৯ নভে, ২০১১

এই নোট পড়ে খারাপ লাগলে নির্দ্বিধায় আমাকে আনফ্রেন্ড করতে পারেন

আমার ভেতর থেকে প্রচন্ড তাগিদ না পেলে আমি লিখতে বসিনা। ওটা আমার কাজও না। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতেও আমার আপত্তি নেই যতটা আপত্তি এই লিখার ক্ষেত্রে। এই লিখা যখন লিখছি তখন প্রচন্ড রাগে আমার গা জ্বলছে।
আমি এত ভূমিকা না করে সরাসরি আসল কথায় আসি। স্পা না করলে কি মেয়েরা মরে যাবে? বাঙ্গালী মেয়ারা যথেষ্ঠ রূপবতী। এই রূপ গত কয়েক বছরে ধুম করে জেগে ওঠেনি। তারা আগেও রূপবতী ছিল এখনো আছে। আমি জানিনা যে স্পা তে এমন কি আছে যে তার রূপে এমন বিশেষ কিছু অ্যাড করবে যা না থাকলে তার জীবন চলবেনা? যার কারনে অন্য একজন মানুষের সামনে আধা নগ্ন হয়ে body message করাতে হবে। লজ্জা শরমের মাথা কি কাঁচাই খেয়ে ফেলছি আমরা?
আমাদের মায়েরা ,দাদীরা,নানীরা তো কোনদিন এইসব করেনি। তাতে কি আমাদের বাবারা, নানারা,দাদারা তাদের ছেড়ে চলে গেছে? না তাদের বিয়ে হয়নি? কি ক্ষতি হয়েছে তাদের যারা নিজেদের অন্যের সামনে কাপড় খুলে শরীর মর্দন করান নি?
আমি নিজে মেয়ে মানুষ। আমি খুব ভাল করেই জানি মেয়েরা এত সাজ গোজ কেন করে। খুবই সিম্পল উত্তর। মানুষ তাদের দিকে তাকাবে , প্রশংসা করবে। কার না ভাল লাগে প্রশংসা শুনতে! আমারো ভাল লাগে।কিন্তু আপারা দুনিয়ায় খালি আমরা মেয়েরাই নাই। আমাদের ভাইরাও আছে। সৃষ্টিগতভাবে যারা আপনাদের উপর এবং আপনারা তাদের উপর দুর্বল। কিন্তু এইটা ভাইদের ক্ষেত্রে একটু না অনেক বেশি। এই কথাগুলা বলতে আমার খুবই খারাপ লাগে। অনেক বেশি লজ্জা লাগে এই জন্য যে
এত ব্যাখ্যা করে আমার বোনদেরকে এসব আমার বলতে হয়। আমি বাংলায় এসব লিখতে পারবনা।
Most of the man gets sexually aroused when---
আপনি টাইট ফিটিং কাপড় পরেন।
আপনি ওড়না পরেন না/ গলায় ঝুলায় রাখেন/ একপাশে ঝুলায় রাখেন।
আপনি যখন অর্ধস্বচ্ছ কাপড় পরেন।
আপনার পেট/পা/পীঠ যখন দেখা যায়।
আপনি যখন ঠোঁট রাঙ্গান।
আপনি যখন চোখে স্মোকি সাজ পরেন।

আরও শত শত কারন থাকতে পারে।

কি ? মনে হচ্ছে যে ছিঃ ছিঃ ছেলেরা এত খারাপ! তাইনা? The fact is that they are CREATED like this. Do you understand my dear sisters? THEY ARE CREATED BY ALLAAH LIKE THIS.

শুধু আল্লাহ্‌র ভয়/সমাজের ভয়/ ভালত্ব/ সুস্থ বিবেক আছে দেখেই এখনো কোন ভাই এই ধরণের আপাদের রাস্তায় ধরে কষে কষে কয়েকটা চড় বসান নি।[আল'হামদুলিল্লাহ। এই বিপদ আমার উপর আসার আগেই আল্লাহ্‌ আমাকে রক্ষা করেছেন।একবার কি হল, তখনো আমি ঠিকমত হিজাব করিনা, মাথায় একটু আধটু কাপড় দেই। একদিন প্রচন্ড গরমের মধ্যে ক্লাসে গেছি। মাথায় কাপড় দেইনি। আমাদের সাথে সিনিয়র অফিসাররাও ক্লাস করতেন। এঁদের মধ্যে একজন ভাই পুরো ক্লাসের মধ্যে আমাকে এমন ঝাড়ি দিলেন! টিচার ছিল, সব স্টুডেন্ট ছিল। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, ক্লাস থেকে বের হয়ে গেছি। অনেক কান্নাকাটি করেছি। ভাইয়া আমাকে বলেছিলেন, "The Jews know our scriptures better than us, but they do not follow.[Inspite of knowing about hijab you don't wear it properly,so] Do you think you are better than that Jew?" এই একটা কথা আমার ভেতরটা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম হিজাব পরলে আমার কষ্ট হয়, দম বন্ধ হয়ে যায়, এ সি রুমেও ঘামতে থাকি। উনি বললেন, " Did you ask Allaah to help you with this?" আসলেই তো, যার জন্যে হিজাব করছি তাঁর কাছেই তো সাহায্য চাইনি। আমি আর কোন উত্তর দিতে পারিনি ভাইয়াকে। উনি ঠিক কথাই বলেছিলেন আমাকে। হয়ত রুক্ষভাবে বলেছেন,কিন্তু ওই সময় আমার জন্য ওগুলো থাপ্পড়ের কাজ করেছে, আল'হামদুলিল্লাহ এখন তীব্র গরমেও মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখলেও আমার কোন অসুবিধা হয় না। আমি গরম লাগার দোহাই দিই। কিন্তু ওইদিন কি হবে যেদিন সূর্য মাথার এক হাত উপরে থাকবে। আল্লাহ্‌ মাফ করুন। ]

আপারা,আরো কয়েকটা uncensored কথা বলি। এটা জানেন তো যে মানুষ(অধিকাংশ) খুব সহজেই বোর হয়ে যায় আর নতুন কিছু খুঁজতে থাকে যা তাকে আনন্দ দেবে। পশিমাদের মধ্যে হোমসেক্সুলালিটি এত বেশি এর কারন নিয়ে কখনো চিন্তা করেছেন? কেন যেখানে চাইলেই মানুষ আপনার বিছানায় আসতে রাজী সেখানে কেন মেয়ে মেয়ের সাথে ছেলে ছেলের সাথে যেতে চায়? এরা নারী দেহ দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এদের রূচি আস্তে আস্তে বিকৃত হয়ে গেছে। এখন তারা নিজেদের মধ্যে থেকেই সংগী খোঁজে। আল্লাহ্‌ মাফ করুন। হেদায়েত দিন।

আপারা, আমার লেখা এলোমেলো হচ্ছে আমি জানি। রেগে আছি তো তাই।
একটা কথা বলি শোনেন। আপনি মানুষকে যা দেখাবেন তা দেখেই তারা আপনার মূল্যায়ন করবে। মানুষের শরীরের সৌন্দর্য এক সময় শেষ হয়ে যায়। তাই আজকে যারা আপনাকে বলছে, তোকে তো দারুন লাগছে/ আপনার ফেসবুকের ছবিতে প্রশংসার পর প্রশংসা করে যাচ্ছে...... ।।আর এই সব দেখে আপনি খুশিতে ডগমগ করেন।।আজ থেকে ২০ বছর পরের কথা চিন্তা করেন...এই ছেলেরা তখন ৩৮/৪০ ।তখন আপনার প্রশংসা করবেনা। তারা কিন্তু ঠিকই ১৬-২৫ দেরকেই খুঁজবে।

কিন্তু আপারা, একটা কথা জানেন? মনের সৌন্দর্য শেষ হয় না। মন জরাগ্রস্ত হয়না। একটা সুন্দর মন, শালীন দেহ সর্ব কালে সর্ব যুগে প্রশংসিত। আজকের বোরকা পরা মেয়েকে দেখলে যেমন আপনার যারা প্রশংসা করে সেই ছেলেরাও মাথা নামিয়ে নেয়,আমার দাড়ি টুপি ওয়ালা ভাইরাও নামিয়ে নেয়। আজ থেকে ২০ বছর পর দেখলেও তারা দৃষ্টি নামিয়ে নিবে, ইনশা'আল্লাহ। আমার এই বোনেরা আজকেই সম্মানিত। কালকেও থাকবে ইনশাআল্লাহ্‌। আর আপনাদের কি হবে? আজকে আপনারা যাদের চোখ জুড়াচ্ছেন কাল তারা আপনার দিকে তাকাবেই না। আর সম্মান??? সেটা আজকেও কেউ আপনাদের করেনা, ভবিষ্যতে করবে কি আল্লাহ্‌ ভাল জানেন।

আপারা, চাকরানী চেনেন??? দাসী চেনেন??? আপনার হলেন পুরুষদের চাকরানী নয়তো মেকাপের দাসী। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নিয়ে এত সাজ গোজ যে করেন...পরে তো সেগুলো তত কষ্ট করেই ঘষে ঘষে তুলে ফেলতে হয়। কি লাভ এই কৃত্তিমতার?

এই যে একেকজন ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং , ভার্সিটিতে পড়ছেন অথচ নিরেট মূর্খের মত আচরণ কেন করছেন?

আপনার এত এত বিদ্যা আপনাকে কেন রঙ চঙ্গের আশ্রয় নেয়া থেকে বাঁচাতে পারেনা???

কেন অফিসে/অফিসিয়াল কনফারেন্স/কনভোকেশন/নবীন বরণ/ ফেয়ারওয়েলে যাবার আগে আপনার নিজের চেহারায় এত ঘষা মাজা করতে হয়? এসব যায়গার তো আপনি আপনার লেখাপড়ার কল্যানেই যাচ্ছেন তাই না? তাহলে কেন সব কিছু ছাপিয়ে আপনার সাজ গোজ সেখানে প্রাধান্য পাবে???

কি করলেন এত লেখাপড়া করে যা আপনার মানসিকতাকে বদলাতে পারেনি?

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়েও কেন আপনাকে ছোট ছোট কাপড়, কিছু রঙ চঙ্গের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। বলতে পারেন?

আপারা বলেন তো দেখি আপনার এক মাসের পার্লারের খরচ দিয়ে কয়জন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানো যায়? আচ্ছা ধরলাম চালের কেজি ৫০ টাকা। ২০০০ টাকা হলে এক মণ চাল হয়। একটা ছোট পরিবারের ১৫-২০ দিনের খাবার ব্যবস্থা হয়ে যায়। কোনদিন ৫০০ টাকা খরচ করে ১০ কেজি চাল কিনে কোন দরিদ্র মানুষকে দেয়ার কথা ভেবেছেন কখনো? অথচ আপনার পা ঘষে দিলেই আপনি ৫০০ টাকা পার্লারে দিয়ে আসেন। কি আশচর্য! আপনি যখন পা দলাই মলাই করে নিচ্ছে তখন কোথাও কোন সনাবরু না খেতে পেয়ে গলায় দড়ি দিচ্ছে।

আপনি যখন সেজে গুজে বন্ধু বান্ধবের সাথে নবীন বরণ বা ফেয়ারওয়েল এ নাচানাচি করছেন তখন আপনার বোন আফিয়া সিদ্দিকা/ফাতিমেকে প্রতি রাতে ১০ জন মার্কিন সৈন্য ধর্ষন করছে।RAPE. কখনো এদের জন্য আপনার চোখে পানি এসেছে? একবার চিন্তা করুন তো, আপনাকে বানরের মত খঁচায় রাখা হয়েছে যেখানে আপনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না, আপনার গায়ে কাপড় পর্যন্ত রাখা হয় নি, আপনার সামনে আপনার দুই সন্তানকে জবাই করা হয়েছে,আপনার একটা একটা করে চুল টেনে টেনে উপড়ে ফেলা হয়েছে, আপনার পেটে গুলি করা হয়েছে, ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হয়েছে, তার সাথে সাথে যখন তখন আপনাকে ধর্ষন করা হচ্ছে। কি ...বেশি বলে ফেললাম???

__________________________________________________________

[ফাতিমার চিঠি।][কপি পেষ্ট করলাম]

একটি হাতে লেখা দলিল সম্প্রতি ইরাকের আবু গারীব কারাগার থেকে উদ্ধার হয়। ফাতেমা ঐ এলাকার একজন খ্যাতিমান মুজাহিদের বোন। আমেরিকান সৈন্যরা কিছুদিন পূর্বে ঐ মুজাহিদের বাড়িতে হটাত হামলা চালায়। কিন্তু তাকে পায় না। তারা তার বোনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় যেন ঐ মুজাহিদ নিজ থেকে ধরা দেয়।ফাতেমার মূল চিঠিটি এখানে দেয়া হল যা মাফকারাট আল ইসলামে(আরবী নিউজ এজন্সি) ইংরেজী অনুবাদসহ আরবীতে ছাপা হয়েছিল।


ফাতেমার চিঠি


"পরম করুনাময় আল্লাহতা'য়ালার নামে

(হে মুহাম্মদ) তুমি বলো, তিনিই আল্লাহ তিনি এক একক। তিনি কারোর মুখাপেক্ষী নন, তার থেকে কেউ জন্ম নেয়নি, আর তিনিও কারো থেকে জন্ম গ্রহন করেননি। আর তার সমতুল্য দ্বিতীয় কেউ নেয়।(সূরা আল-এখলাস)

আমি আল্লাহর গ্রন্থ আল-কোরআন থেকে হতে এই পবিত্র সূরাটি পছন্দ করেছি কারন এর দারুন প্রভাব পড়েছে আমার উপর এবং আপনাদের সবার উপরে ও বিশ্বাসীদের হদয়ের এক প্রকার ভয় ও শ্রদ্ধা মিশ্রিত বোধের জন্ম দেবে। আমার ভাই মুজাহীদিন আল্লাহর পথে আছে।আপনাদের আমি কি বলবো?

আমি আপনাদের বলছি : আমাদের গর্ভ বানর ও শূকুর জাতীয় লম্পটদের সন্তানে ভর্তি হয়ে আছে। যারা আমাদের ধর্ষণ করেছে। অথবা (আমি) আপনাদের বলতে পারি যে, তারা আমাদের দেহকে বিকৃত করেছে। আমাদের মুখমন্ডল জলসে দিয়েছে এবং আমাদের ঘাড়ে ঝোলানো কোরআনের ছোট কপিটি অযথা ছিড়ে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছে। আল্লাহু আকবার, আপনারা কি পরিস্থিতি অনুদাবন করতে পারছেন না? এটা সত্য আপনারা জানেন না আমাদের সাথে কি ঘটেছে। আমরা আপনাদের বোন। আল্লাহ হিসাব নিকাসের সময় ভবিষ্যতে এ সম্পর্কে আপনাদের জিজ্ঞাসা করবে। আল্লাহর কসম কারাগারে আসা পর্যন্ত আমাদের এমন কোন রাত কাটেনি যে রাতে বানর ও শুকুর জাতীয় অমানুষরা আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েনি। তারা তাদের পূর্ণ স্বাদ মিটিয়ে নিস্তেজ হওয়া অবধি আমাদের দেহকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করতে থাকে। আমরাই তারা যারা আল্লাহর ভয়ে সব সময় সতীত্বকে কে রক্ষা করে এসেছি। আল্লাহকে ভয় করুন। আমাদের মেরে ফেলুন। আমাদের ধংস করে দিন। তাদের আনন্দ উপকরন হিসাবে আমাদের রেখে যাবেন না। এভাবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর মহাকৃতিত্ব মর্যাদা সম্পন্ন করা হবে। আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। তাদের কামান ও উড়োজাহাজ গুলো বাইরে রেখে আসুন। আবু গারীব কারাগারে আমাদের কাছে আসুন। আমি আপনাদের ধর্ম বোন। তারা আমায় একদিন নয়বারেরও বেশী ধর্ষন করেছে। আপনারা কি অনুধাবন করতে পারছেন? চিন্তা করুন আপনাদের এজন বোন ধর্ষিত হচ্ছে। আপনারা কেন ভাবতে পারছেন না আমি আপনাদের বোন? আমার সাথে আরো ১৩ জন মেয়ে আছে। সবাই অবিবাহিত। সবাই সবার সামনে প্রকাশ্য ধর্ষিত হচ্ছে। তারা আমাদের নামায পড়তে দেয় না। তারা আমাদের পোশাকগুলো নিয়ে নিয়েছে। আমাদের কাপড় পরতে দেয়না। আমাদের মধ্যে একজন মেয়ে আত্নহত্যার প্রতিজ্ঞা করেছে। তাই আমি এই চিঠিটি লিখছি। সে নৃশংসভাবে ধর্ষিত হয়েছে। একজন সৈনিক তাকে ধর্ষনের পর তার বুক ও উরুতে আঘাত করেছে। সে অবিশ্বাস্য অত্যাচারের দ্বারা তাকে ভোগ করেছে। মেয়েটি তার মাথা জেলের দেয়ালে সাথে আঘাত করতে লাগল যতক্ষন না তার মৃত্যু হয়, মেয়েটি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না। যদিও ইসলামে আত্নহত্যা নিষিদ্ধ। কিন্তু আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আশা করছি আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। কারন তিনি(আল্লাহ) সবার প্রতি অসীম দয়ালু। ভাই আপনাদের আবারও বলছি আল্লাহকে ভয় করুন। আমাদের মেরে ফেলুন। তাহলেই আমরা হয়ত শান্তি পাব। সাহায্য করুন। সাহায্য করুন। সাহায্য করুন।
 

ড. আফিয়া সিদ্দিকা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন স্নায়ু বিজ্ঞানী। অসামান্য ধীসম্পন্ন পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারী এ মহিলার সম্মানসূচক অন্যান্য ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট রয়েছে প্রায় ১৪৪টি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রন্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে Neurology বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। তিনি হাফিযে কুর'আন ও আলিমা। পবিত্র কুর'আন ও হাদীসে পারদর্শিনী এ মহিলা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত দ্বীনদার ও পরহেযগার। ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে তাঁর স্ট্রং কমিটমেন্ট। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফ.বি.আই পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথিত অভিযোগে ২০০৩ সালে ড. আফিয়াকে তাঁর তিন সন্তান আহমদ, সুলায়মান, ও মরিয়মসহ করাচীর রাস্তা থেকে অপহরণ করে। পাকিস্তানের কোন কারাগারে না রেখে এবং পাকিস্তানী আদালতে উপস্থাপন না করে পাঁচ বছর ধরে তাঁকে আফগানিস্তানের বাগরাম সামরিক ঘাঁটিতে বন্দী করে রাখা হয়। এরপর চলে তাঁর উপর অমানুষিক শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন। বাগরামে কুখ্যাত মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, 'নির্যাতনের সময় একজন নারী বন্দির আর্তচিৎকার অন্য বন্দিদের সহ্য করাও কষ্টকর ছিল.........।

দেখুন আফিয়ার ছবি। অত্যাচারের আগের ও পরের ছবি।



জি, আফিয়া ,ফাতিমাদের সাথে এরকমই করা হচ্ছে। যেখানে তারা নিজেদের আব্রু বাঁচাতে পারছেনা সেখানে আপনি নিজের আব্রু বিলিয়ে দিচ্ছেন?

বোন...লজ্জা কর, ভয় কর আল্লাহকে।



মূল লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/notes/collected-notes-and-discussion/%E0%A6%8F%E0%A6%87-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8/298203060195615
বিস্তারিত পড়ুন ... »

নারী, পেশা এবং এ সময়ের ভাবনা

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর কি কাজ করা উচিত না'কি উচিত না? এ'নিয়ে চিন্তাগবেষনার অন্ত নেই। যারা মনে করেন নারীর কাজ করা উচিত না তাদের বক্তব্য হোল এতে নারীর মাতৃত্বের দায়িত্ব বিঘ্নিত হয়। যারা মনে করেন নারীর কাজ করা উচিত তাদের বক্তব্য হোল নইলে মেয়েদের এত কষ্ট করে লেখাপড়া করার প্রয়োজন কি? উভয়েক্ষেত্রেই এমন একটি সরল দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে বিবেচনা করা হচ্ছে যা বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। কয়েকটি বাস্তব ঘটনা পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হবে কেন বিষয়টিকে এত সরলভাবে দেখা সম্ভব নয়। ৫ নং ঘটনা ব্যাতীত প্রতিটি ক্ষেত্রে গোপনীয়তার স্বার্থে ব্যাক্তির নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছেঃ-

১. অধিকাংশেক্ষেত্রে সন্তান কিছু জিজ্ঞেস করলে মায়েদের বলতে শোনা যায়, "তোমার আব্বু এলে জিজ্ঞেস করে জানাব"। লেখাপড়ার চর্চা থেকে দূরে থাকতে থাকতে তারা একসময় অনেক সাধারন জ্ঞানের বিষয়াবলীও ভুলে যান। ফলে সন্তানের স্বাভাবিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সন্তানের সামনে লজ্জায় পড়ে যান এবং সন্তানের শ্রদ্ধা হারান। তবে এই ভুলে যাওয়ার পরিধি যে কত ব্যাপক হতে পারে তা দেখে আমি এতটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম যে আমার প্রথম সন্তানের জন্মের দ্বিতীয় দিন থেকেই তাকে একহাতে খাওয়াতাম এবং আরেক হাতে বই নিয়ে পড়তাম। আমাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার আগে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। একবার এক শ্রদ্ধেয়া ভাবী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে এসে কাঁদতে কাঁদতে চলে যান। ভাবী বিদেশে বড় হয়েছেন, মাস্টার্স করেছেন, বিয়ে করে ছয় ছয়টি সন্তান বড় করেছেন। সবাই আমাকে দোষারোপ করতে শুরু করে, আমি হয়ত প্রশ্নপত্র অতিরিক্ত কঠিন করেছি! খাতা চেক করতে গিয়ে দেখি খাতা সম্পূর্ণ খালি, পরীক্ষার্থীর নামের বানানটিও ভুল। পরে ভাবী ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে জানালেন তিনি বিয়ের পর থেকে আর কলম হাতে নেননি; প্রথমত তিনি কলম ধরতে ভুলে গিয়েছেন এবং দ্বিতীয়ত তিনি তাঁর নামের বানান পর্যন্ত লিখতে ভুলে গেছেন! উল্লেখ্য, তাঁর স্বামী একজন প্রফেসর। কিন্তু তিনি স্ত্রীকে জ্ঞানার্জন দূরে থাক, জ্ঞানের চর্চার জন্য পর্যন্ত কোনপ্রকার সহযোগিতা করেননি। ছয়টি সন্তান এবং সংসারের পরিপূর্ণ দায়িত্ব স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে তিনি নিজের জ্ঞানচর্চার জন্য সময় করে নিয়েছেন। দু'জনের জ্ঞানের পার্থক্য যত বেড়েছে, তাঁর স্ত্রীর প্রতি সম্মান তত কমেছে। একসময় তিনি স্ত্রীর প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছেন এবং একপর্যায়ে তিনি শুধু ঘুমানো ছাড়া বাসায় সময় দেয়াই বন্ধ করে দেন।

২. রাহির বিয়ে হয় এক বিরাট যৌথ পরিবারে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী
পরিবারের বড় ছেলে। ঘরে বাবামা, বিবাহযোগ্যা বোন, বিভিন্ন স্তরে লেখাপড়া করা অনেকগুলো ভাইবোন এবং এই পরিবারের ওপর নির্ভরশীল ব্যাক্তিবর্গ। রাহির সামনে দু'টি পথ- স্বামীকে আরো বেশী উপার্জন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা অথবা সবার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটানো। রাহি তৃতীয় একটি পথ বেছে নিলো। সে একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে কাজ নিলো। ফলে স্বামী তার সম্পূর্ণ উপার্জন পরিবারের জন্য ব্যায় করতে সম হলেন এবং রাহির টাকায় নিজেদের চলে যা উদ্বৃত্ত থাকে তাও পরিবারের পেছনে খরচ করা সম্ভব হোল। স্বামীর সমস্যা বুঝে চলা এবং অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করার কারণে দু'জনের বন্ধুত্ব মজবুত হোল এবং সংসারের দায়িত্ব দু'জনে ভাগ করে নেয়ায় কেউ অতিরিক্ত চাপ বা বিরক্তির সম্মুখীন হোলনা।

৩. দু'টি বাচ্চা শামার হাতে দিয়ে ওর স্বামী ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হলেন। শোকে কাতর শামা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর শ্বশুরবাড়ীর আত্মীয়স্বজন স্বামীর সমস্ত সম্পদ হস্তগত করে তাকে কেবল দয়া করে একটি রুম দিল থাকার জন্য। গ্রামের পুকুরপাড় থেকে কচুঘেচু তুলে পেট তো চলছিল কোনক্রমে কিন্তু বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবার সংস্থান নেই, বইখাতা কাপড় কিনে দেবার পয়সা নেই, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মত কোন আত্মীয়স্বজন নেই, চাকরী ছেড়ে দিয়েছে বহুদিন তাই চাকরীর জন্য যোগাযোগ করবে এমন পরিচিত কেউ নেই। বাড়ীর কাছের এক ভদ্রলোকের দয়া হোল। তিনি শিক্ষিতা মেয়েটিকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন। আজ শামা বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছে, ছোট মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াচ্ছে এবং শ্বশুরবাড়ীর লোকজনকেও সাহায্য সহযোগিতা করছে সেই চাকরীর বদৌলতে।

৪. কামিনীর বিয়ের পর ওর স্বামী ওর গহনাপাতি নিয়ে নেয় ওর নামে বাড়ী করার জন্য। স্বামীর পরিবারে অর্থ জোগান দেয়ার জন্য ওকে চাকরীতে ঢুকতে হয়। নতুন পরিবারে সবার জন্য কিছু করার এই সুযোগ পেয়ে খুব খুশী কামিনী। পরে সন্তানাদি হয়ে গেলে কামিনী চাকরী ছেড়ে দেয়, স্বামীও ততদিনে ভালো চাকরী পেয়েছে। একসময় সে জানতে পারে বাড়ী করা হয়েছে স্বামীর নামে। আস্তে আস্তে দেখা যায় স্বামী সব সিদ্ধান্তই ওর ওপর চাপিয়ে দিতে শুরু করেন, আলোচনার কোন সুযোগ নেই। স্বামীর কাছে মূল্য নেই বলে সন্তানদের কাছেও সে মূল্যহীন। এখন কামিনীর মা অসুস্থ, সে মায়ের চিকিৎসার জন্য স্বামীর কাছে কিছু টাকা চায়। স্বামী সাফ বলে দেন শ্বাশুড়ী বিনা চিকিৎসায় মরে গেলেও তিনি তার জন্য কোন টাকা দিতে পারবেন না, তাঁর কষ্টের টাকা তিনি কি পানিতে ফেলবেন? কান্না ছাড়া কামিনীর অসুস্থ মাকে দেয়ার আর কিছুই নেই। উল্লেখ্য, কামিনীর স্বামী একজন ইঞ্জিনিয়ার।

৫. একসময় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে গৃহিনীরা হাঁসমুরগী, গরুছাগল, পায়রা পালতেন- এতে ডিমদুধের চিন্তা থাকতনা, উপরন্তু প্রয়োজনমত মাংসের জোগানও হত। একতু খোলা জায়গা পেলেই লাগানো হত শাকসব্জী, ফলমূল; অন্তত ফুলপাতালতা। আমি ঢাকার ধানমন্ডির মত অভিজাত এলাকাতেও এই প্রচলন দেখেছি ছোটবেলায়। মহিলারা পাটি বুনতেন, মোড়া বানাতেন, সেলাইফোঁড়াই করতেন সব বাসায় বসে বাচ্চাদের পড়াতে পড়াতে। আজকাল ঐ সময়টুকু গিন্নীরা আরাম করেন সিরিয়াল দেখে দেখে এবং ব্লাডপ্রেশার আর ডায়াবেটিসের বড়ি গিলে গিলে। মিসেস আনিস আন্টি ছিলেন ব্যাতিক্রম। তিনি এই সময় ব্যায় করতেন পোশাক ডিজাইন করে, বুটিক চালাতেন, অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ চাষ করতেন, এক্সটিক পাখী চাষ করতেন- গরীব দুঃস্থদের জন্য কয়েকটি স্কুল চলত এই পয়সায়। এই বিশাল ব্যাবসা চালানোর জন্য তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন অনেক মানুষজন, অনেক ভাগ্যাহত নারীর অন্নসংস্থান হত তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করে, আমার পরিচিত লোকজনকে তিনি কাজ দিয়েছেন তাদের বিপদের সময়। সন্তানদের দেখাশোনার সুবিধার জন্যই তিনি বাইরে কাজ না করে বাসায় কিছু করেছেন। তাঁর নিজের মত করে সমাজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন।

৬. লাকীর স্বামী ওকে বাংলাদেশে রেখে অ্যামেরিকায় গেলেন স্বপ্নের সন্ধানে। তিনটি সন্তানের দেখাশোনা নিয়েই ব্যাস্ত লাকী স্বপ্ন বোনে আজই হয়ত স্বামী তাকে নিজের কাছে ডেকে পাঠাবেন। তিনবছর পেরিয়ে যায়। স্বামী ব্যাস্ততার মাঝে ফোন করারও সময় পাননা, লাকী ফোন করলে তড়িঘড়ি রেখে দেন। স্বামী আগের মত নিয়মিত টাকা পাঠান না, যে টাকাপয়সা বিপদআপদের জন্য দিয়ে গেছিলেন তাও প্রায় শেষ। বিরহে চিন্তায় পাগলের মত হয়ে যায় সে। স্বামী অসুস্থ নয়ত? তার কোন বিপদ হয়নি তো? চতুর্থ বছরে এক অ্যামেরিকাপ্রবাসী ভাই ছুটিতে এসেছে খবর পেয়ে তাঁর কাছে ছুটে যায় স্বামীর খবর জানার জন্য। ভদ্রলোক প্রথমে কিছুতেই বলবেন না পরে বললেন, "স্বামীকে এত বিশ্বাস করা ঠিক নয়"। "স্বামীকে বিশ্বাস করবনা তো কি আপনাকে বিশ্বাস করব?" রেগে গিয়ে বাসায় চলে যায় লাকী। পরে মাথা ঠান্ডা হলে আরেক বিদেশফেরত ভাইকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারে এক শ্বেতাঙ্গিনীকে বিয়ে করে দেদারসে সংসার করছেন স্বামী গত তিনবছর ধরে! লেখাপড়া করেনি বেশি, বাবামা বেঁচে নেই, কোন ভাই নেই। কি করবে, কোথায় যাবে লাকী?

৭. সিমি তার দুই ছেলেকে মানুষ করার জন্য কোনদিন চাকরী করেনি, বন্ধুবান্ধবের সাথে যোগাযোগ রাখেনি, পৃথিবীর সব কিছু ভুলে স্বামী সংসার আর সন্তান নিয়েই সে মেতে ছিল। প্রজাপতির রঙ্গিন পাখায় ভর করে কবে যে কেটে গেল এতগুলো বছর, সে টেরই পায়নি। বছর দুই হোল ছেলে দু'টোরই বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেবৌরা ওর সাথেই থাকে। কিন্তু ছেলেরা এখন আর কাজ থেকে ফিরে সারাণ ওর গলা জড়িয়ে ধরে বসে থাকেনা, কিছু সময় মায়ের সাথে কাটিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে বৌদের সাথে সংসারের হিসেবনিকেশ করে, বাবামা'র খবর নেয়। স্বামী থাকেন পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা নিয়ে, রিটায়ার করে আর কিইবা করার আছে সময় কাটানোর জন্য? সিমির কেমন যেন একা একা লাগে। বৌগুলো খুব লক্ষ্মী। ঘরের কোনকিছুতে হাত দিতে হয়না ওকে, দু'জনে মিলে গল্প করতে করতে টুকটুক করে সব করে ফেলে দুই বৌ। তবুও ওরা ওর কাছ থেকে ওর ছেলেদের কেড়ে নিয়েছে ভেবে ওর ওদেরকে সহ্য হয়না। সিমি পড়াশোনা ভুলে গেছে সেই ত্রিশ বছর আগে, বন্ধুদেরও ছেড়ে দিয়েছে তখনই। কি করে কাটবে ওর অফুরন্ত সময়?

৮. মনোয়ারা বেগমের বয়স হয়েছে ৫৫। শরীরে এমন এক অসুখ বাসা বেঁধেছে যার চিকিৎসা আর ঘরোয়া পদ্ধতিতে সম্ভব হচ্ছেনা। শহরে নিয়ে যাবার সামর্থ্য নেই তার দিনমজুর ছেলের। সে মাকে সাধ্যসাধনা করে গ্রামের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। কিন্তু ডাক্তারসাহেব তাকে পরীক্ষা করার জন্য বোরকা খুলতে বললে তিনি রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বাড়ী ফিরে এলেন। একবছর ভুগে, পরে শয্যাশায়ী হয় বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন মনোয়ারা বেগম। এই মৃত্যুটি কিন্তু সহজেই এড়ানো যেত। গ্রামে যদি একজন নারী ডাক্তার থাকতেন হয়ত মনোয়ারা সুচিকিৎসা পেতেন।

৯. লামিয়া মাত্র বয়োঃপ্রাপ্র হয়েছে। ওর জন্য কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী কেনার জন্য ওর মা বাজারে গিয়ে ঘুরে ঘুরে হয়রান। সব দোকানে পুরুষ সেলসম্যান। কয়েকবার সাহস করে কাছাকাছি গেলেও লজ্জায় বলতে পারলেন না তাঁর কি প্রয়োজন। কেন যে মেয়েদের জন্য মহিলা সেলসম্যান দিয়ে দোকান করা হয়না! বিদেশে কি সুন্দর একেকটি পরিবারের সকল সদস্য মিলে দোকান চালায়। বাবা দোকানে বসলে মা গিয়ে রান্না সেরে আসেন, বড় ছেলে স্কুল থেকে ফিরে দোকানে বসলে বাবা শুতে যান, বাচ্চারা কাউন্টারে বসে হোমওয়ার্ক করে। আর একটি মুসলিম দেশে মহিলাদের পুরুষ সেলসম্যানের কাছে নারীদের জিনিস চাইতে গিয়ে বিব্রত হতে হয়!

১০. আমার ছোটবেলায় পাশের বাসায় এক দাদু থাকতেন। ওনার ফ্রিজে সবসময় আমার জন্য ফিরনী করা থাকত। বাসায় হরেক রকম বয়মে থাকত তেঁতুল, গুড়, মুড়ি, নারকেলের বরফি আরো নানারকম লোভনীয় খাবার। উনি আমাকে খাওয়াতেন আর ফাঁকে ফাঁকে নানারকম সুরা, দুয়া, নামাজ শেখাতেন। খাবার লোভে গিয়ে কতকিছু শিখে আসতাম তার ইয়ত্তা নেই। যেবার আমি প্রথম রোজা রাখি দাদু প্রায় পনেরো বিশরকম আইটেম করে ইফতার খাইয়েছিলেন। এত আদর করতেন বলে তাঁকে আমি মিষ্টিদাদু ডাকতাম। তবে উনি যে আমার কি উপকার করেছেন তা আমি বুঝতে পারি বড় হয়ে। তিনি শুধু আমাকেই নয়, পাড়ার অনেক শিশু এবং তাঁর বাসায় কাজের লোকদের নামাজদুয়া শেখাতেন। এভাবে নিজের পয়সা এবং সময় নষ্ট করে অন্যের সন্তানকে মানুষ করার মত সোনার মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে।

ওপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা একপ্রকার নিশ্চিত হতে পারি যে মানুষের জীবনকে কোন নির্ধারিত ফর্মুলায় ফেলা যায়না। সুতরাং, সবার জন্য একই সমাধান কার্যকর হতে পারেনা। তবে ইসলামে কয়েকটি ফর্মুলা নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য অবশ্যপালনীয় করে দেয়া হয়েছেঃ

১. আল্লাহ মানবজাতির জন্য রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে প্রথম যে নির্দেশ প্রেরণ করেছেন তা হলো "পড়"। এর সাথে এ'রকম বাক্যাংশ সংযোজিত হয়নি "এই নির্দেশ কেবলমাত্র পুরুষদের জন্য, নারী এই নির্দেশের আওতাবহির্ভূত" অথবা "পড় এবং অতঃপর ভুলে যাও"। কেবলমাত্র এ'কারণেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে একজন ব্যাক্তির আজীবন সাধনা হতে হবে জ্ঞান অর্জন করা এবং চর্চার মাধ্যমে তাকে সতেজ রাখা। জ্ঞানার্জনকে জীবনের ল্য স্থির করার পেছনে কোন অর্থনৈতিক বা পার্থিব স্বার্থকে উহ্য করা হয়নি। নারী পুরুষ উভয়কেই জ্ঞানার্জন করতে হবে নিজের স্বার্থে এবং সমাজের স্বার্থে- কেননা একজন আলোকিত মানুষ সমাজকে উপহার দেবে প্রথমত একজন আলোকিত নাগরিক যে হবে সমাজের জন্য কল্যাণকর, এবং দ্বিতীয়ত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি আলোকবর্তিকা যা তাদের পথ দেখাতে সহায়তা করবে। জ্ঞানার্জনের জন্য এর চেয়ে বেশী আর কোন কারণ বা প্রেষণার প্রয়োজন নেই। এর বাইরে যা পাওয়া যায় সব বোনাস।

২. জ্ঞানপ্রাপ্ত হবার সাথে সাথে জ্ঞানী ব্যাক্তির দায়িত্ব হয়ে পড়ে এই জ্ঞান চতুষ্পার্শে ছড়িয়ে দেয়া যার জন্য বলা হয়েছে যে ব্যাক্তি একঘন্টা জ্ঞানসংগ্রহ করে এবং অতঃপর একঘন্টা জ্ঞানবিতরণ করে তার ঘুম মূর্খ ব্যাক্তির রাতব্যাপী নামাজের সমান। এই দায়িত্বের ক্ষেত্রেও পুরুষ এবং নারীর বিভাজন করা হয়নি। অতঃপর পুরুষের ওপর তার জ্ঞান ব্যাবহার করে অন্নসংস্থান করার দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে, নারীর ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অধিকার এবং পেশা গ্রহন করার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কিন্তু তার অর্জিত অর্থ কারো জন্য ব্যায় করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। কিন্তু তাই বলে এ'কথাও কোথাও বলা হয়নি যে নারী কোন কাজ করতে পারবেনা বরং এক মহিলা সাহাবী যখন রাসুল(সাঃ)কে জানান যে তাঁর স্বামী পঙ্গু এবং তিনি কাজ করে স্বামীসন্তানের ব্যয়নির্বাহ করেন তখন রাসুল(সাঃ) তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এর জন্য তিনি আল্লাহর কাছে উত্তম পুরস্কারের হকদার হবেন। রাসুল (সাঃ)এর স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) ব্যাবসায়ী ছিলেন, আয়শা (রাঃ) কুর'আন এবং হাদীসের শ্রেষ্ঠতম শিক্ষিকা ছিলেন, আয়শা (রাঃ)র বোন আসমা (রাঃ) স্বামীর তেখামার দেখাশোনা করতেন, রাসুল(সাঃ)এর আরেক স্ত্রী হাতের কাজ করে বিক্রি করতেন অতঃপর সম্পূর্ণ উপার্জন সদকা করে দিতেন, খাওলা (রাঃ) ছিলেন কবি, যুদ্ধেক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে ছিলেন না। রাসূল(সাঃ) এঁদের কি পরিমাণ সম্মান করতেন তা উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন, আসমা (রাঃ) কেমন মা ছিলেন এবং তিনি কেমন সন্তান গড়ে তুলেছিলেন তার জন্যও ইতিহাসের স্যাই যথেষ্ট। উল্লেখ্য এই কাজগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য মূখ্য ছিলোনা বরং সমাজের জন্য কিছু করার, পরিবারের সহযোগিতার, সৃষ্টিশীলতার উদ্দেশ্যই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৩. কাজ করা বলতে শুধু চাকরী করা বোঝায় এবং জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য কেবল একে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করা এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী। একজন ব্যাক্তির বেড়ে ওঠা এবং একজন ব্যাক্তিমানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পেছনে অসংখ্য মানুষের প্রত্য এবং পরো অবদান থাকে। নিজের স্বার্থ লাভ হয়ে যাবার সাথে সাথে শুধুমাত্র একজন সঙ্গী এবং নিজের ক'টি সন্তান ছাড়া পৃথিবীর আর সবার অধিকার ভুলে যাওয়াটা ইসলাম কেন মানবতার সংজ্ঞায়ও সঠিক হতে পারে, এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে নয়, নৈতিক কারণেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার কিছু করা উচিত তার নির্ধারিত কাজের বাইরে। তবে অর্থনৈতিক বিষয়টিও একেবারে ফেলনা নয়। ইসলামে নারীকে ধনসম্পদে যে অধিকার দেয়া হয়েছে তা কেবল ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই নয় বরং দায়িত্বশীলতা শিক্ষা দেয়ার জন্যও বটে। পাশাপাশি টাকাপয়সা ছাড়া অনেক নধংরপ ইবাদাত করা সম্ভব নয় যেমন সদকা, যাকাত এবং হাজ্জ্ব। তাছাড়া সামাজিক ক্ষেত্রে মেলামেশার কারণে মানুষের সামাজিক প্রতিভা, মনের বিস্তৃতি এবং পরিচিতের পরিধি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে নারীর সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ত্রেগুলোতে মেধাবী এবং দায়িত্বশীলা নারীদের এগিয়ে আসা উচিত। মনে রাখা উচিত, বাবামায়ের প্রতি দায়িত্বও আল্লাহ কেবল পুরুষের জন্য নির্ধারণ করে দেননি এবং এই ব্যাক্তিগত দায়িত্বগুলোর জন্য নারীর স্বামী তাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে বাধ্য নন।

সুতরাং, এই ব্যাপারে আমরা একমত হতে পারি যে নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার একটি মূখ্য ক্যারিয়ার থাকতে হবে- জ্ঞানার্জন এবং জ্ঞান বিতরণের ক্যারিয়ার। দ্বিতীয়ত, জীবনধারণের জন্য কাজ করতে হবে বটে তবে ক্যারিয়ার যেন ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং ক্যারিয়ার যেন ব্যাক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেননা, নারী বলুন আর পুরুষ বলুন, কোন মানুষই টাকা কামানোর বা ঘর সংসার সামলানোর মেশিনে রূপান্তরিত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে বিশ্রামের, আনন্দের, নিজের জন্য সময় ব্যয় করার। তৃতীয়ত, প্রত্যকেটি মানুষের চিন্তা করতে হবে আমাকে আল্লাহ কোন নিয়ামতটি দিয়েছেন যা দিয়ে আমি মানুষের সেবা করতে পারি?

এবার ক্যারিয়ারের বিষয়টিকে নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করি। নারীর কাছে পারিবারিক জীবনে সফল হওয়া পূর্ণতার অনুভূতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এর একটি বিরাট অংশ মাতৃত্ব। তবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে মাতৃত্ব একটি সাময়িক দায়িত্ব এবং সন্তান বড় হয়ে গেলে মায়ের দায়িত্ব কমে যায় এবং সে বাইরে সময় দিতে পারে। মাতৃত্বের দায়িত্ব একটি ষরভবষড়হম দায়িত্ব যার শেষ কেবল কবরে গিয়ে। এর একেক পর্যায়ে একেকভাবে সময়, শ্রম এবং মেধা ব্যায় করার প্রয়োজন হয়, কিন্তু এই দায়িত্ব আমৃত্যু শেষ হয়না। সুতরাং, এর জন্য আর সব দায়িত্ব ঠেকিয়ে রাখা বা একে ব্যক্তির ব্যাক্তিগত বিকাশের প্রতিবন্ধকতা মনে করা সঠিক হতে পারেনা। ইসলামে পরিবারের ওপর এতটা গুরুত্ব দেয়ার মূল কারণই এটা যেন পুরুষ ও নারী সন্তান এবং সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে পারে, নারী যেন বিবাহিত থেকেও single mother রূপান্ত্রিত না হয়। দ্বিতীয়ত, সময়ের সুষ্ঠু ব্যাবহার এবং কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে মানুষ অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে পারে। আর যদি অতিরিক্ত পরিশ্রমের কথা বলা হয় তাহলে Robert Robert Browning এর মত আমাকেও বলতে হয়ঃ
'Ah, but a man's reach should exceed his grasp
Or what's a heaven for?' (Andrea de Sarto)

জীবনটা পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং এই পরীক্ষার সময় নির্ধারিত, তবে সনাতন পরীক্ষার মত এক্ষেত্রে আমরা জানিনা এই নির্ধারিত সময় কার জন্য কতটুকু। সেক্ষেত্রে কোন কাজটি যুক্তিযুক্ত? দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা নাকি বি সি এসের মত যে ক'টি সম্ভব প্রশ্ন একটির পর একটি উত্তর দিতে থাকা? কোন পদ্ধতিতে পাশের সম্ভাবনা বাড়ে?

সুতরাং, সন্তান লালন পালনের জন্য গৃহিনী হলেই ভালো মা হতে পারবেন আর কাজ করলে ভালো মা হওয়া যাবেনা এটা কোন যুক্তি হতে পারেনা। একজন গৃহিনী কি সারাণ সন্তান নিয়ে বসে থাকেন? প্রথমত, যদি থাকেন তাহলে এটা সুস্থতার লণ নয়। একটি শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কিছু পরিমাণ স্বাধীনতার প্রয়োজন যখন সে দুষ্টুমী করবে, গায়ে কাদা মাখাবে, গাছে চড়বে এবং মা দেখবেন না। দ্বিতীয়ত, একজন মানুষের নিজের এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বসবাসকারী মানুষজনের প্রতি কিছু দায়িত্ব আছে। পরিপার্শ্ব হতে বিচ্ছিন্ন একজন মানুষ একসময় তার আশেপাশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়েন এবং তখনই সমাজ বঞ্চিত হয়। কিভাবে তা একটু পরেই আলোচনা করছি।

একসময় মানুষের পনেরো বিশটা করে বাচ্চা হত। তাঁদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা মনেই করতে পারতেন না কি করে বড় হোল এতগুলো ছেলেপুলে। এর একটা কারণ হোল তখন মানুষ অনেক নিঃস্বার্থ ছিল। কার বাচ্চা কে খাওয়ায়, কে গোসল করায়, কে শাসন করে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়ে তখন কেউ তেমন মাথা ঘামাত না। মায়েরা সন্তানদের যে সময় দিতেন তা quantity নয় quality দিক থেকে সর্বোচ্চ মানের ছিল। যেটুকু সময় তারা সন্তানদের কাছে পেতেন সে সময়টুকু তারা সন্তানদের নীতিনৈতিকতা এবং পড়াশোনা শিক্ষা দেয়ার জন্য কাজে লাগাতেন। পরম ঔদার্য্যে লালিত পালিত এইসব মানুষগুলো প্রত্যকেই সোনার মানুষ হতেন যারা দেশ এবং দশের জন্য করতেন, যাদের কথা আমরা আজও গল্পেপ্রবন্ধে পড়ে উজ্জীবিত হই।

এখন একজন মা তার সন্তানের জুতোর ফিতা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চান, ফলে ন্যূনতম স্বাধীনতাবঞ্চিত একটি শিশু ছোটবেলা থেকেই কষ্ট আর লাঞ্ছনা নিয়ে বেড়ে ওঠে। অধিকাংশ শিশু বাবাকে মনে করে একজন ** যাকে মাঝেমাঝে দেখা যায় এবং যার কাছ থেকে টাকা পাওয়া যায়। তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয় টেলিভিশন যাকে ছাড়া তারা খেতে পারেনা, ভাবতে পারেনা, চিন্তাশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারেনা। এই মায়ের নিজের শিশুটি ছাড়া আর কারো জন্য কিছু ভাবার বা করার নেই। তাই তিনি তাকে বাংলা সিনেমার নায়কের মত নাচেগানে সুপারদর্শী, তর্কালংকার, মহানহৃদয়, মারদাঙ্গা, ব্ল্যাকবেল্টধারী ডাক্তার বানাতে চান। ফলে আমাদের সমাজ আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, ব্যাঙ্কার, বিজনেসম্যানের ভারে ন্যুব্জ, কিন্তু এর মাঝে 'মানুষ' খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সন্তানদের জন্য যতটুকু করতে পারতাম, যা দেখে আমার সন্তান উদার হতে শিখত, তা না করে জন্ম দিচ্ছি ঈভটিজার, গুন্ডা এবং চোরডাকাতশ্রেণীকে। একদিকে আমার ছেলের জন্য ভিডিও গেম কেনা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা খরচ করে, অন্যদিকে প্রতিবেশী বস্তির মেয়েটি না খেতে পেয়ে আত্মহত্যা করছে।

সুতরাং, মায়েদের আগে মানুষ হবার চিন্তা করা উচিত যারা শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, সবার জন্য করার মানসিকতা রাখবেন। বাবাদের চিন্তা করা উচিত স্ত্রী কেবল সংসার সামলানোর মেশিন নন এবং সন্তানগুলো তিনি একা জন্ম দেননি। সুতরাং বাবাও মাঝে মাঝে রান্না করবেন, ঘরের কাজে হাত লাগাবেন, সন্তানদের নিয়ে খেলবেন, স্ত্রীর সাথে গল্প করবেন, বাচ্চাদের বাইরে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে পড়াশোনা করার সময় দেবেন। এই সন্তান বাবামা'র বন্ধুত্ব দেখে আত্মবিশ্বাস এবং নিরাপত্তার অনুভূতি নিয়ে বড় হবে এবং বাবামায়ের পারস্পরিক সম্মানবোধ তাকে উভয়কে যথাযথভাবে শ্রদ্ধা করতে শেখাবে। উভয়ে কাজ করবেন সন্তানের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য, একটি সুন্দর সমাজ তাকে উপহার দেবার জন্য- যেখানে টাকাপয়সা ও ধনসম্পদ গৌণ এবং জ্ঞান, দায়িত্বশীলতা এবং সৌহার্দ্য মূখ্য।

পরিশেষে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ দিয়ে ইতি টানছি। আমি বিয়ের আগে একটা স্কুলে চাকরী করতাম, বিয়ের পর মাস্টার্সের রেজাল্ট বের হলে ইউনিভার্সিটিতে চাকরী পাই। আমার প্রথম সন্তান হলে আমি চিন্তা করি চাকরীতে একবছর গ্যাপ দেব, বাচ্চা বড় হলে আবার কাজে ফিরে যাব। হাফিজ সাহেব আমাকে বলেন, "তুমি যদি চাকরী ছেড়েও দাও আমার আপত্তি নেই। কিন্তু ভেবে দেখ, কর্মেক্ষেত্র তোমার উপস্থিতিই কিন্তু একটা আদর্শের প্রতীক। তোমার শূণ্যস্থান হয়ত খালি থাকবেনা। ঐ জায়গায় আরেকজন আসবে। তবে সেই ব্যাক্তি হয়ত একে নিছক পেশা হিসেবেই নেবে।তুমি যে ল্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে পড়াও, অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তানের মত মানুষ করতে চাও, সেটা হয়ত সে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা মনে করবে। তার চেয়ে বরং আমরা এটা করতে পারি- তুমি কাজের পরিমাণ কমিয়ে নাও, কাজের জায়গায় আমরা একটা রুমের ব্যাবস্থা করি, বাচ্চা আমাদের সাথে প্রতিদিন যাবে, একটা উদার এবং শিক্ষিত পরিবেশে সমাজের নামীদামী মানুষের সাহচর্যে বড় হবে। তোমার কাস থাকলে আমি বাচ্চাকে দেখব, বাকী সময় তুমি ওর সাথে কাটাতে পারবে"।

বাচ্চা হাঁটতে শিখলে পরে এই কেন্দ্রিক একজন মহিলার কর্মসংস্থান হয় যে আমি কাসে থাকাকালীন বাচ্চার সাথে থেকে ওকে পাহাড়া দেবে, ওর খাবার আর গোসলের পানি গরম করে দেবে, ওর কাঁথাকাপড় ধুয়ে দেবে। বাচ্চা বড় হয়ে গেলে আমি আবার আমার স্বাভাবিক কাসলোড নিতে শুরু করি। এভাবেই বড় হয়েছে আমার দু'টি সন্তান। ঘরের সমস্ত কাজ হাফিজ সাহেব আর আমি ভাগ করে করি যাতে কেউ অতিরিক্ত কান্তি বা চাপ অনুভব না করি। উল্লেখ্য, আমি সবসময় যৌথ পরিবারে ছিলাম। কিন্তু আমার সন্তান আমার দায়িত্ব, তাকে আমি কোনদিন কারো ওপর বোঝার মত চাপিয়ে দেয়া সমীচিন মনে করিনি। দু'জনে মিলে বাচ্চাদের দেখাশোনার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়ায় আমাদের বাচ্চাদের কখনো কোন অসুবিধা হয়নি কেননা বাচ্চারা দায়িত্ব, বাচ্চার অসুখ সব দু'জনে মিলেই সামাল দেয়া গেছে। আমাদের কারো কর্মেক্ষেত্রেও কোন প্রমোশন দেরী হয়নি, কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। প্রয়োজন ছিল শুধু দু'জনের কো-অর্ডিনেশন। একপর্যায়ে আমি প্রফেসর হবার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের কোঅর্ডিনেটর ছিলাম, দায়িত্ব ছিল অনেক বেশী- কিন্তু স্বামী, সন্তান, তাঁর পরিবার এবং আমার পরিবারের সবার প্রতি দায়িত্ব জোগান দিয়েও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রা করতে কোন অসুবিধা হয়নি। আমাকে যারা চেনেন তারাই বলবেন আমার দু'টি বাচ্চা মানুষ হয়েছে কি হয়নি। তবে আমি আজ আনন্দিতচিত্তে বলতে পারি আমার হাজার হাজার সন্তান মানুষ হয়েছে!

এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন নারীর কাজ করা উচিত কি উচিত নয়।


মূল লিঙ্কঃ http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=7055
বিস্তারিত পড়ুন ... »

দুনিয়ার সবচেয়ে জঘন্য পাচটি খাবার - খাবার আগে পড়া নিষিদ্ধ

সারা দুনিয়ার সবচেয়ে জঘন্য পাচটি খাবারের একটা তালিকা দেবার ইচ্ছে ছিল। আমি নিজে দেখে অবাক হয়েছিলাম বলেই ভেবেছিলাম নাগরিকের জন্য লিখব। যদি এধরনের লেখা আপনাদের পছন্দ হয় তাহলে সময় পেলেই আরো লিখব।

৫– এসকামোল (Escamole)


কোথাকার খাবার: মেক্সিকো
জিনিষটা কি: এসকামোল হচ্ছে বড় কালো লিওমেটোপাম পিপড়ার ডিম। এরা সাধারনত আগাভে গাছের শিকড়ে বাসা বানায় এবং ডিম পাড়ে। ডিমগুলো বের করা খুব ঝামেলার কাজ কারন এরা খুবই বিষাক্ত এবং মানব দেহের সংবেদনশীল গহ্বরগুলোতে কামড়ানোর জন্য এরা অতিউৎসাহী হয়ে থাকে। কালো পিপড়া মানে মুসলমান পিপড়া এই থিওরী এরা জানেনা। আফসোস। ডিমগুলো পনিরের মত নরম হয়ে থাকে এবং সাধারনত টাকো(মেক্সিকান রুটি জাতীয় খাবার) দিয়ে পেচিয়ে এগুলো খাওয়া হয়।

দাড়ান আরো ব্যাপার আছে: এসকামোলের স্বাদ অনেকটা মাখনের মত এবং সংগে একটু বাদামের স্বাদও থাকে। মেক্সিকোতে টাকো খেতে বসে যদি ভুলে এই বস্তু খেয়ে ফেলেন তবে স্বাদের কারনে টের পাবার সম্ভাবনা কম তাই সাবধান। বুঝতেও পারবেন না যে আপনি খাচ্ছেন পিপড়ার ডিম!!

বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা: বাংলাদেশে এই জিনিষ আসার চান্স কম কিন্তু বুদ্ধিমান বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা মাখনের মধ্যে দেশী পিপড়ার ডিম মিশিয়ে দিতে পারে। রুপচাদার নামে পিরানহাতো খাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই।

৪- কাসু মারযু (Casu Marzu)



কোথাকার খাবার: সারডিনিয়া, ইটালী

জিনিষটা কি: এই জিনিষটাকে বোঝাবার একমাত্র ভাষা হচ্ছে "ওয়াক থু"। ভেড়ার দুধ থেকে বানানো পনিরের মাঝে একধরনের মাছি ডিম পারার পর ডিম ফেটে লার্ভা বের হয় এবং এই পচনশীল পনিরের মাঝে কিলবিল করতে থাকে। এই বোটকা গন্ধযুক্ত পচা পনির যখন খাওয়া হয় তখন পোকাগুলো আধাফুট পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে। কাসু মার্যু খেতে বেশ ঝাল ঝাল এবং প্রায়ই লার্ভাগুলো হজম না হয়ে অন্ত্রে বাসা বাধে। তখন এরা সাধারনত অন্ত্র ফুটো করে বের হবার চেষ্টা করে আর খাদকের তীব্র বমি ও রক্তযুক্ত ডায়রিয়া হয়। চমৎকার না?

দাড়ান আরো ব্যাপার আছে: এই পচা পনিরকে সারডিনিয়াতে খুব দামী খাবার হিসেবে খাওয়া হয় এবং সরকার এটাকে বেআইনী ঘোষনা করেছে। ঠিকই পড়লেন, এটা খাওয়া বেআইনী। দুনিয়াতে আর কোথাও কেউ এই জঘন্য জিনিষ খেতে চাইবেনা আর যেখানে বেআইনি সেখানে এটা দামী দুর্লভ খাবার। পোকাগুলো লাফ দেয়ার কারন কি সুখ নাকি এই দোযখ থেকে মুক্তি পাবার ইচ্ছা তা বলা মুশকিল।

বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা: বাংলাদেশের পনির গুদামে এই জিনিষ আমদানী হয় না কিন্তু অনেকদিন ধরে পরে থেকে পচে যাওয়া পনিরের এই পরিনতি হতে পারে। পনির খাওয়ার সময় মাঝখান থেকে দুটুকরো করে দেখে নেবেন ভেতরের অবস্হা কি।

৩- লুটফিস্ক (Lutefisk)

কোথাকার খাবার: নরওয়ে

জিনিষটা কি: কড মাছকে বহুদিন ধরে ক্ষারীয় দ্রবনে ডুবিয়ে রাখার পর মাছের মাংস যখন নিজেই ক্ষারে পরিনত হয় তখন তাকে লুটফিস্ক বলে। এটা এত ক্ষয়কারী একটা বস্তুতে পরিনত হয় যে রুপার কাটাচামচ দিয়ে খেতে গিয়ে কাটাচামচ গলে যাবার উদাহরন আছে।

দাড়ান আরো ব্যাপার আছে: এই ক্ষারীয় দ্রবন(সোডিয়াম বা পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড) ব্যবহার করা হয় নর্দমা পরিষ্কার, ব্যাটারী ও বায়োডিজেল বানানো, গাছ মারা এই ধরনের কাজে। এর সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক পোড়া, অন্ধ হয়ে যাওয়া, স্হায়ী ক্ষত হতে পারে যদি আপনি লুটফিস্ক মুখে না দিয়ে গায়ে ফেলেন।

বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা: এখনো আসে না। কোনদিন যদি আসে তাহলে ধরে নেবেন দেশের অবস্হা খুব খারাপ।

২- বাচ্চা ইদুরের মদ (Baby Mice Wine)
কোথাকার খাবার: চীন ও কোরিয়া

জিনিষটা কি: লুটফিস্ক বা কাসু মার্যু খাবার পর তেষ্টা পেলে কি খাবেন। বাচ্চা ইদুরের মদ খেয়ে নিন! চীন ও কোরিয়াতে এটা স্বাস্হ্য ভালো করার টনিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চোখ না ফোটা বাচ্চা ইদুরকে জীবিত অবস্হায় ভাত পচানো মদের বোতলে ভরে দেয়া হয়। এরপর গাজন প্রক্রিয়া চলে ডুবে মরা ইদুরসহ মদের।

দাড়ান আরো ব্যাপার আছে: বোতলটা ইদুরের বাচ্চাগুলো সহই আসে। নেশার ঘোরে বোতল থেকে ইদুরসহ মদ গ্লাসে ঢেলে ফেলার পর যখন তা মুখে যাবে তখন শরীরের সব ফুটো দিয়ে বমি বেরিয়ে আসার চান্স থাকে। সারা জীবনের জন্য মদ ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছাও জাগতে পারে।

বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা: বাংলাদেশে ধেনো আর মহুয়া থাকতে এই মদ আসেনা। তবে বার্মা থেকে নতুন নেশার বস্তু হিসেবে এসে পরতে কতক্ষন? কামড় খেয়ে নেশা করার জন্য পোকার সেট বিক্রি হতে পারলে বা টিকটিকি খেয়ে নেশা করতে পারলে এই জিনিষ আকর্ষনীয় লাগতে পারে।

১- বালুট (Balut)

কোথাকার খাবার: ফিলিপাইন

জিনিষটা কি: নাম এত স্বার্থক হতে খুব কম দেখা যায়। বাল দিয়ে শুরু করাই উচিৎ। হাসের ডিমে তা দিতে দেয়া হয় যতক্ষন না ভেতরের বাচ্চাটার ঠোট, পালক, হাড় সব গজিয়ে যায়। তারপর সেটাকে সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। হাড়গোড়সহ কুড়মুড়িয়ে খাওয়ার অপার আনন্দ উপভোগ করেন খাদক।কাম্বোডিয়া, ফিলিপাইন এবং হাবিয়া দোযখে এই খাবার বিক্রি হয়। বিক্রেতারা গরম বালিভর্তি বালতিতে করে এই বাল বিক্রি করেন। বিক্রেতাদের জ্বলন্ত কয়লার মত চোখ, মুলার মত দাত এবং মাথায় শিং থাকার গুজব শোনা যায়।

দাড়ান আরো ব্যাপার আছে: ডিমের একপাশে একটা ছোট ফুটো করে প্রথমে সুড়ুত করে চুমুক দিয়ে রস খেয়ে ফেলার নিয়ম। তারপর হাড়গোড়সহ কুড়মুড়িয়ে খাবেন বাকীটা। পালক বাছার নিয়ম নেই। আর ঘটনার দরকার আছে?

বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা: বাংলাদেশে আসেনা। তবে মাঝেমধ্যে হোটেলে সেদ্ধ ডিমের মাঝে মুরগীর বাচ্চা পাবার ঘটনা শোনা যায়। বাচ্চার দাম চাইতে পারে এই ভয়ে সেটাও খেয়ে নেয়ার একটা পুরোন কৌতুক আছে। তবে এরপর আপনার সংগে এই ঘটনা ঘটলে বাবুর্চির বাড়ী ফিলিপাইন না হাবিয়া দোযখ তা চেক করতে ভুলবেন না।

মূল লিঙ্কঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/choto2007/29346561
বিস্তারিত পড়ুন ... »

৬ নভে, ২০১১

দুনিয়া কাঁপানো ছয় দল

কালো মাণিক পেলে বেশি ভালো খেলতেন, নাকি ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা ?? মিশেল প্লাতিনি তুলনামূলক কতটা এগিয়ে জিনেদিন জিদানের চাইতে, অথবা পিছিয়ে ?? ১৯৭০ এর ব্রাজিল বেশি ভালো, না ১৯৫৪ এর হাঙ্গেরী ?? স্বপ্নের দল হিসেবে ক্রুইফের বার্সেলোনা না সাচ্চির মিলান- কোন দলটি এগিয়ে ?? ... ভিন্ন সময়ের- ভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড় বা দলগুলোর মাঝে তুলনা করা যে তুলনা করা যে শুধু খুব কঠিন, তা নয়। বরং বলা যায়, এটি প্রায় অসম্ভব।

তারপরেও সমর্থকেরা তুলনা করে, প্রাক্তন খেলোয়াড় বা ধারাভাষ্যকারেরা তুলনা করেন- সাংবাদিকেরা দিস্তা দিস্তা কাগজ উড়ান। সর্বকালের সেরা ফুটবল দল কোনটি ?? আরেকটু স্পষ্ট করে প্রশ্নটা করলে, ক্লাব পর্যায়ে সর্বকালের সেরা দল কোনটি ?? প্রশ্নটা এইভাবে করায় ভুরু কুঁচকাতে পারে অনেকে- পালটা প্রশ্ন আসতে পারে; কেন কেবল ক্লাব দল- জাতীয় দল নয় কেন ?? সবিনয়ে জানাই, এই প্রশ্নের কোন যথোপযুক্ত উত্তর দেবার মতো ধৃষ্টতা আমি রাখি না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেখানে
সারা বছর জুড়ে ক্লাব পর্যায়ের ফুটবল ক্যালেন্ডার ব্যস্ত থাকে- সেই সময়ের ফুটবল দর্শক হিসেবে 'সেরা দল' শব্দদ্বয়ের সাথে আমার প্রতি বছর হাতে গোণা কয়েকটা ম্যাচ খেলা জাতীয় দলগুলোকে রাখা মানানসই বলে মনে হয় না।

নানা মত যাচাই বাছাই করে ফুটবল বোদ্ধারা সর্বকালের সেরা দলের ক্ষুদ্রতম তালিকায় তুলে এনেছেন ছয়টি দলকে। এদের মাঝেও পার্থক্য অনেক। কেউ হয়তো সময়ের বিস্তারে অপেক্ষাকৃত বেশি দিন সফল, কেউ হয়তো ট্রফির সংখ্যায় এগিয়ে, কারো আবার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথের ব্যবধানটুকু বিস্তর। তবে এইটুকু নিশ্চিত, এখনো পর্যন্ত সর্বকালের সেরা ক্লাব দল নির্ধারণ করতে হলে প্রতিযোগীদের তালিকায় রাখতে হবে এই ষষ্ঠককেই। এই লেখার আলোচনা তাই সীমাবদ্ধ থাকলো এদের মাঝেই।

রিয়াল মাদ্রিদ (১৯৫৫-৬১)- অপরাজেয় ফুটবল দল

সর্বকালের সেরা ক্লাবদলগুলোর মাঝে যেটি সবচেয়ে প্রাচীনতম, সেটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছিলো ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে। ক্ষুরধার ফুটবল মস্তিষ্কের যে লোকটি শুরু করেছিলেন এই দুনিয়া কাঁপানো দল গঠনের কাজ, দুনিয়াজোড়া ফুটবল ভক্তদের প্রায় প্রত্যেকেই জানেন তার নাম- হয়তো একটু ভিন্নভাবে। হ্যাঁ, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান হোমগ্রাউন্ড স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে সেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ইয়াস্তের নামেই। স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের পর জৌলুস হারিয়ে ফেলে ধুঁকতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জন্যে এই ম্যানেজার ঠিক করলেন নয়া কৌশল- প্রায় আধাশতাব্দী পরে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ যে পথ আবারো অনুসরণ করেছিলেন। অর্থাৎ, রিয়াল মাদ্রিদকে 'নক্ষত্রপুঞ্জ' করে গড়ে তোলা।

সেই লক্ষ্যেই কলম্বিয়ান ক্লাব মিলানোরিস থেকে উড়িয়ে আনা হলো জাদুর কাঠি (নাকি পা ??)ওয়ালা এক আর্জেন্টাইনকে- যার নাম আলফ্রেড ডি স্টেফানো। স্টেফানো এলেন। এলেন ফুটবল ইতিহাসের আরেক মাস্টার ম্যাজেশিয়ান, ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্সের হাঙ্গেরীর প্রণেতা- ফেরেঞ্চ পুসকাস। আরো আছেন ইতিমধ্যেই স্প্যনিশ সংবাদমাধ্যমে 'কান্টাব্রিয়ান সাগরের ঝড়' উপাধি লাভ করা স্ট্রাইকার ফ্রান্সিসকো জেন্টো। বড় নামের মাঝে আরো ছিলেন রক্ষণের মিগুয়েল মুনোজ আর মাঝমাঠের হেক্টর রিয়াল। দল প্রস্তুত, যাদের অস্ত্র- আশ্চর্য সুন্দর ফুটবল; যাদের লক্ষ্য- বিশ্বজয়।

সে এক এমনই বিজয় অভিযান, যার সামনে রীতিমতো উড়ে গেলো বিশ্বের বাকি ফুটবল দলগুলো। ১৯৫৫ থেকে শুরু করে পরের ১১ বছরে ৮ বার স্প্যানিশ লীগের শিরোপা ঘরে তুললো রিয়াল মাদ্রিদ। থেমে রইলো না এখানেই। এখনকার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের পূর্বরুপ ইউরোপিয়ান কাপের প্রথম পাঁচ আসরের পাঁচটিই (১৯৫৬- ১৯৬০) টানা গেলো মাদ্রিদের ট্রফির তাকে। এই দলের স্বর্ণযুগের হাইলাইটস চাইলে ১৯৬০ সালের হ্যাম্পডেন পার্কের ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালের কোন দর্শককে খুঁজে বের করুন। ৭-৩ ব্যবধানে এইন্ট্রাক্ট ফ্র্যাঙ্কফুর্টকে রীতিমতো কাঁদিয়ে ছেড়েছিলো মাদ্রিদ। চার গোল করে পুসকাস হারিয়ে দিয়েছিলেন তিন গোল করা ডি স্টেফানোকে।

ফুটবলীয় সৌন্দর্য বাদ দিয়ে তাই কেবল ট্রফি সংখ্যার হিসাব করলেও, স্টেফানোর রিয়াল মাদ্রিদ বলতে গেলে অনতিক্রম্য।

আয়াক্স (১৯৭০-৭৩)- টোটাল ফুটবলের যাদুকরেরা

'ব্যাটা হয় জিনিয়াস, নয় তো বদ্ধ উন্মাদ !! '- রাইনাস মিশেলের সম্পর্কে এই ধরণের মনোভাব পোষণ করা লোকের সংখ্যা নেহাত কম ছিলো না। ফুটবলের তো নিয়মকানুন কিছু আছে, নাকি ?? ডিফেন্ডার রক্ষণের কাজ করবে, মিডফিল্ডার আক্রমণের বল যোগাবে আর স্ট্রাইকার গোল দেবে- এই তো ফুটবল খেলা। মিলিটারী কায়দায় কোচিং করানো রাইনাস মিশেল এই ধারণাটা পালটে দিলেন, চালু করলেন 'টোটাল ফুটবল' নামের এক কায়দা। সেই কায়দাতেই ভর করে কি না, কে জানে- ১৯৬৯-৭০ এর ডাচ লীগ জিততে কোন সমস্যা হলো না আয়াক্সের। এমনকি, সেই মৌসুমেই ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে অভিজ্ঞ এসি মিলানের মুখোমুখি হলো আয়াক্স। ৪-১ গোলে আয়াক্সকে মোটামুটি অনায়াসে পরাজিত করে দিলো মিলান।

রাইনাস মিশেল ভুল থেকে দ্রুত শিক্ষা নিলেন। নতুন করে ঢেলে সাজালেন আয়াক্সকে। সেই লক্ষ্যেই ডিফেন্ডার রুদ ক্রল আর মিডফিল্ডার গ্যারি মুরেন আয়াক্সের যুব ফুটবল একাডেমী থেকে মূল দলে এলেন। তবুও মিলানের সাথে পরাজিত আয়াক্সের একজন স্ট্রাইকারকে ঘিরেই আবর্তিত হলো দলের যাবতীয় ছক কাটা। তার নাম ইয়োহান ক্রুইফ। পরের তিন বছরে যথাক্রমে প্যান্থিনাইকোস, ইন্টার মিলান আর জুভেন্টাসকে হারিয়ে টানা তিনবার ইউরোপ সেরার মুকুট পড়লো আয়াক্সেরা। এই সময়ে তাদের ট্রফিকেসে আরো উঠলো তিনটা ডাচ লীগ, তিনটা ডাচ কাপ, একটা করে ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও উয়েফা সুপার কাপ। বিশ্ব ফুটবল তখন অবাক বিস্ময়ে দেখছে নতুন এক ফুটবল দর্শনের এই ভয়াল সুন্দর রুপ।

কি ছিলো এই 'টোটাল ফুটবল' ?? ছিলো অফুরন্ত প্রাণশক্তি আর পারষ্পরিক সমঝোতার এক দারুণ মিশ্রণ। প্রজাপতির মতো মাঠময় ছুটে বেড়াতেন আয়াক্সের ফুটবলারেরা, কারো কোন নির্দিষ্ট জায়গা নেই। স্ট্রাইকার যেমন দলের প্র্য়োজনে রক্ষণে নেমে আসছেন- দরকারে আক্রমণে উঠে যাবেন তেমনি ডিফেন্ডার, তার জায়গা দখল করে নেবে কোন মিডফিল্ডার।

রাইনাস মিশেল ১৯৭১এ বার্সেলোনার উদ্দেশ্যে ব্যাগ গোছানোর পরে ক্রুইফেরও বিদায় ঘটলো আয়াক্স থেকে। নতুন কোচ সরে আসলেন এই 'টোটাল ফুটবল' নামের নিয়ম ভাঙ্গা ফুটবল থেকে। ৭৩-৭৪ মৌসুমে ক্রুইফের বার্সেলোনায় চলে যাবার পরেই তাই কার্যত ভেঙ্গে পড়লো আয়াক্সের এই দুর্দমনীয় দলটি. রাইনাস মিশেলকে গত শতাব্দীর সেরা ফুটবল কোচ নির্বাচন করে, ফিফা তাই যেন বিনীত শ্রদ্ধা জানিয়েছিলো এই দলটির প্রতিই। 

লিভারপুল (১৯৭৬-৮২)- আক্রমণাত্বক ফুটবলের শেষ কথা

সারা ক্যারিয়ার "ইউ উইল নেভার ওয়াক এলোন!!" গাইবার পরেও একদিন বিল শ্যাঙ্কলি ওয়াক করলেন, নিজেই। ক্লাব ইতিহাসের তখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল এবং জনপ্রিয় ম্যানেজারের পদত্যাগে হতাশ এনফিল্ডপ্রেমীদের সামনে বিল শ্যাঙ্কলির চাপাচাপিতেই ক্লাবকর্তারা ক্লাবের ভার তুলে দিলেন রবার্ট পেইসলির হাতে। কেউ জানতো না, লিভারপুলের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশটুকু লিখতে চলেছেন এই বব পেইসলিই।

প্রথমে কেভিন কিগান, রে কেনেডিদের নিয়ে; এবং পরে টেরি ম্যাকডারমট, কেনি ডালগ্লিস আর ইয়ান রাশদের মতো তরুণদের নিয়ে বব পেইসলি গড়ে তুললেন এক অজেয় দল। সেই সময়টায় বেকেনবাওয়ার আর জার্ড মুলারের সৌজন্যে ইউরোপ কাঁপাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। বব পেইসলির লিভারপুল ১৯৭৭ সালের ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে হারিয়ে দিলো সেই বায়ার্ণকেই। পেইসলি সেই রাতেই বলেছিলেন ফুটবল ইতিহাসে ঢুঁকে পড়া তার সেই বিখ্যাত উক্তিটি, " এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ওদের হারালাম আমরা। প্রথমবার হারিয়েছিলাম ১৯৪৪- এ !!"

বিস্ময়করভাবে এফ-এ কাপ কখনোই জিততে পারেনি পেইসলি যুগের লিভারপুল। এই সামান্য আক্ষেপটুকু বাদ দিলে প্রাপ্তির ভাঁড়ার প্রায় পূর্ণ বব পেইসলির। তারা জিতেছিলো চারটা ইংলিশ লীগ শিরোপা, তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ানশিপ, তিনবারের ইউরোপিয়ান কাপ, একটা করে উয়েফা কাপ ও উয়েফা সুপার কাপ। [ সমসাময়িক ব্রায়ান হাওয়ার্ড ক্লফ নামের আরেক জিনিয়াস ম্যানেজারের জন্ম না হলে হয়তো প্রাপ্তির খাতাটা আরো বড় হতো বব পেইসলির, কিন্তু সে গল্প আরেকদিন করা যাবে।]

আক্রমণাত্বক ফুটবলের সাথে কখনো আপোস না করা বব পেইসলি বিখ্যাত ছিলেন তার ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্যেও। সবসময়েই তিনি বলতেন, "Football is a beautiful game & should be played in a beautiful way ."। লোকে বলে, পেইসলি কথা রাখতে জানতেন !!

এসি মিলান (১৯৮৮-৯১)- ডাচ ত্রিভুজে বিশ্বজয়ী

সিলভিও বার্লুসকোনি লোকটা টাকার কুমীর, জানেন সবাই। কিন্তু আরিগো সাচ্চি কোচ হিসেবে কেমন ?? 'মিলানকে সাফল্য এনে দেবার মতো হাই-প্রোফাইল কোচ নয়', এই মতটাই শোনা গেলো জোরেশোরে।

টাকা থাকলেই চলে না, দল হয়ে উঠতে হলে দরকার একটা পরিণত ফুটবল মস্তিষ্ক। আরিগো সাচ্চি সাইন করালেন স্পোর্টিং লিসবনের ডিফেন্ডার ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডকে, সাচ্চির হাতের ছোঁয়ায় যিনি জন্ম দিলেন কালজয়ী এক হোল্ডিং মিডফিল্ডারের। প্রজন্মের সেরা কল্পনাশক্তি সম্পন্ন মিডফিল্ডার রুড খুলিতও এই দলের অংশ। সেই সাথে আরো একজন, ইতালিয়ান টিভিতে যার ড্রিবলিংয়ের সাথে তুলনা করে নাকি একবার দেখানো হয়েছিলো ব্যালে নর্তকীদের নাচ; ফন বাস্তেন। বিশ্বজয়ের জন্যে মিলানের এই ডাচ ত্রিভুজ ছিলো যথেষ্টর চাইতেও বেশি। সাথে যোগ করুন রক্ষনভাগের ফ্রাঙ্কো বারেসি, পাওলো মালদিনি আর আলেসান্দ্রো কোস্ত্রাকুর্তার নাম। মিলান রক্ষণ ভাঙ্গার চেয়ে চীনের প্রাচীর গুঁড়ানো স্ট্রাইকারদের জন্যে সহজ।

এই দল নিয়ে সাচ্চির প্রথম বড় সাফল্য এলো প্রথম মৌসুমেই। ম্যারাডোনা যাদুতে বলীয়ান নাপোলিকে পিছনে ফেলে ইতালিয়ান সিরি-আ হলো তাদের। সেই বছরেই ইউরোপিয়ান কাপের সবচেয়ে একতরফা ফাইনালগুলোর একটির জন্ম দিয়ে ৪-০ গোলে স্টুয়া বুখারেস্টকে উড়িয়ে দিলো মিলান। এমনকি পরের বছরেও বেনফিকাকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান কাপ জয় করলো রোজেনারিরা। এই বছরেই ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ফিফা ব্যালন ডি'অর পুরষ্কারের জন্যে মনোনীতদের শীর্ষ তিন ফুটবলার নির্বাচিত হলেন একই ক্লাব থেকে। ক্লাবটি এসি মিলান, খেলোয়াড় তিনজন সেই বাস্তেন-খুলিত-রাইকার্ড।

সাচ্চির প্রস্থানের পরেও মিলানের সাফল্যধারা রইলো অক্ষুণ্ণ। ফ্যাবিও কাপেলোর হাত ধরে মিলান ৯১-৯২ মৌসুমে তারা অপরাজিত রইলো টানা ৫৮ ম্যাচ, ফুটবল ইতিহাসে পরিচিত হলো 'দা ইনভিন্সিবল'  নামে। টানা তৃতীয় বারের মতো ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে উঠে মিলান হেরে গেলো অলিম্পিক মার্সেইয়ের কাছে। এসি মিলানের সুসময় ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এরপরেও অনেকবারই, কিন্তু সাচ্চির সেই ডাচ ত্রিভুজের কল্যাণে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়া ঔজ্জ্বল্য আসেনি আর এরপরের কোন ট্রফিতে।

বার্সেলোনা (১৯৯১-৯৪)- ক্রুইফের স্বপ্নের দল

নিজে খেলেছেন শতাব্দী সেরা কোচ রাইনাস মিশেলের অধীনে, টোটাল ফুটবলের আয়াক্স দলের কান্ডারী হয়ে ছিলেন, ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডের 'ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ' দলের হয়ে বিশ্বের অগণিত ফুটবল সমর্থকের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইয়োহান ক্রুইফের নিজের হৃদয়টা বাঁধা পড়ে গেলো স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার কাছেই। নিজে খেলোয়াড় থাকাকালীন সময়েই এই ক্লাবের জন্যে তরুণ ফুটবলার গড়ে তুলতে ১৯৭৯ সালে সভাপতি জোসেপ নুনেজের কানে তোলেন যুব ফুটবল একাডেমী স্থাপনের প্রস্তাব। গড়ে উঠলো 'লা মেসিয়া'- আজকের দিনের বার্সার খেলোয়াড় তৈরীর কারখানা।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে বার্সার ম্যানেজারের দায়িত্ব নিলেন ক্রুইফ। টানা পাঁচবার লা লীগা জয় করে তখন চিরকালের প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ যোজন যোজন এগিয়ে। ইউরোপের মুকুট তখন সাচ্চির মিলানের মাথায়। ক্রুইফ ডেনমার্ক থেকে উড়িয়ে আনলেন মাইকেল লাউড্রপ নামের স্ট্রাইকারটিকে, নিজের হাতে গড়া একাডেমী থেকে মূল দলে আনলেন জোসেপ গার্ডিওলাকে, প্রজন্মের সবচেয়ে সেরা ডিফেন্ডারদের একজন- রোনাল্ড কোম্যানকে আনলেন বার্সা রক্ষণে। সালিনাস আগেই ছিলেন, পরে এসে যোগ দিলেন রিস্টো স্টয়চকভ। 'স্বপ্নের দল' প্রস্তুত।

টানা চার মৌসুমের লা লীগা শিরোপা এলো এই দলের ট্রফি কেসে। তারা জিতলো উয়েফা কাপ। ক্লাব ইতিহাসের সেরা তখন পর্যন্ত সেরা দিনটি এলো এই দলের হাত ধরেই। ১৯৯২, ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে, ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে। তখন পর্যন্ত অধরা হয়ে থাকা এই শিরোপা আর বার্সেলোনার মাঝে বাঁধা হয়ে ছিলো ইতালির সাম্পাদোরিয়া। রোনাল্ড কোম্যানের বহুদিন মনে রাখার মতো এক ফ্রি-কিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা হলো বার্সেলোনা।

এছাড়াও, তিনটি স্প্যানিশ কাপ সহ মোট এগারোটি শিরোপা চার বছরে ঘরে তুলেছিলো ক্রুইফের বার্সেলোনা। ফলশ্রুতিতে, ক্রুইফ বনে গেলেন ক্লাব ইতিহাসের সেরা ম্যানেজার। ইয়োহান ক্রুইফ তখনো জানতেন না ভবিষ্যতে সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্নে তাকে চ্যালেঞ্জ করে বসবেন তারই শিষ্য জোসেপ গার্ডিওলা!!

বার্সেলোনা (২০০৮-??)- পাসিং ফুটবলের আগ্রাসন

বিশ্বফুটবলে ২০০৬ সালে শেষ হলো রোনালদিনহো রাজত্ব। বলতে গেলে একক চেষ্টায় বার্সাকে লা লীগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ এনে দেয়া রোনির বিদায়ের পর লা লীগার মুকুট চলে গেলো রিয়াল মাদ্রিদের হাতে। বিদায় নিলেন ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড, যার রেখে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণ করতে ইয়োহান ক্রুইফের পরামর্শে ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিলেন সাবেক বার্সা মিডফিল্ডার পেপ গার্ডিওলাকে।

নিজেদের একাডেমী লা-মেসিয়া থেকে মূল দলে ততদিনে সদ্য নিয়মিত হয়েছেন মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা আর লিওনেল মেসি। পেপ গার্ডিওলা একাদশে নয়া সংযোজন হলেন পেদ্রো রড্রিগুয়েজ আর সার্জিও বুস্কেটস। জেরার্ড পিকে আর দানি আলভেজকেও ন্যু ক্যাম্পে আনলেন পেপ। দলে আগে থেকেই রয়েছেন বহু যুদ্ধের যোদ্ধা কার্লোস পুয়োল আর জাভি হার্নান্দেজ। দাঁড়িয়ে গেলো পেপ গার্ডিওলার দল।

প্রথম মৌসুমে মাঠে নেমেই ইতিহাস গড়লেন পেপ। এক মৌসুমে সম্ভাব্য যে ছয়টি শিরোপা জেতা সম্ভব, সে ছয়টিই (লা লীগা, কোপা ডেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়স লীগ) জিতে নিলো বার্সেলোনা। এর আগে এই কীর্তি করে দেখাতে পারেনি কোন ক্লাবই। পরের দুই মৌসুমে আরো দুইবার লা লীগা, একবার করে স্প্যানিশ সুপার কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতে নেয়ায় গার্ডিওলার অর্জিত ট্রফি সংখ্যা এখনো পর্যন্ত দশ।

গার্ডিওলার বার্সেলোনার খেলবার ধরণটা নেহাতই সরল। পাস, পাস এবং পাস। বল পায়ে রেখেই প্রতিপক্ষকে আক্রমণে ব্যস্ত করে গোলমুখ খুলে দেয়া। ক্লাব ফুটবলের কিংবদন্তী ম্যানেজার স্যার এলেক্স ফার্গুসন তো ২০১১ ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে পরাজয়ের পর বলেই বসলেন, তার ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি এই দলের চেয়ে ভালো কোন দলের বিপক্ষে খেলেন নি।

তারমানে সাচ্চির মিলান কি ক্রুইফের বার্সেলোনার চেয়ে এই বার্সা এগিয়ে ?? মৃদুভাষী ম্যানেজার পেপ বলেন, 'আমরা জানি না আমরাই সর্বকালের সেরা দল কি না। তবে আজ থেকে ১০-১৫ বছর লোকে যদি আমাদের মনে রাখে; তবে সেটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।'

*******  *******   ********

সর্বকালের সেরা ছয়টি ক্লাব দলের সম্পর্কে এই হলো অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা। সন্দেহাতীত ভাবেই, কে সেরা তা নির্ণয় বলতে গেলে অসাধ্য।

এর বাইরেও কথা থাকে। ফুটবল দর্শকের নিজস্ব পছন্দ-ধরণ-দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী আরো অনেক দলই হতে পারে সেরা। সেটি হতে পারে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নক্ষত্রপুঞ্জ রিয়াল মাদ্রিদ, অথবা ১৯৯৯ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অথবা থিয়েরে অঁরি যুগের আর্সেনাল। কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের আরো অন্য যে কোন দল।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। আক্রমণাত্বক ফুটবলের সাথে সাফল্যের কোন বিরোধ নেই। বর্ণিত ছয়টি দলের কেউই আক্রমণাত্বক-দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের সাথে আপোষ করেনি। তারা সফল হয়েছে কি না, এর জবাব ইতিহাসই দেবে, দিচ্ছে। তারপরেও পেশাদারিত্বের এই যুগে আর্সেন ওয়েঙ্গারদের মতো ম্যানেজারেরা কমে যাচ্ছেন- আক্ষেপ এইটাই।

মূল লিঙ্কঃ http://shuhanrizwan.blogspot.com/2011/08/blog-post.html
বিস্তারিত পড়ুন ... »

জাগোর ইতিহাস, একটি ব্লগ এবং তার জবাব

This is a reply to this blog post: http://www.somewhereinblog.net/blog/engla/29477684 

গত ৩রা নভেম্বর বিশ্ব শিশু দিবস বা Universal Children's Day উপলক্ষে জাগো ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে একটি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। শুধু এবারই নয়, গত তিন বছর ধরেই এটা তারা এটা আয়োজন করে আসছে। সামনে কিছু বলার আগে জাগো সম্পর্কে একটু ধারনা দিয়ে দেই। সংক্ষেপে বলা যায় জাগো হচ্ছে পথশিশু/সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটা ফ্রী স্কুল যেখানে শুধু ফ্রী শিক্ষা দানই করা হয়না, তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ছাড়াও ফ্রি চিকিৎসা, নিয়মিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা, ইউনিফর্ম, ইউনিফর্ম পরিস্কার রাখার জন্য সাবান, সুস্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টিকর খাবার, পেস্ট, ব্রাশ ইত্যাদির ব্যবস্থাও করা হয়। এমনকি জাগোর শিক্ষার্থীদের মা-বাবাদের জন্য কাজের সুযোগও তৈরি করে দেয়া হয়। সে ব্যাপারে বিস্তারিত একটু পরে জানাচ্ছি। তবে তার আগে আবার সেই ইভেন্টের কথায় আসা যাক, এদিন তিন হাজারেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশু যারা পথে পত্রিকা, ফুল ইত্যাদি বিক্রি করে তাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়। ফ্রী রাইডসহ তাদের টি শার্ট, সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা তো করা হয়ই সাথে তাদের আনন্দের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। নিঃসন্দেহে পুরো দিনটিই তাদের আনন্দে কাটে। আর তাদের জায়গায়  দশটি জেলায় পথে নামে সাত হাজার জাগোর ভলান্টিয়ার। তারা সেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মতই পথে পথে ফুল ও পেপার বিক্রি করে ফান্ড কালেক্ট করে যেই ফান্ড সেই সুবিধাবঞ্চিত শিশু, তাদের পরিবার এবং জাগো স্কুলের কাজেই ব্যবহার করা হবে । সারাবছরই জাগো এমন ইনোভেটিভ কিছু ইভেন্টের মাধ্যমে ফাণ্ড কালেক্ট করে থাকে।
কিন্তু ইভেন্টটা শেষ হতে না হতেই কিছু ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে
কিছু মানুষ এমন মহৎ একটা উদ্যোগের বিরুদ্ধেও কথা বলতে শুরু করে। আর হুজুগে বাঙালির মত সঠিক তথ্য না জেনে আমাদর মতই অনেকে এসব পোস্ট শেয়ার করছে। সাধারনত সমালোচনা করা ছাড়া এসব মানুষের কোন কাজ থাকেনা। সঠিক তথ্য জানার কোন ইচ্ছাই তাদের নাই, সমালোচনা করতে পারলেই  যেন তারা পরম আনন্দ পান। আর সঠিক তথ্য জানবেনই বা কী করে, ঘরে পিসিতে বসে নেট থেকেই কিছু ছবি কালেক্ট করে এসব ফাকা বুলি উড়ানোর মাঝেই তাদের সীমাবদ্ধতা। যে বা যারা এসব লিখছে তাদের সবাই বাইরে নেমে প্রতক্ষ্যভাবে ভলান্টিয়ারদের কাজ করতে দেখেছে কিনা সেটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যাই হোক, এই ব্লগ পোস্টটার জবাব দেয়ার জন্যই আমার এই নোটটা লেখা।
এজন্য প্রথমেই জাগোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দিয়ে শুরু করি, আশা করি পুরো ইতিহাস জানার পর একটু হলেও আপনাদের বোধদয় হবে। আমাদের মতই একজন তরুণের ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকেই জাগো ফাউন্ডেশন এর শুরু, সেই তরুণের নাম Korvi Rakshand। একজনের ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে যে কত বড় কিছু হতে পারে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই জাগোই। মাত্র সাতজন ভলান্টিয়ার ও সতের জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিয়ে জাগোর পথচলা শুরু। বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহায়তায় রায়েরবাজারে জাগো স্কুলের প্রথম ভবনটা গড়ে তোলা হয়, সেটা রং ও করা হয় এবং একটা পূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এভাবে সবার সহায়তায় শিক্ষার্থীদের ফ্রী শিক্ষা উপকরণও দেয়া হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, অনেকেই সহয়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। এমনি করে একজন ব্যক্তি  একদিন বেশ ভালো এ্যামাউন্টের টাকা ডোনেট করে। যেহেতু স্কুল ভবনও হয়ে গেছে এবং সব শিক্ষা উপকরণেরও ব্যবস্থাও করা হয়ে গেছে তাই সেই টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্মের ব্যবস্থা করা হলো। নতুন ইউনিফর্ম পেয়ে সব বাচ্চাসহ জাগো টিমের সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু সপ্তাহখানেক পড়ই তা অনেকটাই মলিন হয়ে যায় কারন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নোংরা ইউনিফর্ম পরে আসতে শুরু করে। বাচ্চাদের সাথে কথা বলে জানা যায় ওরা দু বেলা ঠিকমত ভাতই খেতে পারেনা, ইউনিফর্ম পরিস্কার রাখার সাবান কোথায় পাবে? এই সমস্যার সমাধানে ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায়ই বাচ্চাদের ইউনিফর্ম পরিস্কার রাখার জন্য সাবানের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর থেকে ওদের নিয়মিত সাবান দেয়া হয়।
জাগোর কার্যক্রম ভালোই চলতে থাকে, এভাবে একটা বছর কেটে যায়। কিন্তু নতুন বছর শুরুর পর নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। গত বছরের চল্লিশ জন শিক্ষার্থী থেকে কমে প্রায় বিশ জনে নেমে আসে অর্থাৎ প্রায় ৫০% শিক্ষার্থী হারিয়ে যায়। ওদের জন্য এতকিছু করার পরও এত কম বাচ্চাদের দেখে স্বাভাবিকভাবেই জাগো টিমের মন খারাপ হয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের অনেককেই আর খুজে পাওয়া যায়নি। জাগো টিম অনুসন্ধান করে জানতে পারে এসব বাচ্চাদের বেশিরভাগ অভিভাবকই বাসায় কাজ করে কিংবা রিক্সা চালায়। কাজ হারালে কাজের সন্ধানে এরা শহরের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তখন প্রতিটা এলাকায় জাগোর স্কুল খোলা সম্ভব ছিলনা তাই  বাচ্চাদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের নিয়েও জাগো টিমকে ভাবতে হলো। ভলান্টিয়ার ও ডোনেটরদের সাহায্যেই সেলাই মেশিন কিনে একটা ট্রেনিং সেন্টার চালু করা হয়, সেখানে বাচ্চাদের মায়েদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শুরু হলো জাগোর আরেকটা নতুন প্রোজেক্ট। সেই ট্রেনিং সেন্টারটাই এখন একটা বড় ফ্যাশন হাউজে পরিণত হয়েছে যার নাম হলো "বাচ্চারা" । যেহেতু বাচ্চাদের জন্য বাচ্চাদের অভিভাবকরাই এখানে কাজ করছে তাই এর নামও দেয়া হয়েছে বাচ্চারা। এখানে তৈরি পোষাক এখন বিদেশেও রপ্তানি করা হয় ! এরপর থেকে বাচ্চারা আরো স্থায়ী হতে থাকলো।
তবুও ছোটখাটো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের অভিভাবক চোখে ভালো দেখতে পারেনা, এজন্য সুই সুতার কাজ করতে তাদের সমস্যা হয়। এবার জাগো টিমকে আবারো ভাবতে হলো। সেই ভাবনা থেকেই জাগো হাতে নিল আরেকটা প্রোজেক্ট। এমনই সব অভিভাবকদের নিয়ে চালু করা হলো একটি মোমবাতির কারখানা। জাগো স্কুলের বাচ্চাদের মা-বাবারাই এখানে কাজ করে। এর ফলে মোটামুটি অনেক বাচ্চাই স্কুলে স্থায়ী হতে শুরু করে, এভাবেই দিন কাটতে থাকে।
কিন্তু তারপরও অনেকে অনিয়মিত হতে থাকে। বাচ্চাদের অনেকেই প্রায়ই অসুস্থ্য হয়ে পড়তো এজন্য স্কুলে আসতে পারতোনা। ওষুধ কেনা তো দূরের কথা ওদের ডাক্তার দেখানোরও সামর্থ্য নেই। এবার এই সমস্যার সমাধানে শুরু হয় "জাগো ফার্স্ট এইড সেন্টার" । এখানে নিয়মিত একজন ডাক্তার বসেন যিনি জাগোর সকল শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। তাছাড়া গরিবদের জন্য এখানে সকল প্রকার ওষুধ এখানে ৭% ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়। পরবর্তিতে এলাকাবাসীর অনুরোধে জাগো ফার্স্ট এইড সেন্টার সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এখন শুধু জাগোর শিক্ষার্থীই নয়, এলাকার যেকোন গরিব/নিম্নবিত্ত পরিবার রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে জাগো ফার্স্ট এইড এর সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারে। তাছাড়া বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করত এখন সপ্তাহে একদিন ওদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয় এবং পেস্ট ও ব্রাশও বিতরণ করা হয়।
এরপর শুরু হয় জাগোর ইনোভেটিভ কার্যক্রম শুরু হয়। শুধু জাগো স্কুলের বাচ্চাদের কেন, সব পথশিশুদের জন্য একদিনের জন্য হলেও যদি কিছু করা যেত তাহলে কেমন হয় ? সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় জাগোর বিশ্ব শিশু দিবসের কার্যক্রম। UN সমর্থিত Universal Children's Day বা বিশ্ব শিশু দিবসের দিনটিতে রাস্তায় কাজ করে খেটে খাওয়া সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের ছুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাগো। বিভিন্ন এলাকায় পথশিশুদের এই ব্যাপারে জানানোর পরই ওদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে কিন্তু একটু পরেই আবার ওদের মন খারাপ হয়ে যায়। কারন ওরা ছুটিতে গেলে ওদের কাজ কারা করবে  কারা এবং পরবর্তি দিন ওরা কী দিয়ে খাবে সেই চিন্তা ওদের পেয়ে বসে। খোজ নিয়ে জানা যায় প্রতিটা এলাকাতেই একজন মহাজন বা Godfather থাকে, তার Under এই এসব পথশিশু কাজ করে ঠিক Slumdog Millionaire এর মত। এখন ওদের নেয়ার জন্য সেইসব মহাজনদের ম্যানেজ করতে হলো, তাদের সাথে আলোচনায় বসতে হলো, আলোচনার পর এসব মহাজনদের টাকাও দেয়া হলো এবং সেসব পথশিশুদের দুশ্চিন্তামুক্ত করতে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো ওদের বদলে জাগোর ভলান্টিয়াররা সেই দিনটা রাস্তায় নামবে। ওদের মতই রাস্তায় ফুল বিক্রি করবে। যে টাকা আসবে সেই টাকা এসব সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্যই ব্যবহার করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকঠিকই পথশিশুদের একটা দিন ছুটি দেয়া হয়, ওদের ফ্যান্টাসি কিংডমে নিয়ে যাওয়া হয়, আর তাদের পরিবর্তে জাগোর ভলান্টিয়াররা পথে নামে। প্রথমবার ১০০০ জন পথশিশুর বদলে ১০০০ জন ভলান্টিয়ার পথে নামে। দুই বছর সফলভাবে আয়োজন করার পর এবছর ১০ টি জেলার ৩০০০ পথশিশুকে ওয়ান্ডারল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয় আর এই ৩০০০ জন পথশিশুর পরিবর্তে আমরা মাঠে নেমেছি ৭০০০ ভলান্টিয়ার ! ৭ জন ভলান্টিয়ার দিয়ে শুরু হবার পর সেটা এখন ৭০০০ এ গিয়ে দাড়িয়েছে, জাগো কতটা সফল সেটা বোঝানোর জন্য এতটুকুই যথেস্ট। আর এসব ভলান্টিয়ার স্বেচ্ছায়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, কেউ আমাদের জোর করেনি। আর শেষবারের মত আবারো বলছি আমরা ভলান্টিয়াররা যে টাকা কালেক্ট করি সেটা এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যই ব্যবহার করা হয়।
আর জাগোর আরেকটা প্রজেক্ট আছে। যে কেউ চাইলে জাগোর একজন শিক্ষার্থীকে Sponsor করতে পারে। মাসে মাত্র ১০০০ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা দিয়ে ওই বাচ্চাটার এক মাসে যা কিছু লাগে, শিক্ষা উপকরণ, চাল, বই, খাতা, কলম সবকিছু দেয়া হয়। বাচ্চাটি যতটা ক্লাসে উপস্থিত থাকবে প্রতিটা ক্লাসেই জন্যই তাকে আধা কেজি করে চাল দেয়া হয়।তাছাড়া শীতকালে সব বাচ্চাদেরই সোয়েটার ও কম্বল দেয়া হয়।
পথশিশুদের জন্য যারা এত কাজ করছে, এত সব অভিনব আইডিয়া বের করছে, এত কষ্ট করছে, তাদের নিয়ে এখনো কী আপনাদের সন্দেহ হচ্ছে ? এখনো কী আপনাদের মনে হয় জাগো ফাউন্ডেশন শুধু "শো-অফ"  করা ছাড়া কিছুইনা ? আপনাদের জেনে রাখা ভাল জাগো ও জাগোর ভলান্টিয়াররা শুধু একটা দিনের জন্যই কাজ করেনা, সারা বছরই করে। আর আরেকটা কথা পরিস্কারভাবে বলে রাখা ভাল পুরো জাগো ও জাগো স্কুলের কার্যক্রমই চলছে আমাদের মত ভলান্টিয়ার এবং ডোনেটরদে সহায়তার মাধ্যমেই। সবার সহযোগিতায় এখন জাগোর তিনটি স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে, এমনকি বাচ্চাদের জন্য কম্পিউটার ল্যাবেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি শনিবার বাচ্চাদের জন্য খেলাধুলারও ব্যবস্থা করা হয়, এজন্য স্কুলে Sports Teacher ও রয়েছে। হয়তো এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝ থেকেই বেরিয়ে আসবে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার !
এভাবেই চলছে জাগোর পথচলা। তবে সবকিছুরই ভাল খারাপ দুই দিকই আছে কিন্তু সেটা কোন ব্যাপার না। আসল ব্যাপার হলো লোক দেখানোর পরিবর্তে যদি মন থেকে পথ শিশুদের সাহায্যার্থে  কেউ পাচটা মিনিটও কাজ করে তাহলেই সেটা ভাল। আর সেখানে তো জাগো সারাবছরই ওদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে ! আর পুরো ইতিহাস জানানোর পরও কী আপনাদের মনে হয় আমরা মন থেকে কাজ করছিনা ? যদি কারো মনে হয় তাহলে আপনি আমাদের এসে শিখিয়ে দিন কীভাবে মন থেকে কাজ করতে হয়। জাগোর ইতিহাস তো জানানো হলো এবার সেই ব্লগ পোস্টের প্রতিটা পয়েন্টের জবাব দিচ্ছি। পোস্টটার লেখক যেভাবে পয়েন্ট করে দিয়েছেন আমিও সেভাবেই দিচ্ছি:
পয়েন্টগুলোর উত্তর দেয়ার আগে জানিয়ে দেই আপনার শিরোনামেই ভুল ! আপনি লিখেছেন "ইংলিশ মিডিয়াম ছেলেমেয়েদের অ্যাডভেনচার", একটু ভালোমত খোজ নিয়ে দেখেন, বাংলা মিডিয়ামে পরা ছেলেমেয়েদের সংখ্যা কোন অংশে কম ছিলনা ! যাই হোক এবার শুরু করা যাক।
১) সেই ব্লগপোস্টের লেখক বলেছেন. "আপনি এদের কখনও যাত্রাবাড়ী, মৌচাক, বাড্ডা, সায়দাবাদের মত খারাপ এরিয়াতে দেখবেন না। এদের সবসময় গুলশান-উত্তরা-বনানী-ধানমন্ডির সিগানালে দেখা যায়।"
জবাব: এই পয়েন্টের জবাব হৃদয় ভাইয়াই দিয়ে দিয়েছে: ফুল বিক্রি অনেকটাই সিম্বলিক অর্থে এটা কেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে হবে কে জানে! কেউ কেউ হয়তো ১টা ফুল ৫ টাকায় না কিনে ৫০০ টাকায় কিনবে এর উদ্দেশ্য জেনে। আর  এজন্যেই ভলান্টিয়ারদের সংখ্যা গুলশান বনানীতে বেশি। এখন মৌচাকের সামনে দাঁড়ায় থাকলে কে দিবে একটা ফুলের জন্যে ৫০০ টাকা?
আর আপনাদের জানিয়ে রাখা ভাল গতবার একটা ফুল ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল এবং গাড়িতে থাকা একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাদের নতুন জেনারেশনের মুক্তিযোদ্ধা বলে তার কাছে যত  টাকা ছিল সব দিয়ে দিয়েছিল। আর এবার তো ভলান্টিয়াররা মিরপুরের মত মধ্য ও নিম্নবিত্তদের এলাকাতেও কাজ করলাম, এখন কী বলবেন আপনি ? 

২) তিনি বলেছেস, "এরা সিগনালের পিচ্চিদের পার্কে ঘুরাতে নিয়ে যায় বিনিময়ে ওদের ফুল/পপকর্নগুলা নিজেরা বিক্রি করে। ওদের দাবী এভাবে নাকি সমাজকে "জাগানো" যায় এসব শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে। আমার মনে হয় না রাস্তায় এভাবে হলুদ গেন্জি পড়ে ফুল বেচলে আসলেই এই শিশুগুলার কষ্ট বুঝা যাবে!"
জবাব: আপনার এই পয়েন্টের উত্তর উপরে জাগোর ইতিহাসের মধ্যেই দেয়া হয়ে গেছে। তবুও আবারো দিচ্ছি। ফুল বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় সেটা সেসব পথশিশুদের জন্যই ব্যয় করা হয়, আমরা শুধু শুধু ফুল বেচতে পথে নামিনা, ওদের জন্যই নামি। আর এভাবে একটা দিন ওদের মত পথে নেমে সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজ করলে যে আসলেই  ওদের কষ্টটা বোঝা যায় সেটা শুধু যারা করেছে তারাই বলতে পারবে। মনে তো হয়না আপনি করেছেন, আপনাদের মত মানুষের করার কথাও না। আপনাদের কাজই তো হলো শুধু বাসায় বসে ল্যাপটপ সামনে নিয়ে বড় বড় কথার বুলি আওড়ানো। পথে নেমে রোদে পুরে সারাদিন কাজ করার সামর্থ্যও আছে কিনা সন্দেহ। আর ফুল বিক্রি করে ফান্ড কালেক্ট করাটাকে যে তাচ্ছিল্য করলেন তাহলে বলুন তো আপনি ব্লগ লিখে "অমুক" কে বাঁচানোর জন্যে ফান্ড কালেক্ট করতে পারলে পথশিশুদের জন্য ফুল বিক্রি করে কেন করা যাবে না? 

৩) তিনি বলেছেন, "ফেসবুকে একজনের কমেন্ট: এক ভলেনটিয়ার আইসা বলে, ভাইয়া ডোনেট করছেন? পোলা কয়, এই ডোনেশনের টাকা কই যায়? ভলেন্টিয়ার কয়: তাতো জানি না!"
জবাব: আমার সন্দেহ হচ্ছে এই পয়েন্টটা লেখার সময় লেখক সৎ ছিল কিনা ! হয় উনি এটা বানিয়ে লিখেছেন নাহয় যে ভলান্টিয়ারের কথা বলা হয়েছে সে জাগোর ওয়ার্কশপে আসেনি। কারন আমাদের কাজ করার আগে একটা ওয়ার্কশপে পুরো জাগো সম্পর্কে ধারনা দিয়ে দেয়া হয়েছে, ওদের কার্যক্রম সম্পর্কে সবকিছু বলা হয়েছে। এই টাকা কই যায় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। উন্মুক্ত প্রশ্নের-উত্তর পর্বও হয়েছে। এগুলো আমাদের আগেই জানানো হয়েছে যাতে পথে পথে ডোনেশন কালেক্ট করার সময় কেউ প্রশ্ন করলে আমরা সেগুলোর উত্তর দিতে পারি। তবুও সেই ভলান্টিয়ার যদি এমন বলে থাকে তাহলে সত্যিই দুঃখজনক। আর এই টাকা কই যায় সেই সম্পর্কে পুরো বিস্তারিত তো জাগোর ইতিহাসের মাঝেই লিখে দিয়েছি। তবুও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে সরসরি জাগোর ওয়েবসাইটের এই লিংক এ যেয়ে করতে পারেন: http://jaago.com.bd/who-we-are/frequently-asked-questions.html
এরপরও আপনার কিছু বলার আছে ? 

৪)  তিনি বলেছেন, "আমি ধানমন্ডির মেট্রো প্লাজার সামনে একটা মিনি ট্রাক দেখলাম। ট্রাকের অর্ধেক প্যাকেট করা খাবার আর বাকি অর্ধেকের মত কোল্ড ড্রিংকস দিয়া ভর্তি। ট্রাকে ২ জন হলুদ গেন্জি দাড়ায় আছে। মনে হয় এগুলা ওদের দুপুরের লান্চ। এরকম লান্চ গাড়ি ঢাকায় আরো কয়েকটা থাকার কথা! আমি ভাবতেছিলাম, এত গুলা টাকায় হয়তো আরো ৫০ জন বাচ্চার একমাস চলে যেতো!!"
জবাব: আপনার এই পয়েন্টটা ছিল সবচেয়ে বেশি হাস্যকর আর অযৌক্তিক  পয়েন্ট বাড়ানোর জন্য আর কিছু পাইলেন না মিয়া ! এটার জবাবও হৃদয় ভাইয়া খুব সুন্দরমত দিয়ে দিয়েছেন: আপনারা কি জানেন প্রতিটা ভলান্টিয়ারকে একটা ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশান করতে হয় তাদের এই খাবার আর টি-শার্ট ও আনুসাঙ্গিক খরচের জন্যে? অর্থাৎ তারা নিজের পয়সাতেই খাচ্ছে এবং রাস্তায় ঘুরে ফুল না বেচলেও তারা না খেয়ে থাকতো না, এবং এই টাকাটাও সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা পেত না। সঠিক তথ্য না জেনে এত কথা বলেন কেন ভাই ? নিজেকে বোকা প্রমাণ করার চেয়ে চুপ থাকাই কী ভালো না ? আর আমরা যতটুকু খাবার পেয়েছি তার থেকে অনেক গুণ বেশি খাবার এবং সুস্বাদু খাবার ওইদিন ওয়ান্ডারল্যান্ডে যাওয়া ৩০০০ সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের দেয়া হয়। তারপরও কী আপনি এই ব্যাপারে কিছু বলবেন ?

৫) তিনি বলেছেন, "প্রতি ৭/৮ জন গ্রুপের সাথে একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা ম্যান থাকে। যেই এক মেয়ে/ছেলে ফুল বেচতে যায় সেটা ক্যামেরা বন্দী করে রাখা হয়!!"
জবাব: আজব ব্যাপার তো ! আমরা যা করি তাতেই কী আপনাদের সমস্যা? ছবি তুললেও আপনাদের সমস্যা ?? এদিন বিভিন্ন সাংবাদিকরা এসে ছবি তুলেছে। আমরা ভলান্টিয়াররা নিজেরাও ছবি তুলেছি স্মৃতি রেখে দেয়ার জন্য। তাই বলে প্রতিটা গাড়ি কিংবা মানুষের কাছে যাওয়া মাত্রই ছবি তোলা হয়নি। আপনি এমনভাবে বললেন যেন প্রতিটা মূহুর্তের ছবি তোলা হয়েছে ! কমন সেন্স  এর অধিকারী যে কেউ বুঝতে পারবে যে এই লাইনটা বানিয়ে লেখা। আমরা সেখানে কাজ করতে গিয়েছি, ছবি তুলতে না। শুধু মাত্র কিছু মূহুর্তেরই ছবি তোলা হয়েছে আর আমরা ভলান্টিয়াররা নিজেরাই তুলেছি দিনটা স্মরণীয় করে রাখতে। আরেকটা তথ্য আমাকে জানিয়ে দেই যে ফটোগ্রাফী গ্রুপ টিটিএল এই ইভেন্টে জাগো'র সাথে কাজ করেছে। আর তারা ভলান্টিয়ার হিসেবেই কাজ করেছে নিজ থেকেই। আরো প্রশ্ন আছে আপনার ?

৬) তিনি বলেছেন, "আরেকজনের ফেসবুক স্ট্যাটাস: Some girls in yellow came up to me and said they were selling flowers "for poverty" (in shaky Banglish). I told them that I don't support poverty! Learn Bangla, you English medium douche bags!"
জবাব: আবারো বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়াম নিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করার একটা চেষ্টা। এই পয়েন্টে যে ঘটনাটা বলা হয়েছে সেটা আসলেই ঘটেছে কিনা জানিনা তবুও ধরে নিলাম মেয়েগুলো বাংলা ঠিকমত জানতোনা। তাই বলে কী আপনারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নেয়া এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে কথা বলবেন ? আর ওরা বাংলা ঠিকমত জানেনা মানলাম, কিন্তু ওরা তো পথশিশুদের ভালোর জন্যই মাঠে নেমেছিল। একটু ভাল ব্যবহার কী করা যেত না এজন্য ? ভলান্টিয়ার বাংলা জানেনা দেখে সুবিধাবঞ্চিতদের সাহায্য করবোনা ! কী সুন্দর লজিক ! হাসি পাইলো !  আগে নিজেদের স্বভাব বদলান, ভালো ব্যবহার করতে শিখেন, আর ইংলিশ মিডিয়াম পোলাপানদের যদি আপনার অতি উচু মাত্রার আধুনিক বলে মনে হয় তাইলে আপনার নিজের স্ট্যান্ডার্ডেই প্রব্লেম আছে। আগে নিজের স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করেন। হৃদয় ভাইয়ার আরেকটা কথাও এখানে তুলে ধরলাম: ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া বা "পাঙ্কু" হলে ভলান্টিয়ারী করা যেন পাপ হয়ে যায় ! আনন্দ খুঁজে নিয়ে একটা কাজ করাটাও দোষের?!
(উল্লেখ্য আমি নিজেও ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র না, আমি বাংলা মিডিয়ামেই পড়ি।)

৭) তিনি বলেছেন, "ওদের নেক্সট প্ল্যান নাকি শহরগুলাকে হলুদ রং করা। হয়তো এভাবে পোভার্টী ড়িমুভ ক্ষরা যায়। কে জানে?!! আমি ভাই বাংলা মিডিয়ামের মূর্খ! এতকিছু বুঝি না!"
জবাব: পুরাই লুল ! আপনার লেখা কথাবার্তা দেখে তো মনে হইতেসে নিজের সম্পর্কে খুব ভালই ধারনা আছে (বাংলা মিডিয়ামের. . . . .) আপনার। যাই হোক, যেহেতু আপনি কিছুই বুঝেন না সেহেতু আপনাকে বাচ্চাদের মত সবই বুঝায়ে দেয়া লাগবে। এইটা কোন নেক্সট প্ল্যান না, এইটা একটা প্রতিকী বাক্য। হলুদ রং করা বলতে এখানে জাগো কে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করা হয়েছে। ভলান্টিয়াররা দেশের সবগুলো জেলায় ছড়িয়ে যাবে, একদিন সবগুলো জেলায় জাগোর স্কুল গড়ে তোলা হবে, সেখানে সব সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা বিনামূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সবধরনের সেবা পাবে, সেই কথা দিয়ে এমন স্বপ্নের কথাই বুঝানো হয়েছে।

৮) তিনি বলেছেন, "বেশিরভাগ মানুষ বলে এরা নাকি টাকা মারে। আমার এক ফ্রেন্ড এদের সাথে কাজ করছে কয়েক মাস। সে আইসা বলে, তোরা যেই টাকা দেস, সেটার একটা বিরাট অংশ আমাগো বোতলের পিছে যায়গা! আর বাকি কিছু অংশ (এটার পরিমানও কম না!!) দিয়া একটা ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করি বাচ্চাদের নিয়া।"
জবাব: হাহাহা! হাসি পাইলো ! ভাই আপনার ভাষাতেই তো ভলান্টিয়াররা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া বড়লোকদের পোলাপান। যদি এমনি হয়ে থাকে তাইলে তারা কোন দুঃখে সেই টাকা মারতে যাবে ?? তাদের তো টাকার অভাব নাই, কেন এই সুবিধাবঞ্চিতদের টাকা মারতে যাবে ? কেনই বা টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে কষ্ট করে মাঠে নামবে ? সারাদিন কাজ করলাম কিন্তু একটা ভলান্টিয়ারকেও দেখলামনা টাকা মারতে। উল্টো অনেক ভলান্টিয়ার নিজের মানিব্যাগের টাকাটাও ফুল দিয়ে পাওয়া টাকার সাথে মিলিয়ে দিয়ে দিয়েছে। ৩ নম্বর পয়েন্টে বলেছিলাম আপনি লেখার সময় সৎ ছিলেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। এবার পুরো নিশ্চিৎ হলাম। তবুও যদি সে এমনটা বলে থাকে তাহলে আপনার যে বন্ধু একথা বলেছে জাগো কর্তৃপক্ষের কাছে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করুন। একজন চোরকে আড়ালে রেখে আপনি কেন বাকিদের চুরির দায় দিবেন? আর জেনে শুনে কেনই বা একজন চোরের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখেন ?

৯) আর সবশেষে তিনি লিখেছেন, "তবে ছেলেবুড়ো সবাই একমতে স্বীকার করবে জাগোর মেয়ে ভলেন্টিয়ার গুলা কিরকম জোস!! টিশার্ট আর টাইট জিন্স পড়া এসব ফর্সা চামড়ার মেয়াগুলা দেখলে মাথা নষ্ট হতে বাধ্য! কে জানে, হয়তো ফর্সা রং বেশি করে চান্দা তুলতে সহায়ক ;)"
জবাব: এই পয়েন্টটা পড়লেই বুঝা যায় ওই পোস্টের লেখক কী পরিমাণ নিচু মানসিকতার মানুষ, অর্থাৎ "থার্ড ক্লাস" বলতে যা বুঝায় আর কী ! যাই হোক, তার চরিত্রের দিকে আর না যাই। এর জবাব দিতে Pavel Mohitul Alam ভাইয়ার স্ট্যাটাসটা দিয়েই আমি আমার নোটটা শেষ করছি:
JAAGO'র আজকের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্লগ-ফেসবুকে যারা লেখালেখি করেতেসে, স্পষ্টতই তাদের গা জ্বলার মূল কারণ হইলো টি-শার্ট-জিন্স পরা মেয়েগুলো। আজকের কার্যক্রমে যদি মেয়েরা অংশ না নিত, শুধু ছেলেরা ফুল বিক্রি করতো, তাহলে অনেকেই এত কথা বলতো না। যেকোন ইস্যুতেই মেয়েদের 'আক্রমণ' করে পৈশাচিক আনন্দ পাওয়ার মানসিকতা তো আমাদের বহুদিনের।
ভালো কাজ, সেটা ইংলিশ বা বাংলা, যে মিডিয়ামের ছেলে-মেয়েরাই করুক না কেন, সবার উচিৎ সহযোগিতা করা। না পারলে অন্তত প্রশংসা করা। তা-ও না করতে পারলে চুপ থাকা। 

হ্যা, আমি আবারো বলছি, ভালো কাজ, সেটা ইংলিশ বা বাংলা, যে মিডিয়ামের ছেলে-মেয়েরাই করুক না কেন, সবার উচিৎ সহযোগিতা করা। না পারলে অন্তত প্রশংসা করুন। তা-ও যদি না পারেন তাহলে চুপ থাকুন। :)


আর জাগো আসলেই সুবিধাবঞ্চিতদের কাজে আসছে কি আসছেনা সেটা জাগোর পুরো ইতিহাসেই উল্লেখ করে দিয়েছি। আশা করি আর কিছু বলতে হবেনা। আর প্রশ্ন থাকলে জাগোর ওয়েবসাইট তো আছেই ! আমরা সবাই স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষার্থী, আপনাদের আজাইরা প্যাচাল আর সমালোচনার জবাব দেয়ার মত অঢেল সময় আমাদের নাই। শুধুমাত্র একবার দিলাম কারন বিষয়টা লিমিট ক্রস করতেসিলো আর এটা থামানো জাগোর সকল ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব। এই নোটে কিংবা আবার অন্য কোন পোস্টের রিপ্লাই দেয়া আর আমার পক্ষে সম্ভব না কারন সামনেই এক্সাম। এরপর কোন প্রশ্ন থাকলে সরাসরি ওয়েবসাইটে যেয়ে প্রশ্ন করে উত্তর নিয়ে সঠিক তথ্য জেনে তারপর ব্লগ লিখবেন, তর্ক করার ইচ্ছা থাকলেও সেখানেই করবেন।। আর আরেকটা কথা, হয়তো এমন কিছু ভলান্টিয়ারও ছিল যারা অন্য উদ্দেশ্যে এসেছিল, জাগোর টি শার্ট গায়ে স্মোকিং করেছে কিংবা অন্য খারাপ কাজ করেছে বা কারো ড্রেস আপ দৃষ্টিকটু ছিল কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই কম। হাতে গোনা কয়েকজনের জন্য তো পুরো জাগো টিমকে আপনারা দোষ দিতে পারেননা, আর এজন্য সব ভলান্টিয়ারও খারাপ হয়ে যায়না। মডারেটররাও এ ব্যাপারে আমাদের বারবার সতর্ক করে দিয়েছিল যাতে কেউ স্মোক না করে বা খারাপ কাজ না করে, আর জাগোর টি শার্ট গায়ে তো কখনোই না ! তবুও কিছু ভলান্টিয়ার সেটা শোনেনি। তাদের সম্পর্কে আর কিছু বলার নেই। আবারো বলছি, কয়েকজনের জন্য সবাই খারাপ হয়ে যায় না।

জাগোর সকল ভলান্টিয়ারকে এবং জাগো কে যারা সমর্থন করেন তাদের সবাইকে নোটটা শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি। সেই ব্লগ পোস্টটা যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তেমনি এই লেখাটাও ছড়িয়ে যাক। সবাই প্রকৃত সত্যটা জানুক। আপনারা চাইলে সোর্স ও লেখকের নাম উল্লেখ করে যেকোন ব্লগে, ফেসবুক পেইজে বা ব্যক্তিগত নোটেও এই লেখাটা পাবলিশ করতে পারেন।

- Saidur Rahman Rahat  (Rahat Rahman)
Volunteer,
JAAGO & Volunteer For Bangladesh.

মূল লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/notes/rahat-rahman/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%97-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC/314542441892418
http://www.somewhereinblog.net/blog/imrubdblog/29478227
বিস্তারিত পড়ুন ... »

জাগোঃ ঢাকার রাস্তাজুড়ে শহরবন্দী ইংলিশ মিডিয়াম ছেলেমেয়েদের অ্যাডভেঞ্চার

আজকে যারা ঢাকায় বের হইছেন খেয়াল করলে দেখবেন হলুদ গেন্জি পড়া কিছু পাংকু পোলাপান ফুল বিক্রি করতেছে।
এরা জাগো ফাউন্ডেশন। একটা স্টুডেন্ট অরগানাইজেশন যারা এদিক সেদিক থেকে টাকা তুলে "সমাজের উন্নয়ন" করতে চায়। আসলে কাজের কাজ কতটুকু হয় তা জানি না, কিন্তু এদের পুরা-বাংলাদেশকে-দেখিয়ে করা এসব উন্নয়ন কতটুকু এফেক্টিভ সেটা একটা বড় প্রশ্ন!!
যাই হোক, কয়েকটা পয়েন্ট বলি।
১) আপনি এদের কখনও যাত্রাবাড়ী, মৌচাক, বাড্ডা, সায়দাবাদের মত খারাপ এরিয়াতে দেখবেন না। এদের সবসময় গুলশান-উত্তরা-বনানী-ধানমন্ডির সিগানালে দেখা যায়।
২) এরা সিগনালের পিচ্চিদের পার্কে ঘুরাতে নিয়ে যায় বিনিময়ে ওদের ফুল/পপকর্নগুলা নিজেরা বিক্রি করে। ওদের দাবী এভাবে নাকি সমাজকে "জাগানো" যায় এসব শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে। আমার মনে হয় না রাস্তায় এভাবে হলুদ গেন্জি পড়ে ফুল বেচলে আসলেই এই শিশুগুলার কষ্ট বুঝা যাবে!
৩) ফেসবুকে একজনের কমেন্ট: এক ভলেনটিয়ার আইসা বলে,
ভাইয়া ডোনেট করছেন? পোলা কয়, এই ডোনেশনের টাকা কই যায়? ভলেন্টিয়ার কয়: তাতো জানি না!!
৪) আমি ধানমন্ডির মেট্রো প্লাজার সামনে একটা মিনি ট্রাক দেখলাম। ট্রাকের অর্ধেক প্যাকেট করা খাবার আর বাকি অর্ধেকের মত কোল্ড ড্রিংকস দিয়া ভর্তি। ট্রাকে ২ জন হলুদ গেন্জি দাড়ায় আছে। মনে হয় এগুলা ওদের দুপুরের লান্চ। এরকম লান্চ গাড়ি ঢাকায় আরো কয়েকটা থাকার কথা! আমি ভাবতেছিলাম, এত গুলা টাকায় হয়তো আরো ৫০ জন বাচ্চার একমাস চলে যেতো!!
৫) প্রতি ৭/৮ জন গ্রুপের সাথে একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা ম্যান থাকে। যেই এক মেয়ে/ছেলে ফুল বেচতে যায় সেটা ক্যামেরা বন্দী করে রাখা হয়!!






৬) আরেকজনের ফেসবুক স্ট্যাটাস: Some girls in yellow came up to me and said they were selling flowers "for poverty" (in shaky Banglish). I told them that I don't support poverty! Learn Bangla, you English medium douche bags!
৭) ওদের নেক্সট প্ল্যান নাকি শহরগুলাকে হলুদ রং করা। হয়তো এভাবে পোভার্টী ড়িমুভ ক্ষরা যায়। কে জানে?!! আমি ভাই বাংলা মিডিয়ামের মূর্খ! এতকিছু বুঝি না!
৮) বেশিরভাগ মানুষ বলে এরা নাকি টাকা মারে। আমার এক ফ্রেন্ড এদের সাথে কাজ করছে কয়েক মাস। সে আইসা বলে, তোরা যেই টাকা দেস, সেটার একটা বিরাট অংশ আমাগো বোতলের পিছে যায়গা! আর বাকি কিছু অংশ (এটার পরিমানও কম না!!) দিয়া একটা ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করি বাচ্চাদের নিয়া।

তবে ছেলেবুড়ো সবাই একমতে স্বীকার করবে জাগোর মেয়ে ভলেন্টিয়ার গুলা কিরকম জোস!! টিশার্ট আর টাইট জিন্স পড়া এসব ফর্সা চামড়ার মেয়াগুলা দেখলে মাথা নষ্ট হতে বাধ্য! কে জানে, হয়তো ফর্সা রং বেশি করে চান্দা তুলতে সহায়ক ;)





















কেনো ওরা এত টাকা পায়? কারন ওদের সাপোর্ট করে মার্কিন এমবেসি, পিতজা হাট, কেএফসি, এয়ারটেল, ট্রান্সকম, ওয়ান্ডারল্যান্ডের মত প্রতিষ্ঠানরা। হয়তো বনানীর সেই BMW বিজনেসম্যান ভালো উদ্দেশ্যেই টাকা দিতেছে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সমাজের কারো উপকারে লাগতেছে? ২০০৭ থেকে চলা জাগো আসলেই কি পারছে অন্তত রাস্তার ছেলেগুলাকে স্কুলমুখী করতে??

তারপরও তো কেউ কিছু করছে! আমানী আপুর সাথে আমিও একমত। দেশ আসলেই জাগোফাইড(!!!) হচ্ছে।

ডিসক্লেইমার: সবাই যে খারাপ তা বলি নাই। আর সবগুলা ছবি ফেসবুক ফ্যানপেইজ (পাবলিক) থেকে নেয়া - অপেন ফর অল। কিন্তু আমি লিংক দিয়ে ওদের এডভারটাইজ করবো না। ছবি রিলেটেড আর কোনো কমেন্ট করবেন না। জাগো নিয়ে আমার চুলকানি নাই। কিন্তু চুলকানি আছে সেইসব মন্ত্রীদের নিয়া যারা টিভি ক্যামেরা আসলে ত্রান দেয়, ক্যামেরা চইলা গেলে ত্রান দেয়া বন্ধ কইরা দেয়। জাগোর সাথে এদের মিল ব্যাপক। পোস্টের অশালীন ভাষার জন্য সরি।



মূল লিঙ্কঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/engla/29477684
বিস্তারিত পড়ুন ... »

৫ নভে, ২০১১

চারটি ছবির গল্প

ফটোগ্রাফির এনালেটিক্যাল কিংবা থিওরেটিক্যাল ব্যাপারগুলো খুব একটা না বুঝলেও এটা বোঝা কঠিন নয় যে, একটি ফটোগ্রাফ দর্শকের মগজে একটা গল্প তৈরি করে দেয় । একটা সময়ের গল্প, একটা মুহূর্তের গল্প, কখনও একটা জীবনের গল্প ।
একটি ফটোগ্রাফে কি ছবি তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে কিংবা পর মুহূর্তে কী ঘটেছিল তা জানা যায়? ফটোগ্রাফ কি ম্যানিপুলেট করা যায় না ? তবু সাধারণ মানুষের ধারণা, ছবি মিথ্যা বলে না! ফটোগ্রাফির শুরু হয়েছিল ১৮৩০ সালের দিকে , এবং সেই থেকে বদলে গেল মানুষের চোখে পৃথিবীকে দেখা! থেমে থাকা মুহূর্ত হয়েও একটি ফটোগ্রাফ মানুষের মগজে যুগের পর যুগ চলতে থাকে, তাই বিশ কিংবা তিরিশ বছর পরেও, এ্যালবামের পাতা উল্টালে নস্টালজিক মানুষ ফিরে যায় অতীতে, স্পর্শ করে ঘটনাটিকে । বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠে ।

ফটোগ্রাফ শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণেই নয়, সাংবাদিকতারও একটা অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে আজ । ফটোগ্রাফ যেকোনো রিপোর্টের অক্ষরগুলোকে নিয়ে যায় আরেক মাত্রায়। রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যায় অনেক যখন পাঠক একটা ছবিও দেখে ভাষ্যের সাথে । কে না জানে; “Seeing is believing”।
১৯৯০ এর দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তি এসে বদলে দেয় পুরো প্রেস ফটোগ্রাফি । ফিল্ম ক্যামেরার মতো সময় সাপেক্ষ প্রসেসিং নেই, তাই মুহূর্তেই পৌঁছে যায় ছবি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে । বিভিন্ন সেন্সর সাইজের নানান রকমের ক্যামেরা নিয়ে বাজারে উপস্থিত হোল হ্যাসেলব্লাড, লেইকা, নাইকন, ক্যানন, মামিয়া, পেনট্যাক্স আর সনি । ২০০০ এর দশকে এসে “SLR” এর জায়গা করে নেয় “dSLR”, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সাংবাদিকতায়। বিশ বছর আগে ডার্ক রুম ছাড়া যেখানে কোন সংবাদপত্রের অফিস কল্পনাই করা যেত না, আজ সেখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও ডার্ক রুম নেই ।

আধুনিক ফটো-সাংবাদিকতার জনক বলা হয় হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসোঁকে। ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার ব্রেসোঁর ছবি তোলার স্টাইলটি পরিচিত ছিল “স্ট্রিট ফটোগ্রাফি” নামে যা পরবর্তীতে বহু বিখ্যাত ফটোগ্রাফারের প্রেরণার উৎস। ব্রেসোঁর এক বিখ্যাত উক্তি – “To take photographs means to recognize – simultaneously and within a fraction of a second – both the fact itself and the rigorous organization of visually perceived forms that give it meaning. It is putting one’s head, one’s eye and one’s heart on the same axis”। ১৯৪৮ সালে গান্ধীর শেষকৃত্যের ছবি তুলে পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দেন ব্রেসোঁ। এভাবেই শক্তিশালী ফটোগ্রাফ পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেয়, জাগিয়ে তোলে ঘুমন্ত বিবেককে । এমনি কিছু ছবির গল্প বলবো এই লেখাতে ।
১৯৭২ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার একটি ছবি তুলে এ. পি.’র ফটোগ্রাফার নিক উট জিতে নেন পুলিত্জার পুরস্কার । ছবিটি ’৭২ সালে World Press Photo of the Yearও মনোনীত হয় । নিকের বিখ্যাত ছবির সেই মেয়েটি ছিল থি কিম ফুক । দক্ষিণ ভিয়েতনামের ত্রাং বাঙ গ্রামে থাকত ফুক । সেদিন ছিল ৮ই জুন, ১৯৭২ সাল । ৯ বছর বয়সী ফুক এবং আরো অনেকে পালিয়ে যাচ্ছিল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে । শত্রু সৈন্য সন্দেহে ফুকের দলটির উপরে নাপাম বোম ফেলে এয়ার ফোর্স । মুহূর্তেই মারা যায় ফুকের দুই আত্মীয় এবং আরো দুই গ্রামবাসী । ফুকের পুরো শরীর পুড়ে যায়, উলঙ্গ হয়ে মেয়েটি দিগ্বিদিক ভুলে দৌড়াতে থাকে রাস্তায় । চিৎকার করতে থাকে, “নং কুয়া, নং কুয়া”(প্রচণ্ড গরম, প্রচণ্ড গরম)। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিকের ক্যামেরার শাটার ক্লিক করে ওঠে, সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক ফটোগ্রাফের । ছবিটি মানবজাতিকে আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় রাজায়-রাজায় যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব । মজার ব্যাপার হলো, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সন্দেহ ছিল এই ছবিটির সত্যতা নিয়ে! তিনি মনে করতেন ছবিটি বানোয়াট! যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে প্রেসিডেন্টরা চিরকালই বোধ হয় মগজহীন-হৃদয়হীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়!
(ছবিটি দেখতে পারেন http://www.gallerym.com/work.cfm?ID=280 লিঙ্কে গিয়ে ।)
সময়টা ১৯৮৯ । স্টুয়ার্ট ফ্রাঙ্কলিনের একটি ছবি পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে স্পর্শ করে গভীরভাবে । শুরুটা হয়েছিল মাত্র তিন হাজার ছাত্রের অনশন দিয়ে । সাত সপ্তাহে সেটা পরিণত হয় লাখো মানুষের মুক্তি সংগ্রামে! স্থান তিয়েনান্ম্যাম স্কয়ার ; ট্যাঙ্কের পর ট্যাঙ্ক এগিয়ে আসছে ছাত্রদের দিকে । হঠাৎ একটি ছেলে দাড়িয়ে গেল ট্যাঙ্কের সামনে, একা, নিরস্ত্র, দৃঢ়, হাতে শুধু ছোট্ট দুটো ব্যাগ । ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা সৈন্য স্তম্ভিত । ছেলেটির প্রচণ্ড সাহসের কাছে নতজানু হয়ে সৈন্য তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় । বিশাল, ভয়ংকর ট্যাঙ্কের সামনে অটল দাড়িয়ে থাকা শীর্ণকায়, ছোটখাটো এই ছেলেটির ফটোগ্রাফ দেখে পুরো পৃথিবী চমকে যায় । বাজার ফেরত ছেলেটি কে ছিল আমাদের আজো জানা হয়নি, কিন্তু তার আকাংখার সাথে নিজেকে রিলেট করতে মোটেও অসুবিধা হয় না । মানুষের চিরকালের আকাংখা, মুক্তির আকাংখা । এর তীব্রতায় মানুষ যে মহামানবে পরিণত হয়, ফ্র্যাঙ্কলিনের এই ছবিতে তাই যেন আবার প্রমাণিত হয় ।

ছবিটি দেখতে পারেন http://www.worldsfamousphotos.com/index.php/2007/03/21/tiananmen-square-1989/ লিঙ্কে গিয়ে ।
কিছুদিন আগেই তিউনিসিয়ায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে গেল । এক একটি ছবি দেখছিলাম আর মর্মে মর্মে অনুভব করছিলাম তিউনিসিয়ার বিপ্লবের উত্তাপ । ঐক্যবদ্ধ মানুষের শক্তির মত বিস্ময়কর আর কিছুই বোধ হয় নেই পৃথিবীতে ! চোখ আটকে যায় একটি ছবিতে । ছবিটি ইমেদ-এর বাসার লিভিং রুমের। দেখলে মনে হয় যেন যুদ্ধ ক্ষেত্র ! ছাদ ভেঙ্গে পরেছে, বিশাল পিলারগুলো বিধ্বস্ত, কোথাও কোন আসবাবপত্র অবশিষ্ট নেই। গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনতার ব্যাপক লুণ্ঠনের শিকার হয় শাসক গোষ্ঠীর বিলাসবহুল ভিলাগুলো। ছবিটির পরতে পরতে জনতার ঘৃণা মূর্ত। পালিয়ে যাওয়া তিউনিসিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলীর স্ত্রী লায়লা ত্রাবেলসি । লায়লারই ভাগ্নে হলো ইমেদ । ২০০৬ সালে ৩ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট হারিয়ে যায় কোর্সিকার কোস্ট থেকে । এক সপ্তাহ পরে ইয়টটি দেখা যায় তিউনিসিয়ার সমুদ্র সৈকতে, তাতে নতুন রংয়ের প্রলেপ । ধারণা করা হয়, ইমেদ ছিল এই ইয়ট হাইজ্যাকের পিছনে। ইমেদের দুর্ভাগ্য, ইয়টটির মালিক ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট সারকোজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুনো রজার । অতএব, এক লক্ষ ডলার দেয়া সত্ত্বেও ইয়টটি ইমেদের হজম করা হয় নি ।

আবার তার সৌভাগ্যও বটে যে বেন আলী, সারকোজির ঘনিষ্ঠ মিত্র । তাই ইমেদ আর তার ভাই ময়েজ ইন্টারপোলের লিস্টে থাকা সত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি । ইমেদ থেমে থাকে নি । থেমে থাকেনি ইতালি থেকে তার জন্য দামী সুট আসা । থামেনি দামী সিগার উপভোগ এবং ফ্রেঞ্চ ওয়াইন পান । প্রায়ই বিলাসবহুল, জাঁকজমক পার্টি হতো তার প্রাসাদোপম ভিলায় অথবা লা-গুলোতের একটি রেস্তোরাঁয় । এখানে জেনে রাখা ভালো, ইমেদ নিজেই ছিল লা-গুলোতের মেয়র । ইমেদের একটি দাতব্য সংস্থা ছিল; “নুর” তার নাম । “নুর” গরীব বাচ্চাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করত । অতি উত্তম! অবশ্য দুষ্টজনের (!) মুখে শোনা যায় অন্য কথা । “নুর” ছিল আসলে একটি আগাগোড়া চাঁদাবাজ সংস্থা । “নুর”কে ব্যবহার করে ইমেদ চাঁদা আদায় করত ধনী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ।
স্বৈরাচারী বেন আলী, তার ক্ষমতাধর স্ত্রী লায়লা এবং দুর্নীতির বরপুত্র ইমেদের প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র আক্রোশ শুধু তাদের ভিলা লুট করার মধ্যেই থেমে থাকে নি। বেন আলী ও তার পরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জানা যায়, গত ১৪ই জানুয়ারি, পালাতে গিয়ে তিউনিসিয়া বিমানবন্দরে ধরা পরে ইমেদ, এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে।
প্রচুর সিনেমা দেখত ইমেদ । সহচরদের “গড ফাদার” সিনেমার একটি উক্তি প্রায়ই মনে করিয়ে দিত সে – “Never hate your enemies, it affects your judgement “!
ইমেদের বাসার লিভিং রুমের ছবিটি দেখতে পারেন http://www.newstimes.com/news/article/Tunisians-hail-fall-of-ex-leader-s-corrupt-family-961033.php লিংকে গিয়ে।
এবার অন্য একটি ছবির গল্প । ছবিটি জেতে নি কোনো পুরস্কার । ২০১১ সালের জানুয়ারি মাস । একটি ভারতীয়, দু-তিনটি বাংলাদেশী দৈনিক পত্রিকা আর কিছু অনলাইন সাইটে একটি ফটোগ্রাফ দেখা গেল । কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছে পনের বছরের এক কিশোরীর প্রাণহীন শরীর । পরনে তার উজ্জ্বল লাল-নীল জামা । কাছেই এক সৈন্য দাঁড়ানো । জানা গেল, ছবির সেই মেয়েটির নাম ফেলানি । বর্ডার পার হয়ে, বছর দশেক আগে সে দিল্লি গিয়েছিল তার পরিবারের সাথে । বোধ হয়, মঙ্গা থেকে বাঁচতে ! দিল্লিতে ফেলানি ইট ভাঙত । কিছুদিন আগে ফেলানির বাবার হঠাৎ উপলব্ধি “মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে”! মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদ নূর ইসলাম ফিরছিল বাংলাদেশে । কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে যায় নূর ইসলাম । দুরুদুরু বুকে ফেলানি বেড়ায় ওঠে , হঠাৎ কাঁটাতারে আটকে যায় ওর লাল-নীল জামা । ভয়ে চিৎকার করে উঠে । সঙ্গে সঙ্গে বি.এস.এফ.-এর গুলি। জানা যায়, গুলি লাগার পরেও চার ঘণ্টা বেঁচে ছিল ফেলানি । যেভাবে বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে ঝুলতে থাকে দাঁড় কাক, একইভাবে ফেলানি ঝুলছিল আর পানি, পানি করে চিৎকার করছিল । ফেলানিকে নিয়ে কোনো গল্প লেখা হবে না কিংবা বেলি রোডের নাটকপাড়ায় ফেলানি হবে না কোনো চরিত্র । সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে থাকলে হয়তোবা লিখতেন আরেকটি গান – “আহ ফেলানি” !

(বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধর্ষিত এবং নিহত ইয়াসমিনকে নিয়ে ১৯৯৬-এ সঞ্জীব লিখেছিলেন- “আহ ইয়াসমিন”, গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল)
জানা হয় নি ফেলানির এই ছবিটির ফটোগ্রাফার কে ছিলেন । তবে আমার ধারণা, ছবিটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে পুলিত্জার না হলেও, ছোটখাটো পুরস্কার বোধ হয় ঠিকই জিততেন ফটোগ্রাফার ভদ্রলোক । কেনইবা নয়? দারিদ্র্য, মৃত্যু, নো ম্যানস ল্যান্ড , এ সবকিছুই তো ফটোগ্রাফির চমৎকার সব সাবজেক্ট ! কাঁটাতারের বেড়ায় যখন মেয়েটির প্রাণহীন শরীরটা ঝুলছিল, একটি বিখ্যাত আলোকচিত্রের কি জন্ম হচ্ছিল ? ভারতের বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা, সরকারের ভূমিকা, বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা, কি করা যেতে পারে কিংবা কি করা যেতে পারত—সবকিছু ছাপিয়ে ছবির সেই মেয়েটির প্রাণহীন দেহের একমাত্র অভিমানী উচ্চারণ – “একটি পাসপোর্টের জন্য?” নাকি “দারিদ্র্যই অভিশাপ” ?

একটি ফটোগ্রাফ একটি সময়কে ধারণ করে । ভিয়েতনামের রাস্তায় পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে ফুকের ছুটে যাওয়া আমাদের চাক্ষুষ করা হয় নি , শোনা হয় নি তার চিৎকার ” খুব গরম, খুব গরম”- , তবু ছবিটি দেখলে চলে যেতে হয় ফুকের পাশে, তার শরীরের পুড়ে যাওয়া ক্ষত যেন আমাদের স্পর্শ করে । এখানেই একটি শক্তিশালী ফটোগ্রাফের ক্ষমতা । একেকটা ছবি, একেকটা ইতিহাস ।
আর আমাদের ছবির সেই মেয়েটি, একান্তই আমাদের ফেলানি, সেও হয়ে যায় ইতিহাস ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার – ফাহাম আব্দুস সালাম, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত টেকনিকাল তথ্যগুলোর জন্য) ; Newsweek এর ৩১শে জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যা (তিউনিসিয়ার বিপ্লব সম্পর্কিত তথ্যের জন্য); আনন্দবাজার পত্রিকার ৮ই জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যা (ফেলানির ছবিটির জন্য); বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সাইট।
শামারুহ মির্জা :শিক্ষক ও গবেষক।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

৩ নভে, ২০১১

আধুনিকাদের আড্ডায় নারী অধিকার

অস্ট্রেলিয়ানদের প্রিয় বিনোদন হোল স্পোর্টস, বাঙালিদের কী বলুন তো? আড্ডা।
বহুদিন পরে দেশে বেড়াতে গিয়ে দিনে রাতে জমজমাট আড্ডা দিচ্ছি। হরেকরকম বিষয়ে বাগযুদ্ধ। বয়স, স্থান ও জেন্ডার ভেদে আড্ডার বিষয়ও বদলে যায় মাঝে মাঝে। “নারী অধিকার” বিষয়টি ভীষণ জনপ্রিয় এসব আড্ডায় । নারী অধিকারে আমার বন্ধুদের আগ্রহ আমাকে চমৎকৃত করেছে, করেছে আশান্বিত। তবে আমার শিক্ষিত, সুবিধাপ্রাপ্তা বন্ধুরা/আত্মীয়ারা নারী অধিকারের/স্বাধীনতার যে আকাঙ্ক্ষাটা করেন, তা আমাকে বিস্মিত করেছে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণেই। পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি নারী অধিকার বিষয়ক কিছু আড্ডা, বিস্ময় জাগানিয়া সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ এবং আমার নিজস্ব ভাবনাগুলো !

এক:
ডিনার পরবর্তী এক আড্ডায় হঠাৎ এক আত্মীয়া চোখ-মুখ ভয়ঙ্কর করে বলে বসলেন “খেয়াল করেছ তুমি? ইদানীং যে ঢাকায় হিজাবি মেয়ে বেড়ে গেছে”!? প্রবীণ প্রগতিশীল এই মহিলার ত্বক খুব চকচকে, দামি শাড়ী পড়নে, থাকেন গুলশানে, নিজেদের ফ্ল্যাটে। বিয়ে, শপিং, রূপচর্চা, বন্ধু-দর্শন ছাড়া বাসা থেকে বেরন না বললেই চলে। দারুণ রান্না করেন এবং হিন্দি সিরিয়ালে সামান্য আসক্তি আছে। একটু থতমত হলাম প্রশ্নটা শুনে, বুঝে উঠতে পারছিলাম না, তিনি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্রসন্তানের সেই বিখ্যাত লেখাটির কোনো রেফারেন্স দিচ্ছেন? নাকি আমিনী এফেক্ট? “অর্থ কী?” প্রশ্ন করাতে জবাব পেলাম “মানে বাংলাদেশে পর্দানশীন মেয়ে অনেক বেড়ে গেছে, কী যে হবে দেশটার, নারী স্বাধীনতা সব গোল্লায় গেলো!” দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আত্মীয়া।
ঢাকার রাস্তায় হিজাবি মেয়ে দেখা যায়, সত্য। তবে ডানাকাটা ব্লাউজ আর শিফনের ফিনফিনে শাড়ী পরিহিতা মেয়েদেরও দেখা যায়। সুন্দরী ও সুগঠিত নারী-পুরুষ অন্তরঙ্গ পরিবেশে, প্রায়ই দেখা যায় ক্যাফে অথবা লাউঞ্জগুলোতে। এ প্রসঙ্গে আমার এক বন্ধু, যিনি গুলশানের একটি লাউঞ্জের সত্ত্বাধিকারী – তার একটি উক্তি মনে পরছে ,“বাচ্চালোগ প্রেম না করলে তো লাউঞ্জের ব্যবসা সব চাঙ্গে উঠবে”। আবার উত্তরবঙ্গের পথে দেখেছি শাড়ীর ওপরে ছেলেদের ঢোলা শার্ট পড়া মহিলারা ধান শুকাচ্ছে রাস্তায় (অভিনব পদ্ধতি, চলন্ত গাড়ীর চাকায় ধান মাড়াই)। ক্ষেতে কাজ করছে মেয়েরা মাথায় কাপড় দিয়েই। ওড়নাটা মাথায় তুলে শত শত মেয়ে যাচ্ছে গার্মেন্টসে। জুতার কারখানায় ছেলে মেয়ে এক সাথে কাজ করছে, হাসছে। গ্রামের মসজিদের ভেতরে আমি নিজে গিয়েছি ইমাম সাহেবের সাথে । দেখেছি, মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ভাই-বোন এক সাথে, পিঠে স্কুলের ব্যাগ। দিগন্ত নামের একটি টিভি চ্যানেলে হিজাবি মেয়েদের চমৎকার শুদ্ধ বাংলায় খবর পড়তে শুনেছি। একই সাথে একুশে টিভিতে দেখেছি, পশ্চিমা পোশাকে দারুণ ফিগারের তরুণীরা উপস্থাপনা করছেন ইংরেজিতে। “ঢাকার রাস্তায় আমারও আছে হাঁটার অধিকার”- এই শ্লোগানে মুখরিত রাজপথে হাত ধরে হেঁটে যেতে দেখেছি হিজাবি এবং অহিজাবি মেয়েদের। চমৎকার সহাবস্থান দুই মেরুর- আমার অত্যন্ত পছন্দের।
তবুও একটা অজানা জুজুর ভয় এই প্রগতিশীল মহিলাদের। গত এক দশকে বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণী যখন প্রায় বিলুপ্ত, তখন নতুন উচ্চবিত্তের ধর্ম (ইসলাম!) বিষয়ে উন্নাসিকতা ও আতংক চোখে পড়ার মতো। মজার ব্যাপার হোল, উল্লেখ্য মহিলার বাবা কিন্তু একজন মধ্যবিত্ত সরকারী চাকুরে ছিলেন। মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ মধ্যবিত্তে উত্থান (স্বামীর বদৌলতে) তার চিন্তা, চেতনায় এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন যাতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পশ্চিমা বিশ্ব, ভারতীয় মিডিয়া এবং লাদেন। তিনি নিজের অজান্তেই অপছন্দ করছেন নিরপরাধ হিজাবি মেয়েটিকে শুধু মাত্র তাঁর ধর্ম চর্চার কারণে, মনে করছেন নারী স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক। আরো একটা কারণ আছে হয়তো: “এই মেয়েরা কেন আমার মতো না!” এটাকে কি “রেসিজম” বলা যায় ? বিস্মিত হই আমি। মহিলা পারিবারিক বন্ধু, তর্কে না যাওয়াই শ্রেয়। তার দীর্ঘশ্বাসের জবাব আর দেয়া হোল না।
দুই:
বন্ধুদের আরেক আড্ডায় এক বিখ্যাত ব্যবসায়ী-কাম-রাজনীতিবিদের মেয়ে বেশ তেজোদ্দীপ্ত হয়েই বলে বসলো; “শুধুমাত্র এই নারী-নীতির জন্যেই শেখ হাসিনাকে আমার ভোটটা দেব”। পশ্চিমে শিক্ষিত মেয়েটির ভোটাধিকার প্রয়োগের তুমুল ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা না করে উপায় নাই। তাকে প্রশ্ন করা হোল, তো নারী-নীতির ঠিক কোন বিষয়টি তোমাকে এতটা মুগ্ধ করেছে? উত্তর পাওয়া গেল “ঐ যে উত্তরাধিকারের ব্যাপারটা” (প্রসঙ্গত বলে রাখি, মেয়েটির কেবল একটিই ভাই এবং লোকমুখে শুনি যে তার পিতার সম্পদের পরিমাণ টাকায় বললে কম হলেও কয়েক শ’কোটি)। আচ্ছা, ব্যপারটা তাহলে অর্থনীতিক। আর কী ভালো লাগলো এই নীতিমালার? “আর কিছু লাগে? ঐ একটাই যথেষ্ট। বাবার সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার ছাড়া সিভিলাইজেশান চলতে পারে”? তা বটে।
তার কিছুদিন আগেই হেনার মৃতদেহে দোররার দাগ নিয়ে হয়ে গেল মৌসুমী হইচই, বগুড়ার একটি মেয়ের মাথা কামিয়ে দিলো ফতোয়াবাজরা। মিজানুরের ওপর মোটর সাইকেল উঠিয়ে দিয়েছিল বখাটেরা, কেননা সে প্রতিবাদ করেছিল ইভ-টিজিং এর। এরই মাঝে আমিনীর মত লোকেরা রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে, সরকার তেড়ে যায় আমিনীর দিকে, কেননা বান্ধবীর মতে, নারীর অধিকার রক্ষার ঝাণ্ডা তো তাদেরই হাতে, দায়িত্ব আছে না? ওদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা মহিলারা মানব বন্ধন গড়ে তোলে, ইউনূস সাহেবের মান রক্ষায়। কী আশ্চর্য! “সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমিতে” গণধর্ষিত হয়ে যেদিন একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছিলো, সেদিন, হ্যাঁ, ঠিক সেদিনই শ্বশুর এবং পিতার বিশাল সম্পদের প্রতিশ্রুতির তলে, “ নারী অধিকার” নিয়ে পরমা সুন্দরী বান্ধবীর আবেগভরা উচ্ছ্বাস রেস্টুরেন্টের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে উপভোগ্যই হয়েছিলো।
তিন:
এক সদ্য বিবাহিতা আত্মীয়া বাসায় এলেন দেখা করতে। জানলাম, তিনি, দেশে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে চলে গিয়েছিলেন পশ্চিমে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে। তার পড়নে ছিল ঢাকাই সূতী শাড়ি, স্লীভলেস ব্লাউজ, মাথায় সিঁদুর, হাতে শাঁখা। জানা গেল, খাঁটি বাঙালি সংস্কৃতির অনুরক্ত আমার এই আত্মীয়াটি শেকড়কে শ্রদ্ধা করে সিঁদুর এবং শাঁখা পড়েন। বিয়ের অনুষ্ঠানেও সিঁদুর পড়িয়ে দিয়েছিলো তার স্বামী। এর কারণ বাঙালি মুসলমান আগে সব হিন্দু ছিল, ইসলাম ধর্মপ্রচারকেরা এদেশে এসে জোড়-জবরদস্তি করে তাদের মুসলমান বানিয়েছে। তাই প্রতিটি হিন্দু ঐতিহ্যে আমাদের রয়েছে পূর্ণ অধিকার।
ঘটনাচক্রে কলকাতা থেকে আরেক পারিবারিক বন্ধু (আমার মা’র স্কুলবেলার বন্ধু) এবং তার স্বামী এসেছেন বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে, এই ঢাকায়। অঙ্কে গ্র্যাজুয়েট ভদ্রমহিলা হিন্দু, কিন্তু শাঁখা-সিঁদুর পড়েন না। তার ভাষ্য: শাঁখা-সিঁদুর হিন্দু মহিলাদের জন্য অত্যন্ত অপমানকর! এর সাথে বাঙ্গালিত্বের কোনো সম্পর্ক নেই! কী অদ্ভুত! আমার খাঁটি বাঙালি আত্মীয়াটিকে পরে একদিন পাকড়াও করে যখন ঘটনাটা বললাম, একটু বোধ হয় বিব্রতই হয়ে গেলেন। বললেন, আমরা কেন সব ধর্মের ভালোটা নিতে পারি না, কেন ধর্মে-ধর্মে এতো হানাহানি, কেন আমরা কেবল মানুষ এই পরিচয়টুকুই যথেষ্ট না, ইত্যাদি।
পাঠক! লক্ষ্য করুন, উপরের প্রতিটি আলাপের মূল চরিত্র একজন সচ্ছল শিক্ষিত নারী, সমাজে যাদের “ priviledged” অথবা সুবিধাপ্রাপ্তা বলা হয় । এদের অনেকেই নারীবাদ, আধুনিকতা, বাঙ্গালিত্ব নিয়ে যার পর নাই চিন্তিত যদিও, বাংলাদেশের মেয়েদের আসল সমস্যা উপলব্ধি করার সময় এবং সম্ভবত ইচ্ছেটাও কম। এরা যে অবস্থানে আছেন, ভোগবহুল সে অবস্থান থেকে তার সম্ভাবনাও কম, স্বীকার করছি। আমার আত্মীয়া, যিনি শাঁখা-সিঁদুর পরে মনে করছেন সত্যিকারের বাঙালি নারী হওয়া গেল, তিনি বুঝেই উঠতে পারছেন না, এই বাঙ্গালিত্ব তার নিজের বানানো, ঠিক অথেনটিক না। বাঙালি হতে গিয়ে তিনি কিছু বাঙালি হিন্দু নারীর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন যৌক্তিক কারণেই। ঠিক যেভাবে হিজাবি মেয়েটি বিরক্ত করছে আরেকটি গ্রুপকে! আবার হিজাবি মেয়েটির হিজাব পড়ার অধিকার/স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাও কি বিতর্কের অবতারণা করে দেয় না? এই বিচিত্র স্ববিরোধিতার একটি কারণ সম্ভবত আইডেন্টিটি ক্রাইসিস । সম্ভবত এ জন্যই বাংলাদেশী নারীর অশিক্ষা, দারিদ্র্য, বঞ্চনা লাঘবে সুবিধাপ্রাপ্তা শিক্ষিত নারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারছে না । নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে সম্পত্তির সমান অধিকারে অথবা পোশাকের স্বাধীনতায় !
আধুনিকা এই সুবিধাপ্রাপ্তারা একটি সহজ ব্যাপার কি বুঝতে সক্ষম যে আজ তারা যে অবস্থানে আছেন, সেই একই অবস্থানে আসতে দেশের বাকি ৯০ ভাগ নারীর হয়তো কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হতে পারে? ১৯৯৫ সালে চীনে আয়োজিত বিশ্ব নারী সম্মেলনে ইরানী নারীদের প্রতিনিধিদের যে দাবী দাওয়া ছিল (নারী স্বাধীনতার লক্ষ্যে), পশ্চিমা স্ট্যান্ডার্ডে সেটা তখনই ছিল অধীনস্ততার লক্ষণ। আমাদের দেশেও এই বাস্তবতাটি বর্তমান। সম্পত্তির সমান অধিকার নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত প্রয়োজন, তবে তার আগে আরও বেশি প্রয়োজন, সমাজের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি শ্রেণীতে বাকি ৯০ ভাগ নারীর শিক্ষা এবং উপার্জনের ক্ষমতা নিশ্চিত করা। এটা না করে, সুবিধাপ্রাপ্তারা নারী অধিকারের লঘু বিষয়গুলো নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুললে সংখ্যালঘু নারীদের সাথে দেশের সংখ্যাগুরু নারীদের মাঝে একটা বিভেদ রেখা তৈরি হয়। এবং তখনি সমাজের ৯০ ভাগ নারীর কাছে এরা পরিণত হয় লাফিং স্টকে । যে “ Freedom of expression” নিয়ে আমার আত্মীয়াদ্বয় অত্যন্ত চিন্তিত ,“Freedom of choice” এবং “Economic freedom” না থাকায় দেশের বেশির ভাগ নারীর কাছে তা “ Cruel joke”।
শুরুটা আসলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেই হয়, সবখানেই হয়েছে। বাংলাদেশে তথাকথিত আধুনিকাদের ধারণাও নেই যে তারা নয়, বরং সাধারণ খেঁটে খাওয়া, মাথায় কাপড় দেয়া কিংবা না দেয়া, দ্রুত পায়ে হেঁটে চলা পারিপাট্যহীন কৃষ্ণকায় মেয়েরাই এদেশের নারী বিপ্লবের প্রকৃত নেতৃত্ব দিচ্ছে, এই সমাজটাকে বদলে দিচ্ছে। বুঝে হোক না বুঝে হোক তারা যে কাজটি শুরু করে দিয়েছে সেটিই আসল। “সমধিকার” যেখানে আরাধ্য সেখানে ধর্ম হোক, রেস হোক কিংবা জেন্ডার, কেউই ভারসাম্যের ভুল দিকটায় থাকলে আমন্ত্রিত হয় না যতক্ষণ না সে অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণ করে। আমার পরিচিত কিছু আধুনিকাদের কাছে যে “নারী স্বাধীনতা” শুধুই অনুভব কিংবা আড্ডার বিষয়, বড় জোড় কুড়িয়ে নেওয়ার জিনিষ, সমাজের ৯০ ভাগ নারীর কাছে সেটা বাস্তবতা, খুব কঠিন বাস্তবতা এবং তার চেয়েও ভয়ঙ্কর – প্রতিদিনকার লড়াইয়ের বাস্তবতা। এই লড়াইয়ের কুশলীরা এতোটাই সুযোগ্য ও অসাধারণ যে আমি কিংবা আমার ওইসব আত্মীয়াদের কোনও আড্ডায় অংশগ্রহণ ছাড়াও তারা এগিয়ে যাবে সুনিশ্চিতভাবে। আমি কিংবা আমার আত্মীয়ারা শুদ্ধ বাংলায় নারী অধিকারের বিশাল বক্তৃতা দিয়ে নিজেরা জাতে উঠতে পারি, কিন্তু এদেশটাকে জাতে উঠিয়েছে ওইসব লড়াকু মেয়েরাই। তাঁদের ধন্যবাদ !


 (উপরে উল্লেক্ষিত লেখাটি শ্রদ্ধেয় শামারুহ মির্জার লেখা। লেখাটি পরে ভাল লাগাতে লেখিকার পুর্বানুমতি ছাড়াই ব্লগে শেয়ার করলাম। আশা করি বিষয়টি তিনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কারন বিষয়টি যেখানে প্রচারাধীক্যের। )
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২ নভে, ২০১১

খোরাসান থেকে ইসলামী বাহিনীর উত্থান

হযরত মুহাম্মদ (দঃ) বলেন, আমার পরে অনেক সেনাবাহিনী আসবে। তোমরা অবশ্যই সেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে যেটা খোরাসান থেকে আসবে। এটা এমন সময় যখন মুসলমানদের স্বর্ন-রৌপ্য এবং সম্পদের প্রাচুর্য থাকবে কিন্তু তারা হবে খুব দূর্বল, অসহায় আর তুচ্ছ। বিজাতীরা একে অপরকে আহবান করবে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যেমন করে প্রচন্ড ক্ষুধার্তরা খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিজাতীরা মুসলমানদের নিকট তাদের বিরোধী লোকদেরকে চাইবে। মুসলমানরা উত্তর করবে, আল্লাহর কসম! তারা আমাদের ভাই। আমরা কখ্খনো তাদেরকে দেব না। আর এখানেই যুদ্ধের শুরু। এক তৃতীয়াংশ মুসলিম যুদ্ধের ময়দান থেকে পালাবে আর তাদের তওবা কখনই কবুল করা হবে না। এক তৃতীয়াংশ নিহত হবেন আর তাঁরা আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত হবেন। বাকী এক তৃতীয়াংশ হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষন না তাঁরা জয়ী হতে পারবে। সেই সময় তোমরা উঁচু পর্বতমালার মাঝে বৃক্ষবেষ্টিত একটি সমভূমিতে একত্রিত হবে। খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী সেনাবাহীনি আসবে। কোন শক্তিই তাদের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না যতক্ষন না তারা জেরুজালেমে তাদের পতাকা উত্তোলিত করে। যদি তুমি খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী সেনাবাহীনি কে আসতে দেখ অতিসত্ত্বর তাদের সাথে যোগ দাও যদিবা তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়েও যেতে হয়। কারন তাদের মধ্যেই থাকবেন তোমাদের খলীফা, আল মাহদী।
সূত্র: ইউ টিউব
বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম