মানবাধীকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মানবাধীকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৫ মে, ২০১২

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ: জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন

চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা প্রদানের মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বর্তমানে নিজেই মুমুর্ষ অবস্থায় নিপতিত। এখানে প্রতিবছরই নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয় এবং বছর শেষে চাকুরী ছেড়ে ডাক্তার চলে যায় অন্যত্র। কর্তৃপক্ষের টাকায় কেনা ঔষধ নিতে একই ব্যক্তিই ভুয়া রোগী হয়ে আসে প্রতিদিন। ১৯৮৪ সালে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখানে নেই কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কিংবা পদ্ধতিগতভাবে কার্যকর আলাদা আলাদা ওয়ার্ড। কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত নাম মাত্র পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালটি বর্তমানে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার কাজটুকুই করে যাচ্ছে। জরুরী বিভাগে গুরুতর কোন রোগী আসলে তা শুধু অন্যান্য হাসপাতালে রেফার করে দেয়া ছাড়া কর্মরত ডাক্তারদের কিছুই করার থাকে না। বর্তমানে হাসপাতালটিতে সর্বমোট নয়জন মহিলা ডাক্তারসহ আটাশ জন চিকিৎসক এবং একচল্লিশ জন নার্স কর্মরত রয়েছেন। অনুসন্ধান করে জানা যায় পদোন্নতির ব্যবস্থা না থাকা, কর্মরত চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নের সুবিধা না থাকা, দুর্নীতি, চিফ মেডিকেল অফিসারের পশ্চাতমুখী চিন্তাধারা এবং সঠিক পরিকল্পনা আর অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসরা দীর্ঘদিন এই হাসপাতালে অবস্থান করতে অনীহা প্রকাশ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তার বন্দর হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করেছিলেন পঁচিশ বছর আগে। জাতির দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের একজন মেধাবী ছাত্র এমবিবিএস পাশ করে বন্দর হাসপাতালে যে পদে যোগদান করেছিলেন পঁচিশ বছর পর তিনি একই পদে থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করছেন গত জানুয়ারীতে। জাতির সেরা মেধাবী ছাত্র হিসেবে ডাক্তারটিরও বিরাট সম্ভাবনা ছিলো কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ / প্রফেসর হয়ে কর্মস্থল থেকে অবসর গ্রহণ করার। শুধুমাত্র পরিবেশ এবং সুযোগের অভাবে তিনি জাতির চাহিদা পুরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যর্থতা যেমন রয়েছে, তেমনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ রাষ্ট্রিয় ব্যর্থতাও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এখানে কর্মরত চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ণে এফসিপিএস কিংবা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে নিরুৎসাহিত করার ঘটনাও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন মহিলা ডাক্তার বন্দর হাসপাতালে যোগদান করার পূর্বে শিশু বিষয়ে এফসিপিএস (শিশু), পার্ট - ১ পাশ এবং চুড়ানত্ম পরীক্ষা দেয়ার জন্য তিন বছর প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন। বন্দর হাসপাতালে যোগদান করে তিনি দেড় বছর চাকুরী করেছেন, তবুও ছুটি মিলেনি এফসিপিএস ফাইনাল পরীক্ষা দিতে যাওয়ার। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বন্দর হাসপাতালের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (সিএমও) তার জীবনের বঞ্চনার কথা ষ্মরণ করে বলেছেন, আমি কাউকে এফসিপিএস করার জন্য যেতে দেব না, এফসিপিএস এখানে প্রয়োজন নেই। অথচ বন্দর হাসপাতাল প্রবিধানে বা আইনী কোন বাধা না থাকা সত্ত্বেও তিনি সজোরে বাধা দিয়েছেন অপর মহিলা সহকর্মীর পেশাগত উন্নয়ণে। এ যেন অনেকটা শাশুড়ী তার শাশুড়ী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে ছেলের বউয়ের উপর প্রতিশোধ নেয়ার মতো। এই ঘটনার পরে অবশ্য অনেক কাটখড় পুড়ে প্রথম ব্যাচ হারিয়ে, অনেক টাকা গচ্ছা দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মহিলা ডাক্তারটি তার ন্যায্য পাওনা এফসিপিএস ফাইনাল কোর্সে যোগদানে সমর্থ হয় আরো ছয়মাস পরে। ডাক্তার হয়ে অন্য ডাক্তারের পেশাগত উন্নয়ণে বাধাগ্রস্থ করা কখনো কাম্য হতে পারে না। এখানে যে চিত্র দেখা যায়, নারীর উন্নয়ণে নারীরাই বাধাগ্রস্থ করছে সচেতন কিংবা অবচেতন মনে। এই হীনমন্যতা শুধু বঞ্চিত মহিলা ডাক্তারটির ব্যক্তিগত উন্নয়ণ বাধাগ্রস্থ করেনি, পুরো দেশের নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর উন্নয়ণসহ গোটা জাতির মানবসম্পদ উন্নয়ণে অপুরণীয় ক্ষতি সাধন করবে। এই বাধা চিকিৎসা জগতে একজন নারীর নেতৃত্ব অংকুরেই বিনষ্ট করার সমতুল্য মনে করছেন সচেতন মহল। এই ব্যাপারে অনেক চেস্টা করেও চিফ মেডিকেল অফিসার (সিএমও) অঞ্জনা দত্তের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। কর্মরত ডাক্তাররা যদি নিজের পেশাগত উন্নয়ণে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করতে না পারেন তাতে ব্যক্তিগত ক্ষতি যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে জাতিয় ক্ষতি। এতে করে দেশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটে পড়বে এবং একজন মেধাবীর মেধার অপচয়ও ঘটে।

বন্দরে কর্মরত প্রকৌশলীরা অহরহ দেশী-বিদেশী উচ্চতর প্রশিক্ষণ করার সুযোগ পেলেও ডাক্তারদের ক্ষেত্রে চরম উদাসীন্য পরিলক্ষিত হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বন্দর কর্তৃপক্ষ যন্ত্রের প্রতি যতটা মনোযোগী মানুষের প্রতি ততটা মনোযোগী নয়। যদিও যন্ত্র পরিচালনায় মানুষের সুস্থতা এবং কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রধান শর্ত। সুতারাং বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলীদের কর্মক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে হাসপাতালের উন্নয়ণ অপরিহার্য। চবক হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের পেশাগত উন্নয়ণ ছাড়া হাসপাতালের উন্নয়ণ কখনো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড়মাপের রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্টান। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমুলক সেবা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানটির কর্তব্য। বন্দর হাসপাতালে কর্মকতা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বন্দর এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। চবক হাসপাতাল শুরুতে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও বর্তমানে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত বাইরের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের অনেক ত্যাগ ও সহযোগিতা রয়েছে। বন্দর হাসপাতালটিতে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বাইরের জনগণের চিকিৎসা প্রাপ্তি বন্ধ করে দেয়ায় চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসকারী জনগণ বর্তমানে জরুরী চিকিৎসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভয়ংকরভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শহরের দক্ষিণভাগে সরকারী কোন গণহাসপাতাল কিংবা ভাল ক্লিনিক নেই যে, উক্ত এলাকার জনগণ বিপদ-আপদ, রাত-বিরাতে জরুরী চিকিৎসা নিতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, বিশাল অংকের বাজেটে পরিচালিত বন্দর হাসপাতালটিতে বন্দর এলাকায় বসবাসকারী জনগণ নয়, খোদ বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জরুরী চিকিৎসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির এই যুগে শুনতে হাস্যকর মনে হলেও সত্যি, হাসপাতালটিতে যে ডাক্তার দিয়ে ডায়াবেটিক্স চিকিৎসা প্রদান করেন একই ডাক্তার দিয়ে গাইনী, হৃদরোগসহ সকল রোগের চিকিৎসা পরিচালিত করা হয়। প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির সেই বিখ্যাত কবিরাজের মতো করে অসহায় চিকিৎসকরা এখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সচেতন জনগন শুনলে অত্যন্ত মর্মাহত হবেন যে, অর্থ আছে, স্থান আছে, সুযোগ আর সম্ভাবনা সবই আছে শুধুমাত্র পরিকল্পনা আর আন্তরিকতার অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালটি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ে কম সুযোগ আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল। বন্দর হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের অবস্থা বলা যায় অনেকটা “ফাইস্যা গেছি মন্‌কার চিপায়” ধরণের ত্রাহি অবস্থা। প্রতিবার বছর শুরুতে ডাক্তার নিয়োগ হয় আর অধিকাংশ ডাক্তারই নিঃশর্তে চাকুরী ছেড়ে চলে যান বছর শেষে। আবারও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসে, হাসপাতালটির অবস্থা না বুঝে আবেদন করেন অসংখ্য অভিজ্ঞ বা সদ্য পাশ করা ডাক্তার। বছর জুড়ে চলতে থাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগপ্রাপ্তির বছর না ফুরাতেই তারা বুঝতে পারে পেশাগত জীবন অন্ধকার। পদায়নের সুযোগ না থাকায় সারা জীবন মেডিকেল অফিসার হিসেবেই কালাতিপাত, ফার্মেসীর দোকানদারের মতো বসে বসে ঔষধের নাম লেখা ছাড়া বাইরের চিকিৎসা জগতের কোন কিছুর সাথে তাদের যোগাযোগ করার সুযোগ থাকেনা।বন্দরের যে ধরণের সুযোগ আর অর্থ আছে তা দিয়ে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশীপ ব্যবস্থায় শহরের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এই হাসপাতালটিকে একটি অত্যন্ত উন্নতমানের মিলিটারী হসপিটাল (সিএমএইচ) এর আদলে রূপান্তর করা সম্ভব। ইতিপূর্বে আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, বহুবার বহু আঙ্গিকে এই হাসপাতালটিকে আধুনিক যুগপোযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া অথবা বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি করা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বাংলাদেশে বিশেষ করে সরকারী মেডিকেল কলেজে যে সব ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয় তারা নিঃসন্দেহে দেশের সেরা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী। দেশের এই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরিবার, দেশ ও জাতি অনেক কিছু আশা করেন এবং পাওয়ার অধিকারও রাখেন। যে পরিবারের একটি ছেলে কিংবা মেয়ে ডাক্তারী পড়েছেন সে পরিবারই সত্যিকারভাবে বুঝতে পারেন যে, একজন এমবিবিএস ডাক্তার তৈরীতে কী পরিমাণ কাটখড় পোড়াতে হয়। দেশের এই সম্ভবনাময় মেধাগুলোর পেশাদারিত্বের উন্নয়ণ বাধাগ্রন্থ করা, বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথ রূদ্ধ করা দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। এটা অনেকটা পেশাগত ডিগ্রি প্রাপ্ত এমবিবিএস ডাক্তারদের অধিকার লংঘন করার শামিল। বন্দরের পাশ্ববর্তী আগ্রাবাদ এলাকায় বেসরকারী উদ্যোগে পরিচালিত চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল যেভাবে সীমিত সম্পদ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে তা বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুকরণ করতে পারেন। একজন এমবিবিএস পাশ ডাক্তার অবশ্যই অধিকার রাখেন; কর্ম দক্ষতা, প্রশিক্ষণ আর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সহকারী প্রফেসর, প্রফেসর হওয়ার মাধ্যমে নিজেকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষ (চবক) দেশের এধরণের মেধাবীদের বন্দরের লজিং মাস্টারের মতো ফেলে রেখে নিতান্তই তাদের অধিকার খর্ব করছেন, পাশাপাশি দেশের মেধা সম্পদ নষ্ট করছেন - যা মোটেও কাম্য নয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এই হাসপাতালের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারের বিশ সিটের একটি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনষ্টিাটউটও চালু করতে পারেন, যাতে করে আমাদের দেশের চিকিৎসক আর নার্স তৈরীর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা পুরণে সহায়ক হয়। বন্দরে নিয়োগকৃত ডাক্তারদের চাকুরীর বয়স এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে প্রমোশনের স্তর সৃষ্টিকরণ, একই ডাক্তার দিয়ে যাবতীয় জটিল রোগের চিকিৎসার সনাতনী পদ্ধতি পরিহার, প্রতিটি ডাক্তারকে আলাদা বিষয়ে নিয়োজিত করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এফসিপিএস ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ তৈরীর পথ সৃষ্টি করা যায়। এধরণের যুগোপযোগী পরিকল্পনা কিংবা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাসপাতালটির উন্নয়ণ ঘটানো গেলে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও আশ-পাশের জনসাধারন যেমন সূ-চিকিৎসার সুযোগ পাবে, তেমনি দেশে সৃষ্টি হবে বিভিন্ন রোগের ভাল ভাল বিশেষজ্ঞ। বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনতিবিলম্বে পরিবর্তন না করলে প্রতিবছরই ডাক্তার নিয়োগ হবে আর অল্প ক’দিন পর চলে যাবে অন্যত্র। অবশ্য ডাক্তারদের এই গমনাগমনে বন্দর, দেশ কিংবা চিকিৎসা পদ্ধতির বিশাল ক্ষতি সাধিত হলেও একশ্রেনীর অসাধু দুস্কৃতিকারীর লাভ আছে বলে অনেকেই মনে করেন। বর্তমানে হাসপাতালে যে সমস্ত ডাক্তাররা কর্মরত আছেন তারা অনেকটা পিঞ্জিরাবন্দী পাখি কিংবা বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গীর মাস্টাররের মতো। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা ঔষধগুলোর নাম লিখাই যেন দেশের এই সেরা মেধাবী মানুষগুলোর কাজ। চট্টগ্রামের সাংসদ, রাজনীতিবিদ, বন্দরের সিবিএ নেতৃবৃন্দ, নৌ-মন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ চট্টগ্রামের সচেতন জনগণ, সাংবাদিক ভায়েরা এগিয়ে আসলে পরিবর্তন আশা করা যায়। আসুন আমরা জাতির এই মেধাবী মানুষগুলোর মেধা ধ্বংস করা পরিহার করে মেধাগুলো আরো শানিত করে জাতীয় জীবন সমৃদ্ধ করি । মেধার সন্মান আর যথোপযুক্ত ব্যবহার ছাড়া দেশে মেধার বিকাশ কখনো সম্ভব নয়। আবহাওয়া পরিবর্তন আর ওজন স্তরের ক্ষয় হওয়ায় রোগের প্রকৃতি ও জটিলতা পরিবর্তনের সাথে সাথে চিকিৎসা পদ্ধতি বিশেষায়িত করার কোন বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল নিজেই গুরুতর অসুস্থ: জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন।



সুত্রঃ  http://prothom-aloblog.com/posts/55/158982(ঈষৎ সংক্ষেপিত)


বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৪ নভে, ২০১১

অ্যাপোক্যালিপস ফিলিস্তিন

Freedom_for_palestine_2_by_artstuck.jpg
আমার বড় বোনের একটা ফুটফুটে বাচ্চা আছে। পরিবারের নতুন প্রজন্মের প্রথম সন্তান,সবার বড় আদরের। কোল থেকে হামাগুড়ি দিয়ে কুটকুট করে হাঁটতে হাঁটতে ৫ বছরে পড়ে গেছে। কলকল করে হাসে,বাড়িময় ঘুরে বেড়ায়,বড় ভাল লাগে দেখতে। একটা নতুন ক্যামেরা কিনেছি, সাথে সাথে রাখি,দুরন্ত বাচ্চাটা একমুহূর্তের জন্যও স্থির হয়না,এরমাঝেই তক্কে তক্কে থাকি,একটু সুযোগ পেলেই ছবি তুলে ফেলি। কান্না কাকে বলে জানে না সে,সময় পেলেই তাই বসে বসে বাচ্চাটার হাসিমুখের ছবিগুলো দেখি,মাটির পৃথিবীটাকে স্বর্গের কাছাকাছি বলে ভ্রম হয়,নইলে দেবশিশু কিভাবে আসে আমাদের ঘরে?

স্বার্থপর হলেও মাঝে মাঝে নিজের এই শান্তি ছেড়ে দুনিয়াদারির খবর নিতে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাই, ভুল করে
টিভির খবরও দেখি কখনো কখনো। যদিও তারা আমার পেটের ভাত জোগাবে না তারপরেও চোখ মাঝে মাঝে পড়ে যায়। কিছুদিন হলো পত্রিকার পাতাগুলোতে বড় বড় ছবি দেখি। ধোঁয়ার ছবি,আগুনের
ছবি,সাইন্স ফিকশন মুভিকে হার মানানো চেহারার অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন সৈনিকদের ছবি,যারা নিজেদের ইসরায়েলি বলে পরিচয় দেয়। আর দেখি বড় বড় চোখের, কোঁকড়া কোঁকড়া চুলের শিশুদের ছবি। দেখলে মনে হয় গালটা টিপে দেই, কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াই,ঘাড়ে চড়িয়ে আকাশটাকে দেখাই,
আর তার বদলে ওরা কলকল করে হাসুক, আমি শুনে প্বথিবীটাকে আরেকবার স্বর্গ বলে ভুল করি,নিজের জন্মের জন্য বিধাতাকে ধন্যবাদ জানাই।

কিন্তু এই শিশুগুলো হাসে না। ওদের ছবিতে হাসিমুখ থাকে না। ওদের চোখে জল থাকে,ওদের গালে কান্নার দাগ থাকে,ওদের গায়ে বারুদের কালি থাকে,ওদের চুলে ধুলোর জটা থাকে। ওদের ছবিগুলো প্রতিদিন বদলে যায় খবরের পাতায়,কারণ আরো একবার ছবি তোলার জন্য ওরা বেঁচে থাকে না। ওরা ফিলিস্তিনের শিশু,ঘৃণার আগুনে পুড়ে ওরা জন্মানোর আগেই মরে যায়। ওরা বাতাসে ফুলের গন্ধ চেনে না,ওরা নীল আকাশ চেনে না,ওরা পাখি চেনেনা,ওরা গান বোঝেনা।
বারুদের ঝাঁঝ ওদের সুগন্ধি,কালো ধোঁয়া ঢাকা আকাশের নিচে ওরা বন্দী, ইসরায়েলের কুৎসিত ফাইটার জেটই ওদের পাখি,কামানের গোলা আর রকেটের শব্দ ওদের সংগীত,ওরা ফিলিস্তিনের নিষ্পাপ শিশু,যারা নিজের মৃত্যু পরোয়ানা হাতে নিয়ে জন্ম নেয়।

আমার ঘরে দু'জন মানুষ আছে। আমার মা, আমার বাবা। সবাই বলে, সেই ছোটবেলা থেকে মা'কে দেখেছে আঙ্গুল ধরে স্কুলে নিয়ে যেতে, আর দেখতে দেখতে আজ আমি মায়ের মাথা ছাড়িয়ে গেছি। লাঠি নিয়ে যে বাবা তাড়া করতো এককালে,এখন মাঝে মাঝে আমিই তার অভিভাবক। তার পরেও এখনো মা মুখে তুলে খাওয়ায়,বাসায় ফিরতে একটু দেরি হলেই বাবার ফোন পেয়ে অস্থির হয়ে উঠি, বাসে করে বাড়ি ফিরতে পারবো কিনা সেই চিন্তায় গুরুজনরা চিন্তিত।

বাসায় ফিরে মায়ের দেয়া চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে সকালের বাসি পত্রিকাটা নিয়ে বসি। আবারো ভেতরের পাতায় চোখ আটকায়, আমাদের কিছু যায়-আসে না তারপরেও আটকায়। আমার বয়সী কোন ফর্সা তরুণের লাশের সামনে মাথা ঢেকে বসে এক ফিলিস্তিনি বাবা,পাশের ছবিতে কিশোর ছেলের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহের সামনে আহাজারি করা কোন এক মা। আমার মা নয়,কোন এক অজানা কিশোরের মা,কিন্তু মা,যে মায়ের পরিচয় মুসলিম মা নয়,ইহুদী মা নয়,শুধুই মা,যার সন্তানকে একটু পরে কবরে নামিয়ে দেয়া হবে।সন্তানের লাশটা কাঁধে নিয়ে যিনি হেঁটে যাবেন,তিনি ফিলিস্তিনের কোন এক বাবা। সন্তানের জন্মের পরই যিনি ধরে নেন এই সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা করার ভাগ্যও তার হবে না,জন্মানোর সাথে সাথেই কোন একটা ঘাতক বুলেটের গায়ে তার সন্তানের ঠিকানা লেখা হয়ে গেছে।

আমার বয়স ২৫ বছর,আমি বাংলাদেশের এক তরুণ। আমার এক দঙ্গল বন্ধুবান্ধব আছে,আমার একটা স্বপ্ন আছে,আমার একগাদা হতাশা আছে। কিন্তু আমার চারপাশে সবুজ আছে,আমার দেশের মুক্ত ভূমি আছে,নিজের মাটিতে হেঁটে বেড়াবার স্পর্ধা আছে। আমার সাথে স্বপ্ন দেখার মানুষ আছে,আমার স্বপ্ন ভেঙে দেবার মানুষ আছে,সেই স্বপ্ন আবারো দেখার সাহস আছে।আমি হাসতে পারি আমি গাইতে পারি আমি গলা ছেড়ে গলাবাজি করতে
পারি। আমি আমেরিকার মুভি দেখে ইসরাইলের সুন্দরীর ব্লন্ড চুলের মুগ্ধতায় ভেসে যেতে পারি,আমি বারাক ওবামার দিনবদলের বাগাড়ম্বরে নিজেকেও শামিল ভেবে বিশ্বের সব মুক্তিকামীর চামড়া তুলে নিতে পারি,আমি কোকাকোলা খেয়ে নাইকির টিশার্ট পরে স্ট্যাচু অভ লিবার্টির মশালের আলোয় নিজেকে আলোকিত মানুষ
করতে পারি,আমি আইনস্টাইনের মেধাকে পূজা করে স্পিলবার্গের ম্যূভি টেকনিকের সাথে নিজেকে ট্রান্সফর্ম করতে পারি,আমি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রামকে পিপীলিকার পাখা গজানো বলে বিদ্রুপ করে ইসরাইলের সাথে শান্তি চুক্তি চাইতে পারি, আমি আরবের মেরুদণ্ডহীন নেতাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে দুর্বল ভেবে
হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি,দুনিয়ার এত অত্যাচারিত থাকতে ফিলিস্তিনিদের জন্যই এত কথা বলাকে বানরের নাচ বলে নিজেকে বেকুবের কাতারে শামিল না করে ঘরে বসে মুসলিম ব্রাদারহুডের গুষ্ঠি মেরে নিজেকে মহাজ্ঞানী প্রমাণ করতে পারি।

আমি অনেক কিছুই করতে পারি।কিন্তু ফিলিস্তিনের কোন সদ্য তরুণ,জন্ম যার মৃত্যুশিবিরে, কামানের গোলা আর জেটবিমানের শব্দে যার শৈশব কাটে,কৈশোরে যার পা দিতে হয় ইসরাইলি ট্যাঙ্কের গায়ে ঢিল মেরে,সেই তরুণের হাতে প্রেমিকার হাতের চেয়ে একে-৪৭ ই ভাল মানায়। তাদের আমরা সন্ত্রাসী বলতে পারি,তাদের জন্য সামান্য সহানুভূতিও না দেখিয়ে তাদের বোকা ফিলিস্তিনি বলে বিদ্রুপ ছুঁড়ে দিতে পারি,কিন্তু তাতে পুরুষান্তরে স্বপ্ন দেখা কোন ফিলিস্তিনি তরুণের স্বাধীনভূমির স্বপ্ন মরে যায় না,লায়লা খালেদের মত কোন তরুণীর জন্ম তাতে ঠেকানো যায় না। জায়োনিস্ট নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা মিডিয়া আমাদের চোখে যে রঙিন চশমা এঁটে দিয়েছে,নিয়ত মৃত্যুর সাথে হেঁটে চলা তরুণের চোখ সেই চশমা ছেড়ে সাদাকালো পৃথিবীকে অনেক আগেই দেখতে শিখেছে, আমরা কি ভাবলাম কি বললাম তাতে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়ার জন্য ছটফট করা ফিলিস্তিনের মানুষের কিছু যায়-আসে না।

ফিলিস্তিনের মত আমাদেরো কিছু যায়-আসে না,যায়-আসে না মৌলবাদের বিষ রক্তে নিয়ে বেড়ে ওঠা ইসরাইলের সৈনিকদেরও,যায়-আসে না সারা বিশ্বকে কাচকলা দেখানো বিশ্বমোড়লেরও। তারপরেও আমাদের বোকা মানুষেরা রাস্তায় নামে,গলা ফাটায়,স্লোগানে মুখরিত করে পথ,পোস্টার হয়, কুশপুত্তলিকা পোড়ে বুশের, পতাকা পোড়ে ইসরাইলের। পৃথিবীতে বোকা মানুষের অভাব নেই,তাই কিছুই হবে না জেনেও আমেরিকার পথে পথেও মিছিল হয়,মিছিল হয় পৃথিবীর সব কোণে। মুক্তিকামী মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এড়াতে না পেরে কিছু হবে না জেনেও ভেনেজুয়েলা আর বলিভিয়া ঘাড় ধরে বের করে দেয় ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে,কিছু হবে না জেনেও বাংলাদেশের সরকারী চুক্তিপত্রে লেখা থাকে--"অল কান্ট্রিস এক্সেপ্ট ইসরায়েল"। কিছু হবে না জেনেও আঁদ্রে মালরো ঘোষণা
দেন বাংলাদেশের পক্ষে অস্ত্র ধরার,কিছু হবে না জেনেও জর্জ হ্যারিসন গেয়ে ওঠেন বাংলাদেশের গান,কিছু হবে না জেনেও একজন মার্ক ওডারল্যান্ড অস্ত্র ধরেন বোকা তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য,কিছু হবে না জেনেও চে গুয়েভারা ছুটে যান কঙ্গো আর বলিভিয়ার অরণ্যে। অসম্ভবের স্বপ্ন নিয়ে তাই ঘর ছাড়ে মাথায় গামছা বাঁধা বাংলার তরুণ,বাঘের ছাপ দেয়া ইউনিফর্মের জাফনার তামিল যোদ্ধা গুঁড়িয়ে গিয়েও স্বাধীন ভূমির স্বপ্ন দেখে,ইন্তিফাদার পতাকা গায়ে জড়িয়ে ফিলিস্তিনের তরুণও মুক্ত হাওয়ার গান শোনে।

তাই আমাদের মত যারা আরব বাদশাহর পশ্চিমপ্রীতির দোহাই দিয়ে ফিলিস্তিনিদের যুদ্ধে আমাদের সমর্থনকে হেয় করে,তাদের কথায় কোন উদ্ধত তরুণের স্বাধীন আবাসভূমির স্বপ্ন মরে যাবে না। মুসলিম ব্রাদারহুড নিয়ে যারা গলা ফাটায় আর প্রথম সুযোগেই আমেরিকান ড্রিমার হতে চায়,তাদের নাকিকান্নাতেও ঐ মৃত শিশু প্রাণ ফিরে পাবে না। আমাদের প্রতিবাদ বুলেটবিদ্ধ কিশোরের জীবন ফিরিয়ে দেবে না,কিন্তু আমাদের আক্রোশের চিৎকার মানুষ হিসেবে আমাদের পৃথিবীর বুকে দাঁড়াবার অধিকার দেবে। পাথর হাতে দাঁড়ানো নিষ্পাপ মুখের কিশোরটিও জানে তার পাথরে দানবের ট্যাঙ্কে ফাটল ধরবে না,পরাধীন বাংলাদেশের যে কিশোরটি বুকে মাইন বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ট্যাংকের নিচে সেও জানতো স্বাধীন দেশ দেখার জন্য সে বেঁচে থাকবে না। তারপরও মানুষ লড়াই করে যায়,তারপরেও মানুষ মাথা উঁচু করে মানুষ পরিচয়ে পরিচিত হতে চায়।

আমি জানতে চাই না ফিলিস্তিনিরা মুসলিম কিনা,আমি এও জানতে চাই না ফিলিস্তিনের কেউ আমার দেশের নাম জানে কিনা,কিন্তু আমি মানুষ হতে চাই। ঘাতকের ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়ানো পৃথিবীর প্রতিটি সাহসী মানুষের কাছে আমি মানুষ হিসেবে নিজেকে দাবী করতে চাই,হয়তো ভীতু মানুষ যার গোলার সামনে বুক পেতে দেয়ার সাহস নেই,কিন্তু একজন মানুষ যার মানুষ হয়ে ওঠার ইচ্ছা মরে যায়নি,দূর থেকে হলেও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো সাহসী মানুষগুলোর জন্য যার গর্বে মাথা উঁচু হয়ে ওঠে।আমার চিৎকার দানবের গায়ে কুটোটিও ঝরাবে না জেনেও শুধুমাত্র মানুষ হবার জন্য আমি চিৎকার করে বলে যেতে চাই--- "ফিলিস্তিন মুক্ত
হোক,পৃথিবীর রং দেখার আগেই যে শিশুটি খুন হয়ে গেছে তার ঘাতকের বিচার হোক, সত্য প্রকাশিত হোক,পৃথিবীর সব প্রান্তের মুক্তিপাগল মানুষের জয় হোক।"

মূল লিঙ্কঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28902016
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১ মার্চ, ২০১১

মনুষ্যত্ববোধটাকি আমাদের মাঝ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে?

আজ টিভিতে একটি নিউজ দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিএও কি সম্ভব? আমরা মানুষ কিন্তু আমাদের মঝে যে মনুষ্যত্ব থাকার কথা তাকি আদৌ আমাদের মাঝে উপস্থিত? ভাবছিলাম বিষয়টি নিয়ে আর ভাববোনাব্যাপারটি উপেক্ষা করে যাবকারন ভাবলেই মনটা ভিষণ খারাপ হয়ে যায়কিন্তু নাপারলাম নাআজ সারাদিন বিষয়টি আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছেআমরা কি আসলেই মানুষ? না মানুষ নামের কলঙ্কআল্লাহ তায়ালা কি এই জন্য আমাদের সৃস্টির সেরা জীব করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন? আমাদের মাঝে কি মনুষ্যত্ব বলে কিছু আছে? যদি তাই থেকে থাকে তবে কি করে একজন পিতা তার নয় মাসের শিশু সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করতে পারে? টেলিভিশন এবং পত্রিকার নিউজে যানতে পারলাম যে,শিশুটির বাবা বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিলোএ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতোঘটনার দিনও ঐ পাষন্ড তার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছিলোহায়রে যৌতুকস্বাধিনতার একচল্লিশ বছর পার হয়ে গেল আর আমাদের সমাজ এখনও যৌতুকের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারেনি কিন্তু তাই বলে কিভাবে একজন পিতা তার নয় মাসের সন্তান কে হত্যা করতে পারে? হত্যার সময় কি তার চোখ একবারও নিষ্পাপ শিশুটির মুখের উপর পড়েনি? শিশুটি কি একবারও ঐ পাষন্ডকে "বাবা" বোলে ডেকে উঠেনি? একবারও কি তার থুতনিতে হাত বুলিয়ে দেয়নি? কারন এই বয়সের একটি শিশুরতো তাই করার কথাহায়রে মমতাময়ী মা টিভিতে দেখলাম মা তার সন্তানকে কাঁথা দিয়ে জরিয়ে রেখেছেবুঝি তার সন্তানের ঠান্ডা লেগে যাবেবারবার সন্তানের মুখটা মুছে দিচ্ছেবুঝি এখনি সন্তান তাকে মা বলে ডেকে উঠবেমা মনে হয় এখনো বুঝতেই পারেনি যে তার সন্তান আর বেচে নেইতারই পাষন্ড পিতা তাকে মর্মান্তিক ভাবে হত্যা করেছেআহ্‌- চোখটাযে কেন বার বার ভিজে উথছে? দুঃখিত পাথকআর লিখতে পারছিনা.........ক্ষমা করবেন
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম