ইসলাম ও জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম ও জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৮ ডিসে, ২০১১

নাম নিয়ে আমার কৌতুহল

যে ভূমিকা না লিখলেই নয়
ভাল একটা নাম চাই! ভাল'র সঙ্গা কি? অবশ্যই 'আনকমন' হতে হবে। নবজাতকের নাম রাখতে গিয়ে মোটামুটি সব বাবা-মা' ই আমার সাথে অন্তত এ ব্যাপারে একমত হবেন। মুসলিম হলে তো কথাই নাই। কারণ, আল্লাহ রোজ কিয়ামতের মাঠে বাবার নামের সাথে মিলায়ে বান্দাকে ডাকবেন। সুতরাং খারাপ বা বিদঘুট অর্থওয়ালা নাম ধরে আল্লাহ ডাকুক তা কেউই চাইবে না। যেমন-এই "জামাল মিয়া" যার মানে এই "একশো উট"! প্রথম 'দর্শনের' একটা গুরুত্ব আছে না?
একটা স্ট্যান্ডার্ড নামের তিনটা অংশ থাকে বলে অনেকেই মনে করেন। ফার্স্ট, মিডল এবং লাস্ট নেইম। প্রথম অংশে
তার নিজের নাম রাখা হয়। মঝাখানে বাবার নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়। শেষ নাম বংশ বা সার (sur) নাম বলে পরিচিতি পেয়েছে। অনেকেই আবার মাঝখানটা স্কিপ করে সরাসরি লাস্ট নামে চলে যান।

আমাদের নাম বিভ্রাট
আমরা অনেকেই 'জ' ও 'য' (অর্থাৎ 'জিম' এবং 'যা'), 'স' ও 'ছ', 'ও' বা 'ও-কার' ইত্যাদি উচ্চারণের ফারাক বুঝতে পারি না। যার কারণে অন্যের কাছে বা ভিন দেশীদের আমাদের ভিনদেশীয় নামের উচ্চারণ ঠিক করে বলতে পারিনা। যেমন, 'জাহাংগীর' বা 'যায়েদ' বলার সময় 'জ' ও 'য' উচ্চারণ একইভাবে মেরে দিই। অর্থাৎ শুরুতেই গন্ডগোলটা বাধিয়ে ফেলি। আমার এক্স কলিগ (তিনি কিন্তু পিএইচডি)-এর Zoo বলা তো আমার অফিসের কেউই বুঝলো না। শেষমেষ লিখে বোঝাতে হয়েছিল।
টেলিফোনে আমার রুমমেট ইউটিলিটি বিল দিতে গিয়ে নিজের নাম 'সাজ্জাদ' উচ্চারণ করল এভাবে, এস এ জি জি এ ডি (আমরা যে বর্ণমালাকে 'যেড' বলে জানি তা আমেরিকায় হয়েছে 'যি')। ক'দিন পর বিলে নাম এল 'সাজ্ঞাদ' হয়ে, 'সাজ্জাদ' আর বানানো গেল না!

'আঈন' তো ফেলে দেয় মহাবিপদে। গলার মাঝখানে মাইরপ্যাচ করে 'নামের ভিতর 'আঈন' লুকিয়ে থাকা কাউকে ডাকা আমাদের ধাতে কুলায় না। যেমন, মা'মুন, মাসঊদ। আমরা ডাকি 'মামুন', 'মাসুদ' বলে। আমার ইরাকী প্রতিবেশী আমার ভায়রার নাম 'মামুন' শুনে বুঝতেই পারে না এটা কোন নাম। অথচ এটা কিনা ওদের কাছ থেকেই এসেছে। কত না গল্প বাগদাদের খলীফা মা'মুনুর রশীদকে নিয়ে! বুঝলাম 'আঈন'-এর জটিলতায় আমার ভায়রা আটকে গেল!

এ সমস্যা শুধু আমাদের না। ভারতীয় ও পাকিস্তানীদেরও।
যেমন আমার মেয়ের সাথে আরবী পড়তে যায় 'রিদা'। আমাদের মসজিদের জর্ডানী ইমাম বললেন, এইটা তো কোন নাম না, এইটা হবে (একটু টেনে, মানে মাদ্দ দিয়ে) 'রিদআ'!
আমার আরেক পাকিস্তানী প্রতিবেশীর ছেলের নাম 'সাইফান' শুনে ইমাম সাহেব সাইফানের বাপকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ও তো একটা সাইফ। একা হয়ে দুইটা সাইফ হয়ে গেল কেমনে?'
সাইফানের বাবা কাইয়ুম বললেন, একটু ব্যতিক্রম নাম রাখতে গিয়ে এই কাজটা হয়ে গেছে। ভুলটা পরে বুঝতে পেরেছে আমাদের কাইয়ুম ভাই। 'সাইফ' মানে হল 'তরবারী' বা একটা তরবারী, 'সাইফান' মানে হল, 'দুইটা তরবারী'!

দেশী ভাই হালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ছেলে ও মেয়ের নাম কি?
উনি বললেন, 'হাদীন' আর 'রাদীন'
বললাম, মানে?
উনি বললেন, "আল্লাহ্‌র 'হাদী' নামের শুদ্ধ উচ্চারণ এটা। হাদীর শেষে দুইটা 'যের' বা 'কাসরা' আছে না? এটা আসলে 'হাদীন' হবে।" রাদীনেরও ওরকম ব্যাখ্যা দিলেন।
বললাম, হুম, জব্বর জিনিস আবিষ্কার করলেন!

আমার ভারতীয় প্রতিবেশী মুজাম্মিল বলে আমরা মানে বাংলাদেশীরা নামের ভিতর নাকি 'উল', 'উর' বা 'উ -জাতীয় শব্দ' বেশী যোগ করি। আর ওরা করে 'ইল' বা 'ইর' বা 'ই-যুক্ত' শব্দ। যেমন, আমাদের 'ফারুকুর রহমান', 'মুজিবুর রহমান', 'আশরাফুল ইসলাম' ইত্যাদি। ওদের নাকি এরকম নাই। আছে 'তুজাম্মিল', 'মুজাম্মিল', 'আব্দুল কালাম' ইত্যাদি।

'আরিয়ান' নাম নিয়ে গবেষণা
হঠাৎ করে এই নামটা বেশ পপুলারিটি পেয়েছে। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। আমার এক নিকটাত্মীয়া তার ছেলের নাম রেখেছেন 'আরিয়ান'। আমার এক এক্স ভারতীয় (গুজরাটি) কলিগ যতীন মিস্ত্রী তার ছেলের নাম রেখেছে 'আরিয়ান'। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেল ওদের দ্বিতীয় ছেলের নাম এই দুই সপ্তাহ আগেই রাখল আরিয়ান। ফেসবুকে আরিয়ানের ছবি দিতেই সোহেলের স্কুল জীবনের আরেক ক্লোজ ফ্রেন্ড আজাদ বল্ল, ওর ছেলের নামও তো 'আরিয়ান'। কি চমৎকার মিল! কেউ কারো কাছে না শুনে সবাই এমন নাম রেখে ফেলেছে। পরে জানলাম শাহরুখ খান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী গৌরী খানের ছেলের নামও নাকি 'আরিয়ান'!
আমি একটু 'গবেষণা' শুরু করে দিলাম। এই নামটা আসল কোত্থেকে? আমার আত্মীয়া বললেন, ইসলামী নামের বই থেকে পেয়েছেন। যতীন বল্ল, এটা ওদের এক 'গড'-এর নাম। সোহেল চমৎকার একটা ঐতিহাসিক ব্যাকগ্রাউন্ড বল্ল। সেখানে যাওয়ার আগে আমাদের মসজিদের আরেক ফিলিস্তিনী ইমামের সাথে আমার কথোপকথনটা আপনাদের বলে নেই। উনি তখন কি যেন লিখছিলেন।

আমিঃ (সালাম ও অনুমতি নিয়ে) আরিয়ান কি ইসলামী নাম?
ইমামঃ না।
আমিঃ ওকে। বুঝলাম এটা কোন ইসলামী ব্যক্তিত্বের নাম না। তবে আরবীতে এই নাম আছে কি?
ইমামঃ না।
আমিঃ আপনি কি শুনেছেন এই নাম কখনো?
ইমামঃ হ্যাঁ।
আমিঃ (অনেক আশা ও আগ্রহ নিয়ে) তাহলে বলেন এইটা কোন গোছের নাম তাহলে?
ইমামঃ এইটা 'ইহুদী' নাম!
আমিঃ (ধপাশ করে পড়ে গিয়ে) মানে? ইমামঃ এইটা সেমেটিক, হিস্ট্রিক্যাল নেইম!
আমিঃ আমার পরিচিত অনেক ভাল মুসলমানই রেখেছে এই নাম।
ইমামঃ ইট্‌স অলরাইট।

ইমাম সাহেবের সাথে কথা শেষ করে আমার বন্ধুকে ফোন দিলাম।
- দোস্ত, কংগ্রাচুলেশন! নামটা তো বেশ রেখেছিস। তোরা কি আগেই এইটা ঠিক করে রেখেছিলি?
- হ্যাঁ। এটা অনেক খেটে-খুটে জোগাড় করারে দোস্ত।
- তা এই নামটা কোন ভাষার? কিভাবে পাইলি? মানেই বা কি?
- আরবীর। ইসলামী সাইট থেকে পাইছি। মানে হল 'সাহসী', বা 'বীর।
- ভেরী গুড। কোনো আ্যরাবিয়ান আলেমের কাছে শুনিছিলি কি? (ওর পাশের মসজিদটা হল
আরবভাষীদের দ্বারা পরিচালিত)
- না।

আমি আমার বন্ধুকে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আমার কথোপকথনগুলো তুলে ধরলাম।
সব শুনে ও বল্ল, "না এটা ঠিক না। এটা ইহুদী নাম না। উনি হয়তো Aryan'র কথা বলেছেন, আমার ছেলের নাম Arian - এইটা মূলত পারসিয়ান নাম। আফগান আর ইরানের বর্ডারের যে প্রদেশটা আছে, ওই এলাকার লোকেরা আফগান না ফার্সী ভাষায় কথা বলে। ওখানকার এক পাহলোয়ান নাম ছিল 'আরিয়ান'।"
আমি বললাম, "ভেরী গুড। আমাদের আরিয়ানও ইসলামের পাহলোয়ান হবে ইনশাল্লাহ্‌।" এভাবেই কথা শেষ করে পরেরদিন আমার ইরানী কলিগ এলনাযকে আরিয়ান নামের আমার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলাম।
এলনায বল্ল, হ্যাঁ, আরিয়ান নাম ইরানে অনেক আছে।
বললাম, গ্রেট। এটা মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত নিশ্চয়ই (কারণ আমি জানি ওদের দেশে অনেক ইহুদী আছে)? বানান বলবে কি?
এলনায বল্ল, "নট নেসেসারিলি। অমুসলিমদের মধ্যেই মূলত এ নামের প্রচলনই বেশী। বানান হল, Arian।"

আমি আমার বন্ধুকে এ ব্যাপারে আর কিছুই বললাম না।
(চলবে)

____________________________________________

মূল লিঙ্কঃ http://sonarbangladesh.com/blog/shahin/75985
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৪ নভে, ২০১১

আসর (সময়)

 এই ছোট্ট তিন আয়াতের সূরাটা সম্পর্কে লিখতে বসে কোথা থেকে শুরু করব ভেবে কূল কিনারা করতে পারছিনা। একবার মনে হচ্ছে যা শিখেছি সব লিখি, আবার ভাবছি যার আগ্রহ আছে সে তো নিজেই শিখে নিতে পারবে, বরং আমাদের জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি তাই নিয়ে লিখি। আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরসা করে শুরু করলাম, জানিনা শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আয়াতের কতটুকু মর্যাদা দিতে পারব।

কারো যদি সূরা আসর টা পড়া না হয়ে থাকে তার সুবিধার জন্য মোটামুটি একটা তর্জমা দিচ্ছি।

১. শপথ সময়ের (ওয়াল আসর)
২. নিশ্চয়ই প্রত্যেকটি মানুষ নিঃসন্দেহে ক্ষতির মধ্যে রয়েছে (ইন্নাল ইনসানা লা ফী খুসর)
৩. শুধুমাত্র তারা ব্যতীত, যারা (ইল্লাল্লাযীনা)
- বিশ্বাস করেছে এবং (আ'মানু ওয়া)
- সৎকর্ম করেছে এবং (আ'মিলুস সালিহাতি ওয়া)
- উপদেশ দিয়েছে সত্যের দিকে / সততার সাথে এবং (তাওয়াসাও বিল হাক্ব ওয়া)
- উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যের দিকে / ধৈর্যের সাথে (তাওয়াসাও বিস সাবর)

ছোট্ট সূরা। সিম্পল কথাবার্তা, কুরআনের অন্যান্য সব সূরায় যেমন সতর্কবাণী থাকে এখানেও তেমনই। কিন্তু এই সূরার
গঠন, পূর্ণাঙ্গতা, শব্দচয়ন সবকিছু চিন্তা করলে রীতিমত ভয় লাগে। প্রথমেই বলি, আল্লাহ কুরআনে অনেক বস্তু নিয়েই শপথ করেছেন, (যেমন সূরা ত্বীন, সূরা শামস্, সূরা আদিয়াত), শপথ নিয়ে শুরু করা সূরার ধারাবাহিকতায় শেষ সূরা হচ্ছে সূরা আসর, এর পরে আর কোন সূরায় আল্লাহ কোন কিছুর শপথ করে কিছু বলেন নি। তিনি কিসের শপথ নিলেন? সময়ের। কেন? সময়কে এত সম্মান কেন? কারণ প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ সময়। ধনী হোক, গরীব হোক, অ্যাথলিট হোক, পঙ্গু হোক - সবার জন্য সময়ের দয়া সমান পরিমাণে আছে। একটা জিনিসের মূল্য আরো বেশি মনে হয় যখন জানি একে ধরে রাখা যাবেনা। দেশের বাইরে থেকে তিন সপ্তাহের জন্য দেশে বেড়াতে গেলে এর মর্ম আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাই। আল্লাহ সেই সময়ের শপথ করেছেন, ওয়াল আসর - যেখানে আসর এর শব্দগত উৎপত্তি 'আসীর' বা ফলের রস থেকে, নিংড়ে বের করতে গেলে যাকে কখনোই হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যায়না।

এই আসর বা সময় শুধু সদা প্রবহমান - এটা বুঝাতেই ওয়াল আসর বলা হয়নি। আসর সাক্ষ্য দিচ্ছে যে প্রত্যেকটি মানুষ সত্যি সত্যি ক্ষতিগ্রস্ত। সময় একইসাথে গতিশীল, কিন্তু মহাকালের বিবেচনায় সবটুকু মিলিয়ে স্থানুও বটে। আমাদের হাসি খেলা, ইঁদুর দৌড়, পরষ্পরকে দোষারোপ, সামান্য অর্জনে আস্ফালন - তারপর একদিন নিরবে প্রস্থান - সব কিছুর সাক্ষী হয়ে আছে সময়। যে একই সাথে ছোট্ট শিশুর মত চঞ্চল, আবার শতবর্ষী ঋষির মত গম্ভীর। ইতিহাসের পাতার অসংখ্য সফল জাতির উত্থান ও পতন সময় দেখেছে, দেখেছে খুব সফল জননেতাকেও মৃত্যুর পরে ধূলোয় মিশে যেতে। আমাদের এত আয়োজন, এত আত্মম্ভরিতা - কিছুই সময়কে টানেনা, কারণ সে জানে এর শেষ হবে একটু পরেই।

এটা খুব অবাক করা ব্যাপার, আল্লাহ প্রত্যেকটা মানুষকে এত বড় একটা জিনিসের শপথ করে বলল ক্ষতিগ্রস্ত? আল্লাহ ইনসান না বলে কাফির বলতে পারত! মুশরিক বলতে পারত! ইনসান কেন? ইনসান দিয়ে ত বোঝায় পুরো পৃথিবীতে যত মানুষ আছে, বা যারা আগে চলে গেছে তাদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদা করে। আমার ডিপার্টমেন্ট এর চেয়ারম্যান সব স্টুডেন্ট কে ডেকে যদি বলে, নূসরাত, you r in deep trouble, জেসি, you need to be careful, মমতা..., মারলন..., ব্রায়ান..., ক্যাথি - তাহলে যেমন ভয়ে আমাদের সবার আত্মা উড়ে যাবে, ইনসান ততটাই স্পেসিফিক। তাও একবার না, 'ইন্না' আর 'লা' একই বাক্যে দু দুটো অব্যয় ব্যবহার করে বাক্যটাকে খুবই জোরালো করা হয়েছে। প্রথমে 'আসর' দিয়ে শপথ, এক এক করে সবার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ, তারপর 'ইন্না' আর 'লা' দিয়ে এর গুরূত্ব দশ পনের গুণ বাড়িয়ে দেয়া - এই সূরায় আল্লাহ যেন মানুষের জন্য এক্সট্রিম এক্সট্রিম সতর্কবাণী দিয়েছেন।

আল্লাহ বললেন আমরা সবাই খুসর এর মধ্যে আছি। খুসর বলতে কিন্তু ছোটখাট ক্ষতি বোঝায় না। ব্যবসা করতে নেমে মূলধন সহ খুইয়ে নিঃস্ব হওয়া হচ্ছে 'খুসর।' আপনার পাঁচতলার ফ্ল্যাটে আগুনে আটকা পড়া হচ্ছে খুসর। অজ্ঞান অবস্থায় পানিতে পড়া খুসর। মোদ্দা কথা, সারভাইভাল এর প্রশ্ন যেখানে, যেখানে এই ক্ষতি থেকে উদ্ধার পাওয়া ছাড়া আর সব কিছু গৌণ হয়ে যায় - তাই খুসর। আল্লাহ কেন বললেন আমাদের জীবন নিয়ে টানাটানি? তিনি কি দেখেন না, আমরা দিব্যি বেঁচে বর্তে আছি? আমরা ত শেষ দিবসে বিশ্বাস করি, আর সাধ্যমত ইবাদত ও করি। তাহলে কেন তিনি ঘোর নাস্তিক এর সাথে আমাদের একই কাতারে ফেললেন?

উত্তর একটাই। সময়। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করে তাদের থেকে কমিটমেন্ট নিয়েছেন যে তারা নিজেদের 'আক্বল' বা ইন্টেলেক্ট ব্যবহার করে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে আল্লাহর পছন্দসই কাজ করবে। আমরা পৃথিবীতে কতসময় থাকব সেটা অনেক আগেই ঠিক করা। এসময়টায় কী করব সেটাও হলফ করে আল্লাহর কাছে বলে এসেছি। ভাবতে গেলে মনে হয় সময়টাই যেন আমাদের একটা টুল। আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করে ধার নিয়ে এসেছি। আল্লাহ দেখছেন তাঁর এই অনুগ্রহের কী সদ্ব্যবহার আমরা করছি। অনেকটা এমন, আমরা একটা বিশাল বালিঘড়ির নিচের অংশে আছি। একটা একটা করে বালি উপর থেকে পড়ছে, কথা ছিল তাই দিয়ে আমরা আল্লাহর নাম গুলি লিখব। কিন্তু সব ভুলে তাই দিয়ে আমরা ঘর বাড়ি বানাচ্ছি, ছাদটাকে ছোঁয়ার সিড়ি বানাচ্ছি। আল্লাহ সব দেখছেন, আমাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য রাসুল পাঠাচ্ছেন, তাঁরা কাঁচের দেয়ালের বাইরে থেকে বারবার আমাদের নিষেধ করছেন, আমরা ফিরেও তাকাচ্ছিনা। বালিঘড়ির শেষ বালিটা যখন তার যাত্রা শেষ করবে, জীবনের দীপটা নিভে যাবে, আল্লাহর সামনে দাঁড়াব নতমুখে, তখন আমাদের হয়ে সাক্ষ্য দেবে আমাদেরই তৈরি বালির ঘর, নষ্ট করা সময়।
 
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২ নভে, ২০১১

খোরাসান থেকে ইসলামী বাহিনীর উত্থান

হযরত মুহাম্মদ (দঃ) বলেন, আমার পরে অনেক সেনাবাহিনী আসবে। তোমরা অবশ্যই সেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে যেটা খোরাসান থেকে আসবে। এটা এমন সময় যখন মুসলমানদের স্বর্ন-রৌপ্য এবং সম্পদের প্রাচুর্য থাকবে কিন্তু তারা হবে খুব দূর্বল, অসহায় আর তুচ্ছ। বিজাতীরা একে অপরকে আহবান করবে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যেমন করে প্রচন্ড ক্ষুধার্তরা খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিজাতীরা মুসলমানদের নিকট তাদের বিরোধী লোকদেরকে চাইবে। মুসলমানরা উত্তর করবে, আল্লাহর কসম! তারা আমাদের ভাই। আমরা কখ্খনো তাদেরকে দেব না। আর এখানেই যুদ্ধের শুরু। এক তৃতীয়াংশ মুসলিম যুদ্ধের ময়দান থেকে পালাবে আর তাদের তওবা কখনই কবুল করা হবে না। এক তৃতীয়াংশ নিহত হবেন আর তাঁরা আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত হবেন। বাকী এক তৃতীয়াংশ হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষন না তাঁরা জয়ী হতে পারবে। সেই সময় তোমরা উঁচু পর্বতমালার মাঝে বৃক্ষবেষ্টিত একটি সমভূমিতে একত্রিত হবে। খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী সেনাবাহীনি আসবে। কোন শক্তিই তাদের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না যতক্ষন না তারা জেরুজালেমে তাদের পতাকা উত্তোলিত করে। যদি তুমি খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী সেনাবাহীনি কে আসতে দেখ অতিসত্ত্বর তাদের সাথে যোগ দাও যদিবা তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়েও যেতে হয়। কারন তাদের মধ্যেই থাকবেন তোমাদের খলীফা, আল মাহদী।
সূত্র: ইউ টিউব
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম