বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৯ ডিসে, ২০১১

অভ্র ব্যবহার করে যে কোন ছবিতে ঝকঝকে বাংলা লেখুন (সাদা কোন ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যাতীতই)!!



আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত বাইনারি কোড প্রধানত তিন প্রকার, ASCII, EBCDIC, UNICODE. এগুলোর মধ্যে ইউনিকোড সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক, যার বিশেষত্ব হচ্ছে এটি ১৬ বিটের এবং সমর্থন করে বিভিন্ন ভাষা, অক্ষর আর সিম্বল।
অভ্র হচ্ছে এমনই ইউনিকোড ভিত্তিক একটি টাইপিং সফটওয়্যার, এর মাধ্যামে বাংলা টাইপিঙের জন্য প্রদত্ত ফোনেটিক অপশনটির কোন জবাব নেই, লা জবাব যাকে বলে এক কথায়। কম্পিউটারে, বিশেষ করে ইন্টারনেটে বাংলা লেখা প্রচলনের যে বিপ্লব প্রত্যক্ষ করছি, তা এই অভ্রের কারনে বললেও ভুল হবেনা। তবে ছবিতে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে অভ্র প্রায় শতভাগ ব্যর্থ! দোষটা অভ্রের নয় যদিও, ছবি এডিটিং সফটওয়্যার গুলোর। মাইক্রোসফট উইন্ডোজের বিল্ট ইন পেইন্টিং বাদে বেশিরভাগ ছবি এডিংটিং সফটওয়্যার গুলো, অন্তত আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো দেখেছি, সেগুলোর কোনটিই ইউনিকোড ভিত্তিক টাইপিং সমর্থন করেনা, সেই পুরোন অ্যাসকি নিয়েই পরে আছে।

এখন ভেবে দেখুন ব্যাপারটা, আপনার টাইপিং সফটওয়্যার ইউনিকোড ভিত্তিক, পক্ষান্তরে ছবি এডিটিং সফটওয়্যার গুলো অ্যাসকি ভিত্তিক, এই দুয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে অভ্র দিয়ে ছবি এডিটিং সফটওয়্যারের সাহায্যে কোন ছবিতে বাংলা লিখবেন কীভাবে? বেশ চিন্তার বিষয় বলেই তো মনে হচ্ছে!

তবে দুটো কথা বলে নিচ্ছি। মাইক্রোসফট উইন্ডোজের বিল্ট ইন পেইন্টার দিয়ে অভ্রর সাহায্যে বাংলা লেখার কথা বলছিনা আমি এখানে, বলা উচিতও না। কারন এভাবে বাংলা লিখতে গেলে সাদা রঙের আয়তকার ব্যাকগ্রাউন্ড পরে যায় ছবির উপর, ভয়াবহ রকমের বিশ্রী লাগে যা দেখতে। আর দ্বিতীয় কথা, আমি অ্যাডোবি ফটোশপ সিএস ফাইভ ব্যবহার করি। এটি দিয়েও অভ্রর সাহায্যে বাংলা লিখা যায়, তবে অক্ষরগুলো আগপিছু হয়ে যায়, এই আরকি! আমার নিজের নাম শত চেষ্টা করেও তারেক লিখতে পারলাম না, তারকে হয়ে যায় বারবার।

কথা আর না বাড়িয়ে চলুন শুরু করে দেই কাজ। কাজের জন্য লাগবে:
১. মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড।
২. PDF Maker.
৩. অ্যাডোবি ফটোশপ কিংবা যে কোন PDF to Image converter.

প্রথম ধাপঃ
মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড ওপেন করুন। যেই ছবিটির ওপর লিখতে চান সেটি কপি করে এখানে পেস্ট করে দিন। ছবিটিকে চারপাশ থেকে টেনে গোটা মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ডের সাদা পেইজটিকে ঢেকে দিন। কি, পারছেন না তো? ডানে টানলে বামে কমে যায়, উপরে টানলে নিচে, তাই কি? এভাবে নয়। ছবিটির ওপর মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে “Text Wrapping” অপশন থেকে “Behind Text” নির্বাচন করুন



এবার ছবিটিকে টেনে বড় করুন, হয়ে যাবে।



ছবির যে কোন জায়গায় বাংলা লিখতে Tab, Spacebar, Enter এই তিনটি কী’র সদ্ব্যবহার করুন। আপনি ফন্টের কালার-সাইয পরিবর্তন, বোল্ড, ইটালিক করন সহ মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সাধারন ফরম্যাটিং অপশনের সমস্ত সুবিধাই পাচ্ছেন এখানে। Ctrl+D চেপে ফরম্যাট অপশনে প্রবেশ করুন।

কাজ শেষ হলে ডকুমেন্টটিকে Save করুন। Save করা হয়ে গেলে ডকুমেন্টটিকে Close না করে মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ডের কোন Built-in PDF Extension এর সাহায্যে সরাসরি সেটিকে PDF ফরম্যাটে পাবলিশ করে ফেলুন। একথা বলছি কারন, ধরুন আপনার কম্পিউটারের অভ্রতে Default বাংলা ফন্ট হিসেবে আছে Siyam Rupali, আপনি Ekushey Puja ফন্ট ব্যবহার করে ছবিতে বাংলা লিখলেন। কিন্তু ডকুমেন্টটিকে Save করার পর Close করে নতুন করে Open করা মাত্রই ছবিতে লিখা আপানার বাংলা ফন্ট স্বয়ংক্রিয় ভাবে Siyam Rupali হয়ে যাবে। ছবিতে কাজ শেষ হয়ে গেলে আপনি ডকুমেন্টটিকে মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড থেকে সরাসরি PDF ফরম্যাটে পাবলিশ করলে এই সমস্যায় পরবেন না। তবে আপানি যদি ছবিতে Default ফন্ট ছাড়া অন্য কোন ফন্ট ব্যবহার না করে থাকেন, তবে Save করে পরবর্তীতে যেকোনো সময় PDF ফরম্যাটে পাবলিশ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আর Built-in PDF Extension এর প্রয়োজনীয়তা নেই, ইউনিকোড সমর্থন করে এমন যেকোনো PDF Maker Software দিয়েই তখন কাজ চালানো সম্ভব। ইন্টারনেটে তো এমন শতশত PDF Maker Software আছে।
মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ডের একটি Built-in PDF Extension হচ্ছে “Save As PDF and XPS’’, ছোট্ট সফটওয়্যারটি ইন্সটল করুন, আর কোন ওয়ার্ড ডকুমেন্টকে Save করবার সময় Save As থেকে PDF নির্বাচন করুন। ব্যাস, হয়ে যাবে PDF। ডাউনলোড লিঙ্ক (৫৩০ কিলোবাইট):
View this link

এই ব্যপারে বিস্তারিত জানতে আমার পোস্টটি দেখুন।
http://www.pchelplinebd.com/?p=32899

দ্বিতীয় ধাপঃ
• তৈরিকৃত PDF টি অ্যাডোবি ফটোশপ দিয়ে Open করুন।
• File> Save as>Format থেকে JPEG নির্বাচন করে Save করুন.

হয়ে গেলো কাজ!



অ্যাডোবি ফটোশপ না থাকলে যে কোন PDF to Image converter সফটওয়্যার দিয়েও দ্বিতীয় ধাপটি সম্পন্ন করা যাবে। এমনি একটি PDF to Image converter সফটওয়্যার হচ্ছে PDFZilla। ৭ মেগাবাইটের এই সফটওয়্যারটি দিয়ে যেকোনো PDF কে আরও পাঁচটি ফরম্যাটে রুপান্তর করা যায়। ডাউনলোড লিঙ্কঃ
View this link
সিরিয়াল কী ভেতরেই আছে।
কেমন লাগলো তা জানাতে ভুলবেননা। সহজ, আপনারা অনেকেই এইভাবে ছবিতে বাংলা লিখে থাকেন। তবে যারা জানেনা তাদের জন্য এই পোস্ট।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২০ নভে, ২০১১

প্রযুক্তির টাইম মেশিন : সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্ক

বর্তমানে আমরা সিডি অনেক কাজে ব্যবহার করি। কিন্তু পূর্বে সিডি শুধু গান শুনার কাজে ব্যবহার করা হতো। অনেক আগে গান শুনার জন্য প্রধান মাধ্যম ছিল গ্রামোফোন বা কলের গান(vinyl record)। সেই বড় আকারের থালার মত ক্যাসেট কে কিভাবে আরও উন্নত করে আকারে ছোট করবে তা নিয়ে গবেষণা করতো অনেক গবেষকরা। সেই চেষ্টায় আজকের এই সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্ক(Compact Disk)। আসুন জেনে নেই এই সিডি র জন্ম ইতিহাস ও পথচলার গল্প।

১৯৭০ সালে ফিলিপস কোম্পানি ALP (Audio Long Play) অডিও ডিস্ক সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করে। এই প্রোজেক্ট এর মূল উদ্দেশ্য ছিল লেজার টেকনোলজি ব্যবহার করে ভিনাইল রেকর্ডের (vinyl record) প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু উদ্ভাবন করা।

ফিলিপসের অডিও ডিভিশনের পরিচালক লু অটেন্স সর্বপ্রথম পরামর্শ দেন, এক ঘণ্টার মিউজিক সম্বলিত ALP ডিস্ক হবে প্রচলিত ভিনাইল রেকর্ডের চেয়ে ছোট।

প্রথমে ভাবা হয়েছিল এই নতুন ফরম্যাটটির ব্যাসার্ধ হবে ১০ সেন্টিমিটার। ১৯৭৭ সালে ফিলিপস নতুন অডিও ফরম্যাট নিয়ে জোরেশোরে কাজ শুরু করে। অবশেষে ১৯৭৯ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয় সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্ক(Compact Disk) । ঠিক এর এক সপ্তাহ পর এই নতুন ফরম্যাট কে কিভাবে আরও উন্নত করা যায় সেই লক্ষ্যে জাপানের সনি কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি করে ফিলিপস।

প্রথমে এক ধন্টার অডিও ধারনক্ষমতা সম্পন্ন ডিস্ক তৈরির কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা ৭৪ মিনিটে উন্নত করা সম্ভব হয়। ১৯৮০ সালে ফিলিপস এবং সনি যৌথ ভাবে  তৈরি করে “রেড বুক” নামের কমপ্যাক্ট ডিস্ক।
১৯৮২ সালে ফিলিপস প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভাবে সিডি প্লেয়ার বাজারে ছাড়ে। এর মূল্য ছিল প্রায় ১০০০ ইউরো। প্রথমদিকে শুধুমাত্র ক্লাসিক্যাল মিউজিক এর অ্যালবামই সিডি আকারে বাজারে ছাড়া হয়। সিডি আকারে প্রথম অডিও অ্যালবাম The Visitors বাজারে ছাড়ে বিখ্যাত ব্যান্ড ABBA .

Download করুন – The Visitors
১৯৮৫ সালে বাজারে আসে Dire Strait এর বিখ্যাত অ্যালবাম Brother In Arms . মূলত এই অ্যালবামটিই সিডি কে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এই অ্যালবামটি বিক্রি হয় ১ মিলিয়নের চেয়ে বেশি। এমন কি বিক্রির দিক থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিডি অ্যালবাম এর নামও  Brother In Arms.

Download করুন – Brother In Arms
২০০০ সালে সারাবিশ্বে সিডির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৪৫৫ বিলিয়ন।
২০০৭ সালে সারাবিশ্বে সিডির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৭৫৫ বিলিয়ন।
২০০৮ সালে সারাবিশ্বে সিডির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ বিলিয়নের বেশি।
তবে অনলাইনে ডাউনলোডের সুবিধা বেড়ে যাওয়াতে সিডি বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে ব্যাপক হারে।
প্রকৃতিতে যেমন বিবর্তন ঘটছে ঠিক তেমন বিবর্তন ঘটছে প্রযুক্তি বিশ্বেও। এক সময় ফ্লপি ডিস্ক এর খুব প্রচলন ছিল। এখন ফ্লপির যুগ শেষ। ঠিক তেমনি সিডি র পর এলো ডিভিডি। এখন ডিভিডি র পরে আসল ব্লু-রে ডিস্ক। হয়তোবা একদিন প্রযুক্তির ছোয়াতে একদিন সিডি হারিয়ে যাবে। এর পরিবর্তে নতুন কিছু দিয়ে কাজ করবে মানুষ।
এই ছিল সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্ক এর প্রায় ৩২ বছরের এক পলক।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৪ নভে, ২০১১

মোসাদ-এর হাতিয়ার ডিজিটাল ভাইরাস!

ইরানের সুরক্ষিত পরমাণু প্রকল্প কেন্দ্র নাতানস-এ গত বছর এক বড় বিপত্তি ঘটে৷ ধ্বংস হয় হাজারো সেন্ট্রিফিউজ৷ ফলে এই কেন্দ্রের পরমাণু সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতাও কমে যায়৷ একটি ছোট্ট কম্পিউটার ভাইরাস পরমাণু কেন্দ্রের এ ক্ষতিসাধন করে৷

ভাইরাসের নাম 'স্টাক্সনেট'৷ ২০১০ সালের জুন মাসে এটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়৷ এটিকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কম্পিউটার ভাইরাস হিসেবে গণ্য করা হয়৷ জার্মান সাময়িকী 'ডেয়ার স্পিগেল' এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল-এর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘ গবেষণা এবং বেশ কয়েক মিলিয়ন ইউরো খরচায় তৈরি করে এই ভাইরাস৷ ইতিমধ্যে বিশ্বের লাখখানেক কম্পিউটারকে আক্রান্ত করেছে 'স্টাক্সনেট'৷
এই ভাইরাসটি ইন্টারনেটসংযোগবিহীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরাপদ কম্পিউটারে আঘাত হানতে সক্ষম৷ আগে মনে করা হতো, ইন্টারনেট সংযোগ নেই এমন কম্পিউটারে বড় ধরণের ভাইরাস আক্রমণ বোধহয় সম্ভব নয়৷ কিন্তু 'স্টাক্সনেট' সেই ধারণা পুরোটাই বদলে দিয়েছে৷ এই ভাইরাস ইরানের নাতানস পরমাণু কেন্দ্রের কম্পিউটারে আঘাত হানে৷ এসব কম্পিউটার পরমাণু সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার সেন্ট্রিফিউজ নিয়ন্ত্রণ করছিল৷ ভাইরাসটি এসব কম্পিউটারের
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ভুল কমান্ড প্রয়োগের মাধ্যমে সেন্ট্রিফিউজগুলো ধ্বংস করে৷ ২০০৯ সালের শেষ থেকে ২০১০ সালের শুরুর মধ্যে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে এই ক্ষতিসাধন করে 'স্টাক্সনেট'৷
জার্মান হ্যাকারদের সংগঠন 'কেওস কম্পিউটার ক্লাব'-এর সদস্য ফ্রাংক রিগার, 'স্টাক্সনেট'-কে আখ্যা দিয়েছেন, ''ডিজিটাল বাংকার বিস্ফোরক'' হিসেবে৷ তিনি বলেন, এই ভাইরাসটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন এক সমরাস্ত্র হিসেবে দেখা দিয়েছে৷ এটি একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সামরিক আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম৷
কম্পিউটার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিমেনটেক ইসরায়েল-এর প্রধান স্যাম অ্যাঞ্জল 'ডেয়ার স্পিগেল'-কে বলেন, 'স্ট্যাক্সনেট' এখন পর্যন্ত আমাদের দেখা সবচেয়ে অত্যাধুনিক আক্রমণ৷ একটি সুরক্ষিত শিল্প ব্যবস্থায় এরকম আক্রমণ সহজ নয়৷
এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত ইরান, ইন্দোনিশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত এবং বেলারুসের বিভিন্ন কম্পিউটার নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়েছে৷ মজার ব্যাপার হচ্ছে, বেলারুসের এক গবেষক সার্জেই উলাসেন প্রথম 'স্টাক্সনেট' শনাক্ত করেন৷ মিনস্ক এর একটি নিরাপত্তা সংস্থার গবেষক সার্জেই, ২০১০ সালের জুন মাসে একটি ই-মেল পেয়েছিলেন৷ একটি ইরানি প্রতিষ্ঠান সেই ই-মেলে আজব এর সমস্যার কথা জানান৷ প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটারগুলো নাকি অদ্ভুত ব্যবহার করছে, নিজের ইচ্ছায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার চালুও হচ্ছে৷ সার্জেই এবং তাঁর সহকর্মীরা আক্রান্ত এসব কম্পিউটার সপ্তাহখানেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন৷ সেখানেই প্রথম শনাক্ত হয় 'স্টাক্সনেট'৷
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের লাখখানেক কম্পিউটারে ছড়িয়েছে 'স্টাক্সনেট'৷ ইরানের ৬০,০০০ কম্পিউটারে এই ভাইরাসের দেখা মিলেছে৷ ইন্দোনেশিয়ার ১০,০০০ এবং ভারতের ৫,০০০ কম্পিউটারেও 'স্টাক্সনেট' ভাইরাস পাওয়া গেছে৷ সাধারণত ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মতো কোন মাধ্যমে করে এই ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করে৷ আক্রান্ত ড্রাইভ কোন কম্পিউটারে যুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই গোপনে সেই কম্পিউটারে জায়গা করে নেয় 'স্টাক্সনেট'৷ পরবর্তীতে কোনো রকম চিহ্ন না রেখে কম্পিউটারের অ্যান্টি ভাইরাস অকেজো করে দেয় এটি৷ এরপর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের যে অংশ ফ্ল্যাশ ড্রাইভ নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে ঘাঁটি গাড়ে 'স্টাক্সনেট'৷
'স্টাক্সনেট'-এর অন্যতম কাজ হচ্ছে কম্পিউটারে স্টেপ-৭ নামক একটি সফটওয়্যার এর কার্যক্রম খুঁজে বের করা৷ এই সফটওয়্যারটি জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্স এর তৈরি৷ ইরানের নাতানস এর পারমাণবিক কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয় স্টেপ-৭ সফটওয়্যার৷ এটির সন্ধান পেলেই ধ্বংসলীলা শুরু করে 'স্টাক্সনেট'৷
ইতিমধ্যে অবশ্য 'স্টাক্সনেট' বধের ডিজিটাল অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে সিমেন্স৷ তবে, আশঙ্কা করা হচ্ছে এই ভাইরাসের পরবর্তী সংস্করণ হয়ত আরো বড় কোন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশ পাবে৷ সেই আশঙ্কা দমনে এখন বিস্তর গবেষণা শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো৷

মূল লিঙ্কঃ http://www.dw-world.de/dw/article/0,,15313754,00.html?maca=ben-newsletter_ben_auf_einen_blick-5180-html-newsletter
বিস্তারিত পড়ুন ... »

যেদিন জবস ঘুরিয়ে দিলেন অ্যাপলের ইতিহাস

'উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আপনারা জানেন, আমি পিক্সার নামে একটি কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং সিইও। আমি এবং আরো বেশ কয়েকজন মিলে চেষ্টা করছি অ্যাপলের সুস্বাস্থ্য যেন ফিরিয়ে আনা যায়।' কথাগুলো স্টিভ জবস বলেছিলেন ১৯৯৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে আয়োজিত ম্যাকওয়ার্ল্ড এক্সপো নামের অনুষ্ঠানের শুরুতে। তারিখটি ছিলো ৬ অগাস্ট।
চমকপ্রিয় জবস কৌশলে ওই দিন শুরুতে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন পিক্সারের চেয়ারম্যান এবং সিইও হিসেবে। অথচ ততক্ষণে তিনি অ্যাপলের অন্যতম বোর্ড মেম্বার, যদিও সে খবরটি তখনো প্রকাশ করা হয়নি। যারা স্টিভ জবস সম্পর্কে জানেন, তিনি জীবিত থাকতেই তার কর্মপদ্ধতি এবং জাদুকরি প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন, তারা এই সত্য লুকানোর কারণ জানতে হন্যে হয়ে উঠবেন না। তারা জানেন, স্টিভ প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতেন হিসেব করে, তা সে যতো ছোটো সিদ্ধান্তই হোক না কেন।
ওই অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেকে পিক্সারের সিইও হিসেবে উপস্থাপন করা এবং বেশ অনেকগুলো নতুন
তথ্য দর্শকদের জানানোর আগের ঘটনাগুলো যারা জানেন, তারা সম্ভবত বলবেন, ওই দিনটি ছিলো প্রযুক্তিভিত্তিক মার্কিন বাজার অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ওই দিনটিই মোর ঘুরিয়ে দেয় অ্যাপলের, স্টিভ জবসের এবং গেটা কম্পিউটিং জগতের।
দিনটির গুরুত্ব বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৮৪ সালে। ওই বছর অ্যাপল বাজারে আনে ম্যাকিনটশ নামের ডেস্কটপ কম্পিউটার। এই কম্পিউটারেই প্রথমবারের মতো যোগ করা হয় গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস। যারা এই কারিগরি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নন, তাদের জন্য সহজ করে বলা যায়, আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় যে ডেস্কটপ দেখি, যেভাবে মাউস দিয়ে ক্লিক করে ফাইল খুলি, মাউস দিয়ে টেনে ফাইল স্থানান্তর করি, এই সুবিধাটিকেই বলা হচ্ছে গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস। এইটিই অ্যাপলের আবিষ্কার। অ্যাপল সে কাজটি করেছিল ১৯৮৪ সালের মধ্যেই। এর আগে কস্পিউটারে কাজ করতে হতো লাইনের পর লাইন লিখে কমান্ড দিয়ে।
ওই সময়ের অনেক পরে মাইক্রোসফট ১৯৯৫ সালে বাজারে আনে উইন্ডোজ ৯৫ এবং প্রথমবারের মতো মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেমে যোগ হয় মাউস ক্লিক ভিত্তিক গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস যাকে ধরা হয় ব্যবহার বান্ধব হিসেবে অ্যাপলের গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস-এর মতো।
ইতিহাস সংক্ষেপ করে বলা চলে, ১৯৯৫ সালে উইন্ডোজ ৯৫ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় এবং বাজারে পিছিয়ে পড়ে অ্যাপল। এর মধ্যে অ্যাপলের যা ক্ষতি হবার তা হয়ে গেছে। নিজে গবেষণায় মন দেবেন বলে স্টিভ জবস অ্যাপলে নিয়োগ করেছিলেন একজন সিইও, নাম জন স্কালি। ভদ্রলোক এর আগে ছিলেন কোমল পানীয় পেপসির সিইও। ১৯৮৪ সালেই স্টিভ তাকে বলেছিলেন, আপনি কি সারাজীবন এই চিনি মেশানো পানি বেচবেন নাকি পৃথিবীটাকে বদলে দেয়ার কাজে নেতৃত্ব দেবেন?
জন স্কালি অ্যাপলে এসেই সিদ্ধান্ত নেন, বাজারে যতো ধরনের কম্পিউটার আছে, অ্যাপলেরও ততো ধরনের কম্পিউটার চাই। বাজার দখলের এই কৌশল কোমল পানীয়র বেলায় কাজ করতে পারে, যেমনটা বলা চলে, কোকাকোলার বিপরীতে পেপসি কোলা, স্প্রাইটের বিপরীতে সেভেন আপ। কিন্তু কম্পিউটারের বাজার যে ভিন্ন যেটি স্কালি যেমন বুঝতে পারেন নি, তেমনি অ্যাপলের অন্য বোর্ড মেম্বাররাও বুঝতে পারেননি। ফলে বোর্ডরুম পলিটিক্সে হেরে যান জবস। নিজের কোম্পানি থেকে নিজেই হয়ে যান জব লেস। তার বয়স তখন ৩০-এর কম।
এর পর স্টিভ জবস পিক্সার অ্যানিমেশন তৈরি করেছেন, নেক্সট নামে কম্পিউটার ফার্ম তৈরি করেছেন আর দূর থেকে দেখেছেন- ডুবতে বসেছে অ্যাপল।
১৯৯৭ সালের ওই দিনটি এই ঘটনাবহুল হবার কারণেই স্টিভ জবসের জন্য হয়ে ওঠে ইতিহাসের হিসেব মেলানোর দিন। পাশাপাশি ওই দিনটি তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরুর দিন হিসেবেও।
আসুন, দেখে নেই ঠিক ওই দিনে অ্যাপলের হিসেব কী ছিলো। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ওই দিন অ্যাপল দাঁড়িয়ে ছিলো দেউলিয়া হওয়া থেকে মাত্রই ৯০ দিন দূরে। অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অর্থ সমাগম করতে না পারলে কোম্পানি বন্ধ করে দিতে হবে। ৯৫ সালের অ্যাপলের পণ্য বিক্রি হয়েছে ১১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের, ৯৬ সালে এটি দাঁড়ায় ৯.৫ বিলিয়ন আর ৯৭ সালে আরো নেমে দাঁড়ায় ৭ বিলিয়ন ডলারে। ওই টাকা থেকে উৎপাদন ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিলে গোটা কোম্পানি তখন ছিলো লোকসানের খাতায়।
ওই সময়ে বাজার মূল্য হিসেবে অ্যাপলের দাম ছিলো ৬ বিলিয়ন ডলার আর মাইক্রোসফটের দাম ছিলো ২৫০ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ছয় আর আড়াইশ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় না গিয়ে স্টিভ নিজে বিল গেটসের সামনে দাড়িয়ে হিসেব তোলেন মাইক্রো সফটের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজে ব্যবহার করা ইউজার ইন্টারফেস বিষয়ে। অ্যাপলের দিক থেকে বিষয়টি ছিলো অনেকটা যেন এমন- 'তোমরা যা দিয়ে ব্যবসা করছো, সেটি আসলে আমাদের বানানো'। বিল গেটসের সঙ্গে স্টিভ জবসের এই ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে ঠিক কত টাকার চুক্তি হয়েছিল তা সে সময় কোনো পক্ষই প্রকাশ করেননি। তবে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি একটি চুক্তিতে আসে।
ওই দিন প্রথমবারের মতো স্টিভ জবস জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তির কারিগরি বিষয়গুলো। স্টিভ বলেন, মাইক্রোসফট ওই সময়ের পর থেকে অফিস স্যুইট (অর্থাৎ মাইক্রোসফট অফিস, এক্সেল, পাওয়াপয়েন্ট বা এক্সেস এর মতো সফটওয়্যারগুলো) অ্যাপল এবং উইন্ডোজ পিসির জন্য একসঙ্গেই তৈরি করবে। উইন্ডোজ পিসির জন্য যতোগুলো অফিস ভার্সন তৈরি হবে, ঠিক ততোগুলো ভার্সনই তৈরি হবে ম্যাক অপরেটিং সিস্টেমের জন্য। মনে রাখা দরকার, বাজারে যতোগুলো অফিস স্যুইট আছে, তার মধ্যে মাইক্রোসফটের অফিস প্যাকেজটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যবহারবান্ধব বলে স্বীকৃত। এর ফলে, অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ম্যাক অপরেটিং সিস্টেমের জন্য বাজারের একটি ভালো ও জনপ্রিয় পণ্য নিশ্চিত করেন স্টিভ।
তৃতীয় বিষয় ছিলো, মাইক্রোসফট ১৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার কিনবে অ্যাপলের। এই তথ্যটি যেন অ্যাপলের জন্য ছিলো অহংবোধে আঘাত করার মতো। তবে, স্টিভ আস্বস্ত করেন বাড়তি আরেকটি তথ্য দিয়ে। ওই দেড়শ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে মাইক্রোসফট আদতে অ্যাপলে কোনোরকম ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না এবং অন্তত তিন বছর মাইক্রোসফট ওই শেয়ার হাতবদলও করতে পারবে না। ব্যবসার ভাষায় একে স্টিভ বলেছিলেন 'নন ভোটিং শেয়ার'। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে ঠিকই কিন্তু কর্তৃত্বও পুরোপুরি থাকবে অ্যাপলের।
তবে ওই চুক্তির ফল কী হয়েছিল তা এক কথায় জানা সম্ভব পরের দিন নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়, স্টিভ জবসের ওই ঘোষণার ফলে অ্যাপলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬.৫৬ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬.৩১ ডলারে। অপরদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম বাড়ে স্রেফ ১২ সেন্ট।
ওই দিন মাইক্রোসফটের সঙ্গে স্টিভ জবস চুক্তি করেছিলেন অসবম্ভব গোপনীয়তা রক্ষা করে। কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দুই ঘণ্টা আগে অন্যান্য পরিচালকদের তিনি জানিয়েছিলেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ফলে বাইরের লোকজন তো দূরের কথা, যার সঙ্গে চুক্তি করেছেন, সেই বিল গেটসও বলেছিলেন, 'স্টিভ কেন আবার অ্যাপলের সিইও হতে চাইছে? সে জানে তথ্যপ্রযুক্তি বাজারে সে প্রতিযোগিতায় পারবে না।'
সে সময় বিল গেটস জানতেন না, ওই চুক্তির ফলে জবস প্রতিষ্ঠানের ধ্বস ঠেকানোর পাশাপাশি তিন থেকে চার বছর সময় কেবল বের করে নিচ্ছেন। স্টিভ সম্ভবত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, ওই সময়টুকু পেলেই তিনি ফের বদলে দিতে পারবেন খেলার ছক। ঠিকই চার বছর পর ২০০১ সালে অ্যাপল প্রবেশ করে কম্পিউটারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়, বাজারে আনে জনপ্রিয়তম মিউজিক প্লেয়ার আইপড। এইসব পরিকল্পনা বিল গেটসের জানার কথাও নয়। যেমন তিনি সেই সময়ে কল্পনাও করতে পারেননি ২০১১ পয়লা নভেম্বর এসে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইক্রোসফটের বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২২৬ বিলিয়ন, আর সেই সময়ের ৬ বিলিয়ন ডলারের অ্যাপলের মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৮ বিলিয়ন ডলার।


মূল লিঙ্কঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/sudip13/29476219
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম