।
১৭৮৫ বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ স্যার উইলিয়াম জোনস চার মাস চট্টগ্রামে অবস্থান করেন।
১৭৯০ ২৮ আগস্ট: চট্টগ্রামে কোর্ট অব ওয়ার্ডস প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৭৯১ [কদম মোবারক সমজিদ] নির্মিত হয়।
১৭৯৩ বিচারপতি স্যার এলিজাহ ইস্পেই চট্টগ্রাম সফর করেন।
১৭৯৪ চট্টগ্রাম ও কলকাতার মধ্যে প্রথম দৈনন্দিন ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়। কলকাতা থেকে ৬ দিনে চিঠি আসতে থাকে।
১৭৯৮ ক্যাপ্টেন কক্স কক্সবাজার প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮৩৬ জানুয়ারিতে প্রথম ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই স্কুলটিই পরবর্তীকালে বর্তমান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিত।
১৮৩৯ ডিসেম্বর ২৪: চট্টগ্রামে প্রথম গির্জা স্থাপিত হয়।
১৮৪০ ব্রিটিশ রাজ্যের পে এ স্কোনস পাইওনিয়ার টি গার্ডেন স্থাপন করলে চট্টগ্রামে প্রথম চা-আবাদের সুচনা হয়।
১৮৪১ সবচেয়ে প্রাচীন ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেন্ট প্লাসিডস স্কুল স্থাপিত হয়।
১৮৫৪ মহকুমা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মহকুমা গঠিত হয়।
১৮৫৪-৫৬ কলকাতা থেকে সড়ক পথে বার্মা যাওয়ার সুবিধার জন্য ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড নতুনভাবে নির্মিত হয়।
১৮৫৭ ১৯ নভেম্বর: ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ‘সিপাহি বিদ্রোহে চট্টগ্রাম তিনটি সামরিক কোম্পানি অংশ নেয় এবং তেরজুরি লুট হয়।
১৮৬০ জুন ২০ চট্টগ্রাম পৌরসভা বা মিউনিসিপালটির যাত্রা শুরু ; আগস্ট: পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়।
১৮৬১ কুকি উপজাতীয় সর্দার রতন পাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযান।
১৮৬৩ ১ জুন মিউনিসিপ্যাল কমিটি সংগঠিত হয়।
১৮৬৯ এপ্রিল ১: কক্সবাজার টাউন কমিটি গঠিত হয়।
১৮৬৯ প্রথম কলেজ স্থাপিত হয়। এটিই পরবর্তীকালে বর্তমান চট্টগ্রাম কলেজের রূপ নিয়েছে।
১৮৭১ কুকি হামলা।
১৮৭৪ চট্টগ্রাম মাদ্রসা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে তা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং বর্তমানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ নামে পরিচিত।
১৮৭৫ জানুয়ারি ২৯: চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের জম্ন হয়। কমলাকান্ত সেন ছিলেন প্রথম সভাপতি।
১৮৭৬ চট্টগ্রাম কলেজ স্থাপিত হয়।
১৮৭৬ ভয়াবহ সাইকোন হয় এবং কলেরায় ১৫ হাজার লোক মারা পড়ে।
১৮৭৮ ২৩ আগষ্ট: চট্টগ্রাম ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৭৮ ডা: খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
১৮৮৪ চট্টগ্রাম জেলা বোর্ড গঠিত হয়।
১৮৮৫ কাজেম আলী স্কুল স্থাপিত হয়।
১৮৮৬ এপ্রিল ১৪: নব বিধান ব্রাহ্মমন্দির নির্মিত হয়।
১৮৮৬ সীতাকুন্ড পাহাড়ে প্রস্তর যুগের অশ্মীভুত কাঠের কৃপাণ আবিস্কৃত হয়।
১৮৮৭ মে ৩: চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডের কাজ আরম্ভ হয়।
১৮৮৭ চট্টগ্রাম বন্দর কমিশনের বোর্ড গঠিত হয়।
১৮৮৮ কুকি হামলা।
১৮৯০ কুকিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযান পরিচালনা।
১৮৯২ ডিসেম্বর ২৮: চট্টগ্রামে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
১৮৯৩ বন বিভাগের প্রধান কার্যালয় রাঙ্গামাটি থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হয়।
১৮৯৪ চট্টগ্রাম আদালত ভবন নির্মিত হয়।
১৮৯৫ জুলাই ১: চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপিত হলে বাস্পচালিত রেল ইঞ্জিন কুমিল্লা অভিমুখে প্রথম যাত্রা মুরু করে।
১৮৯৫ নভেম্বর ৩: চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত রেল পথের সূচনা হয়।
১৮৯৭ চট্টগ্রাম ঘুর্ণিঝড় ও মারাত্মক কলেরার কবলে পড়ে এবং কলেরায় ২১ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।
১৮৯৭ মার্চ ১৭: চট্টগ্রামের কমিশনার সি, স্ক্রিন নতুন হাসপাতালের দ্বার উন্মুক্ত করেন।
১৮৯৯ সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য প্রথম জেটি নির্মাণ করা হয় এবং তা যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বাস্পচালিত জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে শুরু করে।
১৯০০ মার্চ ১৩: শ্যামাকান্ত (শ্রীমৎ সোহং স্বামী) চট্টগ্রামে তাঁর সার্কাস প্রদর্শন শুরু করেন।
১৯০১ প্রথম পাবলিক হাসপাতাল (চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০২ সীতাকুন্ডে পানির কল স্থাপিত হয়।
১৯০৩ চট্টগ্রাম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৪ জানুয়ারী: চট্টগ্রামে বাকল্যান্ড হল পাবলিক লাইব্রেরি নামে প্রথম সাধারণ পাঠাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এর নাম হয় মিউনিসিপ্যাল পাবলিক লাইব্রেরি। বর্তমানে এটি সিটি কর্পোরেশন গ্রন্থাগার নামে পরিচিত।
১৯০৪ জানুয়ারি ১৭: চট্টগ্রামকে আসামের অন্তর্ভুক্ত করায় বিরাট প্রতিবাদ সভা হয়।
১৯০৪ জুলাই ২০: রঙ্গমহাল হিলে তুলা গাছের নিচে ধ্যানী বুদধমুর্তি পাওয়া যায়। সেটি পরে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৪ ১৬ ফেব্র“য়ারি: লর্ড কার্জন চট্টগ্রামে পূর্বাঞ্চলের (আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে লাইন) ৭৪০ মাইল রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা (চট্টগ্রাম থেকে আপার আসাম পর্যন্ত) উদ্ধোধন করেন।
১৯০৫ আগষ্ট ৭: বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাব চট্টগ্রামেও বিস্তৃত হয়।
১৯০৫ অক্টোবর ২৯: রেল কর্মকর্তা মি. জেমস চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম মোটর কার চালান।
১৯০৫ ডিসেম্বর ১১: ঘোড়া গাড়ির ধর্মঘট হয়।
১৯০৫ লেফটেনান্ট গভর্নর মি. ফুলার প্রদেশের গভর্নর হয়ে চট্টগ্রাম আসেন এবং ঘোড়ায় চড়ে হাসপাতাল, কলেজ, স্কুল পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের বড় সভায় স্থির হয় যে ফুলার সাহেবকে অভিনন্দন জানানো হবে না।
১৯০৬ জানুয়ারি ১২: মাইজভান্ডারের প্রসিদ্ধ ফকির আহমদ উল্লাহ সাহেব পরলোকে গমন করেন।
১৯০৬ মার্চ ১৫: স্বদেশী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিদেশী কাপড়, লবণ ও চিনি বর্জন আন্দোলন শুরু হয়। স্বদেশী সঙ্গীতসহ শোভাযাত্রা ও সভা-সমিতির সূত্রপাত হয়।
১৯০৬ নভেম্বর ২৭: সাপ্তাহিক ‘পঞ্চজন্যৎ পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে।
১৯০৭ জুন ১৭: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চট্টগ্রাম শুভাগমন। জুন ২৮: কমল বাবুর থিয়েটার হলে (সদরঘাটস্থ বিশ্বম্ভর ভবন) রবীন্দ্রনাথ বক্তৃতা করেন। আগষ্ট ২: চট্টগ্রামে আর্যসঙ্গীত সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৯ মুসলিম হাই স্কুল স্থাপিত হয়।
১৯১১ আগষ্ট ১৫: চট্টগ্রাম সাহিত্য পরিষদ গঠিত হয়।
১৯১২ এপ্রিল ৭: বঙ্গীয় প্রাদেশিক সন্মেলনের অধিবেশন হয় চট্টগ্রামে। সভাপতিত্ব করেন এ. রসুল।
১৯১২ আগষ্ট ১: বাংলার প্রথম গভর্নর লর্ড কারমাইকেল সস্ত্রীক চট্টগ্রামে আসেন।
১৯১৩ চট্টগ্রাম সর্কিট হাউস নির্মিত হয়।
১৯১৩ মার্চ ২২-২৩: বঙ্গীয় সহিত্য সম্মিলনের অধিবেশন হয়। সভাপতিত্ব করেন অয়কুমার সরকার। হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যােিনাদ, বিহারীলাল সরকার, বিপিনচন্দ্র পাল, বিনয়কুমার সরকার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত প্রমুখ সাহিত্যিক এতে যোগ দেন।
১৯১৩ দারুল উলুম মাদ্রাসা স্থাপিত হয়।
১৯১৫ ২৬ মার্চ: টাউন হল বিল্ডিং কমিটি গঠিত হয়।
১৯১৫ পুলিশ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৬ শহরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সূচনা হয়।
১৯১৬ লর্ড কারমাইকেল চট্টগ্রামে আসেন।
১৯১৮ বঙ্গীয় মুসলমান শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯১৮ বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি ছিলেন মওলানা আকরাম খাঁ।
১৯১৮ বঙ্গীয় মুসলমান ছাত্র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি ছিলেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
১৯১৯ নভেম্ভর ২৯: সকাল ১১.৪৫ মিনিটে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামের আকাশে বিমান উড়তে দেখা যায়।
১৯১৬ নভেম্ভর ১৯: রায় শরৎচন্দ্র দাস বাহাদুর টাউন হলের ভিত্তি স্থাপন করেন। হলের নামকরণ করা হয়: যাত্রামোহন সেন হল।
১৯২০ ফেব্র“য়ারি ৮: নবীনচন্দ্র দত্ত রায় বাহাদুর যাত্রামোহন সেন হলের দ্বার উন্মোচন করেন।
১৯২০ ফেব্র“য়ারি ১১: চট্টগ্রামের কষি ও শিল্প প্রদর্শনী খোলা হয়।
১৯২০ চট্টগ্রাম অসহযোগ আন্দোলনের প্রবল ঢেউ বয়ে যায়।
১৯২০ চট্টগ্রাম শহরে মোটরগাড়ি চলাচল শুরু করে।
১৯২১ প্রবর্তক সংঘ স্থাপিত হয়।
১৯২৪ চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারি পর্যন্ত ভাড়াটে ট্যাক্সি চলাচল শুরু করে।
১৯২৪ চট্টগ্রামে ব্রতী বালক বা বয় স্কাউট সংঘঠনের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯২৪ ফয়’জ লেক নামে পরিচিত কৃত্রিম-হ্রদটি তৈরি করা হয়।
১৯২৫ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল স্কুল চালু হয়। রেলওয়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২৫ মুসলিম হল প্রতিষ্ঠিত হয় আন্দরকিল্লা এলাকায়। ১৯৫৩ সালে কে সি দে রোডে বর্তমান মুসলিম ইনস্টিটিউট হল নির্মিত হয়।
১৯২৫ চট্টগ্রাম পৌরসভা চট্টগ্রাম শহরে ছেলেদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করে। ১৯২৮ সালে তা বাধ্যতামূলক করা হয় এবং ১৯৩৩ সালে মেয়েদের প্রাথমিক শিা বাধ্যতামূলক করা হয়
১৯২৬ ব্রিটিশ সরকার চট্টগ্রামকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
১৯২৬ চট্টগ্রামে নিয়মিত চলচিত্র প্রদর্শন শুরু হয়।
১৯২৬ জুলাই: কবি কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে আসেন। এরপর তিনি ১৯২৯ ও ১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম এসেছিলেন।
১৯২৬ সরোজিনী নাইডু চট্টগ্রাম সফর করেন।
১৯২৭ আনোয়ারার ঝিয়রী গ্রামে ৬১টি বুদ্ধমুর্তিসহ সপ্তম ও দশম শতকের বহু পুরাকীর্তি আবিস্কৃত।
১৯২৭ মার্চ ২৩: চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালূ হয়।
১৯২৮ চট্টগ্রামে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিা প্রবর্তিত হয়।
১৯২৯ চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারি পর্যন্ত রেলপথ চালু হয়। পরের বছর তা নাজিরহাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়।
১৯৩০ ১৮ এপ্রিল মাষ্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ ও সশস্ত্র অভ্যুঙ্খান সংঘটিত হয়।
১৯৩১ ৪ জুন: কর্ণফুলী নদীর উপরে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু উদ্বোধন করা হয়।
১৯৩৩ রাউজান সাহিত্য সন্মেলনে কবি নজরুল ও আবদুল কাদির প্রমুখ অংশ নেন।
১৯৩৪ চট্টগ্রামে প্রথম হোমিওপ্যাথিক কলেজ স্থাপিত হয়।
১৯৩৪ সেপ্টেম্বর ২: চট্টগ্রাম সাহিত্য মজলিশ গঠিত হয়।
১৯৩৭ নভেম্বর: ইংলন্ডের ইলিংটন কোরিস্থিয়ান দল চট্টগ্রামে ফুটবল খেলতে আসে। চট্টগ্রাম বাছাই একাদশের সঙ্গে তাদের খেলা হয়।
১৯৩৭ চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গঠিত হয়।
১৯৩৭ চট্টগ্রামে পূরবী সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৩৮ প্রথম কাপড়ের কল চালু হয়।
১৯৩৯ স্যার আশুতোষ কলেজ, কানুনগোপড়া স্থাপিত হয়।
১৯৩৯ ধলঘাটে চট্টগ্রাম জেলা কৃষক সমিতির প্রথম সম্মেলন হয়।
১৯৪১ ব্রিটিশ রাজ্যের যুদ্ধবিমান ব্যবহারের জরুরি প্রয়োজনে রাতারাতি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর স্থাপিত হয়।
১৯৪২ মে: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে সর্বপ্রথম পতেঙ্গা বিমন বন্দর ও চট্টগ্রামে বোমা বর্ষিত হয়।
১৯৪৩ মহামন্বম্ভরের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম।
১৯৪৫ ব্রিটিশ পাইওনিয়ার কের কাহার পাড়ায় গণ-নির্যাতন চালায়।
১৯৪৭ ভারত বিভাগের ফলে চট্টগ্রাম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৪৭ চট্টগ্রাম শহরের সড়কে প্রথম সাইকেল রিকশার চলাচল আরম্ভ হয় এবং শহরের প্রথম বাস-সার্ভিস চালু হয়।
১৯৪৭ চট্টগ্রাম বাণিজ্য কলেজ-এর কার্যাক্রম শুরু হয়।
১৯৪৮ হজ্বযাত্রীদের জন্য প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহার শুরু হয়।
১৯৪৯ চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল স্থাপিত হয়।
১৯৫১ সিভিল ডিফেন্স বা নাগরিক প্রতিরা সংগঠন গঠিত হয়।
১৯৫১ মার্চ ১৬-১৯: শহরের হরিখোলার মাঠে প্রথমবারের মতো সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫৩ চট্টগ্রামে ইনফুয়েঞ্জার প্রকোপ দেখা দেয়।
১৯৫৪ ২২ জুন সার্কিট হাউসে জরুরি উপগ্রহ রেডিও স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে প্রথম বেতার সম্প্রচর শুরু হয়।
১৯৫৪ অক্টোবর: সাপ্তাহিক ‘জমানা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সম্পাদক: মাহবুব-উল আলম।
১৯৫৭ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৭ গার্লস কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৭ নভেম্বর: চট্টগ্রাম আইন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৮ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ স্থাপিত হয়।
১৯৫৮ চিটাগাং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। সভাপতি হন মাহবুব-উল আলম।
১৯৫৯ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়।
১৯৫৯ বন্দর হাসপাতাল স্থাপিত হয়।
১৯৬০ ওয়াজিউল্লাহ ইনস্টিটিউটে নজরুল হীরক জয়ন্তী উদযাপিত হয়।
১৯৬০ ১ জুলাই: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপ গঠিত হয়।
১৯৬০ সেপ্টেম্বর ৫: দৈনিক আজাদী প্রথম প্রকাশিত হয়।
১৯৬০ প্রলয়ংকরী মহাঘুর্ণিঝড়ে বিপুল জানমালের ক্ষতি হয়।
১৯৬১ সেন্ট্র প্লাসিডস স্কুল প্রাঙ্গণে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উযাপিত হয়।
১৯৬২ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়।
১৯৬২ অটোরিকশা (বেবিট্যাক্সি) প্রথম চালূ হয়।
১৯৬২ সেপ্টেম্বর ৩: মেরিন একাডেমি স্থাপিত হয।
১৯৬২ জুলাই: চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হয়।
১৯৬৩ লায়ন্স দাতব্য চুক্ষু হাসপাতাল স্থাপিত হয়।
১৯৬৩ মার্চ ১: আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়।
১৯৬৩ নভেম্বর: পানি ও পয়:নিঙ্কাশন কর্তৃপ (ওয়াসা) গঠিত হয়।
১৯৬৩ ডিসেম্বর ২০: চট্টগ্রাম গণ-গ্রস্থাগারের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৬৪ এপ্রিল ১০: মুসলিম হলে কবিয়াল রমেশ শীলকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ৪৫৮টি দোকান বিশিষ্ট চট্টগ্রাম বিপনি বিতান বা নিউমার্কেট চালু হল।
১৯৬৫: জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর স্থাপিত হয়।
১৯৬৫: ফৌজদারহাট যক্ষ্মা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬৬ নভেম্বর ১৮: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
১৯৭১ মার্চ ২৩-২৪: সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানি অস্ত্র নামানোর বিরুদ্ধে শ্রমিক জনতার রক্তয়ী প্রতিরোধ।
১৯৭১ ২৬ মার্চ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালূ হয়।
১৯৭৯ চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮০ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন পরিচালিত ইসলামিক পাঠাগার স্থাপিত হয়।
১৯৮১ ৩০ মে: রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুথানকরীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন।
১৯৮৩ চট্টগ্রামে দেশের প্রথম রপ্তনি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল স্থাপিত হয়।
১৯৮৮ জানুয়ারী ২৪: ম্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্রকামী ছাত্র-জনতার মিছিলে জঙ্গি পুলিশের অবিরাম গুলিবর্ষণে ঘৃণ্যতম বর্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়। এত প্রাণ হারান ২২ জন এবং আহত হন পাঁচ শতাধিক।
১৯৮৯ ফেব্রুয়ারী ২৮: চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা চালু হয়।
১৯৮৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের প্রথম বিজয় মেলার সূচনা হয় চট্টগ্রামে।
১৯৯০ জুলাই ৩১: চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত। বাংলাদেশের প্রথম বিজয় মেলার সূচনা হয় চট্টগ্রামে।
১৯৯১ এপ্রিল ২৯: শতাব্দীর ভয়াবহতম প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের কবলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চল। ১ ল ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং শত শত কোটি টাকার সম্পদ হানি হয়।
১৯৯৩ সেপ্টেম্বর ৬: চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়া স্মৃতি যাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।
১৯৯৪ নভেম্বর ২৮: চট্টগ্রাম শিশুপার্ক উদ্বোধন করা হয়।         
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২৭ জুন, ২০১২

আমার সংগ্রহে থাকা কিছু দুর্লভ ছবির কালেকশন …. ইতিহাস কথা বলে


ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান এবং জয়নুল আবেদিন , ঢাকা (১৯৫৫)


১৯৪৩ এর মনন্তর

বঙ্গবন্ধু এভিনিউ (তৎকালীন জিন্নাহ এভিনিউ ) , ১৯৬৯

রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে হত্যাযজ্ঞ (১৯৭১)

মুচির দল (১৮৬০)

৬৯ এর গন অভ্যুথান (১৯৬৯)

ব্রিটিশ অভিজাত পরিবারের রাজকীয় মিলনমেলা , রেসকোর্স (১৮৯০)

আদমজী জুট মিল (১৯৫৪)

ভারত অভিমুখে বাংলাদেশী শরনারথী, কুমিল্লা (১৯৭১)

ইন্দিরা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু , ঢাকা (১৯৭২)

বাংলাদেশের একটি গ্রাম (১৮৬০)

১৯৪৭ এর দেশভাগ

ঢাকায় ব্রিটিশ সৈন্য (১৯৩৩)

প্রমত্তা বুড়িগঙ্গা (১৮৮০)

চক বাজার মোড় , ১৯০৪

বঙ্গ বন্ধুর ছয় দফা ঘোষণা (১৯৬৬)

ঢাকা কলেজ (১৮৭২)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালনা কমিটি (১৯২১)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি (১৯৫৫)

ঢাকেশ্বরী মন্দির (১৯০৪)

ড . মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ এবং কাজী মোতাহের হোসেন , ঢাকা (১৯৫৪)

ঈদ উৎসব , ঢাকা (১৯৫৪)

২৫ মার্চ কালরাত্রির ক্ষতচিহ্ন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭২)

এফ ডি সি তে অভিনেতা নাদিম (১৯৬৭)

মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং বঙ্গবন্ধু (১৯৭৩)

নোয়াখালীতে মহাত্মা গান্ধী (১৯৪৬)

ঢাকায় আইয়ুব খান এবং সোহরাওয়ারদি (১৯৫৮)

বাড়িতে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক , ঢাকা (১৯৫৪)

গুলিস্তান সিনেমা হল (১৯৫৪)

আড্ডায় মশগুল একদল কাবুলিওয়ালা , ঢাকা (১৯৫৪)

কুমার রামেন্দ্র নারায়ন (যিনি ভাওয়াল রাজা সন্ন্যাসী নামে অধিক পরিচিত) , ঢাকা (১৯০০)

লর্ড কার্জন এবং পাশে লেডী কার্জন , শাহবাগ (১৯০৪)

লালবাগ কেল্লা (১৯০৪)

মনন্তর (১৯৪৩)

মনন্তর (১৯৪৩)

নর্থব্রুক হল (১৯০৪)

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন (১৯৮৭)

ইয়াসির আরাফাত , বঙ্গবন্ধু এবং মুয়াম্মার গাদ্দাফি

শহিদুল্লাহ হল , ঢাবি (১৯০৮)

নারায়নগঞ্জ বন্দর (১৯৬২)

সোহরাওয়ারদী উদ্যান (পরে হানাদার বাহিনি মন্দির টি ভেঙ্গে ফেলে) (১৯৭১)

টঙ্গি ব্রিজ (১৮৮৫)

ঢাকার একটি রাস্তা (১৮৭২)

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঢাকায় আমেরিকান সৈন্য (১৯৪৫)

নারিন্দা (১৮৭৫)

 সূত্রঃhttp://www.somewhereinblog.net/blog/hmahmud777/29624583
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২৯ মার্চ, ২০১২

ফাতু-হিভা , আমার প্রিয় বই

ফাতু-হিভা, আমাদের গ্রহের স্বর্গ। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে, আর সব দেশ-মহাদেশের বাঁধন ছিন্ন করে অতল নীল মহাসাগরের বুকে ফুঁড়ে ওঠা চির সবুজে ছাওয়া পাথর-মাটি মেশানো কয়েকটি একরত্তি দ্বীপের সমাহার। পলিনেশিয়ায় অবস্থিত, তাহিতির খুব কাছের মারেক্কস দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত ত্রিভুবনের অমরাবতী।
নরওয়ের পাঁশুটে শহরজীবনের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে এক সোনালীচুলো যুবক ঠিক করল সারা জীবনের জন্য চলে যাবে এই শহর আর কৃত্রিম সভ্যতা ছেড়ে, ফিরে যাবে প্রকৃতির কোলে, যেখানে সময় অফুরন্ত, নেই অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য নগ্ন হাহাকারময় চাহিদা, জীবন যাপনের অত্যাবশ্যকীয় আহার, পানীয়ের নুন্যতম সংস্থান হলেই খুশী থাকে সবাই। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বজ্রের দেবতা থরের নামে নাম এই যুবকের থর হেয়ারডাল। অনেক হিসাব নিকাশ কষে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে রওনা দিলেন এই স্বর্গ পানে, কোন দিন লোকসমাজে না ফেরার প্রতিজ্ঞা নিয়ে। তাকে নিয়ে অবশ্য একটি লেখা লিখেছিলাম সচলে আগে।
সারা বিশ্ব পরবর্তীতে থর হেয়ারডালকে চিনেছে প্রাতঃস্মরণীয় অভিযাত্রী, নৃতত্ত্ববিদ, লেখক হিসেবে। কন-টিকি, রা, ইউফ্রেতিস প্রমুখ দুঃসাহসী অভিযানের দলনেতা হিসেবে। কোটি কোটি মানুষের ধারণা ভুল প্রমানিত করে স্রেফ বালসা কাঠের তৈরি ভেলায় আধুনিক সাজ-সরঞ্জাম ছাড়াই পাড়ি দিলেন প্রশান্ত মহাসাগরের বিপুল বিক্ষুদ্ধ জলরাশি, প্রমাণ করার চেষ্টা চালালেন আদি রেড ইন্ডিয়ানরা অনেক আগেই ল্যাতিন আমেরিকা থেকে একই ভাবে ভেলার মাধ্যমে যেয়ে বসতি গেড়েছিল পলিনেশিয়ায়। একই চেতনায় নলখাগড়া দিয়ে নৌকা বানিয়ে পাড়ি দিলেন আটলান্টিক মহাসাগর, দেখাতে চাইলেন প্রাচীন মিশরীয় ও মায়া সভ্যতার মধ্যকার মেলবন্ধন কিন্তু ফাতু-হিভা ছিল তার প্রথম যাত্রা- নিজের সন্ধানে, জ্ঞানের জিগীষায়, প্রকৃতির খোঁজে।
১৯৩৮ সালে নরওয়েজিয়ান ভাষায় প্রকাশিত হয় ফাতু-হিভা, ২য় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে আন্তর্জাতিক মহলের চোখে পড়বার আগেই লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় এই মহান আলেখ্য, অনেক অনেক দশক পরে ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় তা ইংরেজিতে। ব্যস, ভিনি, ভিডি, ভিসি- কোটি কোটি পাঠকের মনে চিরস্থায়ী আসন গেড়ে বসল তার সেই স্মৃতিচারণা।
থরের ঝুলিতে ছিল মুক্তোঝরা ভাষা, অভিজ্ঞ ডুবুরীর মত মনের শব্দ ভাণ্ডারের অতলে ডুব দিয়ে অনায়াসে নানা মূল্যবান শব্দ সম্ভার তুলে এনে শিল্পীর অপরিসীম দক্ষতায় ছুঁয়ে ছেনে পরিমাপমত একের পর এক স্বচ্ছ দ্যুতিশীল মায়াময় শব্দ বসিয়ে নির্মাণ করেছেন কল্পলোকের সাহিত্যদুর্গ। সেই অবারিত দ্বিধাহীন পথ বেয়ে আমিও চলে গিয়েছি অজস্রবার স্বপ্নের দ্বীপপুঞ্জে, যেখানে সবুজ নারকেল পাতার চিরল বাতাসে কেপে ওঠে ভোরের মৃদু আলো, দিগন্তে আকাশ আর সাগরের মিলনস্থানে কেবলই মন ভুলানো নীলের সহাবস্থান, দীঘল ঘাসের বনে সরসর করে ছুটে যায় মুক্ত হাওয়া, গতিতে তার বুনো ঘোড়ার উদ্যমের প্রাচুর্য, নিশিরাতে নিশাচর পাখির শব্দ ছাড়া সমস্ত বিশ্ব চরাচর নিস্তব্ধ, আকাশগঙ্গার অনন্ত নক্ষত্র বীথি নেমে আসে আমার মাথায় চাঁদোয়া খাটিয়ে দিতে প্রতিদিন সেই দূষণমুক্ত আকাশে।
তার শব্দ বিন্যাস আর রচনাগুণে নিশিগ্রস্ত মানুষের মত আমি ভিড়ে যাই থর আর তার স্ত্রী লিভের দলে, সমস্ত ধরনের কোলাহল থেকে যোজন যোজন দূরে এসে প্রথম সন্ধ্যায় তাবু খাটায় তারা, নক্ষত্রের আগুনে আলোকিত নিবিড় শান্তিময় মধ্যরাতে হঠাৎ কামানের গোলা পতনের শব্দে হতচকিত করে তোলে সবাইকে, সন্ধান করে পাওয়া যায় ঝড়ো বাতাসে উপর থেকে খসে পড়েছে ঝুনো নারকেল! নিরীহ দর্শন নারকেলগুচ্ছকে এমন মৃত্যুদূতের ভূমিকায় দেখে নিরাপদ স্থানে তাঁবু সরিয়ে ফেলে তারা, প্রথমবারের মত বিপদের সম্মুখীন হয়ে সেই পুরনো বাণী উদয় হয় তাদের চিন্তা মাঝে- স্বর্গেও সাপ আছে!!
আদিম জীবনে ফিরে যাবার প্রানান্তকর চেষ্টা চালায় তরুণ দম্পতি, লজ্জা নিবারণের যৎসামান্য আবরণ ধারণ করেই ক্ষুন্নিবৃত্তি মেটাবার তাগিদে ফল আহরণ ও মাছ শিকারে সচেষ্ট হয় তারা, রূপকথার আদম- ইভের মত। কিন্তু স্বর্গে একা নয় তারা, আছে স্থানীয় আদিবাসীরা, যারা দেখাতে লাগল মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহ এই পাগলাটে শ্বেতকায়দের ব্যাপারে, নিরিবিলি স্বেচ্ছা নির্বাসনের মূল ধারণাই ভেস্তে যায় বুঝি!
ক্রান্তীয় জঙ্গলের গভীরে কুঁড়ে বানালেন বাঁশ কেটে, ঘর ছাইলেন পাতা দিয়ে, শুরু হল অন্য ধরনের সংসার জীবন। উৎপাত হিসেবে চলতে থাকল পাগল করা জীবাণু পরিবহনকারী মশার কামড়, প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্যান্য রোগের সংক্রমণ। সেই সাথে স্থানীয়দের অসহযোগিতা।
অবশেষে কুঁড়ে ছেড়ে অন্য দ্বীপে যেয়ে তারা পাথরের গুহার আশ্রয় নেন। একইসাথে নানা দ্বীপের আদিবাসীদের সংশ্রবে এসে তাদের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার আগ্রহ জন্ম নেয় থরের মনে, সেখানে প্রাপ্ত প্রাচীন মাথার খুলি ও লোকগাথায় ল্যাতিন আমেরিকার সাথে অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পান তিনি, বিশাল সব নির্বাক প্রস্তর মূর্তি দেখে মাথার ভেতরে প্রশ্ন ফেনিয়ে ওঠে তাহলে কি প্রচলিতমতের পূর্ব এশিয়া নয়, দক্ষিণ আমেরিকাই এই দ্বীপবাসীদের আদি বাসস্থান।
সেখানে দেড় বছরের অবস্থানের এক ফাঁকে স্বপ্নদ্বীপ তাহিতি গিয়েছিলেন তিনি, মালিক বনেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রাইফেলের, কারণ সেই রাইফেলের কাঠের কুঁদোতে যে রঙচঙে ছবি আঁকা ছিল তা এঁকেছিলেন স্বয়ং পল গগ্যাঁ! ইম্প্রেশনিজমের দিকপাল এই ফরাসী চিত্রকর তার জীবনের সেরা কাজগুলো সবই করেছিলেন আলো ঝলমলে তাহিতিতে, তার সমাধিও এইখানে অবস্থিত। পরে এক বেরসিক কাস্টমস কর্মকর্তা নিরাপত্তার দোহাই দেখিয়ে রাইফেলের কুঁদোটি খুলে নেয়, লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় সেই বিশ্ব সম্পদ।
এমন ভাবে আরব্যপন্যাসের জাদুকরের মত বইয়ের খসখসে পাতায় নির্বাক পিঁপড়ার সারির মত কালো কালো অক্ষরগুলো থেকে লাল-নীল-সবুজ বর্ণময় ছন্দময় কাহিনীর জন্ম নেয় একের পর এক থরের বর্ণনার গুণে। আমাদের চারপাশের চেনা জগত একনিমিষে রঙধনুর সপ্তবর্ণা ত্রান্তীয় অঞ্চলে পরিণত হয়।
নরখাদকদের সাথেও পরিচয় ঘটে তাদের, বাস করতে হয় একই সবুজ উপত্যকায় প্রতিবেশী হিসেবে, গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাদের জীবনধারা। পান ভবিষ্যৎ গবেষণার পর্যাপ্ত রসদ, যা তাকে ব্যস্ত রাখে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
বইটির শেষ পর্যায়ে এসে ফেলে আসা শহুরে জীবনের টানে উম্মুখ হয়ে পড়েন তরুণ দম্পতি, যতটা না সেই নিরাপদ জীবনের আরাম-আয়েশের জন্য, তার চেয়ে বেশী এখানকার নানা সমস্যার কারণে।
থর ফিরে আসেন নরওয়েতে, রেখে যান তার লিগ্যাসি। আর এক অমূল্য স্মৃতিকথা, যা আমার মত পাঠকদের দিবারাত্রি নিয়ে যায় দক্ষিণের সেই স্বর্গে। ফাতু-হিভার কাছে আমার অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার প্রেরণা দেবার জন্য, নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে পড়বার জন্য, সর্বোপরি জীবনকে ও আমাদের সুন্দর গ্রহটাকে ভালবাসতে শেখাবার জন্য।
tumblr_lbxh93dR8n1qdyd55o1_500 


সুত্রঃhttp://www.sachalayatan.com/tareqanu/43215
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৮ অক্টো, ২০১১

ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া শহর

আচ্ছা, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখো, তুমি ৫০০-৬০০ বছরের পুরোনো কোনো প্রাচীন সভ্যতার একটি শহরে পৌঁছে গেছো তাহলে কেমন লাগবে বলো তো? নিশ্চয়ই খুব অবাক হবে, তাইনা! সেই সাথে ব্যাপারটা হবে খুবই বিস্ময়কর আর উত্তেজনার। আসলে প্রাচীন যে কোনো নিদর্শন নিয়েই আমাদের বিস্ময় আর কৌতূহল থাকে খুবই বেশি। এই যেমন পিরামিডের কথাই ধরো না। কয়েক হাজার বছরের পুরোনো এই প্রাচীন স্থাপত্য নিয়ে আজও মানুষের মনে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আমাদের দেশেও পাহাড়পুর, সোমপুর বিহার, তারপর উয়ারী-বটেশ্বরের মত এরকম অনেক নিদর্শন আছে, যেগুলো খুবই পুরোনো। আসলে সারা পৃথিবীজুড়ে এখনও পর্যন্ত এরকম হাজার হাজার প্রাচীন নিদর্শন টিকে আছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো হয়তো তোমাদের খুবই চেনা, আবার অনেকগুলোর নামই হয়তো তোমরা শোনোনি। আজকে তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেবো এমনই একটি প্রাচীন শহরের সাথে। ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া এই শহরটির নাম মাচু পিচু।

মাচু পিচু মানে পুরোনো চূড়ো
মাচু পিচু! নামটাই কেমন অদ্ভুত, তাইনা? আসলে আজকে আমরা যে সব জিনিসের নাম জানবো তাদের সবগুলোর নামই বেশ অদ্ভুত। এমনকি ইনকাদের প্রাচীন এই ভাষাটিরও নাম বেশ অদ্ভুত- ‘কুয়েচুয়া’ ভাষা। কুয়েচুয়া ভাষায় মাচু পিচু শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘পুরোনো চূড়ো’। পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি করা হয়েছিলো বলেই হয়তো তারা শহরটির এমন নাম দিয়েছিলো। শুনলে অবাক হতে হয়, মাচু পিচু শহরটি নাকি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪০০ মিটার  (৭,৮৭৫ ফিট)  উঁচুতে অবস্থিত। অর্থাৎ কিনা, আমাদের দেশের সর্বোচ্চ চূড়া তাজিনডং-এরও (১২৩১ মিটার) প্রায় দ্বিগুণ উচ্চতায়! এতো উঁচুতে কিভাবে তারা একটা আস্ত শহর তৈরি করে ফেললো সেটাই কিন্তু একটা বিরাট ভাবনার বিষয়। তাও আবার সেই কত্তো বছর আগে। মাচু পিচু নির্মিত হয় প্রায় ৫৫০ বছর আগে, ১৪৫০ সালের দিকে। এর একশো বছর পরেই স্প্যানিশরা ইনকা সভ্যতা আক্রমণ করে। ধ্বংস করে ফেলে তাদের বেশীরভাগ শহরই। কিন্তু কী আশ্চর্যের কথা, ওরা নাকি মাচু পিচু শহরটি খুঁজেই পায়নি! ওরা হয়তো ভাবতেই পারেনি যে পাহাড়ের এতো উঁচুতে কোনো শহর থাকতে পারে। এদিকে মানুষজন না থাকার কারণে শহরটিও ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। কয়েক শ’ বছর ধরে তো মানুষ এই ঐতিহাসিক শহরটিকে খুঁজেই পায়নি। এরপর ১৯১১ সালে হাইরাম বিংহাম নামের এক মার্কিন ঐতিহাসিক মাচু পিচু শহরটি আবিষ্কার করেন। সেও এক মজার গল্প। আরেকদিন সুযোগ পেলে সেই আবিস্কারের গল্পও তোমাদের কাছে করা যাবে। আজকে শুধু মাচু পিচুর গল্পই শোনো।



কোথায় এই হারানো শহর?
মাচু পিচু যেতে হলে তোমাকে সবার প্রথমে যেতে হবে পেরুতে। শহরটা সে দেশেই অবস্থিত কিনা! আন্দিজ পর্বতমালার যে অংশটুকু পেরুতে পড়েছে সেখানকারই এক পর্বতের চূড়ায় এর অবস্থান। সেই পাহাড়টির নাম হয়ে গেছে মাচু পিচু। আর শহরটির অবস্থানও ছিলো খুব সুরক্ষিত। অন্যরা তো এই শহর সহজে খুঁজে পাবেই না, আর যদি পায়ও, আক্রমণ করে তেমন সুবিধা করতে পারবে না। পাহাড়ের এক পাশ চূড়া থেকে একেবারে খাড়া ভাবে ৬০০ মিটার নিচে উরুবাম্বা নদীর পাদদেশে গিয়ে মিশেছে। অন্যদিকে হুয়ানা পিচু নামের আরেকটি পর্বত খাড়া উঠে গেছে আরও কয়েক হাজার ফিট উঁচুতে। সুতরাং দুই দিক দিয়েই শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই বেশ নিরাপদ ছিলো।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই তোমাদের মনে একটা প্রশ্নের উদয় হয়েছে- কি এমন কারণ ছিলো যে, ইনকারা পাহাড়ের ঐ উঁচু চূড়ায় এমন ভয়ংকর একটা জায়গায় এত্তো সুন্দর একটা শহর তৈরি করতে গেলো? কি, মাথা চুলকাচ্ছো? আসলে তোমার মতো অনেক বিশেষজ্ঞরও বহু বছর ধরেই এভাবে মাথা চুলকাচ্ছে। কিন্তু কেউই একমত হতে পারেনি। হাইরাম বিংহাম এবং আরও অনেকের মতে এই সুরক্ষিত শহরটি ইনকাদের ঐতিহ্যগত জন্মস্থান, নয়তো সূর্য কুমারীদের পবিত্র কেন্দ্র ছিলো। আবার অনেকের ধারণা, এটি ব্যবহৃত হতো ভয়ংকর অপরাধীদের জেলখানা হিসেবে! অনেকে আবার এও মনে করেন, এটি আসলে ছিলো ইনকা সম্রাটদের একটি অবকাশযাপন কেন্দ্র। বেশিরভাগ মানুষেরও এটাই ধারণা। তবে জ্যোতির্মণ্ডলীয় নানা ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য এই শহরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আর সামরিক দিয়ে যে শহরটি বেশ সুর¶িত ছিলো সে তো আগেই বলেছি। ঐ যে, শহরটি যে প্রাকৃতিকভাবেই খুব নিরাপদ ছিলো। 

মাচু পিচুর তিনটি ভাগ
এবার চলো, চোখ বন্ধ করে একবার ঘুরে আসি মাচু পিচু শহর থেকে। দেখে আসি কতোটা সুন্দর ছিলো ইনকাদের এই শহর। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন, পুরো মাচু পিচু শহরটি তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত ছিলো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটির নাম তারা দিয়েছেন ‘পবিত্র এলাকা’। নাম শুনেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো যে, এই জায়গাটি ইনকাদের কাছে ছিলো খুবই পবিত্র। পবিত্র হওয়ার কারণও আছে। ইনকাদের ধর্মীয় যতো পবিত্র স্থাপনাগুলো, সব যে এই জায়গাতেই ছিলো। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইন্তিওয়াতানা পাথর, সূর্য মন্দির এবং তিন জানালা বিশিষ্ট ঘর। ইনকাদের সূর্যদেবতা, আর যতো মহান দেবতা ছিলো তাদের প্রতি এই পবিত্র স্থাপনাগুলো উৎসর্গ করেছিলো ওরা। আর ওদের পূজা-অর্চনাও ওরা এখানেই সম্পন্ন করতো। নিশ্চয়ই কৌতূহল হচ্ছে যে, ইনকারা কোন কোন দেবতার পূজা করতো? বলছি শোনো। ইনকাদের প্রধান দেবতা ছিলো সূর্যদেবতা। অর্থাৎ, তারা সবচেয়ে বেশি  পূজা করতো সূর্যের। আসলে প্রাচীনকালে প্রায় সব অঞ্চলের মানুষেরই প্রধান দেবতা ছিলো সূর্যদেবতা, সে মিশরের কথাই বলো, রোমের কথাই বলো, গ্রিসের কথাই বলো, আর আমাদের উপমহাদেশের কথাই বলো। আমাদের উপমহাদেশে হিন্দুধর্ম উদ্ভব হওয়ার আগে যে লোকজ বা আঞ্চলিক ধর্ম ছিলো, সেখানেও সবচেয়ে বড়ো দেবতা ছিলো সূর্যদেবতা।


যাই হোক, আমরা মাচু পিচু’র গল্পে ফিরে আসি। মাচু পিচু’র আরেকটি অংশ ব্যবহৃত হতো জনসাধারণের থাকার জন্য। এই অংশটি শহরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। সাধারণত নিম্নশ্রেণীর লোকজনই এখানে বসবাস করত। এখানকার স্থাপনাগুলোর মধ্যে বেশীরভাগই গুদামঘর আর সাধারণ বসতবাড়ি। মাচু পিচু শহরের অন্য অংশটুকু ছিলো অভিজাত এলাকা। অর্থাৎ এখানে সব অভিজাত শ্রেণীর লোকজন বাস করতো। এই অংশটুকু কিন্তু তুমি খুব সহজেই চিনতে পারবে। একটা ঢালের উপর কয়েক সারিতে অবস্থিত এখানকার বাড়িগুলো। মজার ব্যাপার কি জানো, বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষদের জন্য ইনকাদের তৈরি ঘরগুলোর চেহারাও ছিলো বিভিন্ন রকম। এই যেমন ধরো, ‘হামাউতা’ বা জ্ঞানী লোকদের বাড়িগুলোর দেয়াল ছিলো লালচে রঙের। আবার ‘নিউস্তা’ বা রাজকুমারীদের ঘরগুলো ছিলো অসম আয়তাকার আকৃতির, মানে আয়তাকার ঘর, কিন্তু একেক দেয়ালের দৈর্ঘ্য একেক রকম। এছাড়াও এই এলাকায় খোদাই করা একটা স্মৃতিসৌধ ছিলো, যার ভেতরে একটা নকশা করা ঘরও আছে। সাধারণত যজ্ঞ আর উৎসর্গ করার কাজে এ ঘরটা ব্যবহার করা হত।

পাথরের তৈরি ঘরবাড়ি
ইনকাদের তৈরি ঘরবাড়িগুলোর সাথে কিন্তু আমাদের আজকালকার তৈরি ঘরবাড়িগুলোর একদমই মিল খুঁজে পাবে না। যদি মনে করে থাকো যে, ইনকারাও এখনকার মত ইট-কাঠ-সিমেন্ট-সুড়কি-কংক্রিট দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করতো তাহলে কিন্তু একদম ভুল করবে। আসলে এতো আগে তো ইট-সুড়কি-সিমেন্ট-কংক্রিট আবিষ্কারই হয়নি। তাহলে ওরা কি দিয়ে ঘরবাড়ি বানাতো? আসলে ইনকারা তাদের বাড়িগুলো তৈরি করতো পাথর দিয়ে। পাথর দিয়ে বাড়ি নির্মাণে ওরা ছিলো খুবই দক্ষ। পাথর বাড়ি বানালো, তা না হয় মেনে নিলে, কিন্তু পাথর তো জোড়া দিতে হবে, নাকি? ওরা পাথরগুলো জোড়া দিতো কি দিয়ে? কিছু না, স্রেফে কিচ্ছু না! আসলে পাথর দিয়ে বাড়ি তৈরির জন্য ওরা পাথরগুলো এতো নিখুঁতভাবে কাটতো যে কোনোরকম বালি, সিমেন্ট বা অন্য কোনো কিছু ছাড়াই ওগুলো একদম খাঁজে খাঁজে শক্তভাবে বসে যেতো। আর এই পাথরের দেয়ালগুলোর জোড় এতোটাই নিখুঁত যে একটা পাতলা ছুরির ফলাও জোড়গুলোর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো যায় না! তাহলেই বোঝো, কি পরিমাণ দক্ষ ছিলো তারা এই কাজে! 


ভূমিকম্প সামলাতে যতো কৌশল
ইনকাদের ঘরবাড়িগুলো দেখলেই বুঝতে পারবে যে ওরা ছিলো এক একজন যাকে বলে পাকা ইঞ্জিনিয়ার। মাচু পিচু শহরের বাড়িগুলোই তার বড় প্রমাণ। এটা হয়তো জানো, পেরু খুবই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। এখানে প্রায়ই বড় বড় ভূমিকম্পে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই ইনকারা অনেক বুদ্ধি করে তবেই ওদের বাড়িগুলো তৈরি করেছিলো। সিমেন্টজাতীয় মিশ্রণের গাঁথুনির চাইতে পাথরে পাথর বসিয়ে তৈরি গাঁথুনি অনেক বেশি ভূমিকম্প প্রতিরোধী। তাই ওরা ওদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এভাবেই তৈরি করতো। আরেকটা আশ্চর্য তথ্য দেই তোমাদেরকে; ইনকাদের তৈরি বাড়ির দেয়ালগুলোতে তুমি প্রচুর সূক্ষ নকশা দেখতে পাবে। এই নকশাগুলো কিন্তু শুধু সৌন্দর্যের জন্যই করা হয়নি, অন্য কারণও আছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই সূক্ষ নকশাগুলিই ভূমিকম্পের সময় দেয়াল ধ্বসে পড়া অনেকাংশে রোধ করে। কি, অবাক হয়ে গেলে নাকি? তাহলেই চিন্তা করো, এই নকশাগুলো তৈরি করতে ইনকারা কতোখানি মাথা খাটিয়েছিলো! তার উপর দেখবে যে, সবগুলো দেয়াল একদম সোজা নয়। দেয়ালগুলোর একটা সারি অন্য সারি থেকে একটুু হেলানো। ভেবো না যে, এগুলো বাতাসে হেলে পড়েছে। ওরা ইচ্ছে করেই দেয়ালগুলো এভাবে তৈরি করেছে। কেন? এর ফলে দেয়ালগুলোর ভারসাম্য রক্ষা হয়েছে, ফলে ভূমিকম্পে এগুলো সহজে ধ্বসে পড়বে না।

পাথর পাহাড়ে উঠলো কিভাবে!
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছো যে, মাচু পিচু শহরের বাড়িগুলো বেশ বড় বড় সাইজের পাথর দিয়ে তৈরি। এমনকি, মাচু পিচুতে ওঠার জন্য যে সিঁড়ি, সেগুলোও পাথরের। তার উপর বেশ কয়েকটা সিঁড়ি তো আস্ত আস্ত এক একটা গ্রানাইট পাথর কেটেই বানানো হয়েছে। এখন নিশ্চয়ই ভাবছো, পাহাড়ের এই এত্তো এত্তো উঁচুতে এত্তো বড়ো বড়ো আকারের পাথরগুলো ওরা কিভাবে তুললো? আসলেই তো! কিভাবে তুললো? ভাববার মতই একটা বিষয়। এরকম বড়ো বড়ো পাথর পাহাড়ের চূড়ায় তোলা কি আর চাট্টিখানি কথা! এর জন্য শক্তিশালী আধুনিক কতো যন্ত্রপাতির দরকার হয়! অথচ মেশিন তো দূরে থাক, ইনকারা কখনও তাদের কাজে কর্মে চাকাই ব্যবহার করেনি! তাহলে কিভাবে ওরা এতো বড়ো বড়ো আকৃতির এতোগুলো পাথরখণ্ড পাহাড়ের এত্তো উঁচুতে উঠালো? সেটি আসলেই একটা রহস্য। বিজ্ঞানীরা এর কোন সুরাহা-ই করতে পারেন নি। শেষমেশ তারা ধারণা করেছেন, শত শত শ্রমিককে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বেয়ে পাথরগুলোকে উপরে তোলা হয়েছিলো।   
ইন্তিওয়াতানা পাথর- পবিত্র পাথর নাকি সূর্যঘড়ি?
ইন্তিওয়াতানা পাথরের কথা মনে আছে? ঐ যে বললাম, মাচু পিচুর ‘পবিত্র এলাকা’র অন্যতম নিদর্শন। কিন্তু কি কারণে এই পাথর পবিত্র এলাকায় স্থান পেলো আর কী-ই বা এর বিশেষত্ব? বলছি শোনো- যেহেতু পবিত্র এলাকায় অবস্থিত সেহেতু বুঝতে পারছো, এই পাথরটি ইনকাদের কাছে ধর্মীয় কারণে খুবই পবিত্র ছিলো। ওদের বিশ্বাস অনুসারে, কোনও অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ যদি এই পাথরে তার কপাল ঘষে তাহলে সে আধ্যাত্মিক জগৎ দেখতে পাবে। অর্থাৎ, তুমি যদি এই পাথরে তোমার কপালটা একটু ঘষে দাও, তাহলে তুমি অন্য এক জগতে পৌঁছে যাবে। হয়তো তুমি তোমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎও দেখতে পাবে। এমনটি হলে তো সত্যি খুব মজার বাপার, তাই না? দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ যে কয়েকটি পাথরের পূজা করতো বা এখনও করে সেগুলোর মধ্যে ইন্তিওয়াতানা পাথর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে ইনকা সভ্যতা আক্রমণের সময় স্প্যানিশরা বেশীরভাগ পবিত্র পাথরই ধ্বংস করে ফেলে। কী খারাপ কথা! ওগুলো থাকলে কত্তো ভালো হতো। ওই সব পাথর দেখতে দেখতে প্রাচীনকালের এই সব গল্প শুনতে কতোই না ভালো লাগতো!


তবে বেঁচে গেছে মাচু পিচুর ইন্তিওয়াতানা পাথর। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো কেন? আরে! স্প্যানিশরা তো মাচু পিচু শহরটিই খুঁজে পায়নি। তাহলে আর ইন্তিওয়াতানা পাথর কিভাবে খুঁজে পাবে বলো? পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত হওয়ার কারণেই ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেছে এই পাথর। তবে ইন্তিওয়াতানা পাথরের কিন্তু আরেকটি বিশেষত্ব আছে। ইন্তিওয়াতানা পাথর আসলে একটি ‘মহাকাশ ঘড়ি’। মহাকাশ ঘড়ি কি বুঝতে পারছো না? দাঁড়াও, এই ঘড়ির আরেকটা নাম আছে- সূর্যঘড়ি। আকাশে সূর্যের বিভিন্ন অবস্থানের কারণে এই পাথরের ছায়ার পরিবর্তন দেখে সময় নির্ণয় করা হতো। তখন তো আর ঘড়ি ছিলো না যে সময় দেখতে চাইলেই চট করে ঘড়ির ডায়ালে দেখে নেবে। তাই আগে এরকম সূর্যঘড়ি তৈরি কর হতো। আমাদের দেশেও এরকম অনেকগুলো সূর্যঘড়ি আছে। আর জাদুঘরগুলোতে তো আছেই। দেখতে চাইলে আগারগাঁয়ের বিজ্ঞান জাদুঘরেই যেতে পারো। যাই হোক, মাচু পিচুর এই ইন্তিওয়াতানা পাথরের কিন্তু আরেকটা মজা আছে। ১১ নভেম্বর ও ৩০ জানুয়ারি- বছরের এই দু’দিনের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে, মানে ঠিক দুপুর ১২টায়, সূর্য ইন্তিওয়াতানা পাথরের একেবারে ওপরে থাকে; ফলে এর কোনও ছায়াই তৈরি হয় না! একারণেই এটিকে বলা হয় ‘সূর্যের আঁকড়া বিন্দুও’। অর্থাৎ যেটি কিনা সূর্যকে আঁকড়ে ধরে রাখে। এই বিশেষত্বের কারণেই স্থানীয় উপকথায় বলা হয় যে, এই পাথর নির্মাণ করাই হয়েছিলো সূর্যকে আটকে রাখার জন্য। যদিও প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটা একদমই সম্ভব নয়। কিন্তু আগে তো মানুষ কতো কিছুই বিশ্বাস করতো। তখন তো আর মানুষ এত্তো কিছু জানতো না! তখনকার সবচেয়ে জ্ঞানী লোকটিও হয়তো তোমার থেকেও কম জানতো। তাই বলে তাদের জ্ঞানকে আবার খাটো করে দেখতে যেও না, ওরা যদি এভাবে জানার চেষ্টা না করতো, তাহলে কি আর আজকে মানুষ এই অবস্থানে আসতে পারতো?

মাচু পিচুর যতো স্বীকৃতি
মাচু পিচু শহরকে মানুষের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য পেরু সরকার ১৯৮১ সালে এটিকে ‘সংরক্ষিত ঐতিহাসিক এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। আর ১৯৮৩ সালে তো ইউনেস্কো মাচু পিচুকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবেই ঘোষণা করেছে। আর ২০০৭ সালে তো রীতিমতো পৃথিবীর মানুষের ভোট নিয়ে ঘোষণা করা বর্তমান পৃথিবীতে টিকে থাকা ৭ আশ্চর্যের তালিকাতেই নাম উঠে যায় মাচু পিচুর। এখন এতো সুন্দর একটা জায়গা যদি মানুষের অত্যাচারে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে নিশ্চয়ই খুব দুঃখের বিষয় হবে, তাইনা? আর অতিরিক্ত মানুষের আনাগোনার কারণে মাচু পিচু কিন্তু সত্যি এখন হুমকির মুখেই আছে। এজন্য ২০০৮ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ড মাচু পিচুকে ‘বিশ্বের সবচাইতে বিপন্ন ১০০টি স্থান’ এর তালিকাতেও রেখেছিলো। তবে, পেরুর সরকার কিন্তু মাচু পিচুর অনেক যত্ন-আত্তিও করছে।

কি, মাচু পিচুর গল্প শুনে ওখানে যেতে ইচ্ছে করছে নাকি? গেলে কি মাচু পিচুর অমীমাংসিত রহস্যগুলোর সমাধান করতে পারবে? না পারলেই বা কি! রহস্য থাকলেই না মজাটা আরো বেশি জমে। তখন রহস্য, রোমাঞ্চ আর অ্যাডভেঞ্চার- তিনে মিলে একদম জম্পেশ মজা হয়। আর এই তিনটা একসঙ্গে পেতে চাইলে মাচু পিচু কিন্তু খুবই লোভনীয়। আর তাই তো মাচু পিচু মানুষের এত্তো প্রিয়।


 দৃষ্টি আকর্ষণঃ পোষ্টটি শ্রদ্ধেয় মেহেদী বাবুর লেখা থেকে কপি পেষ্ট করা হল।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম