ফটোগ্রাফি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফটোগ্রাফি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩০ নভে, ২০১১

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেখা ছবি-র গল্প


উপরের ছিবিটি কি চিনতে পেরেছেন? একজন সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারী হলেও এটি চিনতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কম্পিউটার চালুর সঙ্গে সঙ্গে এ ছবিটি হয়ত হাজারবার ভেসে এসেছে আপনার ডেস্কটপে। এবার আরেকটু ভিন্ন ভাবে আসা যাক, আচ্ছা, বলতে পারেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেখা ছবি কোনটি?

হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা এ ছবিটি হচ্ছে উপরের এই উইন্ডোজ এক্সপির ডিফল্ট ওয়ালপেপার, যেটি বিলিয়ন বারেরও বেশি দেখা হয়েছে। ঘাসের উপরে নীল আকাশ, আর আকাশে খন্ড খন্ড সাদামেঘ। মাটি থেকে আকাশের অদ্ভুত এক ‘কম্বিনেশন’! উন্মুক্ত মাঠে নীল রং আর উজ্জল আলোর খেলা দেখা যায় এ ছবিটিতে। উইন্ডোজ এক্সপির এ ওয়ালপেপারটি দেখে অনেকেরই ধারণা, ছবিটি গ্রাফিক্সের মাধ্যমে করা হয়েছে, কিন্তু আসল ব্যাপারটি তেমন নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাপাভ্যালীর একটি পথের ধারে তোলা ছবি যেটি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার চাক ওরিয়ার (চার্লস ওরিয়ার)। তার তোলা উপরের এই ছবিটি কেবল উইন্ডোজ এক্সপির ওয়ালপেপার হিসাবেই আলোচিত নয়, এর দামের হিসাবেও এটি বেশ আলোচিত। জানা যায়, সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ছবির তালিকায় এটি রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে

ওরিয়ার একেবারে জাত ফটোগ্রাফার। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ম্যাগাজিনে তিনি দীর্ঘদিন ফটোগ্রাফি করেছেন। এখানে কাজ করার সময়ই ওরিয়ারের ফটোগ্রাফি সুনাম ছড়ায় সর্বত্র। তাঁর এক্সপি ওয়ালপেপারের ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করার কাহিনীটিও বেশ মজার। তখন সদ্য ৬০ পেরিয়েছেন। আর এ বয়সেই আবার নতুন একটি প্রেমে পড়েছেন এ জাত আলোকচিত্রী। রোদ্রোজ্জল এক দিনে নতুন প্রেমিকার সঙ্গে নিজেই গাড়ি হাকিয়ে যাচ্ছিলেন নাপা ভ্যালীর পথ দিয়ে। সঙ্গে ছিল তার অতিপ্রিয় ক্যামেরাটি। চারপাশে তখন ঝলমলে রোদ। রাস্তার দুপাশে আঙ্গুর বাগান। রাস্তার পাশেই উচু টিলা। আর টিলায় সারি সারি আঙ্গুর গাছ। টিলা তখন সবুজ ঘাসে ভরে উঠেছে। টানা রোদে অদ্ভুদ রঙ ছড়ায় এ ঘাসগুলো। আর এ রঙ চোখ এড়ায় না চাক ওরিয়ারের। গাড়ি থামিয়ে নামেন তিনি। একটানা বেশ কয়েকটি ছবি তোলেন। নিচে সবুজ ঘাস, আর আকাশে খন্ড খন্ড মেঘ।

নাপাভ্যালীর এ স্থানটি বেশ আকর্শনীয় হওয়ায় এখানে অনেক ফটোগ্রাফারই আসেন, ছবি তোলেন। তবে আকাশের রঙ আর ঘাসের এ অদ্ভুত মিল এর আগে খুঁজে পাননি কেউই। এই প্রথম চাক ওরিয়ারের ক্যামেরায় আলো আর নীলের মাঝে ঘাস আর মেঘের অদ্ভুত চিত্রটি ধরা পড়লো। ছবিটি দেখে বেশ পুলকিত হলেন ওরিয়ার, তবে তখনও তিনি ধারণা করতে পারেনি তার এই ছবিটিই ইতিহাসের একটি উজ্জল অধ্যায় হতে যাচ্ছে। এ ছবিটিই হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেখা একটি ছবি। তবে একটি ভালো ছবি তুলে ফটোগ্রাফার যেমন মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে অবশ্য তেমনটি হয়নি। ওরিয়ারেরর ভাষায়, ‘আসলে আমার নতুন প্রেমিকা তখন আমার সঙ্গে, ছবিটি দেখে বুঝলাম যে একেবারে অর্ডিনারি একটা ছবি এসেছে। তবে বেশিক্ষণ সেটি দেখার সুযোগ হয়নি। ক্যামেরা গুটিয়ে তড়িঘরি করে সেসময় গাড়িতে উঠি।’
ছবিটি তুলে এ নিয়ে আর ঘাটাঘাটি করা হয়নি ওরিয়ারের। এভাবেই বেশকিছুদিন পার হয়ে যায়। হয়ত ছবিটির কথা ভুলতেই বসেছিলেন তিনি। তবে না, এটির কথা আবার মনে করিয়ে দিলো তার এজেন্সি। কোথা থেকে যেন ওরিয়ারের ছবিটি দেখেছেন মাইক্রোসফট কর্মকর্তারা। আর এটি তাদের বেশ পছন্দও হয়েছে, যেটি তারা তাদের নতুন অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপির ডিফল্ট ওয়ালপেপার করতে চায়। আর তাই মাইক্রোসফট কর্মকর্তারা এ এজেন্সির মাধ্যমেই চেয়েছেন ছবিটির মূলকপি। চুক্তি করে ছবিটির স্বত্ব কিনে নেয় মাইক্রোসফট। তবে ছবিটির জন্য ঠিক কত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে সেটি গোপন রাখা হয়, চুক্তিতেও স্পষ্ট বলে দেয়া হয় যে, টাকার এ অংকটি কেউই প্রকাশ করতে পারবেন না! তবে ধারণা করা হয়, এটিই হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চদামে বিক্রি হওয়া ছবি।

সম্প্রতি ডেইলিমেইল এক সাক্ষাতকার নিয়েছিল চাক ওরিয়ারের। সেখানে তিনি তার এই বিখ্যাত ছবি সম্পর্কে বলেন, ছবিটি তোলার সময় একটুও ধারণা করতে পারিনি যে এটিই হতে যাচ্ছে একটি ‘আইকোনিক ফটো’। বাস্তবতা হচ্ছে, এটিই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ছবি। এটা যদি বাংলাদেশের কোনো এক গ্রামে নিয়ে গিয়ে দেখানো হয় তবে সেও যেমন চিনতে পারবে, তেমনি চীনের ব্যস্ত রাস্তায় যদি কাউকে ছবিটি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা এটি কিসের ছবি, সেও এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারবে।’ (স্টোরি টা পড়ে আমার খুব ভালো লাগলো যে চাক ওরিয়ার বাংলাদেশের কথা বললেন!

বিশ্বের কোটি উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহারকারী তাদের কম্পিউটার চালুর সঙ্গে সঙ্গে চাক ওরিয়ারের তোলা এ ছবিটি দেখতে পান। তবে চাক নিজে তার কম্পিউটার চালুর পর এ ছবিটি দেখার সুযোগ পান না, কারণ তিনি ব্যবহার করেন অ্যাপলের ম্যাক, যেটি অ্যাপলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে চলে!

http://www.somewhereinblog.net/blog/asadrasel/29488271
বিস্তারিত পড়ুন ... »

দুনিয়া কাঁপানো ছবিগুলো

একটা ছবি হাজার শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। কিছু ছবি মানুষের ইতিহাস বদলায়, কিছু ছবি  মানুষকে স্বপ্ন দেখায় আর কিছু ছবি মানুষকে করে বাকরুদ্ধ।
এমনই কিছু ছবি:
Dead on the Beach 1943

ঘরে বসে কখনো বোঝা যায় না, যুদ্ধ আসলে কি? সাগর তীরে আনন্দের বদলে লাশের সারি নিয়ে আসতে পারে যুদ্ধ। ২০শে সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩-এ তোলা ছবি। পাপুয়া নিউ গিনিতে সমুদ্রতীরে মৃত অবস্থায় পরে থাকা আমেরিকান সৈন্যরা।
Biafra 1969

পূর্ব নাইজেরিয়ার লেগবসরা ১৯৬৭ তে যখন নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষণা করে, তাদের গঠিত দেশ বায়াফরা-কে নাইজেরিয়া সমগ্র পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিন বছর চলাকালীন যুদ্ধে দশ লাখ মানুষ মারা যায়। প্রোটিনের অভাবে বাচ্চারা kwashiorkor নামক রোগে ভুগতে থাকে, যে রোগে তাদের পেশি ক্ষয় হয়ে যেতে থাকে। একটি ক্যাম্পেই এমন ৯০০ শিশু দেখতে পান ফটোগ্রাফার। এই ছবি প্রকাশের পর সমগ্র বিশ্ব এগিয়ে আসে বায়াফরা-কে সাহায্য করার জন্য।
Nagasaki 1945

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একটি পারমানবিক বোমা দিয়ে এক মূহুর্তে জাপানের নাগাসাকি শহরের ১৫০০০০ মানুষ মেরে ফেলার সেই মূহুর্ত। ‘মাশরুম ক্লাউড’ নামে পরিচিত বোমা থেকে তৈরী ধোয়ার ছবি, যেটি বিস্ফোরিত হয়, ভূমি থেকে ৫০০ মিটার উপরে।
Breaker Boys1910

সেই বিশ লাখ শিশুশ্রমিকের অংশবিশেষের ছবি যারা ১৯১০-এ আমেরিকায় শিশুশ্রমিকের কাজ করতো। ছবিটার শিশুদের কাজ ছিলো কয়লা থেকে স্লেট আলাদা করা। তাদের নিস্পৃহ চেহারা, চোখে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা কাঁপিয়ে দেয় মানুষকে। ১৯১০-এ আমেরিকায় শিশুশ্রম বন্ধের আইন তৈরী হয়।
Earthrise 1968

১৯৬৮ সালে চাঁদ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবিটি হঠাৎ মনে করিয়ে দেয়, আমরাও এ মহাবিশ্বেরই একটি অংশ। খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ!
Execution of a Viet Cong Guerrilla 1968

দক্ষিণ ভিয়েতনামের পুলিশ ক্যাপ্টেন Nguyen Ngoc Loan এক বন্দীকে গুলি করে হত্যা করার মূহুর্তের ছবি। ছবিটি ভিয়েতনামের দুই অংশের যুদ্ধ থামাতে ব্যাপক মানব সমর্থন গড়ে তোলে।
How Life Begins 1965

১৯৬৫ তে প্রকাশিত মানবদেহের ভেতরে মানব শিশুর প্রথম ছবি।
Triangle Shirtwaist Company Fire 1911

কোম্পানির মালিক শ্রমিকরা যেনো কিছু চুরি করে পালাতে না পারে, সে জন্য দরজা তালা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৯১১ এর ২৫শে মার্চ ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে শ্রমিকদের বের হবার কোন রাস্তা থাকে না। ৩০ মিনিটে মারা যায় ১৪৬ জন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিতে বিপুল সমর্থন তৈরী করে এই ছবি।
Flight 1903

আকাশে উড়ে বেড়ানোর মানুষের বহুকালের স্বপ্ন পূরণের ছবি। ১৯০৩ সালে রাইট ভাইদের তৈরী প্লেন।
First Human X-ray 1896

উইলিয়াম রন্টজেনের স্ত্রী-এর হাতের এক্সরে এর ছবি। পৃথিবীর প্রথম এক্সরে।
Migrant Mother 1936

মন্দা-র সময় নিজের ৭ সন্তানকে খাবার কিনে দেবার জন্য শেষ সম্বল তাবু আর গাড়ির টায়ারগুলোও বিক্রি করে দেন এই মা। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত এক মা।
The Falling Man 2001

নিজের জীবন যে মানুষের কত প্রিয় তা এই ছবি থেকে দেখা যায়। ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর ওই ভবনে থাকা ব্যক্তি নামার কোন পথ না পেয়ে ঝাঁপ দেন ভবনের উপর থেকে। কোন অলৌকিক উপায়ে বেঁচে থাকার আশায় হয়তো………
Tetons and the Snake River; Ansel Adams, 1942

অ্যানসেল অ্যাডামস এর এই ছবিটিকে বলা হয় ‘ন্যাচার ফটোগ্রাফি’র বিখ্যাত ছবিগুলোর একটি। ১৯৪২ সালে তোলা ছবিটি জলবায়ু সংরক্ষণ আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে। মানুষের সৌন্দর্যবোধকে নাড়িয়ে যায় অবলীলায়। ভয়েজার নভোযান-এ করে যে ১১৫টি ছবি মহাশুন্যে পাঠানো হয়, তার মধ্যে এটি অন্যতম।
Afghan Girl; Steve McCurry, 1984

আফগানিস্থানের যুদ্ধ কাকে কি দিয়েছে তা নিয়ে অনেক তর্ক হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। রিফিউজি ক্যাম্পের এক কিশোরী মেয়ের চোখের ভয়, ঘৃণা, চিন্তা, কষ্ট সবকিছু কারও চিন্তাশক্তি এলোমেলো করে দিতে যথেষ্ট।
Starving Child Vulture, 1993

পুলিৎজার পুরস্কার জেতা কেভিন কার্টারের সেই বিখ্যাত ছবি! অপুষ্টিতে চলতে পারার শক্তি হারানো এক সুদানি শিশুকে অনুসরণ করছে একটা শকুন। অপেক্ষা করছে শিশুর মৃত্যুর। শেষ পর্যন্ত বাচ্চাটির কী হয়েছিল কেউ না জানলেও এ ছবি তোলার তিন মাসের মাথায় আত্নহত্যা করেন কার্টার। আফ্রিকার দারিদ্র আর যুদ্ধের নৃশংসতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এ ছবি।
The Power of One, 2006

একজন অভিবাসী মহিলা ঠেকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন ইসরাইলী সিকিউরিটি অফিসারদের। লড়াই চালিয়ে যাবার অদম্য ইচ্ছা প্রকাশের এক ছবি।
execution in Kurdish Iran, 1979

১৯৭৯-তে ইরানে কুর্দিদের হত্যার নির্মম দলিল এই ছবি। ছবিটি প্রকাশের সময় ফটোগ্রাফারের নাম গোপন রাখা হয় নিরাপত্তার জন্য। ২৭ বছর পর, ফটোগ্রাফার জাহাঙ্গীর রামজী নাম প্রকাশিত হয়।
The challenger space shuttle disaster, 1986

স্পেস শাটল ‘চ্যালেঞ্জার’ ১৯৮৬ সালে নিক্ষেপনের ৭৩ সেকেন্ডের মাথায় বিস্ফোরিত হয় আটলান্টিক মহাসাগরের উপর। ৭ জন অভিযাত্রীর সবাই নিহত হন। মহাকাশযাত্রার নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যাপকভাবে তুলে আনে এ দূর্ঘটনা।
Stopping Time, 1964

বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এম.আই.টি.  এর প্রফেসর হ্যারল্ড এডগার্টনের গবেষণার কাজে তোলা একটি ছবি, যা বিখ্যাত করে তোলে ‘হাই স্পিড ফটোগ্রাফি’।
First Black Student, 1957

যে কয়জন মানুষ প্রথম গায়ের রঙ এর উপর ভিত্তি করা শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে প্রথম এসেছিলেন স্কুলে তার একজন ডরোথি কাউন্টস। হ্যারী হার্ডিং হাই স্কুলে তার প্রথম দিন কেমন গিয়েছিল, তার পিছনে অঙ্গভঙ্গী করা মানুষগুলোই তার প্রমাণ। চারদিনের মাথায় স্কুল থেকে তার পরিবার তাকে অপসারণ করে নেয়। কিন্তু, গায়ের রং-কে শিক্ষা পাওয়ায় বাঁধা হতে না দেওয়ার চেষ্টার ছবি এটি।
Man walks on the Moon, 1969

নীল আর্মস্ট্রং এর তোলা এডুইন অলড্রিনের চাঁদে হাঁটার ছবি। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়, এই ছবি তার প্রতীক।
Palestinian father shields son, 2000





ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যের যুদ্ধ প্রতিনিয়ত কেড়ে নেয় জীবন। দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার কী তীব্র চেষ্টা বাবা এবং ছেলের। বাবা জামাল আল দুররাহ এবং ছেলে মুহাম্মাদ আল দুররাহ এর জীবনের সমাপ্তিও ঘটে নীরবেই। এমন হাজারো গল্পের ভিড় থেকেও শান্তি বেরিয়ে আসে না।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

৯ নভে, ২০১১

হাই স্পীড ফটোগ্রাফি: থমকে যাওয়া সময়ের চমকে দেওয়া প্রতিচ্ছবি



ওপরের ছবিটি দেখুন। বিস্ফোরণে ভেংগে চুরমার হয়ে গেছে একটি ফুলদানির নিচের অংশ। কিন্তু ওপরের অংশটি সটান দাঁড়িয়ে আছে–কাত হয়ে পড়ে যায়নি। এমনকি এতে রাখা ফুলপাতাও অক্ষত। সময় যেন থমকে আছে এখানে। আসলে ফুলদানির নিচের অংশ ঠিক যখন বিস্ফোরিত হয়েছে, সময়ের সেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মুহূর্তে ছবিটি তোলা হয়েছে–এর ওপরের অংশটি কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার আগেই। যে প্রযুক্তিতে এই ছবিটি তোলা হয়েছে, তার নাম উচ্চ গতির চিত্রগ্রহণ বা হাই স্পীড ফটোগ্রাফি।

সময়ের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে, এক সেকেন্ডের শত কিংবা সহস্রতম ভগ্নাংশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, যা খালি চোখে ধরা পড়ে না–এরকম ঘটনার ছবি তোলাই হাই স্পীড ফটোগ্রাফির কাজ। উচ্চ গতির ছবি তোলার এই ধারণাটি নতুন নয়। বরং আলোকচিত্রশিল্পের প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই এর চর্চা শুরু হয়েছিল। ১৮৭৮ সালে
এডওয়ার্ড মব্রিজ নামে একজন ইংরেজ চিত্রগ্রাহক সর্বপ্রথম পর পর কয়েকটি ক্যামেরা বসিয়ে দ্রুত ধাবমান ঘোড়ার ছবি তোলার পরীক্ষা চালান। ঘোড়া দ্রুত ছুটে চলার সময় কখনও এর চারটি পা-ই মাটি ছেড়ে শুণ্যে উঠে যায় কিনা–এটি বের করাই ছিল তাঁর পরীক্ষার উদ্দেশ্য। দিনে দিনে উচ্চ গতির ছবি তোলার প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে এবং আলাদা হাই স্পীড ক্যামেরা ও আনুষাংগিক যন্ত্রপাতি তৈরি হয়েছে। মব্রিজের তোলা সেই কালজয়ী প্রথম ছবিটি দেখুন নিচেঃ




হাই স্পীড ফটোগ্রাফির মৌলিক বিষয় হচ্ছে, ক্যামেরার উচ্চতর শাটার স্পীড। শাটার স্পীড বেশি হলে ছবির মানও ভাল হবে। এছাড়া আলোর অবস্থা (স্ট্রোব লাইটিং), ক্যামেরার এপারচার সাইজ এবং আইএসও স্পীডও ভাল ছবি তোলার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। আরও কিছু কারিগরি বিষয় রয়েছে, যার আলোচনা এখানে প্রাসংগিক নয়। কেউ বিস্তারিত জানতে চাইলে দেখতে পারেন এখানে

এবার দেখা যাক, হাই স্পীড ফটোগ্রাফির বিষয়বস্তু কী কী। অতি উচ্চ গতিবিশিষ্ট বুলেট বা গুলির গতিপথ চিত্রায়ন করা এই ফটোগ্রাফির একটি জনপ্রিয় বিষয়। বন্দুকের ছুটন্ত গুলি খালি চোখে দেখা অসম্ভব হলেও হাই স্পীড ক্যামেরায় তা সহজেই ধরা পড়ে। নিচে দেখুন একটি পিস্তলের গুলি কীভাবে একটি তাসকে দ্বিখণ্ডিত করে বেরিয়ে গেছে। অথচ তাসের ওপরের অংশটি তখনও পড়ে যাওয়ার সময় পায়নি!




অতি উচ্চ গতিবিশিষ্ট গুলির আরও কিছু ছবি দেখুন নিচেঃ








ছলকে ওঠা তরলের ছবি উচ্চ গতির চিত্রগ্রহণের আরেকটি জনপ্রিয় বিষয়। নিচে দেখুন ছলকে ওঠা পানির ফোঁটা আবার মিলিয়ে যাওয়ার আগেই কীভাবে ধরা পড়েছে হাই স্পীড ক্যামেরায়।




কফিতে ঢেলে দেওয়া দুধ মিশে যাওয়ার আগে শিল্পিত রূপ নিয়েছে নিচের ছবিতেঃ




তারপর দেখুন ছলকে ওঠা রঙিন তরলের শিল্পিত সৌন্দর্য:




নিচের অসাধারণ ছবিটিতে দেখুন, শাওয়ারের পানি লোকটির মাথায় পড়ার পর সারা গায়ে ছড়িয়ে পরার ঠিক আগে কেমন ছাতার আকার নিয়েছে।




বিভিন্ন বস্তুর বিস্ফোরিত হওয়ার বা ভেংগে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার মুহূর্তও চিত্রায়িত করে থাকে হাই স্পীড ফটোগ্রাফাররা। যেমন, ভেংগে চুরমার হয়ে যাওয়া গবলেটের টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তটি দেখুন নিচের ছবিতে।




নিচের ছবিতে হাওয়ায় ভেসে থাকা বুদবুদ আঙুলের খোঁচায় ভেংগে মিলিয়ে যাওয়ার ফুরসত পায়নি তখনওঃ




ভেংগে যাওয়া বস্তুর আরও কিছু ছবি দেখুনঃ






ফেটে যাওয়া পানিভর্তি বেলুন হাই স্পীড ফটোগ্রাফারদের আরেকটি প্রিয় বিষয়। নিচে অসাধারণ কিছু ছবি দেখুন। প্রথম ছবিতে সুপারসনিক গতিবিশিষ্ট একটি গুলি পানিভর্তি বেলুনে আঘাত করার মুহূর্তটি ধরা হয়েছেঃ




গুলিটি বেলুনের একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তটি ধরা পড়েছে পরের ছবিতে। বেলুনটি পুরোপুরি ফেটে গিয়ে ভেতরের পানি তখনও ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।




পরের ছবিটি আরও অসাধারণ। সুঁইয়ের খোঁচায় বেলুন ফেটে গেছে, কিন্তু ভেতরের পানি তখনও পড়ে যায়নি, বরং বেলুনের আকৃতি ধরে রেখেছে।




নিচের ছবিটির কোন তুলনা হয় না। ফেটে যাওয়া বেলুনের আর কোন অস্তিত্বই নেই, কিন্তু ভেতরের রঙিন পানি তখনও এর আকৃতি ধরে রেখেছে–ছড়িয়ে পড়ার আগেই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।




বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাই স্পীড ফটোগ্রাফির প্রয়োগ রয়েছে। বিশেষ করে, ভৌত গবেষণায়, সমরাস্ত্র গবেষণা ও নির্মাণে, বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরিতে এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতায় এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। আর শিল্পমাধ্যম হিসেবেও আলোকচিত্রীদের কাছে এর বেশ কদর রয়েছে–ওপরের বেশির ভাগ ছবিই তার প্রমাণ।

ফুলের ছবি দিয়ে শুরু করেছিলাম। আবার ফুলের ছবি দিয়েই শেষ করছি।




এই হল হাই স্পীড ফটোগ্রাফি বা উচ্চ গতির চিত্রগ্রহণের একটি সচিত্র বিবরণ। আশা করি সবার কাছে ভাল লাগবে।


মূল লিঙ্কঃ http://sonarbangladesh.com/blog/netpoka/35058
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম