বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩০ নভে, ২০১১

জার্মানির গোয়েন্দা বিমান ‘ইউরো হক্’

গোয়েন্দা বিমান ব্যবহারে পিছিয়ে থাকতে রাজি নয় জার্মানি৷ তাই গত অক্টোবরে জার্মান বিমান বাহিনী প্রদর্শন করলো নতুন এক গোয়েন্দা বিমান, ইউরো হক্৷ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই মনুষ্যবিহীন যানটি একনাগারে চলতে পারে ত্রিশ ঘণ্টা৷


দীর্ঘ দশ বছর ধরে পরিকল্পনা এবং উন্নয়নকাজ শেষে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয় ‘ইউরো হক্'৷ এই গোয়েন্দা বিমানের পাইলট থাকবেন ভূমিতে৷ জার্মানির কোন এক বিমান ঘাঁটিতে বসে কম্পিউটার গেমের মতই নিয়ন্ত্রণ করবেন তাঁর বিমান, যেটি কিনা ভূপৃষ্ঠ থেকে ষাট হাজার ফুট উঁচুতে উড়তে সক্ষম৷ কোন রকম বিরতি বা জ্বালানি ছাড়াই বার্লিন থেকে টোকিও পর্যন্ত ঘুরে আসতে পারে এই বিমান৷ অবশ্য শুধু ঘোরাঘুরি এই বিমানের কর্ম নয়৷ ময়লা পরিষ্কারের যন্ত্র ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার'এর মতই কাঙ্খিত লক্ষ্যের সব তথ্য সংগ্রহে অত্যন্ত পারদর্শী ইউরো হক্৷ তথ্য বলতে কোন শত্রুঘাঁটির ছবি, ভিডিও ফুটেজ যেমন সংগ্রহ করবে আকাশের এই গোয়েন্দা, তেমনি কাঙ্খিত এলাকার টেলিফোন কল, মুঠোফোনে দেয়া ক্ষুদেবার্তা, টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত অনুষ্ঠান - সবই একেবারে ছেঁকে নেবে এটি৷একইসঙ্গে সেসব তথ্য পাঠিয়ে দেবে ভূমির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে৷চালকবিহীন মার্কিন ড্রোন বিমানচালকবিহীন মার্কিন ড্রোন বিমান
২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে নামতে পারে ইউরো হক্৷ ইতিমধ্যে এটি নিয়ে বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছে৷ জার্মান বিমান বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল হোলগার নয়মান এই প্রসঙ্গে জার্মান সাপ্তাহিক ডেয়ার স্পিগেলকে জানান, মনুষ্যবিহীন এই ড্রোন বিমানটি অনেকটাই মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের মত, যেগুলো এক দশক আগেই সেদেশ ব্যবহার করতে শুরু করেছিল৷
ইউরো হক্ দেখতে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানগুলোর মত হলেও প্রযুক্তিগত দিকে থেকে অনেক ব্যবধান রয়েছে৷ এই বিমানগুলোতে জার্মানির তৈরি সেন্সর এবং নজরদারি ব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে৷ একটু আগেই বলেছি, ভূপৃষ্ঠ থেকে ষাট হাজার ফুট উপর দিয়ে চলতে সক্ষম এই গোয়েন্দা বিমান৷ ফলে এটি যাত্রাবাহী বাণিজ্যিক বিমানগুলোর জন্য কোন বাড়তি বিড়ম্বনাও তৈরি করবে না৷ কেননা, বাণিজ্যিক বিমানগুলো সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার ফুট উপরে উড়তে সক্ষম৷
এই জার্মান ড্রোন বিমানের কারিগরি দিকে খানিকটা নজর বোলানো যাক৷ স্পিগেল অনলাইন এর তথ্য অনুযায়ী, মনুষ্যবিহীন যানটির ওজন মাত্র ১৫ টন৷ এটি তৈরি করা হয়েছে কার্বন ফাইবার দিয়ে৷ লম্বায় বিমানটি ১৪.৫ মিটার তবে পাখাসহ এটি ৪০ মিটার চওড়া৷ একনাগাড়ের ২৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম এই ড্রোন৷ এই ক্ষমতা ব্যবহার করে আফগানিস্তানের মত সংঘাতপ্রবণ এলাকা অনায়াসে পর্যবেক্ষণ করে জার্মানিতে ফিরে আসতে পারবে ইউরো হক্৷ আরো যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য সেটি হচ্ছে, ইউরো হক্'এ ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত উচ্চক্ষমতার সেন্সর৷ ফলে মেঘাচ্ছন্ন আকাশে কিংবা বালুঝড়ের মধ্যেও দিব্যি নজরদারির কাজ করতে সক্ষম হবে এটি৷
জার্মানির জন্য এবং জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও ইউরো হক্ তৈরি করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়৷ ইউরোপীয়ান অ্যারোনটিক ডিফেন্স ও স্পেস কোম্পানি ইএডিএস এবং একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গোয়েন্দা বিমানের ইউরোপীয় সংস্করণ তৈরি করেছে৷ চলতি বছরের জুলাই মাসে ‘ইউরো হক্' এর একটি নমুনা বিমান ১০,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জার্মানির ম্যানশিং বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছায়৷ মার্কিন এবং ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা এই উড়ালের গতিপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন৷
আগামী গ্রীষ্মে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত ইউরো হক্৷ ইতিমধ্যে এগারো জন জার্মান পাইলটকে এই ড্রোন চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ আপাতত পাঁচটি ইউরো হক্ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বুন্ডেসভ্যার অর্থাৎ জার্মান সশস্ত্র বাহিনী৷ নজরদারির কাজেই মূলত এসব বিমান ব্যবহার করা হবে৷

http://www.dw-world.de/dw/article/0,,15561449,00.html
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২০ নভে, ২০১১

যে আবিষ্কারগুলো কেড়ে নিয়েছিল আবিষ্কারকদের প্রাণ

হেনরি উইনস্টেনলি
১৬৪৪ সালের ৩১ মার্চ এসেক্সে জন্ম নেয়া হেনরি উইনস্টেনলি ছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার। যিনি প্রথম এডিস্টোন বাতিঘর নির্মাণ করেন। নিজের তৈরি এই বাতিঘর নিয়ে ভদ্রলোক খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং প্রচণ্ড ঝড়েও এই বাতিঘর ধ্বংস হবে না বলে অহঙ্কার করতেন। ১৭০৩ সালের ২৭ নভেম্বর, দিনটি ছিল মেঘলা। বড়সড় একটি ঝড় সাগর থেকে ধেয়ে আসছে দেখে হেনরি সবাইকে বললেন, তিনি তার নির্মিত বাতিঘরে সে রাত থাকবেন এবং প্রমাণ করে দেবেন, এই ঝড় তার বাতিঘরের কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। সে রাতে হেনরি তার ৫ সহকারীকে নিয়ে বাতিঘরে থাকার সময় প্রচণ্ড ঝড়ে বাতিঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং সবাই মৃত্যুবরণ করে।
আলেকজান্ডার বগডেনভ
১৮৭৩ সালের ২২ আগস্ট পোল্যান্ডে জন্ম নেন বিখ্যাত রাশিয়ান চিকিত্সক, দার্শনিক ও কল্পবিজ্ঞান লেখক আলেকজান্ডার বগডেনভ। ১৯২৪ সালের দিকে তিনি বিশ্বাস করতে লাগলেন অল্পবয়স্ক কারও দেহ থেকে রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে রক্ত গ্রহীতা দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে পরীক্ষা করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার এই পরীক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অনেক বিখ্যাত লোকও অংশ নেন। এমনকি লেনিনের বোনও। এই করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে তিনি একসময় যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী এক ছাত্রের রক্ত তার শরীরে প্রবেশ করান।
এরপর জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে তিনি খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করেন। যদিও তার বেশ কয়েকজন সহকারী মন্তব্য করেছিলেন, ওই পরীক্ষায় তিনি অনেকটা সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
ক্যারেল সোজেক
১৯৪৭ সালে চেকোশ্লোভিয়াতে জন্ম নেয়া সোজেক ছিলেন একজন স্টান্টম্যান। তিনি উপর থেকে গড়িয়ে পড়ার জন্য এক ধরনের ক্যাপসুল তৈরি করেন। এই ক্যাপসুলে করে নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে গড়িয়ে পড়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি। কারণ হালকা ছেঁড়া-কাটা ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি তার। এর কিছুদিন পর ১৯ জানুয়ারি ১৯৮৫-তে তিনি টেক্সাসের হিউস্টোন অ্যাস্ট্রোডোমে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। ১৮০ ফুট উপর থেকে নিচে রাখা জলপাত্রে গড়িয়ে পড়ার সময় তার তৈরি ক্যাপসুলে সমস্যা দেখা দেয়। ক্যাপসুলের স্পিল্গন্টারের আঘাতে ভয়াবহভাবে ক্ষতবিক্ষত হন সোজেক এবং মারা যান এর পরদিন।
ফ্রানত্জ রিচাল্ট
ফ্রান্সে বসবাসকারী ফ্রানত্জ একজন অস্ট্রীয় দর্জি ছিলেন। ভদ্রলোক একটি ওভারকোটের নকশা করেছিলেন যা একই সঙ্গে প্যারাসুটের কাজ করবে। প্রাথমিক অবস্থায় ডামি ব্যবহার করে বহুতল ভবনের উপর থেকে পরীক্ষা চালিয়ে তিনি সফল হন। এরপর তার এই অদ্ভুত পোশাক আরও পরিমার্জিত করে তিনি নিজে আইফেল টাওয়ার থেকে লাফিয়ে তার তৈরি ওভারকোট কাম প্যারাসুটের পরীক্ষা করতে চেষ্টা চালান। বন্ধুদের বারণ ও পুলিশি বাধা পেরিয়ে অবশেষে ১৯১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আইফেল টাওয়ার থেকে ওভারকোটটি পরে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু ওভারকোটটি প্যারাসুটের মতো কাজ করেনি এবং নিচে বরফে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিনই মারা যান ভদ্রলোক।
অটো লিলিনথাল
লিলিনথালকে এভিয়েশনের অগ্রদূত বলা হয়। গ্লাইডারের (ইঞ্জিনবিহীন বিমান) আধুনিকায়ন ও উড্ডয়নে তিনি এত পারদর্শী ছিলেন যে লোকে তাকে গ্লাইডার কিং বলেই বেশি ডাকত। ৯ আগস্ট ১৮৯৬ সালে নিজের তৈরি একটি গ্লাইডারে করে ওড়ার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ১৭ মিটার উপর থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। মেরুদণ্ড ভেঙে মারা যান ওইদিনই।
উইলিয়াম বুলক
১৮১৩ সালে আমেরিকায় জন্ম নেয়া বুলক রোটারি প্রিন্টিং প্রেস তৈরি করেন ১৮৬৩ সালে। যন্ত্রটি মুদ্রণশিল্পে বিপ্লব এনে দেয় এর কার্যকারিতা এবং দ্রুতগতিতে মুদ্রণ সুবিধার জন্য। ১৮৬৭ সালে ভদ্রলোক তার নিজের আবিষ্কৃত একটি মেশিন মেরামত করার চেষ্টা করেন। এসময় পা দিয়ে একটি পুলিকে লাথি দিয়ে বসানোর চেষ্টা করার সময় তার পা মারাত্মকভাবে কেটে যায়। কয়েকদিনের ভেতর স্থানটিতে পচন ধরলে অপারেশন করানোর সময় তার মৃত্যু ঘটে।
জে. জি. প্যারি টমাস
ওয়েলসের বাসিন্দা টমাস একজন ইঞ্জিনিয়ার ও মোটর-রেসিং ড্রাইভার ছিলেন। ১৯২৬ সালে তিনি ১৭০ মাইল ঘণ্টায় গাড়ি চালিয়ে রেকর্ড গড়েন। কিন্তু বছর খানেক পরই তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যালকম ক্যাম্পবেল তার রেকর্ড ভেঙে দেন। টমাস এবার তার গাড়িকে নতুন করে সাজান। তিনি চেইন ও গিয়ার সিস্টেমে ব্যাপক পরিবর্তন এনে তার রেসিং কারকে আরও দ্রুতগতির করে তোলেন। ১৯২৭ সালের ৩ মার্চ রেকর্ড ভেঙে দেয়ার জন্য রেসে নামেন তিনি। কিন্তু তার নিজের ডিজাইনে করা চেইন ভেঙে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। মাথায় শক্ত আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
টমাস মিজলি
বিখ্যাত আমেরিকান কেমিস্ট মিজলি লেডেড পেট্রল এবং সিএফসি আবিষ্কার করেন। দীর্ঘসময় রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং লেড পয়জনে আক্রান্ত হয়ে এক সময় তার মধ্যে পোলিও’র লক্ষণ দেখা দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই তার শরীর অবশ হয়ে পড়ে। এই অবস্থাতেও তার আবিষ্কারের নেশা কাটেনি। নিজে অন্যের সাহায্য ছাড়াই চলাফেরা করার জন্য নিজ বিছানায় এক ধরনের কপিকল তৈরি করেন। কিন্তু কপিকলটির রশি তার গলায় ফাঁস লাগলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান ভদ্রলোক।
মেরি কুরি
বিখ্যাত কেমিস্ট মেরি কুরি দুবার নোবেল জেতেন তার আবিষ্কারের জন্য। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তার মৃত্যুর পেছনেও জড়িয়ে আছে তার আবিষ্কার। কুরি রেডিয়াম ও পোলনিয়াম আবিষ্কার করেন। তেজস্ক্রিয়তা তত্ত্ব ও তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ পৃথকীকরণ কৌশল তার গবেষণার ফসল। দিনরাত ল্যাবরেটরিতে তেজস্ক্রিয় দ্রব্য নিয়ে অসতর্ক অবস্থায় গবেষণা করতেন বলে তেজস্ক্রিয়তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। রক্তস্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় ভুগে অবশেষে ১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই মারা যান কুরি।
কুপার পিপস কোল
১৮১৯ সালে ব্রিটেনে জন্ম নেয়া কোল ছিলেন রাজকীয় নৌবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। তখনকার সময় যুদ্ধজাহাজগুলোতে কামান রাখার মঞ্চগুলো ঘূর্ণায়মান ছিল না। যার ফলে যুদ্ধের সময় কামান ব্যবহার সুবিধাজনক ছিল না। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় কোল প্রথম ঘূর্ণায়মান টারিট আবিষ্কার করেন এবং পরে নিজ নামে পেটেম্লট নেন।
যুদ্ধের পর কোল তার নিজ জাহাজে এটি স্থাপন করেন এবং অযথা আরও বেশকিছু ভারি সরঞ্জাম দিয়ে জাহাজ সাজান। কোল যে নকশা এঁকেছিলেন, তৈরির সময় তার লোকেরা তা ঠিকমত অনুসরণ না করায় জাহাজ যথেষ্ট ভারি হয়ে যায়। ১৮৭০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার সময় ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ভারি এই জাহাজ উল্টে ক্যাপ্টেন তার ৫০০ নাবিকসহ মারা যান।

http://www.somewhereinblog.net/blog/golden007/29485300
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৬ নভে, ২০১১

চীনের মরুভূমিতে অদ্ভুত স্ট্রিপ

চীনের মরুভূমির মাঝখানে অজ্ঞাত বিশালাকার কিছু কাঠামো ফুটে উঠেছে গুগল মানচিত্রে। প্রথম ছবিটাতে দেখা যাচ্ছে জটিল এক ধাতব নেটওয়ার্ক। নকশাটি দেখে মনে হচ্ছে ভূমির উপরিভাগে আড়াআড়িভাবে দাগ কেটে অথবা খুড়ে স্ট্রিপ বানানো হয়েছে। কি হচ্ছে এখানে কোন সামরিক গবেষণা?

কিছু কিছু দাগ দেখে মনে হচ্ছে এগুলো তৈরি করা হয়েছে রূপালি অথবা সাদা পদার্থ দিয়ে, অথবা কোন যন্ত্রের মাধ্যমে খুঁড়াখুঁড়ি কারণে ধূলার দাগও হতে পারে।
জায়গাটি ডানহুয়াং, জিউকুয়ান, গানসু, শুলে নদীর উত্তরে, যা তিব্বত মালভূমি পার হয়ে পশ্চিমে কুমটাগ মরুভূমিতে পরেছে। এর বিস্তৃতি লম্বায় প্রায় এক মাইল এবং ৩০০০ ফুট চওড়া।
ট্র্যাকগুলো সুন্দরভাবে তৈরি করা এবং দেখে মনে হয় নকশাটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তা আকাশ থেকে দেখা যায়। এমনও হতে পারে এটি চায়নার কোন গুপ্তচর উপগ্রহের জন্য ক্যালিব্রেটিং গ্রিড। অথবা হতে পারে এলিয়েনদের জন্য কোন QR কোড। এ সম্পর্কে কারো কোন ধারনা নেই।
ব্যাপারটা আপনি নিজেও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন এখান থেকে
দ্বিতীয় কাঠামোটিও শুলে নদীর উত্তরে অবস্থিত, এই কাঠামোটিকে দেখে মনে হচ্ছে দৈত্যকায় টার্গেট করবার গ্রিড।

আপনি যদি গুগল মানচিত্রে জুম করেন তাহলে দেখবেন যে বড় এক বৈদ্যুতিক স্টেশন অথবা রেডিও স্টেশন বলে মনে হচ্ছে তার পশ্চিম পার্শ্বে পরে রয়েছে কিছু যানবাহনের ধ্বংসাবশেষ। এই স্টেশনটি দেখতে অনেকটা আলাস্কার গ্যাকোনায় অবস্থিত হাই ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাকটিভ অরোরাল রিসার্চ প্রোগ্রামের (HAARP)মত। এই হার্প প্রোগ্রামটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, আলাস্কা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দার্পার অর্থায়নে কার্যক্রম চালায়।

তৃতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার লাইন ১৮ মাইল লম্বা এক বিশাল গ্রিডকে ছেদ করে চলে গিয়েছে। আরেকটি টার্গেট করবার গ্রিড? দেখুন এখানে


প্রথমটির মত আরেকটি


এটি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি টার্গেট, তবে এর বিন্যাসটি একটু অন্যরকম, দেখে মনে হচ্ছে একে সাজানো হয়েছে র‍্যাডিক্যালি, প্লেন এবং ওবস্ট্যাকল ব্যবহার করে।

এখানে দেখা যাচ্ছে একটা অদ্ভুত ধরণের বিমান-বন্দরের মত একটা কাঠামো। কিন্তু কাঠামোটা অদ্ভুত উজ্জ্বল নীলাভ রঙ্গে রাঙ্গানো। এত উপর থেকে দেখে মনে হচ্ছে সম্পূর্ণটা হয়তোবা পানি দিয়ে ভরানো অথবা কোন অদ্ভুত পদার্থের সাহায্যে বানানো। এছাড়া পাশে দেখুন আরেকটি বিমান-বন্দরের মত অবকাঠামো। তাহলে কি আগেরটা ধোঁকা দেবার জন্য বানানো?

এখানে দেখা যাচ্ছে বিশাল এক কমপ্লেক্স, কমপক্ষে ১০ বাই ৫ মাইল। আপনি যদি গুগল মানচিত্রে জুম করেন তাহলে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে যে রকম থাকে সেরূপ দুটি কুলিং টাওয়ারও দেখতে পাবেন(নিচের ছবি)। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি পানি শোধন কেন্দ্র।

কি করছে চায়না এখানে? এ প্রশ্ন এখন সবার।

 সুত্রঃhttp://tech.priyo.com/news/internet/2011/11/15/826.html
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১০ নভে, ২০১১

বৈজ্ঞানিক ভ্রান্তিবিলাস–কয়েকটি অবিশ্বাস্য বৈজ্ঞানিক ভুল ধারণা (প্রথম পর্ব)

"পৃথিবী মোটেও গোলাকার নয়, বরং থালার মত চ্যাপ্টা ও সমতল।"
"পৃথিবী স্থির, এটি সূর্যের চারিদিকে ঘোরে না, বরং সূর্যসহ মহাবিশ্বের সকল গ্রহনক্ষত্র পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে।"
"মানুষ মোটেও চাঁদে যায়নি, বরং মহাকাশচারীদের চাঁদে অবতরণ আমেরিকার মিথ্যা অপপ্রচার।"

বিজ্ঞানের এই চরম অগ্রগতির যুগেও দুনিয়াজুড়ে অনেক শিক্ষিত মানুষ ওপরের কথাগুলো বিশ্বাস করে। শুধু বিশ্বাস করে ভুল হবে, বরং 'বৈজ্ঞানিক' ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়ে তাদের এসব বিশ্বাস সঠিক 'প্রমাণ' করে চলেছে বিভিন্ন বইপুস্তক ও ইন্টারনেটের পাতায় পাতায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব মানুষের সংখ্যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোতেও কম নয়।

পৃথিবী গোল নয়, থালার মত সমতল
সমতল পৃথিবী তত্ত্বে (Flat Earth Theory) বিশ্বাসীরা মনে করে, পৃথিবীর আকৃতি চ্যাপ্টা থালা বা চাকতির মত। তাদের ধারণা অনুসারে থালা আকৃতির পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে উত্তর মেরু এবং এর পরিধি বা চারিদিক ঘিরে আছে এন্টার্কটিকা মহাদেশের ১৫০ ফুট উঁচু বরফের দেয়াল। তাদের দৃষ্টিতে পৃথিবী দেখতে নিচের ছবিটির মতঃ





সমতল পৃথিবীর ধারণায় বিশ্বাসীদের ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি নামে (ইন্টারন্যাশনাল ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি বা ইন্টারন্যাশনাল ফ্ল্যাট আর্থ রিসার্চ সোসাইটি নামেও পরিচিত) একটি সংগঠন আছে। ১৯৫৬ সালে স্যামুয়েল শ্যানটন নামে এক ইংরেজ এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নাকি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি ও রয়্যাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির ফেলো ছিলেন! ২০০৪ সাল থেকে এই সংগঠনটি সমতল পৃথিবী তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রমাণ ও প্রচারের কাজ নতুন উদ্যমে শুরু করে। ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি'র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের লিংক হচ্ছে www.theflatearthsociety.org এবং এই লিংকে গিয়েও সমতল পৃথিবী তত্ত্বের সপক্ষে এদের তথ্যপ্রমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তারা মনে করে, পৃথিবী গোলাকার, এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই ভুল!

অথচ গোলাকার পৃথিবী (Spherical Earth) একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত সত্য। কৃত্রিম উপগ্রহ, মহাকাশযান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এবং এমনকি চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে নভোচারীদের তোলা ছবি পৃথিবীর গোলাকৃতি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে।

পৃথিবী নয়, সূর্য ঘোরে

কিশোর বয়সে মুহম্মদ নুরুল ইসলাম নামে জনৈক প্রকৌশলীর লেখা 'পৃথিবী নয় সূর্য ঘোরে' নামের একটি বই পড়েছিলাম। এই বইয়ে তিনি পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের সাহায্যে এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও তথ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, পৃথিবী স্থির, এটি সূর্যের চারিদিকে ঘোরে না, বরং সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। তাঁর মতে, পৃথিবী যদি সত্যি সত্যি ঘুরত, তবে এর ওপরের মানুষজন, জীবজন্তু, ইত্যাদি ছিটকে বাইরে উড়ে যেত এবং গাছপালা, ঘরবাড়ি, ইত্যাদি ভেংগেচুরে ধ্বংস হয়ে যেত।

পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্ব তত্ত্বে (Geocentric Universe Theory) বিশ্বাসীরা মনে করে, পৃথিবী অনড় এবং মহাবিশ্বের সকল গ্রহনক্ষত্র পৃথিবীকে কেন্দ্র করে এর চারিদিকে ঘুরছে। ১৯৯৯ সালের এক জরিপ অনুসারে ১৮ শতাংশ আমেরিকান মনে করে, পৃথিবী নয়, বরং সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে। একইভাবে ১৯৯৬ সালে পরিচালিত জরিপ অনুসারে ১৬ শতাংশ জার্মান এবং ১৯ শতাংশ ব্রিটিশও একই ধারণা পোষণ করে। এমনকি ২০০৫ সালে পরিচালিত আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন আমেরিকানের মধ্যে একজন বিশ্বাস করে, সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। তাদের এই বিশ্বাস মূলত খ্রীস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল-ভিত্তিক।



তবে কেবল সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, বরং বিজ্ঞানী কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিওর 'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে'–এই তত্ত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক বিদ্বান মানুষও। এরকম একটি গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট হচ্ছে Galileo Was Wrong এবং তারা নাকি আইনস্টাইন, হাবল ও হকিংয়ের মত বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছে, পৃথিবী ঘোরে না, সূর্য ঘোরে এবং এর ওপর তারা সাড়ে এগারশ পৃষ্ঠার একটি গবেষণাগ্রন্থও বের করেছে!

অথচ আধুনিক বিজ্ঞান বলে, পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে বিষুবরেখা বরাবর ঘন্টায় প্রায় ১০৪০ মাইল এবং নিজ কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ঘন্টায় প্রায় ৬৭,০০০ মাইল বেগে ঘুরছে। একইভাবে সূর্য তার গ্রহ-উপগ্রহগুলোকে নিয়ে ঘন্টায় প্রায় ৫,৬০,০০০ মাইল বেগে ছুটে চলেছে এবং প্রায় ২৫ কোটি বছরে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চারিদিকে একবার ঘুরে আসছে।

মানুষের চাঁদে যাওয়া আমেরিকার কারসাজি

চাঁদে অবতরণের ষড়যন্ত্র তত্ত্বে (Moon Landing Conspiracy Theory) বিশ্বাসীরা মনে করে, এপোলো নভোযানের চাঁদে অভিযান মিথ্যা, সাজানো ঘটনা (Hoax) এবং নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিনসহ আমেরিকার কোন নভোচারীই চাঁদে যাননি। তাদের বিশ্বাস, আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাঁদে অবতরণের যেসব ছবি ও ভিডিও প্রচার করেছে, তা মিথ্যা এবং এতে আসলে চাঁদে নামার কোন দৃশ্য নয়, বরং হলিউডের স্টুডিওতে অভিনয়ের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বিল কেসিং নামে একজন আমেরিকান লেখক তার 'We Never Went to the Moon' নামক বইতে প্রথম দাবি করেন, ছয়টি এপোলো অভিযানের সবগুলোই বানোয়াট।




এরপর এ নিয়ে বহু গবেষণাধর্মী বই বেরিয়েছে, তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে এবং ওয়েবসাইট দাঁড়িয়ে গেছে। তখনকার সময়ে মহাকাশভ্রমণের প্রযুক্তিগত অনগ্রসরতা, চন্দ্রপৃষ্ঠ ও মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশ এবং চন্দ্রাভিযানের ছবি ও ভিডিওতে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতার আলোকে অনেকেই মনে করে, চাঁদে অভিযান নিতান্তই নাসার সাজানো ঘটনা। চাঁদে অবতরণের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়ার এই নিবন্ধটি দেখা যেতে পারে। সাম্প্রতিককালে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ২০ শতাংশ, রাশিয়ার ২৮ শতাংশ ও ব্রিটেনের ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, আমেরিকার নভোচারীরা চাঁদে যায় নি।




প্রথম প্রথম পাত্তা না দিলেও শেষ পর্যন্ত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এসব অভিযোগের জবাব দিতে বাধ্য হয় এবং চন্দ্রাভিযানের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণসহ নাসার অফিশিয়াল বক্তব্য তুলে ধরে তাদের ওয়েবসাইটে। এপোলো অভিযানের ছবিতে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতার অভিযোগের জবাব পাওয়া যাবে উইকিপিডিয়ার এই নিবন্ধে। অন্যদিকে নাসা ছাড়াও আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে পরিচালিত স্বতন্ত্র গবেষণা ও পরীক্ষা-নীরিক্ষায় মানুষের চাঁদে অবতরণের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে উইকিপিডিয়ার আরেকটি নিবন্ধে। তারপরও যারা বিশ্বাস করতে চায় না, তাদের বিশ্বাস করায় কার সাধ্য!

[টেকটিউন্‌সে প্রথম প্রকাশিত]

মূল লিঙ্কঃ http://sonarbangladesh.com/blog/netpoka/40056
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম