দৃষ্টিভঙ্গি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দৃষ্টিভঙ্গি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৬ মে, ২০১২

সাহারার পেছনে যাহারাই থাকুন, আমরা দেবই পাহারা

আমার এক ঘনিষ্ট বোকা বন্ধু আজ সন্ধ্যায় মিনতি করে বলেছে, আমি যেন সাহারা গ্রুপের ব্যবসায়ী উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো উচ্চবাচ্য না করি। আমি ভাবলাম, সে বোধহয় সাহারা গ্রুপের ঢাকা অফিসে চাকুরি টাকুরি নিয়ে ফেলেছে, তাই এই মিনতি। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা মিনতির যে কারণটি সে বলল, তাতে সত্যি সত্যই চমকালাম। সে বলল, ‌'দোস্ত, ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বললে তুই যে কোনোদিন গুম হয়ে যাবি। ইন্ডিয়া এদেশে তাদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো কাজ করতে তৎপর। বারবার ঘু ঘু ধান খেয়ে গেলেও ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ধান খেতে যাস না, পরাণে বধ হয়ে যাবি।'

আমার চমকাবার কারণ এখানেই। আমি এখনও বিশ্বাস করি না যে ভারতের বিরুদ্ধে একটা কিছু লিখলেই কেউ এই দুনিয়া থেকে নাই হয়ে যেতে পারে। আমার মতো তুচ্ছ লেখকের তুচ্ছ ব্লগ পড়ার মতো সময়ও কোনো বড় মানুষের আছে, এটাও আশা করার কোনো কারণ নেই।

কিন্তু সাধারণ মানুষের অনেকেই হয়তো তা-ই ভাবে,নইলে আমার এই বন্ধুটি এরকম করে বলত না। আমি আমার পাঠককে নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, এই বন্ধুটি বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সমর্থক নয়, সুতরাং অভ্যস্ত রাজনৈতিক চিন্তা থেকে এই ভাবনা আসেনি।

ভারত সম্পর্কে এরকম ভীতি যদি ছড়াতে থাকে সেটি সুখের কথা নয়। কিন্তু দিনে দিনে এই ভীতি বাড়ছে, এটাও বোধহয় এক দুঃখজনক বাস্তবতা। কেন এমন হচ্ছে সেটা বিতং করে লেখার আগ্রহ পাচ্ছি না, আমরা সবাই তা কমবেশি জানি। আজকেও জানলাম, কলকাতার জামাই ষষ্ঠিতে যাতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় এজন্য মমতা বন্দোপাধ্যায় নাকি ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে ফেলেছেন। সুতরাং তিস্তার পানি আসুক কি না আসুক, ফারাক্কার বাঁধে ছোট্ট এক ফাটল নিয়ে মমতা যতই নোংরামি করুন, আমরা দিদিকে জামাই ষষ্ঠির ইলিশ দিতে গাড়ি ঠিকই রওনা করিয়ে দিয়েছি। নিজের দেশের চেয়ে পরের দেশের প্রতি প্রেমটা যে আমাদের বেড়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে সতর্ক হওয়ার কারণ রয়েছে।

যাই হোক, সংক্ষেপে মূল কথায় চলে আসি। আজকে সাহারা গ্রুপের প্রধান ব্যক্তি সুব্রত রায় সাহারা হোটেল রূপসী বাংলায় তার বাংলাদেশী কোম্পানির শুভ উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখবেন শেখ সেলিমের সুযোগ্য পুত্র শেখ ফাহিম। এই নিয়োগ আবার আড়ম্বরের সঙ্গে হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিজনেস কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে ফাহিমের হাতে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে এদেশে সাহারা গ্রুপের গতি শুধু চলা শুরু করবে না, রীতিমতো দৌঁড়াবে। সে দৌঁড়াক, সবাই ব্যবসা বানিজ্য করে খাক, আমার আপত্তি নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কতটাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সাহারা গ্রুপ? মাত্র ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন তাঁরা। এই যে আবাসন, আইটি, পর্যটন, চিকিৎসা সব ব্যবসায় একেবারে ফর্দাফাই করে দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং দেখাচ্ছেন জনাব সাহারা বাবু, এর বাকি টাকা আসবে কোথা থেকে? বাংলাদেশ থেকেই।

সাহারা প্রথমে শুরু করতে চাচ্ছে আবাসন ব্যবসা দিয়ে। গোটা একটা নগর গড়ে তোলার জন্য তাঁরা ৩ লাখ বিঘা জমি চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন নদী ড্রেজিং করে জায়গা তৈরি করে দেয়া সম্ভব। বাপরে বাপ।

যাক গে, আমি এই প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছি না যে জমি যদি দেয়াই যায়, তাহলে সাহারা লাগবে কেন, একটা নগর গড়ে তুলতে তো সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছাই যথেষ্ঠ হওয়ার কথা। কিছুদিন আগে পূর্বাচলের জমি নিয়ে যেমন কাড়াকাড়ি দেখেছি, তাতে নিশ্চিত করে বলা যায় তেমন নগরী গড়ার উদ্যোগ নিলে এদেশের মানুষের টাকাতেই সেটি তৈরি করা সম্ভব। প্লট বরাদ্দের আবেদনের সময় ভিড়ে ঢাকা শহরে যানজট লেগে যায়। ইনফ্যাক্ট সাহারা তো তা-ই করবে। কইয়ের তেলে কই ভেঁজে আবাসনের ব্যবসা তো এদেশে হচ্ছেই।

তবে এই ব্লগ লেখার কারণ আসলে এসব বকর বকর করা নয়। এই ব্লগ লেখার আসল কারণটি এখন বলি। সুব্রত রায় সাহারার একটা কথা আমার ভালো লাগেনি।

তিনি সুন্দরবনের পাশেও একটা টুরিস্ট নগরী গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বিষয়টি যে সুবিধার নয়, সেটি তার নিজের কথাবার্তাতেই আশংকা জেগেছে। তিনি পরিবেশবাদীদের বিষয়ে অত্যন্ত অপমানজনক ভাবে বলেছেন, 'সুব্রত সাহারা বলেন, বেশিরভাগ পরিবেশবাদী শুধু শুধুই ঝামেলা করেন, তারা সমাধান দেন না। শুধু ঝগড়া করেন। তাই সুন্দরবনে পর্যটন সিটিতে তারা বাধা দিলেও সমস্যা হবে না। কারণ তারা অনেকেই তো দোকান খুলে বসে আছেন। ভারতেও তারা অনেক সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।’

আমার ব্লগ লেখার কারণ আসলে এটুকুই। আমি শুধু বলতে চাই, 'এক্সকিউজ মি জনাব সুব্রত বাবু। আপনি সম্ভবত ভুল জায়গায় নক করে ফেলেছেন। সুন্দরবন আমাদের পরিবেশবাদীদের একক সম্পত্তি নয়, এটি আমাদের গোটা বাংলাদেশের সম্পত্তি। আপনি নদী ড্রেজিং করে লাখলাখ একর জায়গায় নগর ফগর তৈরি করছেন, সেটা না হয় আমরা মুখ বন্ধ করে মেনে-ই নেব; কিন্তু সুন্দরবন নিয়ে চুদুর ভুদুর করতে আইসেন না। সুন্দরবন নষ্ট করে টাকা কামানোর কোনো স্বপ্ন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আজ রাতেই সেটি ভুলে যান। সুন্দরবন নিয়ে কিছু করতে চাইলে ব্যাপারটা হয়তো আপনার জন্য যথেষ্ঠ পরিমান অসুন্দর হয়ে পড়বে। আপনাকে কানে কানে বলে রাখি-সুন্দরবনে কিন্তু বাঘ থাকে।'

এই ফালতু ব্লগটা লেখার উদ্দেশ্য আর কিছু নয়, নগদা নগদ শুধু এই সতর্কবানীটুকু জারি করে দেয়া।

 সুত্রঃhttp://www.amarblog.com/arifjebtik/posts/148053
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১ ফেব, ২০১২

হাত বাড়াও, বন্ধু

মাস কয়েক আগে প্রথম আলো পত্রিকায় ময়মনসিংহের রিকশাচালক জয়নাল আবেদিনের ওপর একটি প্রতিবেদন বের হয়েছিল। হতদরিদ্র এক দিনমজুর, তিলে তিলে সঞ্চয় করে প্রায় ৩০ বছরের এক টানা সাধনার পর নিজের অর্থে গড়েছেন একটি হাসপাতাল ও একটি স্কুল। অবিশ্বাস্য ঘটনা, কিন্তু সত্যি। বিনা চিকিৎসায় বাবার মৃত্যুর পর জয়নাল শপথ করেছিলেন একটি হাসপাতাল করবেন, যেখানে তাঁর বাবার মতো হতদরিদ্র মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবে।
সন্দেহ নেই, জয়নাল সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফসল এই হাসপাতাল। প্রতিবেদনটি ঘনিষ্ঠভাবে পড়লে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। একার কাজ, কিন্তু একা একা এ কাজ তিনি শেষ করেননি। বাবার মৃত্যুর পর সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন জয়নাল। শাহজাহানপুর রেল কলোনির পানির ট্যাংকের কাছে সে সময় তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। অসহায় এই মানুষটিকে দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় এক রিকশা মালিক মোশাররফ। নিজ থেকেই তাঁকে রিকশা চালানোর ব্যবস্থা করে দেন। টিকে থাকার জন্য ৫০ টাকা দেন, কী করে রিকশা চালাতে হয়, তা-ও হাতে ধরে শিখিয়ে দেন।
আরও একজন মানুষ তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। রিকশা চালিয়ে যে অল্প-বিস্তর অর্থ জমত, তা আলাদা করে রেখে দিতেন জয়নাল তাঁর স্বপ্নের হাসপাতালের জন্য। খুব চেষ্টায় ছিলেন ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে। সবাই অবজ্ঞাভরে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে, বলেছে, রিকশা চালিয়ে আর কয় পয়সা জমানো যাবে। এমন সময় একজনের কাছ থেকে সাহায্যের আকস্মিক হাত এগিয়ে আসে। সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার সালেহা আক্তার তাঁকে সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে সাহায্য করেন। ২০ বছর পর তাঁর মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা। শুরু হয়ে যায় জয়নালের স্বপ্নের হাসপাতাল।
এ ঘটনাটা মাথায় রাখুন। এবার আমি আপনাদের ভিন্ন দুটি ঘটনা বলব, এর একটি মাইক্রোসফটের বিল গেটস, অন্যটি বিখ্যাত পপ গ্রুপ বিটলসকে নিয়ে। এঁদের মধ্যে সম্পর্ক কোথায়, সে কথায় পরে আসছি।
অবস্থাসম্পন্ন পিতা-মাতার সন্তান বিল গেটস বড় হয়েছেন সিয়াটলে। গোড়াতে পড়াশোনা করেছেন স্থানীয় সরকারি স্কুলে, সপ্তম শ্রেণী থেকে তাঁকে ভর্তি করানো হয় লেকসাইড নামে একটি প্রাইভেট স্কুলে। বড়লোকদের স্কুল, লেখাপড়ার বিস্তর সুযোগ সেখানে। এই স্কুলের মায়েরা মিলে একটি মাদার্স ক্লাব গড়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে এই ক্লাবের পয়সায় একটি কম্পিউটার ক্লাবের ব্যবস্থা করা হয়, গ্রীষ্মের ছুটিতে ছেলেমেয়েদের ব্যস্ত রাখাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তখনো ঘরে ঘরে কম্পিউটার আসেনি, পুরো ব্যাপারটিই নতুন। যে কম্পিউটারটি কেনা হলো, তা ছিল এএসআর-৩৩ টেলিটাইপ, যা টাইম-শেয়ারিং ব্যবস্থায় সরাসরি যুক্ত ছিল সিয়াটলের শহরতলির মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সঙ্গে। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র বিল গেটস প্রথমবারে মতো টাইম-শেয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হলেন। তখন থেকে বলতে গেলে প্রায় সারাক্ষণই সেই কম্পিউটার রুমে পড়ে থাকতেন বিল গেটস। এর সামান্য কিছু পরে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় একটি কম্পিউটার সেন্টার খোলে। সে সেন্টারের অন্যতম পরিচালক মনিক রোনার এক ছেলে পড়ত লেকসাইডে। তিনি উদ্যোগ নিয়ে লেকসাইড স্কুলের কম্পিউটার ক্লাবের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টারের সফটওয়্যার পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিলেন। ছাত্ররা সে সফটওয়্যারের ব্যবহার যোগ্যতা টেস্ট করবে, বিনিময় শনি-রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার কেন্দ্রে নিখরচায় প্রোগ্রামিং করার সুযোগ পাবে। লাফিয়ে উঠলেন বিল গেটস। রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে সাইকেল চালিয়ে কম্পিউটার সেন্টারে আসতেন, বাবা-মা জানতেও পারতেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে পড়ে থাকতেন। তিন বছর পরের ঘটনা। ওয়াশিংটন স্টেটের একটি বিদ্যুৎ কোম্পানি তাদের নতুন কম্পিউটার ব্যবস্থা ‘টেস্ট’ করার জন্য লোক খোঁজা শুরু করেছে। সময়টা ১৯৭১, তখনো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বোঝে এমন লোক বেশি ছিল না। বাড পেম্বরুক নামের এক ভদ্রলোক বিল ও তাঁর বন্ধুদের কথা জানতেন। তাঁরই উদ্যোগে বিলের জন্য ব্যবস্থা হয়ে গেল নতুন সেই কম্পিউটার পরীক্ষা করার। হাইস্কুল শেষ করার আগেই হাজার হাজার ঘণ্টা—সম্ভবত ১০ হাজার ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি—কম্পিউটার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে ফেললেন বিল গেটস।

এবার বিটলসের গল্প
ষাটের দশকের গোড়ার দিকে লিভারপুলে চার ইংরেজ তরুণ মিলে একটি গানের দল গড়ে তোলেন। খুব বেশি লোক তাঁদের কথা জানত না, তাঁদের গান পছন্দও করত না। এ সময় ব্রুনো নামের এক জার্মান লন্ডনে আসেন হামবুর্গে তাঁর নাইট ক্লাবের জন্য গানের দল ভাড়া করতে। এক ইংরেজ বন্ধুর কাছ থেকে তিনি বিটলসের খোঁজ পেলেন, গান শুনে ভালো লাগল, তাঁদের সঙ্গে চুক্তিও হয়ে গেল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গান গাইতে হতো বিটলসদের—কখনো কখনো ১০-১২ ঘণ্টা। কিছুটা নাম-ডাক হওয়ার পর প্রায় সাত দিনই তাঁদের গান গাইতে হতো। অন্যতম বিটলস জন লেনন পরে বলেছেন, হামবুর্গের সেই ক্লাবে গানের সুযোগ পাওয়ার ফলেই দল হিসেবে জমে ওঠে বিটলস। সে সময় কম করে হলেও ১০ হাজার ঘণ্টা তাঁরা গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বৈকি।
গেটস ও বিটলসের এই গল্প আমি পড়েছি ম্যালকম গ্লাডওয়েলের আউটলায়ার্স নামের একটি বই থেকে (লিটল, ব্রাউন অ্যান্ড কোম্পানি, ২০০৮)। এ রকম আরও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে বইটিতে। তার সবগুলোর একটি মোদ্দা বক্তব্য: সাধনা ও পরিশ্রম ছাড়া জীবনে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া কঠিন। সফল এমন সব মানুষই কঠোর পরিশ্রম করেছেন, গ্লাডওয়েলের কথামতো, ১০ হাজার বা তার চেয়েও বেশি ঘণ্টা ব্যয় করেছেন তাঁরা। কিন্তু শুধু সাধনা ও পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়—প্রায় প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুযোগ (অপরচুনিটি)। একদম সাধারণ, তেমন উল্লেখ করার মতো কোনো ব্যাপার নয়, কিন্তু তাতেই সাফল্যের পথ খুলে যায়। আশপাশে মানুষ, যাদের গ্লাডওয়েল ‘কমিউনিটি’ নাম দিয়েছেন, তাঁরাই সে সুযোগ তৈরি করে দেন। বিল গেটস যদি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামিংয়ের সুযোগ না পেতেন, বিটলস দলের যদি হামবুর্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাওয়ার সুযোগ না আসত, তাহলে তাঁদের জীবনে এই অসম্ভব বাঁক ঘোরা কি সম্ভব হতো?
ম্যালকম তাঁর বইয়ে ক্রিস লানগ্যান নামে এক অসাধারণ প্রতিভাধর ব্যক্তির কথা বলেছেন। প্রতিভাবান, কিন্তু ব্যর্থ। সাধারণ মানুষের আইকিউ যেখানে ১০০, লানগ্যানের আইকিউ ১৯৮। তুলনা হিসেবে জানিয়ে রাখছি, বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের আইকিউ ছিল ১৫০। ক্রিস দরিদ্র ঘরের সন্তান, ছোট বেলায় বাবা নিখোঁজ হন, মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন, খুব ক্ষুদ্র একটি চাকরি করতেন। তার ছেলে যে প্রতিভাবান, এ কথা বোঝা সেই মায়ের পক্ষে অসম্ভব ছিল। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য স্কলারশিপের আবেদন করেছিলেন ক্রিস, কিন্তু তাঁর মা আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ভুলে যান, ফলে স্কলারশিপ ফসকে যায়। তার পরও মন্টানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন অঙ্ক ও দর্শন নিয়ে পড়তে। বাড়ি থেকে প্রায় ১৩ মাইল দূরে ক্লাস। যাতায়াত করতেন ভাঙা একটা গাড়িতে। একদিন সে গাড়ি অকেজো হয়ে গেলে ক্রিস তাঁর অধ্যাপককে অনুরোধ জানান, সকালের ক্লাসের বদলে সন্ধ্যায় ক্লাস করার সুযোগ তাঁকে দেওয়া হোক। এক প্রতিবেশী সন্ধ্যায় এদিকে আসেন, তিনি তাঁকে তাঁর গাড়িতে নিয়ে আসতে পারেন। রাজি হলেন না সেই অধ্যাপক। বাধ্য হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে দিলেন ক্রিস। এই লোকের কথা হয়তো আমরা জানতামই না, যদি না কয়েক বছর আগে ‘হু ওয়ান্টস টুবি মিলিয়নিয়ার’ টিভি অনুষ্ঠানে পাঁচ লাখ ডলার জিতে তিনি সাড়া না ফেলে দিতেন।
ম্যালকমের বক্তব্য, অসাধারণ প্রতিভাধর হওয়া সত্ত্বেও ব্যর্থ মানুষই হয়ে রইলেন ক্রিস লানগ্যান। যে সুযোগ বিল গেটস বা বিটলস পেয়েছিলেন, ক্রিস তা পাননি। পরিশ্রম তিনি কম করেননি, তাঁর একাগ্রচিত্ততারও কোনো অভাব ছিল না। সাফল্যের জন্য যে সিঁড়ি চাই, কেউ তাঁর পথ তাঁকে দেখিয়ে দেয়নি। জয়নাল আবেদিনের ব্যাপারটা অনেকটা তাই। তাঁর সাধনা ও পরিশ্রমের কোনো তুলনা নেই, কিন্তু বন্ধুপ্রতিম হাত না পেলে সাফল্যের সিঁড়ির খোঁজ তিনি কি পেতেন?
আরেকটি গল্প বলে এই লেখা আমি শেষ করব। গ্লাডওয়েলের বইটির কথা আমাকে জানান জিম্বাবুয়ের এক সহকর্মী। একদিন দুজন লাঞ্চ খেতে গেছি, সেখানেই বইটি নিয়ে কথা। হঠাৎ বন্ধুর মুঠোফোন বেজে ওঠে। কঙ্গোর একটি মেয়ে ফোন করেছেন, দেড় লাখ ডলারের একটি চাকরি তিনি পেয়েছেন, সে কথা জানাতেই ফোন। কিন্তু সে কথা তোমাকে জানাতে হবে কেন? জানতে চাইলাম। বন্ধুটি জানালেন, বছর দুয়েক আগে মেয়েটি তাঁর অফিসে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় কথায় কথায় জানান, তাঁর ইচ্ছা আইনজীবী হওয়া, কিন্তু সে জন্য পরীক্ষা দিতে যে টাকা লাগে, তা তাঁর নেই। আমার বন্ধু ও তাঁর এক সতীর্থ মিলে সে টাকা জোগাড় করে দিই। এখন কৃতজ্ঞতা জানাতে সবার আগে তাঁকে এই ফোন।
আউটলায়ার্স বইটি পড়ে একটি বিষয় আমি শিখেছি। সাফল্য জিনিসটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। আমরা নিজেরাই কখনো কখনো অন্যের সাফল্যের কারণ হতে পারি। এর জন্য চাই মনটাকে উদার করা, চাই অন্যকে সাহায্য করার জন্য মানসিকতা। একদম তুচ্ছ কাজ, আমাদের আয়ত্তের ভেতর যে কাজ, তার মাধ্যমেই কারও কারও জীবন আলোকিত হতে পারে। সে আলোয় আমরাও উজ্জ্বল হই। আরও একটি কথা। স্বার্থহীন কোনো কাজের মূল্য দাম দিয়ে কেনা যায় না। আমার জিম্বাবুয়ের বন্ধুর গর্বিত মুখটি দেখে আমি সে কথা ঠিক বুঝতে পেরেছি।
বন্ধু, প্লিজ, আপনার হাতটি বাড়ান।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-01-20/news/217865
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৪ নভে, ২০১১

আসর (সময়)

 এই ছোট্ট তিন আয়াতের সূরাটা সম্পর্কে লিখতে বসে কোথা থেকে শুরু করব ভেবে কূল কিনারা করতে পারছিনা। একবার মনে হচ্ছে যা শিখেছি সব লিখি, আবার ভাবছি যার আগ্রহ আছে সে তো নিজেই শিখে নিতে পারবে, বরং আমাদের জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি তাই নিয়ে লিখি। আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরসা করে শুরু করলাম, জানিনা শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আয়াতের কতটুকু মর্যাদা দিতে পারব।

কারো যদি সূরা আসর টা পড়া না হয়ে থাকে তার সুবিধার জন্য মোটামুটি একটা তর্জমা দিচ্ছি।

১. শপথ সময়ের (ওয়াল আসর)
২. নিশ্চয়ই প্রত্যেকটি মানুষ নিঃসন্দেহে ক্ষতির মধ্যে রয়েছে (ইন্নাল ইনসানা লা ফী খুসর)
৩. শুধুমাত্র তারা ব্যতীত, যারা (ইল্লাল্লাযীনা)
- বিশ্বাস করেছে এবং (আ'মানু ওয়া)
- সৎকর্ম করেছে এবং (আ'মিলুস সালিহাতি ওয়া)
- উপদেশ দিয়েছে সত্যের দিকে / সততার সাথে এবং (তাওয়াসাও বিল হাক্ব ওয়া)
- উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যের দিকে / ধৈর্যের সাথে (তাওয়াসাও বিস সাবর)

ছোট্ট সূরা। সিম্পল কথাবার্তা, কুরআনের অন্যান্য সব সূরায় যেমন সতর্কবাণী থাকে এখানেও তেমনই। কিন্তু এই সূরার
গঠন, পূর্ণাঙ্গতা, শব্দচয়ন সবকিছু চিন্তা করলে রীতিমত ভয় লাগে। প্রথমেই বলি, আল্লাহ কুরআনে অনেক বস্তু নিয়েই শপথ করেছেন, (যেমন সূরা ত্বীন, সূরা শামস্, সূরা আদিয়াত), শপথ নিয়ে শুরু করা সূরার ধারাবাহিকতায় শেষ সূরা হচ্ছে সূরা আসর, এর পরে আর কোন সূরায় আল্লাহ কোন কিছুর শপথ করে কিছু বলেন নি। তিনি কিসের শপথ নিলেন? সময়ের। কেন? সময়কে এত সম্মান কেন? কারণ প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ সময়। ধনী হোক, গরীব হোক, অ্যাথলিট হোক, পঙ্গু হোক - সবার জন্য সময়ের দয়া সমান পরিমাণে আছে। একটা জিনিসের মূল্য আরো বেশি মনে হয় যখন জানি একে ধরে রাখা যাবেনা। দেশের বাইরে থেকে তিন সপ্তাহের জন্য দেশে বেড়াতে গেলে এর মর্ম আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাই। আল্লাহ সেই সময়ের শপথ করেছেন, ওয়াল আসর - যেখানে আসর এর শব্দগত উৎপত্তি 'আসীর' বা ফলের রস থেকে, নিংড়ে বের করতে গেলে যাকে কখনোই হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যায়না।

এই আসর বা সময় শুধু সদা প্রবহমান - এটা বুঝাতেই ওয়াল আসর বলা হয়নি। আসর সাক্ষ্য দিচ্ছে যে প্রত্যেকটি মানুষ সত্যি সত্যি ক্ষতিগ্রস্ত। সময় একইসাথে গতিশীল, কিন্তু মহাকালের বিবেচনায় সবটুকু মিলিয়ে স্থানুও বটে। আমাদের হাসি খেলা, ইঁদুর দৌড়, পরষ্পরকে দোষারোপ, সামান্য অর্জনে আস্ফালন - তারপর একদিন নিরবে প্রস্থান - সব কিছুর সাক্ষী হয়ে আছে সময়। যে একই সাথে ছোট্ট শিশুর মত চঞ্চল, আবার শতবর্ষী ঋষির মত গম্ভীর। ইতিহাসের পাতার অসংখ্য সফল জাতির উত্থান ও পতন সময় দেখেছে, দেখেছে খুব সফল জননেতাকেও মৃত্যুর পরে ধূলোয় মিশে যেতে। আমাদের এত আয়োজন, এত আত্মম্ভরিতা - কিছুই সময়কে টানেনা, কারণ সে জানে এর শেষ হবে একটু পরেই।

এটা খুব অবাক করা ব্যাপার, আল্লাহ প্রত্যেকটা মানুষকে এত বড় একটা জিনিসের শপথ করে বলল ক্ষতিগ্রস্ত? আল্লাহ ইনসান না বলে কাফির বলতে পারত! মুশরিক বলতে পারত! ইনসান কেন? ইনসান দিয়ে ত বোঝায় পুরো পৃথিবীতে যত মানুষ আছে, বা যারা আগে চলে গেছে তাদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদা করে। আমার ডিপার্টমেন্ট এর চেয়ারম্যান সব স্টুডেন্ট কে ডেকে যদি বলে, নূসরাত, you r in deep trouble, জেসি, you need to be careful, মমতা..., মারলন..., ব্রায়ান..., ক্যাথি - তাহলে যেমন ভয়ে আমাদের সবার আত্মা উড়ে যাবে, ইনসান ততটাই স্পেসিফিক। তাও একবার না, 'ইন্না' আর 'লা' একই বাক্যে দু দুটো অব্যয় ব্যবহার করে বাক্যটাকে খুবই জোরালো করা হয়েছে। প্রথমে 'আসর' দিয়ে শপথ, এক এক করে সবার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ, তারপর 'ইন্না' আর 'লা' দিয়ে এর গুরূত্ব দশ পনের গুণ বাড়িয়ে দেয়া - এই সূরায় আল্লাহ যেন মানুষের জন্য এক্সট্রিম এক্সট্রিম সতর্কবাণী দিয়েছেন।

আল্লাহ বললেন আমরা সবাই খুসর এর মধ্যে আছি। খুসর বলতে কিন্তু ছোটখাট ক্ষতি বোঝায় না। ব্যবসা করতে নেমে মূলধন সহ খুইয়ে নিঃস্ব হওয়া হচ্ছে 'খুসর।' আপনার পাঁচতলার ফ্ল্যাটে আগুনে আটকা পড়া হচ্ছে খুসর। অজ্ঞান অবস্থায় পানিতে পড়া খুসর। মোদ্দা কথা, সারভাইভাল এর প্রশ্ন যেখানে, যেখানে এই ক্ষতি থেকে উদ্ধার পাওয়া ছাড়া আর সব কিছু গৌণ হয়ে যায় - তাই খুসর। আল্লাহ কেন বললেন আমাদের জীবন নিয়ে টানাটানি? তিনি কি দেখেন না, আমরা দিব্যি বেঁচে বর্তে আছি? আমরা ত শেষ দিবসে বিশ্বাস করি, আর সাধ্যমত ইবাদত ও করি। তাহলে কেন তিনি ঘোর নাস্তিক এর সাথে আমাদের একই কাতারে ফেললেন?

উত্তর একটাই। সময়। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করে তাদের থেকে কমিটমেন্ট নিয়েছেন যে তারা নিজেদের 'আক্বল' বা ইন্টেলেক্ট ব্যবহার করে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে আল্লাহর পছন্দসই কাজ করবে। আমরা পৃথিবীতে কতসময় থাকব সেটা অনেক আগেই ঠিক করা। এসময়টায় কী করব সেটাও হলফ করে আল্লাহর কাছে বলে এসেছি। ভাবতে গেলে মনে হয় সময়টাই যেন আমাদের একটা টুল। আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করে ধার নিয়ে এসেছি। আল্লাহ দেখছেন তাঁর এই অনুগ্রহের কী সদ্ব্যবহার আমরা করছি। অনেকটা এমন, আমরা একটা বিশাল বালিঘড়ির নিচের অংশে আছি। একটা একটা করে বালি উপর থেকে পড়ছে, কথা ছিল তাই দিয়ে আমরা আল্লাহর নাম গুলি লিখব। কিন্তু সব ভুলে তাই দিয়ে আমরা ঘর বাড়ি বানাচ্ছি, ছাদটাকে ছোঁয়ার সিড়ি বানাচ্ছি। আল্লাহ সব দেখছেন, আমাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য রাসুল পাঠাচ্ছেন, তাঁরা কাঁচের দেয়ালের বাইরে থেকে বারবার আমাদের নিষেধ করছেন, আমরা ফিরেও তাকাচ্ছিনা। বালিঘড়ির শেষ বালিটা যখন তার যাত্রা শেষ করবে, জীবনের দীপটা নিভে যাবে, আল্লাহর সামনে দাঁড়াব নতমুখে, তখন আমাদের হয়ে সাক্ষ্য দেবে আমাদেরই তৈরি বালির ঘর, নষ্ট করা সময়।
 
বিস্তারিত পড়ুন ... »

প্রিয় তরুণ প্রজন্ম!

আজকের পৃথিবীর সদা পরিবর্তনশীল টেকনোলজির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াটা আমার প্রজন্মের মানুষদের জন্য কঠিন। আজকের তরুণদের কাছে ক্যালকুলেটর যেখানে প্রাগৈতিহাসিক টেকনোলজি, সেটা আমরা, আমি প্রথম চাক্ষুষ করেছি জীবনের ৩০তম বছরে। সহস্র ব্যস্ততার মাঝে তবু চেষ্টা করি ফেসবুক, বাংলা ব্লগ ও অনলাইন পত্রপত্রিকার পাঠক প্রতিক্রিয়ায় চোখ রাখতে। ইন্টারনেটে পরিচয়হীনতার কারণে অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্যগুলো সাবলীল ও নিঃসঙ্কোচ (অবশ্য চোখরাঙানি দেখতে পাচ্ছি ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে; ব্লগ লেখার জন্যও মুচলেকা দিতে হয়েছে আসিফ মহিউদ্দিনকে); বলাই বাহুল্য, বহু ক্ষেত্রেই তরুণেরা আমাদের ওপর সদয় নন। সেটা বোধগম্য, সে বয়সে আমরাও ক্রোধকে উপলক্ষ করে খুঁজে ফিরেছি তারুণ্যের সারবত্তা। কিন্তু একটা ব্যাপার আমাকে ভাবায়, ভীষণ ভাবায়- এ জন্য নয় যে আমি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, বরং এ জন্য যে ভাবনাটা আমার বয়সীদের জন্য পুরো নচ্ছাড় : আমাদের সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে, সেটা হবে তো?

আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করি যে, আজকের তরুণদের অনেকেই ক্রোধ আর হতাশার মাঝে খেই হারিয়ে ফেলছে। তারা যেন স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে। দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সাথে নিজের উন্নয়নের এক অদ্ভুত দূরত্ব সৃষ্টি করে তারা মনে করছে, দেশের উন্নয়নটা যেন অন্য কারো কর্তব্য, যার জন্য বরাদ্দ আছে বিশেষ একটি দল; তাদের তাচ্ছিল্য করা যায়, দোষারোপ করা যায় কোনো পরীক্ষা ছাড়া, শুধু রাজনীতিবিদ বলে শনাক্ত করেই।

প্রিয় তরুণ প্রজন্ম : এ বাবদে আমার কিছু কথা বলার আছে আপনাদের, শুধু একজন অগ্রজ হওয়ার দাবিতে। শুরু করতে চাই নিজের জীবন থেকে, একটু সহ্য করুন।

আজকে আপনাদের যে বয়স, সে বয়সেই আমরা পেয়েছিলাম নতুন একটা দেশ, আর পেয়েছিলাম নতুন কিছু স্বপ্ন, যে স্বপ্ন আমাদের আগের কোনো প্রজন্ম দেখতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে আমরা অবশ্যই গিয়েছিলাম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্য, কিন্তু মনে ছিল তার চেয়েও বড় একটা আশা : স্বাধীনতার সুফলটা আমরা সবাই ভাগ করে পৌঁছে যাব উন্নতির দুয়ারে। আমরা কী রকম আশাহত হয়েছিলাম সে বয়ান আমার কাছে শুনলে আপনাদের মনে হতে পারে পক্ষপাতদুষ্ট, আপনার পাশের যে মানুষটা '৭২ থেকে '৭৫-এর সময়টাতে জীবিত ছিলেন, অতিবাহিত করেছেন তার যৌবন, তাকে একবার হলেও জিজ্ঞেস করুন।

সে টালমাটাল সময়ে আমি প্রবেশ করি চাকরিজীবনে, শিক্ষকতা পেশায়। আমার বন্ধুরা একের পর এক বিদেশে চলে যাচ্ছেন উচ্চশিক্ষায়। পিএইচডি করে প্রবাসে থিতু হওয়ার চিন্তা যে আমার মাথায় আসেনি তা নয়। সে সময়টাতে আপনাদের চেয়ে আমাদের জন্য উচ্চশিক্ষার্থে পশ্চিমে যাওয়াটা বোধহয় একটু সহজই ছিল। তবু মনের কোণে কোথায় যেন একটা আশা ছিল- একটু চেষ্টা করে দেখি না কী হয়?

দেখতে দেখতে অনেকটা সময় পার হয়ে যায়, চলে আসি সরকারি চাকরিতে। সেই চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করলাম রাজনীতিতে, যখন আমার বন্ধুরা ক্যারিয়ারের মধ্য গগনে। মাঝ বয়সে এসে আমি রাজনীতি শুরু করলাম একদম প্রথম সিঁড়িটায় পা রেখে, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন করে (অবশ্য ছাত্রজীবনে রাজনীতি করেছি সক্রিয়ভাবে, সেটা ষাটের দশকের কথা)। যেকোনো বিচারেই Bad Career Move.'৮৯ সালে আমার সামনে স্বভাবতই এমপি, মন্ত্রী কিংবা বিএনপির বড় পদ পাওয়ার সম্ভাবনা অথবা আশা, কোনোটাই ছিল না। তবে একটা আশা অবশ্যই ছিল : দেখি না একটু ধাক্কা মেরে, কতটুকু যাওয়া যায়।

আপনাদের কি মনে হয় সে সময়টা ছিল প্রত্যয়দীপ্ত হয়ে আগুনকে স্পর্শ করে অসীমকে জয় করার দিন? মোটেও নয়, আজকের মতো না হলেও সে দিনও সন্ত্রাস ছিল, পেছনের দরজার রাজনীতি ছিল। আপনাদের মতো আমিও সে দিন চিন্তিত ছিলাম, ক্রোধে জর্জরিত হয়েছিলাম। প্রায় ১৩ বছর আমি রাজনীতির জন্য পড়ে থেকেছি ঠাকুরগাঁওয়ে, আমার পরিবার তখন ঢাকায়। আমার ছোট্ট দু'টি মেয়ে শৈশব থেকে কৈশোর পার হয়ে তারুণ্য স্পর্শ করছে, আমি থাকছি দূরে, তাদের সময় দিতে পারি না। একজন পিতার জন্য কী কষ্টের এই বন্দোবস্ত সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমিও ভেঙে পড়েছি বহু সময়, সম্মুখীন হয়েছি দ্বিধা ও প্রশ্নের। বহু সহকর্মীর অনৈতিকতা আমার মাঝে বিবমিষা জাগিয়েছে, বীতশ্রদ্ধ হয়েছি আর দশজনের মতোই। কিন্তু আশা হারাইনি। আমার বয়স এখন ৬৩; আমি যদি এ বয়সেও দেশটা ঘুরে দাঁড়াবে এই স্বপ্ন দেখতে পারি, আপনারা কেন পারবেন না?

প্রিয় তরুণ প্রজন্ম : আমাদের প্রজন্মের ব্যর্থতা অনেক। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে আমাদের অনগ্রসর মনোভাব ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পেশাদারিত্ব ও মহানুভবতার অভাবে এ দেশ তার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু আমরা আপনাদের জন্য অন্তত এনে দিয়েছি স্বাধীনতা, যেটি অর্জনের জন্য একেকটি জাতিকে শত শত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আপনারা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। এর গুরুত্ব ও অপার সম্ভাবনা উপলব্ধি করুন। স্বাধীনতার মানে যা ইচ্ছে তা-ই করা না কিংবা যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দেয়াও নয়। বরং বেছে নেয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আপনার যে আজীবন প্রচেষ্টা সেটাই স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। আজ সময় এসেছে নিজেকে প্রশ্ন করার। যে তথ্য, শ্রম, অর্থ ও কাণ্ডজ্ঞান সহযোগে আমরা একটা মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটার বেছে নিই, সে প্রেরণা ও প্রজ্ঞা আমাদের রাষ্ট্রভাবনায় বরাদ্দ আছে কিনা?

আমি নিঃসঙ্কোচে জানাতে চাই যে শুধু একটি রাজনৈতিক দল দেশকে বদলাতে পারবে না, পারবেন আপনারা। আমার দাবি শুধু এতটুকু যে বিএনপি এই মহাযজ্ঞে আপনার ও দেশের জন্য একটি বেটার প্ল্যাটফর্ম। কথাটা বলছি সস্তা বিরোধিতার জন্য না, দুটো দলের চরিত্র বিশ্লেষণ করে; আর সে জন্য আপনাদের কাছে আমি সমর্থন আশা করছি না, করছি অবজেক্টিভ থিঙ্কিং। বিএনপি কোনো অতীতমুখী দল নয়, তাদের মনোজগৎ অতীতে অবরুদ্ধ নয়। অতীতের অর্জন আর ট্র্যাজেডি নিয়ে মানুষের সহানুভূতি আর অনুকম্পা আশা করে না বিএনপি। বিএনপি শুরু থেকেই একটি ভবিষ্যৎমুখী দল। পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি নেই যার অতীত রক্তরঞ্জিত নয় কিংবা পাপবর্জিত। তারা তাদের অতীত বেদনাকে ভুলে থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়, প্রতিনিয়ত অতীত ক্ষতকে সজীব করার রাজনীতি করে না। নাৎসি উত্থান-পর্ব (যেটা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ছিল!) নিয়ে জার্মানরা রাজনীতি করে না, অস্ট্রেলীয় আদিবাসীরা তাদের ওপর সংঘটিত অবিচার নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা করে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করে না। আমাদের রাষ্ট্রের ইতিহাস অন্যান্য আর দশটি রাষ্ট্রের মতোই ভুলে ভরা। আমাদের প্রজন্মের বহু লোক ভুলের এই ফিরিস্তি নিয়ে আলোচনা করাকে তাদের জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছে। দয়া করে আপনারা এই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। আমরা এগিয়ে যেতে চাই, এগিয়ে যেতে চাই আমাদের অন্ধকার অতীতকে ভুলে গিয়ে নয়, ভুলে থেকে। এই এগিয়ে যাওয়ায় বিএনপি আপনার সামনে নয়, সাথে থাকতে চায়, কেননা চারিত্রিকভাবে বিএনপি একটা ইনক্লুসিভ দল আর আওয়ামী লীগ হলো এক্সক্লুসিভ দল। তাদের রাজনীতি ধর্মাচারের নিকটবর্তী।

অন্য দিকে বিএনপি চায় সব মতের সম্মিলন, শুধু একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে অংশ নেয়া। আপনাদের কি মনে হয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তা আমাদের জন্য সহজ একটা কাজ? মোটেও না। বিভিন্ন মতের মানুষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা কতটুকু কঠিন তা খালেদা জিয়াকে বলুন, সাত খণ্ডে বই লিখে উত্তর দেবেন। তবু আমরা এ লক্ষ্যে অবিচল থাকব; সুবিধাবাদিতার জন্য না, কাণ্ডজ্ঞানের জন্য। বৈচিত্র্যে অবগাহনের চেষ্টাটি বিপদসঙ্কুল ও দুরূহ; কিন্তু সেটিই আমাদের রক্ষাকবচ সময়ই বলে দেবে। আমরা সময়ের সাথে নিজেদের বদলাতে চাই; যে জন্য বিএনপির রাজনীতি সাসটেইনেবল, আওয়ামী লীগেরটা না।

আমরা রাজনীতিবিদেরা দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবোধ কথাগুলোকে অনেক সময়েই পাঞ্চ লাইন হিসেবে ব্যবহার করি; সব সময় খারাপ উদ্দেশ্যে করি তা না। কিন্তু একবার নিজেকে সততার সাথে প্রশ্ন করুন তো দৈনন্দিন জীবনে কতবার আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জাতীয়তাবাদের কথা সাগ্রহে চিন্তা করেন? চার ঘণ্টা ব্যয় করে অফিসে যাওয়া-আসার সময়, দশ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে নেতিয়ে পড়ার সময়ে কিংবা চোখের সামনে কাউকে পিটিয়ে মারার দৃশ্য দেখার সময় কি আপনি অতীতের অর্জন নিয়ে উদ্বেলিত হন, না বর্তমানের যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ওঠেন? আমাদের রাজনীতি এই বর্তমানকে ঘিরে এবং আমি নিঃসন্দেহে দাবি করতে পারি যে আমরা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেটার ম্যানেজারস।
আপনাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের জিজ্ঞেস করুন, তাদের জীবনে, এমনকি পাকিস্তান আমলেও সরকারি ব্যবস্থাপনার এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তার প্রত্যক্ষ করেছেন কি না। বাংলাদেশের বর্তমান সড়ক পরিবহনব্যবস্থা কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সাথে তুলনীয়, দু-দুবার শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত, সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণের কারণে মেধাবী তরুণদের মামা-চাচা ছাড়া চাকরি পাওয়া আজ এক অসম্ভব ব্যাপার। রাষ্ট্রের যেখানে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা সেখানে সাধারণ নাগরিকদের ট্যাক্সে পোষা পুলিশ বাহিনীর অত্যাচারে বিরোধীদলীয় নেতাদের তো বটেই, সাধারণ নাগরিকদেরও মৃত্যু ঘটছে। সেই সাথে আছে দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি। আমি দাবি করি না যে আমাদের সময়ে বাংলাদেশ এক মধুময় দেশ ছিল, ছিল না কোনো সমস্যা। কিন্তু সততার সাথে নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, ২০০৫ সালে আপনার পরিপার্শ্ব ও ব্যক্তিগত অবস্থা ভালো ছিল, না আজ ভালো?

বলা হয়ে থাকে যে শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে বার্মায় কারাবাসে প্রেরণ করার সময়ে কেবল একটি প্রধান খাদ্য নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তার পাচক বেছে নিয়েছিল ছোলা। অবশিষ্ট কারাজীবনে বৃদ্ধ বাহাদুর শাহ জাফরকে তার পাচক একটি ডিশ নাকি কখনো দ্বিতীয়বার পরিবেশন করেননি। এটাই হলো ম্যানেজমেন্ট। সেটা না থাকলে অবস্থা কী হয় তার প্রমাণ মিলবে যোগাযোগ ও অর্থমন্ত্রীর পারফরম্যান্সে। জনৈক বাংলাদেশী তরুণের ফেসবুক স্ট্যাটাস আনা হয়েছিল আমার নজরে, মোক্ষম কি না সে পর্যবেক্ষণ আপনারাই পরখ করুন : এই আবুল বলে ওই আবুলের দোষ, ওই আবুল বলে এই আবুলের দোষ। আবুল-বাবুলে দেশটা শেষ।

হ্যাঁ, আমি বুঝি যে পরিস্থিতি খুব আশাব্যঞ্জক না। মাথার ওপর ভর করে আছে পাহাড়সমান সঙ্কট অথচ সরকার পড়ে আছে 'অতীত সমীকরণ' প্রকল্পে। তবু আমি অনুরোধ করব, আশাহত হবেন না। জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে যে তার আশার সাথে আপস করে না সে-ই বিজয়ী। কালের পরিক্রমায় আমাদের রাজনীতি যদি কখনো আপনাদের কাছে সেকেলে হয়ে পড়ে, তাহলে সেটাকে বদলে দিয়ে দেশটাকে সামনে নিয়ে যাবেন। আমরা অবশ্যই মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। মনে রাখবেন কোনো মহাপুরুষ, ত্রাতা কিংবা শক্তিধর রাষ্ট্র আমাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। আমাদের সঙ্কট আমাদেরই কাটিয়ে উঠতে হবে। আপনার রাজনৈতিক দল বিএনপি এই মহান যাত্রায় কখনো হতোদ্যম হবে না- এই অঙ্গীকার করছি।
বিএনপি আপনার দল, এর দরজা আপনার জন্য খোলা আছে। আসুন, একে বদলে দিন আপনার সময়ের উপযোগী করে।

লেখক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
[সূত্রঃ নয়া দিগন্ত, ১৫/১০/১১]


মূল লিঙ্কঃ http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=7103
বিস্তারিত পড়ুন ... »

জাফর ইকবাল স্যার সমীপেষু,

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

কৃপণ হিসেবে আমার একটা বদনাম আছে। ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র থাকাবস্থায় সোবহানবাগ থেকে কার্জন হল অবধি সাইকেল চালিয়ে যেতাম বলে বন্ধুরা এ মর্মে নির্দোষ টিটকারি মারত যে আমি যেন সাইকেলের বদলে রিকশা চালিয়ে যাই; এতে আমার ভার্সিটি যাওয়ার খরচ তো বাঁচবেই সাথে দু'পয়সা কামাইও হবে। বিদ্রুপ বন্ধুত্বসুলভ হলেও দাগ কিন্তু মনে একটু কাটেই। এই আমি যখন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের "তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর"- পড়লাম তখন সেই সব দাগ মুছে অহংকারের আল্পনা আঁকলাম মনে – আমার ছোট বেলার হিরো সাইকেল চালিয়ে কার্জন হলে যেত, আমিও যাই – বড় হয়ে আমি নিশ্চয়ই তার মত হতে পারব! আমার এ হিরোভক্তি নিয়েও কথা শুনতে হয়েছে – আমরা নাকি জাফর ইকবাল জেনারেশন – তার মত লেখার চেষ্টা করি, তার মত করে কথা বলি। কথাটা সত্য বিধায় খারাপ লাগলেও আপত্তি করিনি।

আমার হিরোর অবস্থান থেকে জাফর ইকবাল স্যারের পতন শুরু হয় একটা সাক্ষাতকার পড়ার পর থেকে। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বললেন "মানুষের
উৎপত্তি ক্রমবিবর্তন থেকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মত ধ্রুব সত্য" লেব্বাবা! আমি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র হিসেবে ক্রমবিবর্তন নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেও তো কোন বড় মাপের বিজ্ঞানীকে নিঃসন্দেহ প্রমাণ দিতে দেখলাম না। এরপর স্যারের আরো সব আচরণে খটকা বাড়তেই থাকল। উনাকে মেইল করলাম – স্যার, আমি অধম আপনার বড় ভক্ত। আমার কটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন দয়া করে –
১. আপনি কি আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করেন?
২. মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর প্রেরিত রসুল হিসেবে বিশ্বাস করেন?
৩. পরকালে সব কিছুর হিসাব নিকেশ হবে এটা মানেন?

তিনি আমার মেইলের উত্তরে বললেন তোমার যা খুশি ভেবে নাও। আমি তাজ্জব হয়ে উত্তর দিলাম – হ্যা না তো কিছু বলুন, আপনি যেটা সত্য মনে করেন সেটা স্বীকার করতে আপত্তি কোথায়? তিনি উত্তর দিলেন "আই লাভ হেট মেইলস, আই হ্যাভ আ লার্জ কালেকশন অফ দেম" যাচ্চলে! এটাই আমার আশৈশবলালিত মহাপুরুষের আসল চেহারা? এরপরে পদে পদে তার আদর্শের প্রতি আমার মনে ঘৃণা তৈরী হয়েছে, তিনি যা কিছু আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন তার মোহনী লেখনীর মাধ্যমে - তার প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মেছে। ইসলামবিরোধীতাকে যারা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে তার মধ্যে প্রথম আলো অন্যতম। সেখানে জাফর ইকবাল স্যারের সাম্প্রতিক লেখাটা পড়ে মনে হল তিনি তার মুখোশ ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। ইসলামের ব্যাপারে তার যে চরম আপত্তি আছে সেটা বলার সৎ সাহস তিনি অর্জন করেছেন। তিনি আমার এ খোলা চিঠির উত্তর দেবেন এত বড় আশা করি না, কিন্তু তার বিবেকে যদি ন্যুনতম সৌজন্যতাবোধ অবশিষ্ট থাকে তবে হয়ত তিনি এ লেখাটা পড়ে একবার ভেবে দেখবেন -

১.
স্যার, ফতুয়া পড়া মেয়ে বিজ্ঞাপনের সুবাদে তরুন প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি হল, আর যে মেয়েটা নিজেকে গুনহীন পণ্যের মত বিক্রি করতে চাইল না সে হল ঘরে বন্দী? কখনও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কোন মুসলিমাকে জিজ্ঞাসা করে দেখেছেন সে কেন পর্দা করে? আমার স্ত্রী মুসলিম হবার পরে তার বিধর্মী মায়ের বাসায় পর্দা না করে যাবার চাইতে না যাওয়াই বেছে নিয়েছিল। আমাকে বোঝাতে পারবেন কেন সে জন্মদাত্রী মায়ের চেয়ে এই পর্দাকে অগ্রাধিকার দিল? ইসলামের প্রতি কতটা ভালবাসা থাকলে নিজের মায়ের ভালবাসাকে উপেক্ষা করা যায়? একজন মানুষের ভালোবাসাকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিল? আপনি তো আমাদের ছোটবেলা থেকে কেবল ঘৃণা করে শিখিয়েছেন, ভালোবাসার মূল্য আপনি কি বুঝবেন? পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৭১ যা করেছিল সেই জন্য যদি সে সময়ে জন্ম না নেয়া পাকিস্তানীদেরও ঘৃণা করতে হয় তাহলে তো বাংলাদেশের মানুষ যত বাংলাদেশীকে মেরেছে সে কারণে সব বাংলাদেশীদেরও আমাদের ঘৃণা করতে হবে? কবে শেষ হবে এই ঘৃণার শৃঙ্খল বিক্রিয়া? যারা অপরাধ করেছিল তাদের তো আপনারা কিছু করতে পারেননি, সসম্মানে দেশে ফিরে যেতে দিয়েছিলেন। আমাদের প্রজন্মে বিদ্বেষের বীজ ছড়িয়ে আসলে কি আপনাদের ব্যর্থতার দায় মিটবে?

দুঃখিত স্যার, আমরা আপনার এই ঘৃণা-ব্যবসায় সঙ্গ দেব না। সৌদি আরবে বিচার করে দেয়া মৃত্যুদন্ডকে 'হত্যাকান্ড' বলা আমরা মেনে নেব না। কারণ যেদিন ১৬ বছরের আবদুর রহমান আল আওলাকিকে তার ১৭ বছরের ভাই সহ ড্রোন বিমান থেকে মিসাইল ছুড়ে মারা হয়েছিল সেটাকে আপনার হত্যাকান্ড মনে হয়নি। ফেলানিকে যখন মেরে কাটাতারের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল সেটাকে আপনার নিষ্ঠুর মনে হয়নি। যে নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করে তাকে আমরা ভাই মনে করি। বাংলাদেশী মুসলিম যেমন আমার ভাই, আমেরিকান মুসলিম যেমন আমার ভাই, পাকিস্তানী মুসলিমও আমার ভাই, সৌদি মুসলিমও আমার ভাই। পাকিস্তানীরা বর্বর, সৌদিরা নিষ্ঠুর - এই ঘৃণার বীজ আমরা বুক থেকে বের করে ফেলেছি। আমাদের ভালবাসা আল্লাহর ওয়াস্তে, তাকে খুশী করার জন্য। এই ভালোবাসা কি যারা বুঝতে পেরেছে, তারা জানে একদিন এই মুসলিম ভাইরা আমাদের বিপদে পাশে এসে দাঁড়াবে। ইঙ্গ-মার্কিনীরা আমাদের গ্যাস তুলতে না পারলে আগুনে জালিয়ে দেবে, ভারতীয়রা আমাদের ফারাক্কা-তিস্তা-টিপাইমুখ বাঁধে, ফেনসিডিলের বন্যায় আমাদের তিলে তিলে হত্যা করবে। ওদের কাছে আগে আপনারা আকাশ বিক্রি করেছিলেন, এখন মাটি বিক্রি করছেন – আমরা কিন্তু ঠিকই বুঝি কে আমাদের ভালোবাসে আর কে আমাদের বাঁশ দেয়! আপনি যাদের ভালোবাসতে বলবেন আমরা তাদের ভালোবাসি না, আমরা বড় হয়েছি স্যার; কে বন্ধু কে শুত্রু সেটা আমরা চিনতে পারছি।

২.
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে আপনার মায়াকান্না দেখে আমার শুকনো ঠোঁটে হাসতে গিয়ে রক্ত ঝরেছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে না এবার মাদ্রাসার ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ না দেয়ার পায়তারা ছিল? শেষে মানবিক বিভাগের ভর্তিপরীক্ষায় এক মাদ্রাসা ছাত্র প্রথম হয়ে দেখিয়ে দিল যে মাদ্রাসা শিক্ষার যেটুকু সীমাবদ্ধতা আছে তা আপনার মত মানুষদের উন্নাসিকতার কারণে। শিক্ষার মূল্য আপনি বোঝেন টাকা কামাই করার মানদন্ডে – তাই একটা ছেলের কলা বিক্রিকে আপনার কাছে জীবনের অপচয় মনে হয়। আমার কাছে তাকে পাকা মানুষ মনে হয়, রিকশাওয়ালা তরুণকে খাঁটি মানুষ মনে হয়। এরা নিজেদের শরীরের ঘাম ঝরিয়ে টাকা কামাই করে বাসায় নিয়ে যায়, অভুক্ত ভাই-বোন দের মুখে তুলে দেয়। এরা মগজ বিক্রি করে দেশের ক্ষতি করে না, দেশের মানুষকে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেয় না। সৌদি শ্রমিকদের নিয়ে তো অনেক মায়াকান্না কাঁদলেন – এদের দেশে করার মত কাজের ব্যবস্থা করার তো কোন কথা বললেন না। পরিবার ছেড়ে মানুষ কি বিদেশে গতর খাটে নিজের সুখের জন্য? জানেন দেশে পাঠানো টাকায় সময় আমার ১৮ মাসের ছেলেটাকে দেখার জন্য কতটা হাহাকার মিশে থাকে? আপনারা হিসাব করেন 'ফরেন রেমিটেন্স' – আমার স্ত্রীর, আমার মায়ের অশ্রুর দাম আছে আপনাদের কাছে? আমাদের জন্য আপনার কোন স্বপ্ন নেই – আমরা দেশে এসে যেন কিছু করতে পারি সেই ইচ্ছাও নেই। বিদেশে থাকুক, পিএইচডির কামলা খাটুক কিংবা আকাশ-ছোঁয়া দালানের মিস্ত্রী হোক – টাকা পেলেই তো আপনারা খুশি তাই না? সৌদি জল্লাদ এক কোপে কল্লা নামায় কি ভয়াবহ কথা! আপনারা সুশীল কসাই – টাকা কামানোর হাইড্রোলিক প্রেসে চিপে চ্যাপ্টা করে তিলে তিলে মারবেন – এই না হলে সুখের মৃত্যু!

স্যার, পারবেন কখনও আপনার পশ্চিমা শিক্ষার মোড়কটা ছেড়ে বেরিয়ে এসে দেখতে কেন একটা ছেলে কওমি মাদ্রাসায় যায়? কারণ – দুটো: হয় তাদের বাপেদের সরকারী প্রাইমারী স্কুলে পড়ানোরও সামর্থ্য থাকে না, নয়ত তাদের বাবারা চায় তাদের সন্তান আলিম হোক। আলিম মানে কি বোঝেন? যে মানুষকে আল্লাহর পাঠানো জ্ঞান শেখায়। এই জ্ঞান 'থিওরি অফ রিলেটিভিটির' মত কয়েকদিন পর পর হুমকির মুখে পড়ে না, ' সেন্ট্রাল ডগমা অফ লাইফের' মত একদিন হঠাৎ উলটো পথে হাঁটা ধরে না। এটা বিবিএ ডিগ্রী না স্যার, যাতে মানুষকে ভুলিয়ে 'গ্রোথ' এর কার্ভ উর্ধমুখী রাখতে শেখান হবে। এটা বার-এট-ল না যাতে চোর-ছ্যাচ্চরকে মুক্তি দেয়ার রাস্তা বাতলানো শেখাবে। যেটা পড়লে টাকা আসে না সেটা পরে কি লাভ সেটা আমি আপনাকে বোঝাতে পারব না। যারা ইসলাম শিখেছে, বুঝেছে তাদের কাছে এই দুনিয়ার ব্যাংক ব্যালেন্সের কোন দাম নেই – এরা টাকা কামাই করার মেশিনের জায়গা থেকে মানুষের পর্যায়ে উঠতে পেরেছে। ইসলাম শেখা আর শেখানোর জন্য যে মানুষগুলো নিজেদের জীবনের পার্থিব সুখ-স্বচ্ছলতাকে পরিত্যাগ করল তাদের অপমান করার অধিকার কে দিল আপনাকে?

৩.
স্যার, অর্থনীতিতে শ্রমবন্টনের কথা পড়েছেন নিশ্চয়ই। আমাদের দেহের কোষ আর টিস্যুর মত আল্লাহ সমাজেও শ্রমবন্টন করে রেখেছেন সমাজটা যাতে চালু থাকে। মেয়েরা কোমল তারা এক ধরণের কাজ করবে, পুরুষরা রুক্ষ তারা অন্য ধরণের কাজ করবে। গাড়ীর টায়ার থাকবে বাইরে, সে শক্ত রাস্তার ঘর্ষণ সহ্য করবে, টিউব থাকবে ভিতরে – সে টায়ারটাকে ফুলিয়ে সচল রাখবে। টিউব কেন সারাজীবন ভিতরে থাকবে – এই বৈষম্য মানি না বলে সে যদি রাস্তায় নামে তবে কতদূর চলবে গাড়ী? মেয়েরা অবশ্যই শিক্ষিত হবে কিন্তু টাকা কামাই তাকে করতেই হবে এ দিব্যি কে দিয়েছে? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি কেবল ডিগ্রি নেয়া আর চাকরি করা? আমার স্ত্রী যদি আমার ছেলের সাথে আরো দশটা বাচ্চা পড়ায় আমার আপত্তি নেই, কিন্তু তাকে কেন আমি শতাব্দী বাসের দমবন্ধ ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ঝুলতে ঝুলতে গুলশানে অফিস করতে পাঠাব? সে যে টাকা কামাই করে আনছে তা যদি ডে-কেয়ার আর রেডিমেড ফুডেই খরচ হয়ে যায় তাহলে লাভটা হল কি? আমার স্ত্রী যদি ব্যাংকে বা মোবাইল কোম্পানীর কাস্টমার কেয়ারে হাজারো অজানা মানুষের সেবা করার চেয়ে তার প্রিয়জনদের সেবা করা বেশী পছন্দ করে তাহলে কেন আমি তাকে ঘরের বাইরে যেতে বাধ্য করব? সামর্থ্যনুযায়ী আমি তাকে ডাল খাওয়ালে সে যদি খুশী থাকে তাহলে আমি প্রতিদিন মাংশ খাওয়ার লোভে কেন নটা-পাঁচটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর দাসীগিরি করতে বাধ্য করব? সে ঘরে থাকবে এটা তার 'চয়েস' – এখানে আপনার এত গাত্রদাহ কেন?

পথে খালি পায়ে বের হলে পায়ে ময়লা লাগে, শক্ত নুড়িকণা পা ক্ষত-বিক্ষত করে। সারা পৃথিবী চামড়ায় না ঢেকে নিজের পাটা জুতোয় পুরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। দেশ স্বাধীন হবার পরে আধুনিকতার জোয়ারে আপনারা সমাজকে যে স্রোতে চালিয়েছেন তাতে আত্মসম্মান রক্ষা করার সবচেয়ে ভাল উপায় পর্দা করা। একটা মেয়ে এই সরল যুক্তিটা বুঝে নিজেকে ঢেকে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে আপনার পরমতসহিষ্ণুতা হঠাৎ পালিয়ে যায় কেন? আপনাকে কেন আপনার ছাত্রীর চেহারা দেখে চিনতে হবে? চিনলে আপনার কটা পেপার বেশি পাবলিশ হবে? তার গ্রেড কত বাড়বে? সে তো দেহে পর্দা করেছে, মগজে না, তার মেধা দিয়ে তাকে পরিমাপ করতে আপনার কেন এত আপত্তি?

ভাষা আন্দোলনের বোরখার অনুপস্থিতি যদি নারী প্রগতি হয় তাহলে আজ কেন শাড়ির অনুপস্থিতি ক্ষয়িষ্ণু বাঙ্গালীত্ব না হয়ে আধুনিকতার চেহারা নিল? শাড়ি পড়া মেয়েরা আন্দোলন করে যে ভাষা আনল সেটাতে কেন জিন্স-ফতুয়া পড়া মেয়েরা কথা বলছে না? তারা যে ভাষায় কথা বলছে তার নাম কী? সুদূর আমেরিকাতে কেন বাংলাদেশের তরুন প্রজন্ম ভারতীয়দের সাথে হিন্দিতে কথা বলে? বাড়িতে বাড়িতে বিয়েতে হিন্দি গান বাজে, আপনাকেও সেই চটুল কথা-সুরের সাথে নাচতে দেখেছি। আপনার আপত্তি কি আসলে এখানে যে আমাদের হিন্দি গানের সাথে নাচতে রুচিতে বাধে? একটা মেয়ে স্বামীর বদলে হাজারো মানুষের সামনে বিকৃত অঙ্গভঙ্গি করে মনরঞ্জন করবে এটাকে আমরা প্রগতি বলি না স্যার, নোংরামো বলি। একটা ছেলে ছটা মেয়ের সাথে শুয়ে বাপের পয়সা গুণে সপ্তমটাকে বিয়ে করবে – এটা আমাদের কাছে পবিত্র প্রেম মনে হয় না স্যার, দুঃখিত। এটা লুইচ্চামি, ভন্ডামী। আমি লম্বা জামা পড়ে, মুখে দাড়ি রেখে, গোড়ালি অবধি প্যান্ট গুটিয়ে মাথা নিচু করে পথ চলব, আমি আমার তরুণ ভাইদের তা করতে বলব। আপনি আমার গায়ে মৌলবাদের তকমা দেন, আমার একটুও যায় আসে না।

৪.
স্যার আপনি যেমন আপনার আত্মাকে এক অজানা প্রভুর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন তেমন আমিও আমার দেহ-মন-জীবন-মরণ আমার প্রভু আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। স্ত্রী- সন্তানসহ পুরো পরিবারকে উৎসর্গ করেছি। শুধু আমি না স্যার, আমার মত লাখো মুসলিম তরুণ আছে যারা নিজেদের এভাবেই আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করে দিয়েছে নিজেদের। পাকিস্তানে কেন এত জঙ্গী জানেন স্যার, কারণ সে দেশের কিছু মানুষ দেশটিকে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা আমাদের দেশকে কারো কাছে বিক্রি করতে দেব না, তাতে আপনি আমাকে হিজবুত তাহরির ভাবেন আর শিবির। জঙ্গী ব্যবসা মাল্টিমিলিয়ন ডলারের ব্যবসা, দেশে জঙ্গী আছে এই হুজুগ তুলতে পারলে অনেক টাকা ভিক্ষে পাওয়া যায়। আমাদের তরুণ সমাজকে লুলা-কানা বানিয়ে সুশীল সমাজকে ভিক্ষে ব্যবসা করতে দেব না, যদি মরে যাই তো যাব – আপনারা জঙ্গী বললেও আল্লাহ জানেন আমরা আমাদের দেশকে কত ভালবাসি, দেশের মানুষকে কত ভালবাসি। কারণ আমি মুসলিম, আমি নিজের জন্য বাঁচিনা, আল্লাহর জন্য বাঁচি।

আপনি আমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন না কিন্তু আমরা আমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি। কিন্তু সেই স্বপ্ন শুধুই পার্থিব ভোগ-বিলাসের সুখস্বপ্ন না। প্রত্যেকটা পুরুষ যেন হালাল রুযি কামাই করে পরিবারসহ দু'বেলা খেতে পারে সেই স্বপ্ন। প্রত্যেকটা মেয়ে যেন শিক্ষিত হয়, সন্তানকে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে শেখায়, নীতিবোধ শেখায় সেই স্বপ্ন। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখি না স্যার পরিকল্পনাও করি। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের এ চেষ্টায় আপনার প্রভু যেমন খাপ্পা তেমনি আপনিও। কিন্তু বিশ্বাস করেন আমরা আপনার উপর ক্ষুব্ধ নই, আপনার জন্য শঙ্কিত। আপনি যাকে প্রভু হিসেবে নিয়েছেন সে মানুষকে প্রতারণা করে স্যার, সে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আপনার জন্য করুণা হয় স্যার, আপনি এত কিছু বুঝলেন – ইসলামটা বোঝার চেষ্টা করলেন না? যিনি আপনাকে মাথা ভরে মেধা দিলেন, সোনা দিয়ে গড়া লেখার হাত দিলেন তার বিরুদ্ধে কতক্ষণ যুদ্ধ করবেন স্যার? আর কতদিন যুদ্ধ করবেন? আপনি যে হেরে যাচ্ছেন সেটা কি আপনার চুলের পাক বলে দিচ্ছে না?

শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যার, আমি আপনার হিদায়াতের জন্য দু'আ করি যেন আপনি ইসলামের মর্ম বুঝে মুসলিম হয়ে মারা যেতে পারেন। আমি যেন আমার শৈশবের হিরোর জানাযা পড়তে পারি।

মূল লিঙ্কঃ http://www.sonarbangladesh.com/blog/monpobon/74759
বিস্তারিত পড়ুন ... »

সময়ের লেজকাটা শিয়াল পণ্ডিত মোহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে বলছিঃ স্যার আগে নিজের উঠান পরিস্কার করেন, পরে না হয় আমারটা…

আমরা ইচ্ছা করলে জদু, মধু, কদু হতে পারি, কিন্তু জাফর ইকবাল হতে পারবো না। এটা আমার কথা না, উনার এক ভক্তের কথা ,এ জন্যই উনি যা বলেন তা মানতে হবে এমনটাই সেই ভক্তের ভাষ্য।  এই যে স্যার বলিনি তাতেও অনেকের লেগেছে। জাফর ইকবাল স্যারের পরিচয় নতুন করে কিছু দেওয়ার নেই। আমি তার লেখনী শক্তির অনেক বড় ভক্ত, কিন্তু তার চিন্তা চেতনা, বিশ্বাসের বিরোধী। আমি বিশ্বাস করি তিনি নবী নন(নাউজুবিল্লাহ) বা তিনি যা বলেন তা ওহি(নাউজুবিল্লাহ) নয়। তাই আমি তার অনেক কথার সাথেই একমত হতে পারি না।সত্যি বলতে কেউ যদি নিজের ভার নিজে রক্ষা করতে না পারেন সে দোষ কি আমার?? 
জানি এতটুকু পড়ার পর অনেকে আর পড়বেন না, কিন্তু তাঁতে কি?? তাও আজ আমি লিখবো, নিজেকে ক্ষমা করার জন্য লিখবো। যদি আমার লেখার পাঠক একমাত্র আমি হই তারপর ও আমি লিখবো। আমি লিখবো একটি জলজ্যান্ত ভ্রান্ত বিশ্বাসকে নিঃশেষ করতে, পড়বেন কিনা তা একান্তই আপনার ব্যাপার।
অনেকে স্যারকে প্রভু মানেন, উনার কথাকে চির সত্য মনে করেন।উনার কথায় কোন ভুল থাকতে পারে তা বিশ্বাস করতে চান না।
আমিও বিশ্বাস করি তার লেখায় কোন ভুল নেই, ভুল আছে তার চিন্তা চেতনায়, মানসিকতায়, বিশ্বাসে। বিশ্বাস যেটা করবেন সেটাই তো উনার লেখায় ফুটে উঠবে তাই নয় কি?? মুখে বাঙ্গালিয়ানার বুলি আউরিয়ে, বুকে লালন করেন পশ্চিমা সংস্কৃতি। এখানেই উনার সাথে আমার যত মাতামাতি। অবশ্য আমার মতো একজন আনস্মার্ট তরুন মাতামাতি করলেও উনার কিছু যায় আসে না, কেননা আমাকে নিয়ে তো আর উনার কোন স্বপ্ন নেই!!!
আজ কেন এত কথা আসছে জানেন?? এত কথা আসছে
প্রথম আলোতে প্রকাশিত স্যার এর একটি লেখার জন্য। যার জবাব দিতে আজ আমি লিখতে বসেছি।
গত ৪/১১/২০১১ তারিখে প্রথম আলোতে তার একটা লেখা প্রকাশিত হয় "তরুণ প্রজন্মঃ ওদের নিয়ে কেন স্বপ্ন দেখব না?"নামে।
এখানে লেখাটি পাবেন

যেখানে তিনি তরুন প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করেছেন টি-শার্ট পরা সুদর্শন কিছু তরুণ ও উজ্জ্বল রঙের ফতুয়া পরা হাসিখুশি কিছু তরুণীর চেহারার সাথে। তার এই ধারনা এসেছে মোবাইল কোম্পানি গুলোর বিজ্ঞাপন দেখে। আমি উনাকে দোষ দিবো না।টিভি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেখে  সমাজের বৃহত্তর অংশ বিচ্যুত যে কারো এমন ধারনা হওয়াই স্বাভাবিক। অবশ্য নিজেকে তিনি তরুন প্রজন্মের কাছাকাছি একজন ভাবেন। তারপরও আমি তরুন প্রজন্মের একজন হয়ে বলতে পারি, তার সংজ্ঞা কোনভাবেই ঠিক না। উনার লেখায় উনি বলতে চেয়েছেন, উনার সংজ্ঞায়িত 'তরুন প্রজন্ম'কে নিয়ে তিনি সপ্ন দেখেন, কিন্তু আমি বলতে চাই টি শার্ট পড়লেই সুদর্শন হওয়া যায় না কিংবা উজ্জ্বল রঙের ফতুয়া পড়ে গগন বিদারী হাসি দিলেই বলা যাবে না সে দেশের সম্পদ, তাকে নিয়ে সপ্ন দেখো।মূলত তিনি এর মাধ্যমে তরুনীদেরকে এই বানী পৌঁছে দিলেন যে, তোমরা যদি ফতুয়া পরে রাস্তায় না বের হও তোমাদেরকে সত্যিকার অর্থে সম্ভাবনাময় তরুণী বলা যাবে না!আর যদি তাই হতো, তা হলে প্রতি বছর নোবেল পুরস্কারটা বোধহয় সখ,তিন্নি,মিলা, তিশা কিংবা নাফিজারা নিয়ে আসতো।তাই বলা যায় তার কাছে তরুন প্রজন্মের চেহারাটা এমন-


এটাই কি স্যারের কাছে তরুন প্রজন্মের সংজ্ঞা


স্যার সংজ্ঞায়িত ড্রেস কোড তো এমনি হওয়া উচিত। তাই নয় কি?? 
তিনি লিখেছেন," বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছেলেমেয়েরা ভাষা আন্দোলন নিয়ে একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছিল। আমি আর আমার স্ত্রী সেটা দেখতে গিয়েছিলাম। বড় বড় ছবি দেখতে দেখতে আমার স্ত্রী আমাকে বলল, 'একটা জিনিস লক্ষ করেছ?' আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী জিনিস? আমার স্ত্রী বলল, 'ভাষা আন্দোলনে কত মেয়ে! কিন্তু একটি মেয়েও বোরকা পরে নেই, একটি মেয়েও হিজাব পরে নেই।' আমি তাকিয়ে দেখি, তার কথা সত্যি। ষাট বছর আগে এ দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের বোরকা পরতে হতো না, এখন মেয়েদের বোরকা পরতে হয়।"

৬০ বছর আগে কোন পুরুষ ছাত্রী হোস্টেলে ঢুকতে পারতো না, সে সম্পর্কে যেই হোক না কেন।(যেটা আপনি করেছেন)
৬০ বছর আগে কোন মেয়ে মদ,সিগারেট, ইয়াবাতে আসক্ত ছিলো না।
৬০ বছর আগে শিক্ষকরা পরিমল ছিলো না।
৬০ বছর আগে কেউ পরিমলদের সমর্থন দিত না।
৬০ বছর আগে দেশে যৌন হয়রানি/ ইভ টিজিং হতো না।
৬০ বছরে দেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, যা আগে ছিল না। ৬০ বছর আগে কোন নারী একা সমাজে চলতো না।সঙ্গী হিসাবে থাকতো বাবা, ভাই কিংবা স্বামী। এখন একজন নারী একাই সমাজে চলতে পারে।
আর বোরকা?? বড়ই হাসির কথা বললেন জনাব। বোরকা পর্দার জন্য আবশ্যক নয় এটা আপনার মতো নাস্তিক কিভাবে বুঝবে?? ডঃ জাকির নায়েক একটা কথা বলেছিলেন,"মানুষ কম জানলে হয় নাস্তিক, আর বেশী জানলে হয় আস্তিক"। আপনি বোরকা আর পর্দা দুটিকে গুলিয়ে ফেলেছেন। একটাকে আরেকটার প্রতিশব্দ বানিয়ে ফেলেছেন।
বোরকা বর্তমান বাঙালি সমাজের একটা কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে মেয়েরা বোরকা পড়ে। কেন শুনেন নি, ঝিনাইদহের শৈলকূপায় মুসলমান- হিন্দু- আদিবাসী মেয়েরা স্বেচ্ছায় বোরকা পড়ে স্কুলে যায়?? এর জন্য তাদের কেউ বাধ্য করেনি। এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে এই সমাজে। আর মুসলিম মেয়েরা বোরকাকে বাড়তি পর্দা কিংবা পর্দাকে একটু শক্ত করার জন্য ব্যাবহার করে এটা আপনাকে কে বুঝাবে???

আপনার মতে বোরকা পড়লে মেয়েদের সব শক্তি, সৃষ্টিশীলতা বোরকার নিচে আটকা পড়ে যায়।আপনি বোরকা পড়া মেয়েদের নিয়ে সপ্ন দেখতে পারেন না। এটা বোরকার দোষ নয়, এই দোষ আপনার বিশ্বাসের, আপনার মানসিকতার। আপনি বিশ্বাস করতে চান না, বরকা/হিজাব পড়েও বিশ্ব জয় করা যায়।  তাহলে এই মেয়েগুলোর কথা কি বলবেন??
Ruqaya al Ghasara, 100m and 200m for Bahrain


Najmeh Abtin, archery for Iran
বাহরাইনের দৌড়বিদ রুকায়া- আল-গুলশানার, ইয়েমেনের অওাসিলাহ ফিদেল সাদ,ইরানের আর্চারি খেলোয়াড় নাজমেহ আবতিনরা কিভাবে বেইজিং অলিম্পিকে আসতে পেরেছে?? কেন হিজাব না পড়েও বাংলাদেশ প্রমিলা ফুটবল দল, হিজাব পড়া ইরানি ফুটবল দল থেকেও এত্ত নিচে???প্রশ্ন থেকে যায় এদের দেখে আপনি কি বলবেন???

পরিমলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এই ছোট্ট আপুটি, সে কি হিজাব দিয়ে ঘরের কোনে বসেছিলো?? তার হিজাব কি তাকে ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্দ করে দিয়েছিলো??

\
জগন্নাথ আন্দোলনের সেই বিখ্যাত আপুটি, মনে পড়ে??

আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারি, বোরকা সৃজনশীলতা শক্তি নষ্ট করে না বরং বেহায়াপনা, মাদক,লিভ টুগেদার মানুষের ভেতরের শক্তি নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। যার মধ্যে শক্তি থাকবে, মেধা থাকবে, সৃষ্টিশীলতা থাকবে সে এমনিতেই উপরে উঠে আসবে। আপনাদের ওসব খোঁড়া যুক্তি কোন কাজের না।
"জাতীয় তেল গ্যাস ইস্যুতে যখন আমরা সাধারণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিলাম তখন ড: জাফর ইকবাল সাহেব একটা কলাম পর্যন্ত লিখেননি ! কেন কেউ বলতে পারবেন ?অথচ এর আগের সরকারের সময় কিন্তু ঠিকই অবাধে লিখে গেছেন তিনি।
স্যার অনেক গর্বের সাথে জানালেন, শিক্ষানীতি করার কমিটিতে আপনিও ছিলেন। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করার কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন আপনিও। কিন্তু জানেন, এ শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে চরমভাবে অবহেলা, অবজ্ঞা করে লালিতকলার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার মানে সাধারণ শিক্ষার সাথে মিশিয়ে ফেলা নয়। কিন্তু এই শিক্ষানীতিতে মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার ও আধুনিকায়নের নামে যেভাবে ধর্মীয় ও আরবি বিষয়ের উপর ছুরি চালিয়েছেন তাঁতে ২০১২ সালের আগেই না সাধারণ শিক্ষার মাঝে মাদ্রাসা শিক্ষার বিলুপ্তি ঘটে। অবশ্য আপনারা এটাই চান, তাহলে আপনাদের ভ্রান্ত পাশ্চাত্য ধারণাগুলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
আপনারা বিশ্বাস করেন, মাদ্রাসা শিক্ষার কারণে দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে। ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে??
আচ্ছা ভাই এই কথা বললে তো আজ পাগলেও হাসবে। যখন সমাজে ইভটিজিং, এইডস এগুলো থেকে বাঁচার জন্য সমাজে ধর্ম চর্চার কথা বলা হচ্ছে তখন এদের এই কথাগুলো পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
 তিনি বড়ই হতাশ মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা ঠিকভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে না বলে ,দেশের জন্য তারা কি করেছে বা করতে পারবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তারা দেশকে কিছু দিতে পারে তা তিনি বিশ্বাস করতে পারেন না। তাইতো সেদিন তার গালে চপেটাঘাত করলো মাদ্রাসার ছাত্র জামিল। শাবিপ্রবিতে(শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিশ্ববিদ্যালয়) এবার ৭ টি বিভাগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ, কারন তারা এগুলা পারে না। আর এর পিছনে মূল হোতা হিসাবে কাজ করেছে সিএসসি ডিপার্টমেন্টের প্রধান মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ভর্তি পরীক্ষায় কিনা প্রথম হলো এক মাদ্রাসা ছাত্র!!! সত্যি অবাক করা বিষয়, তাই নয় কি???

এবার আসি একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে। কেন তিনি তারুন্যের সংজ্ঞাটা এভাবে দিলেন তা পরিস্কার করি। তার মেয়ের নাম ইয়েশিমা ইকবাল , জানা যায় তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে এখন হার্ভার্ড থেকে মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি করছেন। তার স্বাভাবিক জীবনের কয়েকটি ছবি শেয়ার করছি-

জাফর কন্যার বাঙালীয়ানা পোশাক ও আচরনে ফুটে উঠেছে। এই জাফর ইকবালেরাই বাঙালীত্ব কপচিয়ে হাজারো তরুনের ব্রেন ওয়াশ করে


প্রগতিশীল হতে হলে মদ খাওয়া ধরতেই হবে। বাবা জাফর ইকবাল কি এই শিক্ষাই দিয়েছেন কন্যাকে?


আহারে বাঙালি সংস্কৃতি লালনের অবস্থা??? খাড়া গজব পড়ুক এদের উপর


এটা স্যারের তরুণ প্রজন্মের ড্রেস কোড
হয়তো আপনারা প্রশ্ন তুলতে পারেন, আরেকজনের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কি আছে?? অনেক কিছু আছে। তিনি যদি বোরকার অন্তরালে থাকা মা- বোনরা দেশের জন্য কি করেছে , কতটুকু করেছে, কাউমি মাদ্রসার আলেম ওলামারা দেশের জন্য কি করেছে বা কি করতে পারে এমন প্রশ্ন তুলতে পারেন, তাহলে আমাদের ও অধিকার আছে , মগজে-বুকে--মনে পশ্চিমা সংস্কৃতি লালন করা তার মেয়ে দেশের জন্য কি করার ক্ষমতা রাখে?? তিনি কি পারেন তার মেয়েকে বাঙালি সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনতে?? না, তিনি পারেন না। তাই তো সমাজকে গড়তে চাচ্ছেন তার মেয়ের লাইফ স্টাইলের মতো করে। সবাইকে স্মার্টনেসের নামে অশ্লীলতার বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন।
অনেকটা শিয়ালের গল্পের মতো,গল্পটি দিয়ে শেষ করছি আজকের লেখাঃ
একবার এক শিয়াল গভীর বনে শিকার করতে গিয়ে ফাঁদে আটকা পড়ে। অনেক কষ্টে উদ্ধার পেলেও হারায় তার লেজ। মনের কষ্ট নিয়ে স্বজাতির কাছে ফিরে যায়,মান সম্মান রক্ষা করতে নতুন বুদ্ধি  ফাঁদে লেজকাটা শিয়াল। শিয়াল সম্প্রদায়কে একসাথে ডেকে নিজেকে আধুনিক হিসাবে প্রকাশ করতে তার লেজ কেটে ফেলেছে বলে ঘোষণা দেয় এবং সবাইকে স্মার্ট হওয়ার জন্য তাদের লেজ কেটে ফেলার উপদেশ দেয়। কিন্তু এক বৃদ্ধ শিয়াল তার লেজ কাটার সত্য ঘটনা প্রকাশ করে দিলে বন ছেড়ে পালাতে হয় লেজকাটা শিয়াল পণ্ডিতের।
উৎসর্গঃ সময়ের লেজকাটা শিয়াল পণ্ডিত মোহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে।
(মনে রাখবেন, উন্নতি হলে নিজ সংস্কৃতি, ধর্ম দিয়েই সম্ভব। অন্ধভাবে কাক হয়ে বকের হাঁটা অনুকরন করতে গেলে পাছে হয়তো কাকের হাঁটাও ভুলে যাবেন। তাই সাধু সাবধান।)
** লেখাটা শেয়ার করা উচিত নয় কি?? ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম