•

১৩ জুন, ২০১২

ফরমালিন কি এবং এ থেকে বাঁচার উপায়!

•
ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। পানিতে সহজেই দ্রবনীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়। ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
► ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:
▀ ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
▀ তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে।
▀ ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
▀ ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য।
▀ মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।
▀ ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে।
▀ গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।
▀ এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেন। দেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
► কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?
▀ পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।
▀ লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়।
▀ প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়।
▀ সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়।
► কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?
▀ খাওয়ার আগে ১০ মিনিট গরম লবণ পানিতে ফল ও সবজি ভিজিয়ে রাখতে হবে।

সূত্রঃ ইন্টারনেট থেকে নেয়া।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

২৬ মে, ২০১২

যে ১১টি পাখির নামের সাথে বাংলাদেশ জড়িত

•

2 Indian Roller (Coracias bengalensis)
বহু গুণে গুণান্বিত বিশ্বখ্যাত সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়ের (Carl Linnaeus) আবিস্কার করলেন সমস্ত প্রাণীর নামকরণের এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যাতে প্রাণীটির পরিবার, প্রজাতি, গণ সম্পর্কে নামের মাধ্যমেই প্রাণীজগতে এর অবস্থান বোঝা যায়। ১৭০৭ সালে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি জীবনের একটি বড় সময় ব্যয় করেছিলেন সারা বিশ্ব থেকে তার কাছে পাঠানো জীবজগতের নমুনার নামকরণে, যাকে আমরা বৈজ্ঞানিক নামে বলে থাকি, যা হয়েছিল মূলত ল্যাটিন ভাষায়। সে গল্পের ব্যপ্তি এবং গুরুত্ব এতই বিশাল যে অন্যদিনের জন্য তোলা থাকল ।
সুইডিশ বিজ্ঞানীটি সারা বিশ্বে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জানালেন নমুনা পাঠাবার সময় সাথে স্থানীয় নামটিও পাঠাবার জন্য। যখন বাংলা থেকে তার কাছে সাদা- কালোয় মেশানো অপূর্ব সুন্দর একটি পাখি পৌঁছাল ( যার ভোরের সূর্য উঠানো জাদুময় সুর মূর্ছনা শোনার সৌভাগ্য হল না তার) যার স্থানীয় নাম দোয়েল, তার উচ্চারণে হল ডয়েল, আনমনে ভাবছিলেন ডয়েল, ডায়াল, সান-ডায়াল, হ্যাঁ, পাওয়া গেছে নাম! সূর্যের নামে পাখিটির নাম হল Copsychus saularis । এমন সব চমৎকার ইতিহাস আছে প্রতিটি নামের সাথেই।
সারা বিশ্বের প্রায় ৯০০০ প্রজাতির পাখির মধ্যে ১১টির বৈজ্ঞানিক নামের সাথে bengalensis বা বাংলার — পাখি শব্দটি জড়িত আছে। জড়িয়ে আছে বাংলার নাম, চলুন আর শুনি তাদের গল্প, দেখি তাদের মন ভরানো সৌন্দর্য, পরবর্তীতে তাদের দেখবেন বুনো মুক্ত পরিবেশে-
১) বাংলা শকুন, White-rumped Vulture, Gyps bengalensis
8 White-rumped Vulture  Gyps bengalensis
বর্ণনা- বাংলা শকুন বিশাল, প্রশস্ত ডানা এবং কালচে দেহের অধিকারী পাখি (দৈর্ঘ্য ৯০ সেমি, ওজন ৪.৩ কেজি, ডানা ৫৫ সেমি, ঠোঁট ৭.৬ সেমি, পা ১১.৬ সেমি, লেজ ২২.৫ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মলিন গলাবন্ধ সাদা এবং দেহ কালচে-বাদামী, কোমর স্পষ্ট সাদা, পালকহীন মাথা ও ঘাড় কালচে ধূসর।
মাথার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় সাদা গলাবন্ধ, কালচে দেহ এবং ডানার নিচের দিকের সাদা পালক- ঢাকনি ও ওড়ার-পালকের কালচে পাড়ের পার্থক্য দেখে চেনা যেতে পারে। চোখ হলদে-বাদামী কিংবা ফিকে বাদামী, কালচে হালকা খয়েরি অথবা সবুজ-হালকা খয়েরি, ঠোঁটের ঝিল্লি কালো, মাথা ও ঘাড়ের পালকহীন চামড়া কালচে হালকা খয়েরি, এবং পা ও পায়ের পাতা কালো। ছেলে ও মেয়ের চেহারা অভিন্ন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির কালচে বাদামি দেহ ও ডানার উপরে সূক্ষ সাদা ডোরা রয়েছে। কোমর কালচে ও ডানার পালকের নিচের ঢাকনিতে সরু সাদা টান রয়েছে।
স্বভাব- বাংলা শকুন বনের ধার, গ্রাম, ভাগাড় ও কসাইখানায় বিচরণ করে এবং এরা সবসময় দলবদ্ধ ভাবে থাকে। আহারের খোঁজে এরা আকাশে টহল দেয় অথবা উঁচু গাছ বা দালানে বসে থাকে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে মৃত প্রাণী এবং পচা মাংস। খাবার দেখতে পেলে শো শো শব্দে দ্রুত নিচে নেমে আসে, এবং খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করে ও কর্কশ গলার ঘড়ঘড়, হিসহিস কিংবা একটানা চিঁচিঁ চিৎকার করে।
সেপ্টেম্বর-মার্চ মাসে প্রজননকালে উঁচু গাছ বা দালানের ভগ্নাবশেষে ডালপালা দিয়ে মাচার মত বাসা বানায় এবং বছরের পর বছর একই বাসা ব্যবহার করে। এ বাসায় মেয়েপাখি একটি সাদা ডিম পাড়ে, ডিমের মাপ ৮.৬ x ৬.৪, ডিম ফুটতে ৪৫ দিন লাগে।
বিস্তৃতি- বাংলা শকুন বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি, সব বিভাগেই দেখা যায়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, ইরান, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসহ এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা- বাংলা শকুন বিশ্বের মহাবিপন্ন বলে পরিচিত। গবাদিপশুর চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনিক ব্যবহারের ফলে বিগত শতকের সুলভ এই পাখির সংখ্যা ৯৮ % হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশে এ প্রজাতিটি এখনও বিপদগ্রস্ত পাখির তালিকাভুক্ত করা হয় নি। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা শকুনের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার শকুন! ( Gyps = শকুন, bengalensis= বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্রটি ইনাম আল হকের তোলা।
২) বাংলা নীলকান্ত, Indian Roller , Coracias bengalensis
2 Indian Roller (Coracias bengalensis)
বর্ণনা- বাংলা নীলকান্ত বাদামি বুক ও নীল ডানার পাখি ( দৈর্ঘ্য ৩১ সেমি, ওজন ১৬৫ গ্রাম, ডানা ১৯ সেমি, ঠোঁট ৩.৫ সেমি, পা ২.৭ সেমি, লেজ ১৩ সেমি)। বসে থাকা অবস্থায় এর পিঠ লালচে বাদামি, উড়ে গেলে ডানার নীল রঙ দেখা যায়, ডানায় পর্যায়ক্রমে ফিকে নীল ও কালচে নীল পালক রয়েছে। গলাবন্ধ, ঘাড়ের পিছনের ভাগ, গলা ও বুক লালচে-বাদামি। কাঁধ-ঢাকনি ও ডানার গোঁড়ার পালক বাদামি জলপাই-সবুজ, তলপেট ও অবসারণী ফিকে নীল এবং লেজ গাঢ় নীল। এর চোখ বাদামি, ঠোঁট বাদামি-কালো, পা এবং পায়ের সঙ্গে সংযুক্ত অঙ্গ হলদে-বাদামি। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি অনুজ্জ্বল, কাঁধ-ঢাকনি মেটে বাদামি এবং গলা ও বুকে ডোরা রয়েছে। ৩টি উপপ্রজাতির মধ্যে C.b.bengalensis এবং সম্ভবত C.b.affinis বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব- বাংলা নীলকান্ত পাতাঝরা বন, বনের প্রান্তদেশ, তৃণভূমি, ক্ষুদ্র ঝোপ, খামার ও গ্রামাঞ্চলে বিচরণ করে। পাতাহীন ডাল, বেড়ার বাঁশ অথবা বৈদ্যুতিক তারে একাকী বসে থাকে। নীরবে বসে এরা ধীরে লেজ ওপর-নিচে দোলায় ও নিচের ভূমিতে শিকার খোঁজে।
আহার্যতালিকায় রয়েছে পোকামাকড়, টিকটিকি, ব্যাঙ ও সাপ। ঘাসে বা ঝোপে আগুন দেওয়া হলে পোকা ধরার জন্য এরা পাশে বসে অপেক্ষা করে।
এপ্রিল-মে মাসের প্রজনন ঋতুতে এরা উঁচু গলায় ও তীক্ষ সুরে ডাকে- ক্রাক, ক্রাক, ছেলে ও মেয়ে সমবেত ওড়ার মহড়া দেয় এবং গাছের কোটরে অথবা দালানকোঠার ফাঁকফোঁকরে ঘাস এবং খড়কুটো দিয়ে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ৩-৫টি, মাপ ৩.৮ x ২.৮ সেমি। ১৭-১৯ দিনে ডিম ফোটে, ২০-২৫ দিনে ছানার শরীরে ওড়ার পালক গজায়,
বিস্তৃতি- বাংলা নীলকান্ত বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি, সকল বিভাগের গ্রামাঞ্চলে বিচরণ করে। পারস্য উপসাগর থেকে পুরো ভারত উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সুদুর চীন ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা- বাংলা নীলকান্ত বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা নীলকান্তের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার তাউরা ( গ্রীক, Korakias= তাউরা, bengalensis=বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্রটি ইনাম আল হকের তোলা।
৩) বাংলা কাঠঠোকরা,Lesser Goldenback, Dinopium benghalense
1 Lesser Goldenback (Dinopium benghalense) Male
বর্ণনা- বাংলা কাঠঠোকরা বাংলাদেশের অতি চেনা কাঠঠোকরা ( দৈর্ঘ্য ২৯ সেমি, ওজন ১০০ গ্রাম, ডানা ১৪.২ সেমি, ঠোঁট ৩.৭ সেমি, পা ২.৫ সেমি, লেজ ৯ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ সোনালী-হলুদ, দেহতলে কালো আইশের দাগ, ওড়ার পালক ও লেজ কালো, থুতনিতে কালো ডোরা, সাদা ঘাড়ের পাশে কালো দাগ, বুকে মোটা কালো আইশের দাগ, চোখে কালো ডোরা, ডানার গোঁড়ার ও মধ্য-পালক ঢাকনিতে সাদা বা ফিকে ফুটকি এবং পিঠ ও ডানার অবশেষ সোনালি। সবুজ গোলকসহ এর ঠোঁট লালচে-বাদামি, পা ও পায়ের পাতা ধূসর সবুজ এবং ঠোঁট শিঙ-রঙ এবং কালোর মিশ্রণ। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য তাদের চাঁদি এবং ঝুটির রঙে, ছেলেপাখির চাঁদি ও ঝুটি উজ্জল লাল এবং মেয়েপাখির সাদা বিন্দুসহ চাঁদির সামনের অংশ কালো ও পিছনের ঝুটি লাল। তরুণ পাখির অনুজ্জল দেহ ও চাঁদির সামনের ভাগের সাদা বিন্দু ছাড়া দেখতে মেয়েপাখির মত। ৪টি উপপ্রজাতির মধ্যে D.b.bengalensis বাংলাদেশে আছে।
1 Lesser Goldenback (Dinopium benghalense) Female
স্বভাব- বাংলা কাঠঠোকরা বন, বাগান ও লোকালয়ে সর্বত্র বিচরণ করে, একাকী, জোড়ায় বা পারিবারিক দলে দেখা যায়। গাছের কাণ্ড ও ডালে হাতুড়ির মত আঘাত করে অথবা মাটিতে ঝরাপাতা উল্টে এরা খাবার সংগ্রহ করে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া, শুঁয়োপোকা, বিছা, মাকড়শা, অন্যান্য পোকামাকড় এবং ফুল ও ফলের রস।
শক্ত পা ও অনমনীয় লেজে ভর দিয়ে ছোট ছোট লাফ মেরে এরা গাছের কাণ্ড বেয়ে উপরে ওঠে, ওড়ার সময় উচ্চ স্বরে ডাকে- কিয়ি কিয়ি কিয়ি-কিয়ি-কিয়িকিয়িইরররর-র-র-র। ফেব্রুয়ারি- জুলাই মাসে প্রজনন ঋতুতে গাছের কাণ্ডে গর্ত খুঁড়ে বাসা বেঁধে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৩টি, মাপ ২.৮ x ২.০ সেমি। ছেলে ও মেয়েপাখির উভয়ই বাসার সব কাজ করে। বাসায় হামলা হলে ছানারা সাপের মত হিসহিস শব্দ করে।
বিস্তৃতি- বাংলা কাঠঠোকরা বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি, সব বিভাগের সব বনে ও লোকালয়ে রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা- বাংলা কাঠঠোকরা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা কাঠঠোকরার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার বলীয়ান ( গ্রিক deinos= শক্তিমান, opos=চেহারা, bengalensis=বাংলার)। পাখিটি বাংলাদেশে শুধু কাঠঠোকরা নামে পরিচিত।
ব্যবহৃত আলোকচিত্র ২টি ইনাম আল হকের তোলা।
৪ ) বাংলা কুবো, Lesser Coucal, Centropus bengalensis
3 Lesser Coucal  (Centropus bengalensis)
বর্ণনা- বাংলা কুবো পর্যায়ক্রমে পালকসজ্জিত লম্বা লেজওয়ালা কাকের মত পাখি ( দৈর্ঘ্য ৩৩ সেমি, ওজন ১২০ গ্রাম, ডানা ১৫ সেমি, ঠোঁট ২.৭ সেমি, পা ৩.৭ সেমি, লেজ ১৮ সেমি)। প্রজনন ঋতুতে পিঠ তামাটে ও দেহতল কালো হয়। অনুজ্জল তামাটে কাঁধ-ঢাকনি ও ডানা ছাড়া পুরো দেহই চকচকে কালো। প্রাথমিক ও তৃতীয় সারির পালকের আগা বাদামি এবং লেজ কালো। প্রজননকাল ছাড়া পাখির কালচে বাদামি মাথা ও কাঁধ-ঢাকনিতে পীতাভ শরের ডোরা এবং কোমরে কালচে বাদামি ও লালচে ডোরা রয়েছে। দেহতল পীতাভ এবং গলা ও বুকে ফিকে ডোরা আছে, সব ঋতুতেই চোখ গাঢ় লাল, ঠোঁট কালো এবং পা, পায়ের পাতা ও নখর স্লেট-কালো। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ডানা, মাথার চাঁদি, কাঁধ-ঢাকনি ও পিঠে কালচে বাদামি ডোরা থাকে। ৫ টি উপপ্রজাতির মধ্যে C.b.bengalensis বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব- বাংলা কুবো উঁচু ঘাসের জমি, নল বন, ঘন গুল্ম, ঝোপ ও চা বাগানে বিচরণ করে। সচরাচর একা বা জোড়ায় থাকে। মাটিতে চুপিসারে হেঁটে এবং হঠাৎ শিকারকে ঠোঁট ও পা দিয়ে চেপে ধরে শিকার করে। খাবার তালিকায় ফড়িং ও অন্যান্য বড় পোকা রয়েছে। ওড়ার চেয়ে দৌড়াতে পছন্দ করে। ভোরে ও গোধূলিতে বেশ কর্ম তৎপর থাকে। দুটি অনুক্রমিক স্বরে ডাকে- কুপ-কুপ-কুপ কুরুক-কুবুক-কুরুক। মার্চ-অক্টোবর মাসে প্রজননকালে পূর্বরাগে ছেলে পাখি লেজ খাড়া করে ও বাকায়। ভূমির কাছাকাছি ঘন ঝোপে পল্লব, পত্র ফলক ও ঘাসের ডগা দিয়ে পার্শ্ব প্রবেশ পথসহ ডিম্বাকার বাসা বানায়। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ২-৪টি, মাপ ২.৮ x ২.৩ সেমি।
3 Lesser Coucal  (Centropus bengalensis) Juvenile
বিস্তৃতি- বাংলা কুবো বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের ঝোপঝাড়ে ও চা বাগানে পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীনের দক্ষিনাঞ্চল ও ফিলিপাইনে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ ব্যতীত সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া যায়।
অবস্থা- বাংলা কুবো বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে পরিচিত। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এ প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় নি।
বিবিধ- বাংলা কুবোর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার গজাল-পা ( গ্রিক-kentron= গজালের মত নখর, pous= পা,bengalensis= বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্র ২টি ইনাম আল হকের তোলা।
৫) বাংলা ডাহর, Bengal Florican, Houbaropsis bengalensis
Douglas_Hamilton,_The_Bengal_Florican...36
বর্ণনা- বাংলা ডাহর বাংলাদেশে থেকে হারিয়ে যাওয়া বড় আকারের ভূচর পাখি, ( দৈর্ঘ্য ৬৬ সেমি, ওজন ২ কেজি, ডানা ৩৫.৫ সেমি, ঠোঁট- ৩.৭ সেমি, পা ১৭.৫ সেমি)। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারায় পার্থক্য আছে, ছেলের মাথা ও ঘাড় মখমল কালো এবং সাদা ডানার আগা কালো, পিঠের বাকী অংশ কালো ও মেটে থেকে দারুচিনি পীতাভে মিশ্রিত, বুকে এক গুচ্ছ লম্বা পালক, দেহের নিচের দিকে মখমল বাদামি। মেয়েপাখি ছেলে পাখি থেকে আকারে কিছুটা বড়। পীতাভ ভ্রু-রেখা সমেত মাথার চাঁদি ঘন বাদামি ও পিঠে স্পষ্ট বাদামি রঙে কালো তীর-ফলকের দাগ, ঘাড়ের পাশে ঘন বাদামি সরু ডোরা ও দেহের নিচের দিক পীতাভ-সাদা, ডানার পালক ঢাকনি পীতাভ-সাদা ও ওড়ার পালকে বাদামি ডোরা। ছেলে ও মেয়ে পাখি উভয়েরই চোখ হলুদ, ঠোঁট ঘন বাদামি এবং পা ও পায়ের পাতা হলুদ। ২টি উপপ্রজাতির মধ্যে H.b.bengalensis এককালে বাংলাদেশে ছিল।
স্বভাব- বাংলা ডাহর বাদাবন, বন সংলগ্ন ঝোপের প্রান্তর ও বৃহৎ তৃণভূমিতে বিচরণ করে, ৪-৮টি পাখির ছোট দলে দেখা যায়। ঘাসে ও শস্যক্ষেতে ধীরে হেঁটে এবং ঠুকরে খাবার খায়, খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকামাকড়, টিকটিকি, ছোট সাপ, রসালো ফল, বীজ এবং ঘাসের ও শস্যের কচি ডগা।
ভোর ও গোধূলিতে এরা বেশী কর্মচঞ্চল থাকে এবং দলের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের জন্য ধাতব স্বরে ডাকে- চিক-চিক-চিক। মার্চ- জুন মাসে প্রজনন কালে ছেলেরা লাফ দিয়ে উঁচু ঘাসের উপর ডানা ছড়িয়ে নিজেদের প্রদর্শন করে এবং তৃণভূমির মাটি সামান্য খুঁড়ে ঘাস বিছিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো জলপাই-সবুজ, বেগুনি ফুসকুড়ি ও ফিকে বেগুনি-ধূসর দাগ আছে, সংখ্যায় ২টি, ৬.৪ x ৪.৬ সেমি। ৩০ দিনে ডিম ফোটে।
বিস্তৃতি- বাংলা ডাহর বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি, ঢাকা বিভাগের তৃণভূমিতে পাওয়া যেত, পাখিটি এখন আর নেই। বর্তমানে নেপাল, উত্তর-পূর্ব ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা- বাংলা ডাহর বিশ্বে বিপন্ন ও বাংলাদেশে অপ্রতুল তথ্য শ্রেণীতে রয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা ডাহরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার ডাহর ( আরবি hubura= ডাহর, opsis= চেহারা, bengalensis= বাংলার)।
ব্যবহৃত চিত্রকর্ম নেট হতে সংগৃহীত।
৬) বাংলা রাঙাচ্যাগা, Greater Painted Snipe, Rostratula bengalensis
বর্ণনা- বাংলা রাঙাচ্যাগা ছেলেমেয়ের প্রচলিত ভূমিকা উল্টে নেয়া অনন্য জলচর পাখি, ( দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি, ওজন ১২৫ গ্রাম, ডানা ১২.৫ সেমি, ঠোঁট ৪.৪ সেমি, পা ৪.৩ সেমি, লেজ ৪ সেমি)। ছেলের চেয়ে মেয়ে পাখি বেশী রঙ্গিন। অথচ পাখি জগতে এর উল্টোটিই হয় সবসময়, দেখুন পুরুষ পাখির ছবি-
6 Greater Painted Snipe  (Rostratula bengalensis) Male
এবং তার সঙ্গিনীর ছবি-
6 Greater Painted Snipe  (Rostratula bengalensis) Female
প্রজননকালে মেয়েপাখির পিঠের দিক কালচে ধাতব জলপাই-সবুজ অথবা ব্রোঞ্জ সবুজ, দেহের নিচের দিক সাদা, সাদাটে চোখের বলয়, চোখের পেছনে সাদা দাগ, মাথার চাঁদির ডোরা হালকা পীত বর্ণের। গাল, গলা, ঘাড়র পাশে ও বুক তামাটে কিংবা মেরুন, বুকের নিচের ফিতা কালো এবং দেহতলের শেষাংশ সাদা এবং ওড়ার সময় কালচে পিঠে স্পষ্ট সাদা V চিহ্নিত দাগ দেখা যায়। প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেপাখির বর্ণবিন্যাস একই ধরনের কিন্তু অনুজ্জল এবং ডানার পালক-ঢাকনিতে এক জোড়া বড় সোনালি-পীতাভ তিলা আছে। ছেলে ও মেয়ে পাখি উভয়ের চোখ বাদামি, লম্বা কমলা-বাদামি ঠোঁট নিচের দিকে সামান্য বাঁকানো, পা জলপাই-সবুজ। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ডানার পালক-ঢাকনি ধূসর ও পিঠের মোটা তিলা ফিকে পীতাভ। ২টি উপপ্রজাতির মধ্যে R.b.bengalensis বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব- বাংলা রাঙাচ্যাগা জলাভূমি, স্যাঁতস্যাঁতে তৃণভূমি ও প্লাবিত ধানক্ষেতে বিচরণ করে, সচরাচর এক, জোড়ায় কিংবা বিচ্ছিন্ন ঝাঁকে থাকে। অগভীর পানিতে হেঁটে ও মাটিতে ঠোঁট ঢুকিয়ে খাবার খায়, খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকা, শামুক, চিংড়ি জাতীয় প্রাণী, কেঁচো, বীজ ও শস্যদানা।
ভোর ও গোধূলিতে এরা বেশী কর্মচঞ্চল হয়, ওড়ার সময় ফাঁপা গলায় পুনঃ পুনঃ ডাকে – পৌ—পৌ। জুলাই- সেপ্টেম্বর মাসে প্রজননকালে মেয়েপাখি গোধূলিতে গান গাওয়া শুরু করে এবং পূর্ণিমাতে পুরো রাত গম্ভীর গলায় পুনঃ পুনঃ গায় উওক—উওক। ( পাখি জগতে সাধারণত ছেলেরাই গান গায়, এটি বিরল ব্যতিক্রম)
ঘাসের গোঁড়ায় ঘাস বিছিয়ে বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো হলদে, সংখ্যায় ২-৫ টি, মাপ ৩.৬ x ২.৫ সেমি। ছেলেপাখি একাই ডিমে তা দেওয়া ও ছানাপালার কাজ করে, ১৫-২১ দিনে ডিম ফোটে। মেয়েপাখি অন্য ছেলের সাথে মিলিত হইয়ে অন্য বাসায় আবার ডিম পাড়ে।
বিস্তৃতি- বাংলা রাঙাচ্যাগা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের জলাভূমিতে পাওয়া যায়। আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত উপমহাদেশসহ এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি, তবে ভুটান ও মালদ্বীপে নেই।
অবস্থা- বাংলা রাঙাচ্যাগা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা রাঙাচ্যাগার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার বড়ঠুঁটো ( ল্যাতিন rostratus=বড় ঠোঁটের, bengalensis= বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্র ২টি ইনাম আল হকের তোলা।
৭) বাংলা টিকিপানচিল, Lesser Crested Tern, Sterna bengalensis
7 Lesser Crested Tern  (Sterna bengalensis)
বর্ণনা- বাংলা টিকিপানচিল কালো ঝুটি ও ধূসর ডানার সামুদ্রিক পাখি ( দৈর্ঘ্য ৪৩ সেমি, ডানা ২৮.৫ সেমি, ঠোঁট ৫.৩ সেমি, পা ২.৮ সেমি, লেজ ১৩.৫ সেমি)। প্রজনন ঋতুতে প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক ফিকে ধূসর, দেহের নিচের দিক একদম সাদা, কপাল, মাথার চাঁদি ও ঝুটি কালো, কোমর ডানা উপরি-ঢাকনি ও লেজের মাঝখানের পালক ধূসর এবং ডানার ওড়ার প্রথম পালক কালচে, ঠোঁট কমলা থেকে কমলা-হলুদ ও চোখ বাদামি, পা ও পায়ের পাতা কালো এবং পায়ের তলা হলদে থাকে। প্রজননকাল ছাড়া এর কপাল সাদা ও ঠোঁট ফিকে হলদে-কমলা হয়। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক কিছুটা বাদামি-ধূসর, দেহের নিচের দিক সাদাটে, ডানার প্রান্ত-পালক কালচে, ডানায় কালচে ডোরা, কাঁধ-ঢাকনি, ডানা-ঢাকনি ও গোড়ার পালকে তিলা রয়েছে। ৩ টি উপপ্রজাতির মধ্যে S.b.bengalensis বাংলাদেশে রয়েছে।
স্বভাব- বাংলা টিকিপানচিল সাগর তীর, পোতাশ্রয়, জোয়ারীয় খাঁড়ি ও লবণ চাষের জমিতে বিচরণ করে,দলবদ্ধ পাখি ও সচরাচর বিচ্ছিন্ন দলে থাকে, প্রায়ই বাতাসি পানচিলের সাথে দেখা যায়। জলের সামান্য উপরে উড়ে ছোঁ মেরে এদের খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়, খাদ্যতালিকায় প্রধানত রয়েছে মাছ ও চিংড়ি। দৃঢ় ভাবে ডানা নেড়ে উড়ে চলে এবং মাছারাঙ্গার মতই শূন্যে মুহূর্তের জন্য স্থির ভেসে থাকতে পারে, প্রায়ই গভীর সাগরে উড়ে যায়, জলে ঝাপ দেবার আগে সচরাচর ডাকে- ক্রীক- ক্রীক এবং ভয় পেলে উচ্চ শব্দে কিচমিচ করে ডাকে।
7 Lesser Crested Tern  (Sterna bengalensis) flock
মালদ্বীপ ও পারস্য উপসাগরের চরে মে-জুন মাসে প্রজননকালে ছেলেপাখি মেয়েকে মাছ এনে উপহার দেয় এবং মাটিতে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিম সংখ্যায় ১-২ টি।
বিস্তৃতি- বাংলা টিকিপানচিল বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলে পাওয়া যায়। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত উপমহাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এরা বিস্তৃত তবে নেপাল ও ভুটানে পাওয়া যায় না।
অবস্থা- বাংলা টিকিপানচিল বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণীতে রয়েছে। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা টিকিপানচিলের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ কমলা রঙের পানচিল ( পুরনো ইংরেজি starn= কমলা, bengalensis= বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্র ২টি ইনাম আল হকের তোলা।
৮ ) বাংলা বাবুই ,Black-breasted Weaver, Ploceus benghalensis
black_breasted_weaver4
বর্ণনা – বাংলা বাবুই কালো বুক ও মোটা ঠোঁটের ছোট বুননবিদ পাখি ( দৈর্ঘ্য ১১ সেমি, ওজন ২০ গ্রাম, ডানা ৭ সেমি, ঠোঁট ১.৬ সেমি, পা ২ সেমি, লেজ ৪ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ও ছেলে পাখির চেহারা ভিন্ন। প্রজননকালে ছেলেপাখির মাথার চাঁদি হলুদ, কালচে লম্বালম্বি দাগসহ পিঠের শেষাংশ কালচে বাদামি, কান-ঢাকনি ও গলা সামান্য বাদামি কিংবা সাদা, বুক বরাবর প্রশস্ত কালো ফিতা এবং পেট সাদাটে হয়। প্রজননকাল ছাড়া ছেলে ও মেয়েপাখির পেট পীতাভ, দেহের উপরিভাগের পিছনের অংশ লম্বালম্বি গালকা হলুদ দাগসহ কালচে বাদামি, ভ্রু-রেখা হলুদ, ঘাড়ের পিছনে কালচে রেখা ও ছোট্ট হলুদ পট্টি রয়েছে, কান-ঢাকনি বাদামি, হলুদ গলা ও উপ-গুম্ফ এলাকা কালচে, এবং বুকের কালচে-বাদামি ফিতা অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। ছেলে ও মেয়ে উভয়ের চোখ হালকা বাদামি, ঠোঁট ফিকে খয়েরি এবং পা ও পায়ের পাতা হলদে মেটে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি চেহারা মেয়েপাখির মত তবে বুক অপেক্ষাকৃত ফিকে।
স্বভাব- বাংলা বাবুই নল, মৌসুমে প্লাবিত উঁচু ঘাস ও আবাদি জমিতে বিচরণ করে, এরা দলবদ্ধ পাখি এবং সচরাচর ঝাকে থাকে। তৃণভূমি, শস্য-ক্ষেত ও প্রান্তরে এরা খাবার খোঁজে, খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ ও পোকামাকড়।
সচরাচর এরা মৃদু স্বরে পুনঃপুনঃ ডাকে চিট চিট এবং গলা ছেড়ে কোমল কণ্ঠে গায় – সি সি সিসিক সিসিক সিক সিক। ছেলেপাখি গান গায়, মাথা নত করে এবং এর হলুদ ঠোঁট এবং চাঁদি দেখায়। জুন সেপ্টেম্বর মাসে প্রজনন মৌসুমে পানির ধারে উঁচু ঘাস কিংবা নলে পাতা ও ঘাসের সূক্ষ লম্বা ফালি দিয়ে ঝোলানো বাসা বুনিয়ে এরা ২-৪টি ডিম পাড়ে।
বিস্তৃতি- বাংলা বাবুই বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের হাওর এবং বড় পাড়ে পাওয়া যায়। বিশ শতকের মাঝামাঝি কাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ছিল এমন তথ্য রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা – বাংলা বাবুই বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণীতে রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা বাবুইএর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার বাবুই (গ্রিক plokeus=বাবুই, benghalensis=বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্র নেট হতে সংগৃহীত।
৯) বাংলা ঘাসপাখি, Rufous-rumped Grassbird , Graminicola bengalensis
rufousrumpedgrassbird131aug08
বর্ণনা- বাংলা ঘাসপাখি একটি ডোরাযুক্ত লালচে-বাদামি পোকা-শিকারি পাখি ( দৈর্ঘ্য ১৬ সেমি, ডানা ৬ সেমি, ঠোঁট ১.৪ সেমি, পা ২.৪ সেমি, লেজ ১৪.৭ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির লালচে-বাদামি পিঠে মোটা কালো লম্বা দাগ থাকে, তবে কোমর ও ডানায় রয়েছে লালচে রঙের দাগ। এর ঘাড়ের পিছনের লম্বা সাদা দাগ কিংবা পীত বর্ণের, ভ্রু-রেখা সাদা, দেহতলের অধিকাংশ সাদা কিন্তু বগল ও বুকের পাশ লালচে-পীত বর্ণের, ঘোর কালচে-বাদামি প্রশস্ত লেজের আগা সাদা, এর অনেকাংশ নিচে থেকে দেখা যায়, চোখ লালচে-বাদামি, পা ও পায়ের পাতা মেটে-বাদামি এবং ঠোঁট বাদামি। ৩ টি উপপ্রজাতির মধ্যে G.b.bengalensis বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব- বাংলা ঘাসপাখি সাধারণত পানির ধারের নল ও উঁচু ঘাসে বিচরণ করে, খুব নিভৃতচারী ও দিবাচর পাখি। প্রজনন মৌসুম ছাড়া সচরাচর ঘন ঘাসে লুকিয়ে থাকে। ভুম, নলের ঝোপ ও ঘাসে খাবার খোঁজে।
খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকামাকড়। বিরক্ত হলে অনিচ্ছায় ঘাসের আড়াল ছেড়ে সামান্য উড়ে ঘাসে লুকিয়ে থাকে। প্রজনন মৌসুম ছাড়া ডাকে- এর- উয়িট-উয়িট-উয়িট। জুলাই-আগস্ট মাসে প্রজননকালে ছেলেপাখি নলের চূড়া থেকে শ্রুতিকটু গান গায় এবং নলের উপর দিয়ে ওড়ার সময় একটু করে গান ধরে।
গভীর জলে দণ্ডায়মান ঘন ঘাসে নলখাগড়া এবং উদ্ভিদের আঁশের উপর সূক্ষ ঘাসের শিকড় বিছিয়ে গভীর বাটির মত বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৪টি, মাপ ১.৭ x ১.৪ সেমি।
বিস্তৃতি- বাংলা ঘাসপাখি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি, প্রধানত সিলেট বিভাগের হাওরের চারপাশের নলে পাওয়া যায় এবং উনিশ শতকে ঢাকা বিভাগে ছিল এমন তথ্য আছে। ভারত, নেপাল, দক্ষিণ-পূর্ব চীন, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা- বাংলা ঘাসপাখি বিশ্বের প্রায় বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণীতে রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ- বাংলা ঘাসপাখির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার ঘাসপাখি( ল্যাতিন graminis =ঘাস, bengalensis= বাংলার)
ব্যবহৃত আলোকচিত্র নেট হতে সংগৃহীত।
১০) বাংলা হুতোমপ্যাঁচা, Indian Eagle-Owl, Bubo bengalensis
543px-Indian_eagle_owl_wings_spread
অতিকায় এই পেঁচাটিকে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে দেখা যায় নি, এমনকি কোন দিন বাংলাদেশে ছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তবে কাছাকাছি অঞ্চলে হিসেবে ভারতের আসামে বাংলা পেঁচাকে দেখা গেছে। যদি কোনদিন বাংলাদেশে তার আগমনের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে নিয়েও অন্যদের মত তথ্যময় ফিচার আসবে আশা রাখি। ব্যবহৃত আলোকচিত্র নেট হতে সংগৃহীত।
১১) Red-cheeked Cordonbleu, Uraeginthus bengalus
Cordonbleu
এই রূপবান ক্ষুদে পাখিটির নাম বাংলার নামে রাখা হলেও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে পাখিটি আফ্রিকান সাহারা অঞ্চলের! কোন ভাবে বিজ্ঞানীদের ভ্রান্ত ধারণা হয়েছিল যে পাখিটি বাংলার! ব্যবহৃত চিত্রকর্মটি নেট থেকে সংগৃহীত।

সুত্রঃhttp://bornelegant.wordpress.com/2012/05/19/
বিস্তারিত পড়ুন ... »

সাহারার পেছনে যাহারাই থাকুন, আমরা দেবই পাহারা

•
আমার এক ঘনিষ্ট বোকা বন্ধু আজ সন্ধ্যায় মিনতি করে বলেছে, আমি যেন সাহারা গ্রুপের ব্যবসায়ী উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো উচ্চবাচ্য না করি। আমি ভাবলাম, সে বোধহয় সাহারা গ্রুপের ঢাকা অফিসে চাকুরি টাকুরি নিয়ে ফেলেছে, তাই এই মিনতি। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা মিনতির যে কারণটি সে বলল, তাতে সত্যি সত্যই চমকালাম। সে বলল, ‌'দোস্ত, ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বললে তুই যে কোনোদিন গুম হয়ে যাবি। ইন্ডিয়া এদেশে তাদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো কাজ করতে তৎপর। বারবার ঘু ঘু ধান খেয়ে গেলেও ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ধান খেতে যাস না, পরাণে বধ হয়ে যাবি।'

আমার চমকাবার কারণ এখানেই। আমি এখনও বিশ্বাস করি না যে ভারতের বিরুদ্ধে একটা কিছু লিখলেই কেউ এই দুনিয়া থেকে নাই হয়ে যেতে পারে। আমার মতো তুচ্ছ লেখকের তুচ্ছ ব্লগ পড়ার মতো সময়ও কোনো বড় মানুষের আছে, এটাও আশা করার কোনো কারণ নেই।

কিন্তু সাধারণ মানুষের অনেকেই হয়তো তা-ই ভাবে,নইলে আমার এই বন্ধুটি এরকম করে বলত না। আমি আমার পাঠককে নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, এই বন্ধুটি বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সমর্থক নয়, সুতরাং অভ্যস্ত রাজনৈতিক চিন্তা থেকে এই ভাবনা আসেনি।

ভারত সম্পর্কে এরকম ভীতি যদি ছড়াতে থাকে সেটি সুখের কথা নয়। কিন্তু দিনে দিনে এই ভীতি বাড়ছে, এটাও বোধহয় এক দুঃখজনক বাস্তবতা। কেন এমন হচ্ছে সেটা বিতং করে লেখার আগ্রহ পাচ্ছি না, আমরা সবাই তা কমবেশি জানি। আজকেও জানলাম, কলকাতার জামাই ষষ্ঠিতে যাতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় এজন্য মমতা বন্দোপাধ্যায় নাকি ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে ফেলেছেন। সুতরাং তিস্তার পানি আসুক কি না আসুক, ফারাক্কার বাঁধে ছোট্ট এক ফাটল নিয়ে মমতা যতই নোংরামি করুন, আমরা দিদিকে জামাই ষষ্ঠির ইলিশ দিতে গাড়ি ঠিকই রওনা করিয়ে দিয়েছি। নিজের দেশের চেয়ে পরের দেশের প্রতি প্রেমটা যে আমাদের বেড়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে সতর্ক হওয়ার কারণ রয়েছে।

যাই হোক, সংক্ষেপে মূল কথায় চলে আসি। আজকে সাহারা গ্রুপের প্রধান ব্যক্তি সুব্রত রায় সাহারা হোটেল রূপসী বাংলায় তার বাংলাদেশী কোম্পানির শুভ উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখবেন শেখ সেলিমের সুযোগ্য পুত্র শেখ ফাহিম। এই নিয়োগ আবার আড়ম্বরের সঙ্গে হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিজনেস কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে ফাহিমের হাতে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে এদেশে সাহারা গ্রুপের গতি শুধু চলা শুরু করবে না, রীতিমতো দৌঁড়াবে। সে দৌঁড়াক, সবাই ব্যবসা বানিজ্য করে খাক, আমার আপত্তি নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কতটাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সাহারা গ্রুপ? মাত্র ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন তাঁরা। এই যে আবাসন, আইটি, পর্যটন, চিকিৎসা সব ব্যবসায় একেবারে ফর্দাফাই করে দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং দেখাচ্ছেন জনাব সাহারা বাবু, এর বাকি টাকা আসবে কোথা থেকে? বাংলাদেশ থেকেই।

সাহারা প্রথমে শুরু করতে চাচ্ছে আবাসন ব্যবসা দিয়ে। গোটা একটা নগর গড়ে তোলার জন্য তাঁরা ৩ লাখ বিঘা জমি চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন নদী ড্রেজিং করে জায়গা তৈরি করে দেয়া সম্ভব। বাপরে বাপ।

যাক গে, আমি এই প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছি না যে জমি যদি দেয়াই যায়, তাহলে সাহারা লাগবে কেন, একটা নগর গড়ে তুলতে তো সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছাই যথেষ্ঠ হওয়ার কথা। কিছুদিন আগে পূর্বাচলের জমি নিয়ে যেমন কাড়াকাড়ি দেখেছি, তাতে নিশ্চিত করে বলা যায় তেমন নগরী গড়ার উদ্যোগ নিলে এদেশের মানুষের টাকাতেই সেটি তৈরি করা সম্ভব। প্লট বরাদ্দের আবেদনের সময় ভিড়ে ঢাকা শহরে যানজট লেগে যায়। ইনফ্যাক্ট সাহারা তো তা-ই করবে। কইয়ের তেলে কই ভেঁজে আবাসনের ব্যবসা তো এদেশে হচ্ছেই।

তবে এই ব্লগ লেখার কারণ আসলে এসব বকর বকর করা নয়। এই ব্লগ লেখার আসল কারণটি এখন বলি। সুব্রত রায় সাহারার একটা কথা আমার ভালো লাগেনি।

তিনি সুন্দরবনের পাশেও একটা টুরিস্ট নগরী গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বিষয়টি যে সুবিধার নয়, সেটি তার নিজের কথাবার্তাতেই আশংকা জেগেছে। তিনি পরিবেশবাদীদের বিষয়ে অত্যন্ত অপমানজনক ভাবে বলেছেন, 'সুব্রত সাহারা বলেন, বেশিরভাগ পরিবেশবাদী শুধু শুধুই ঝামেলা করেন, তারা সমাধান দেন না। শুধু ঝগড়া করেন। তাই সুন্দরবনে পর্যটন সিটিতে তারা বাধা দিলেও সমস্যা হবে না। কারণ তারা অনেকেই তো দোকান খুলে বসে আছেন। ভারতেও তারা অনেক সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।’

আমার ব্লগ লেখার কারণ আসলে এটুকুই। আমি শুধু বলতে চাই, 'এক্সকিউজ মি জনাব সুব্রত বাবু। আপনি সম্ভবত ভুল জায়গায় নক করে ফেলেছেন। সুন্দরবন আমাদের পরিবেশবাদীদের একক সম্পত্তি নয়, এটি আমাদের গোটা বাংলাদেশের সম্পত্তি। আপনি নদী ড্রেজিং করে লাখলাখ একর জায়গায় নগর ফগর তৈরি করছেন, সেটা না হয় আমরা মুখ বন্ধ করে মেনে-ই নেব; কিন্তু সুন্দরবন নিয়ে চুদুর ভুদুর করতে আইসেন না। সুন্দরবন নষ্ট করে টাকা কামানোর কোনো স্বপ্ন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আজ রাতেই সেটি ভুলে যান। সুন্দরবন নিয়ে কিছু করতে চাইলে ব্যাপারটা হয়তো আপনার জন্য যথেষ্ঠ পরিমান অসুন্দর হয়ে পড়বে। আপনাকে কানে কানে বলে রাখি-সুন্দরবনে কিন্তু বাঘ থাকে।'

এই ফালতু ব্লগটা লেখার উদ্দেশ্য আর কিছু নয়, নগদা নগদ শুধু এই সতর্কবানীটুকু জারি করে দেয়া।

 সুত্রঃhttp://www.amarblog.com/arifjebtik/posts/148053
বিস্তারিত পড়ুন ... »

১৫ মে, ২০১২

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ: জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন

•
চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা প্রদানের মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বর্তমানে নিজেই মুমুর্ষ অবস্থায় নিপতিত। এখানে প্রতিবছরই নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয় এবং বছর শেষে চাকুরী ছেড়ে ডাক্তার চলে যায় অন্যত্র। কর্তৃপক্ষের টাকায় কেনা ঔষধ নিতে একই ব্যক্তিই ভুয়া রোগী হয়ে আসে প্রতিদিন। ১৯৮৪ সালে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখানে নেই কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কিংবা পদ্ধতিগতভাবে কার্যকর আলাদা আলাদা ওয়ার্ড। কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত নাম মাত্র পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালটি বর্তমানে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার কাজটুকুই করে যাচ্ছে। জরুরী বিভাগে গুরুতর কোন রোগী আসলে তা শুধু অন্যান্য হাসপাতালে রেফার করে দেয়া ছাড়া কর্মরত ডাক্তারদের কিছুই করার থাকে না। বর্তমানে হাসপাতালটিতে সর্বমোট নয়জন মহিলা ডাক্তারসহ আটাশ জন চিকিৎসক এবং একচল্লিশ জন নার্স কর্মরত রয়েছেন। অনুসন্ধান করে জানা যায় পদোন্নতির ব্যবস্থা না থাকা, কর্মরত চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নের সুবিধা না থাকা, দুর্নীতি, চিফ মেডিকেল অফিসারের পশ্চাতমুখী চিন্তাধারা এবং সঠিক পরিকল্পনা আর অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসরা দীর্ঘদিন এই হাসপাতালে অবস্থান করতে অনীহা প্রকাশ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তার বন্দর হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করেছিলেন পঁচিশ বছর আগে। জাতির দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের একজন মেধাবী ছাত্র এমবিবিএস পাশ করে বন্দর হাসপাতালে যে পদে যোগদান করেছিলেন পঁচিশ বছর পর তিনি একই পদে থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করছেন গত জানুয়ারীতে। জাতির সেরা মেধাবী ছাত্র হিসেবে ডাক্তারটিরও বিরাট সম্ভাবনা ছিলো কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ / প্রফেসর হয়ে কর্মস্থল থেকে অবসর গ্রহণ করার। শুধুমাত্র পরিবেশ এবং সুযোগের অভাবে তিনি জাতির চাহিদা পুরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যর্থতা যেমন রয়েছে, তেমনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ রাষ্ট্রিয় ব্যর্থতাও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এখানে কর্মরত চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ণে এফসিপিএস কিংবা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে নিরুৎসাহিত করার ঘটনাও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন মহিলা ডাক্তার বন্দর হাসপাতালে যোগদান করার পূর্বে শিশু বিষয়ে এফসিপিএস (শিশু), পার্ট - ১ পাশ এবং চুড়ানত্ম পরীক্ষা দেয়ার জন্য তিন বছর প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন। বন্দর হাসপাতালে যোগদান করে তিনি দেড় বছর চাকুরী করেছেন, তবুও ছুটি মিলেনি এফসিপিএস ফাইনাল পরীক্ষা দিতে যাওয়ার। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বন্দর হাসপাতালের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (সিএমও) তার জীবনের বঞ্চনার কথা ষ্মরণ করে বলেছেন, আমি কাউকে এফসিপিএস করার জন্য যেতে দেব না, এফসিপিএস এখানে প্রয়োজন নেই। অথচ বন্দর হাসপাতাল প্রবিধানে বা আইনী কোন বাধা না থাকা সত্ত্বেও তিনি সজোরে বাধা দিয়েছেন অপর মহিলা সহকর্মীর পেশাগত উন্নয়ণে। এ যেন অনেকটা শাশুড়ী তার শাশুড়ী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে ছেলের বউয়ের উপর প্রতিশোধ নেয়ার মতো। এই ঘটনার পরে অবশ্য অনেক কাটখড় পুড়ে প্রথম ব্যাচ হারিয়ে, অনেক টাকা গচ্ছা দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মহিলা ডাক্তারটি তার ন্যায্য পাওনা এফসিপিএস ফাইনাল কোর্সে যোগদানে সমর্থ হয় আরো ছয়মাস পরে। ডাক্তার হয়ে অন্য ডাক্তারের পেশাগত উন্নয়ণে বাধাগ্রস্থ করা কখনো কাম্য হতে পারে না। এখানে যে চিত্র দেখা যায়, নারীর উন্নয়ণে নারীরাই বাধাগ্রস্থ করছে সচেতন কিংবা অবচেতন মনে। এই হীনমন্যতা শুধু বঞ্চিত মহিলা ডাক্তারটির ব্যক্তিগত উন্নয়ণ বাধাগ্রস্থ করেনি, পুরো দেশের নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর উন্নয়ণসহ গোটা জাতির মানবসম্পদ উন্নয়ণে অপুরণীয় ক্ষতি সাধন করবে। এই বাধা চিকিৎসা জগতে একজন নারীর নেতৃত্ব অংকুরেই বিনষ্ট করার সমতুল্য মনে করছেন সচেতন মহল। এই ব্যাপারে অনেক চেস্টা করেও চিফ মেডিকেল অফিসার (সিএমও) অঞ্জনা দত্তের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। কর্মরত ডাক্তাররা যদি নিজের পেশাগত উন্নয়ণে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করতে না পারেন তাতে ব্যক্তিগত ক্ষতি যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে জাতিয় ক্ষতি। এতে করে দেশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটে পড়বে এবং একজন মেধাবীর মেধার অপচয়ও ঘটে।

বন্দরে কর্মরত প্রকৌশলীরা অহরহ দেশী-বিদেশী উচ্চতর প্রশিক্ষণ করার সুযোগ পেলেও ডাক্তারদের ক্ষেত্রে চরম উদাসীন্য পরিলক্ষিত হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বন্দর কর্তৃপক্ষ যন্ত্রের প্রতি যতটা মনোযোগী মানুষের প্রতি ততটা মনোযোগী নয়। যদিও যন্ত্র পরিচালনায় মানুষের সুস্থতা এবং কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রধান শর্ত। সুতারাং বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলীদের কর্মক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে হাসপাতালের উন্নয়ণ অপরিহার্য। চবক হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের পেশাগত উন্নয়ণ ছাড়া হাসপাতালের উন্নয়ণ কখনো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড়মাপের রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্টান। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমুলক সেবা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানটির কর্তব্য। বন্দর হাসপাতালে কর্মকতা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বন্দর এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। চবক হাসপাতাল শুরুতে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও বর্তমানে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত বাইরের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের অনেক ত্যাগ ও সহযোগিতা রয়েছে। বন্দর হাসপাতালটিতে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বাইরের জনগণের চিকিৎসা প্রাপ্তি বন্ধ করে দেয়ায় চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসকারী জনগণ বর্তমানে জরুরী চিকিৎসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভয়ংকরভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শহরের দক্ষিণভাগে সরকারী কোন গণহাসপাতাল কিংবা ভাল ক্লিনিক নেই যে, উক্ত এলাকার জনগণ বিপদ-আপদ, রাত-বিরাতে জরুরী চিকিৎসা নিতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, বিশাল অংকের বাজেটে পরিচালিত বন্দর হাসপাতালটিতে বন্দর এলাকায় বসবাসকারী জনগণ নয়, খোদ বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জরুরী চিকিৎসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির এই যুগে শুনতে হাস্যকর মনে হলেও সত্যি, হাসপাতালটিতে যে ডাক্তার দিয়ে ডায়াবেটিক্স চিকিৎসা প্রদান করেন একই ডাক্তার দিয়ে গাইনী, হৃদরোগসহ সকল রোগের চিকিৎসা পরিচালিত করা হয়। প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির সেই বিখ্যাত কবিরাজের মতো করে অসহায় চিকিৎসকরা এখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সচেতন জনগন শুনলে অত্যন্ত মর্মাহত হবেন যে, অর্থ আছে, স্থান আছে, সুযোগ আর সম্ভাবনা সবই আছে শুধুমাত্র পরিকল্পনা আর আন্তরিকতার অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালটি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ে কম সুযোগ আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল। বন্দর হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের অবস্থা বলা যায় অনেকটা “ফাইস্যা গেছি মন্‌কার চিপায়” ধরণের ত্রাহি অবস্থা। প্রতিবার বছর শুরুতে ডাক্তার নিয়োগ হয় আর অধিকাংশ ডাক্তারই নিঃশর্তে চাকুরী ছেড়ে চলে যান বছর শেষে। আবারও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসে, হাসপাতালটির অবস্থা না বুঝে আবেদন করেন অসংখ্য অভিজ্ঞ বা সদ্য পাশ করা ডাক্তার। বছর জুড়ে চলতে থাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগপ্রাপ্তির বছর না ফুরাতেই তারা বুঝতে পারে পেশাগত জীবন অন্ধকার। পদায়নের সুযোগ না থাকায় সারা জীবন মেডিকেল অফিসার হিসেবেই কালাতিপাত, ফার্মেসীর দোকানদারের মতো বসে বসে ঔষধের নাম লেখা ছাড়া বাইরের চিকিৎসা জগতের কোন কিছুর সাথে তাদের যোগাযোগ করার সুযোগ থাকেনা।বন্দরের যে ধরণের সুযোগ আর অর্থ আছে তা দিয়ে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশীপ ব্যবস্থায় শহরের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এই হাসপাতালটিকে একটি অত্যন্ত উন্নতমানের মিলিটারী হসপিটাল (সিএমএইচ) এর আদলে রূপান্তর করা সম্ভব। ইতিপূর্বে আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, বহুবার বহু আঙ্গিকে এই হাসপাতালটিকে আধুনিক যুগপোযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া অথবা বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি করা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বাংলাদেশে বিশেষ করে সরকারী মেডিকেল কলেজে যে সব ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয় তারা নিঃসন্দেহে দেশের সেরা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী। দেশের এই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরিবার, দেশ ও জাতি অনেক কিছু আশা করেন এবং পাওয়ার অধিকারও রাখেন। যে পরিবারের একটি ছেলে কিংবা মেয়ে ডাক্তারী পড়েছেন সে পরিবারই সত্যিকারভাবে বুঝতে পারেন যে, একজন এমবিবিএস ডাক্তার তৈরীতে কী পরিমাণ কাটখড় পোড়াতে হয়। দেশের এই সম্ভবনাময় মেধাগুলোর পেশাদারিত্বের উন্নয়ণ বাধাগ্রন্থ করা, বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথ রূদ্ধ করা দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। এটা অনেকটা পেশাগত ডিগ্রি প্রাপ্ত এমবিবিএস ডাক্তারদের অধিকার লংঘন করার শামিল। বন্দরের পাশ্ববর্তী আগ্রাবাদ এলাকায় বেসরকারী উদ্যোগে পরিচালিত চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল যেভাবে সীমিত সম্পদ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে তা বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুকরণ করতে পারেন। একজন এমবিবিএস পাশ ডাক্তার অবশ্যই অধিকার রাখেন; কর্ম দক্ষতা, প্রশিক্ষণ আর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সহকারী প্রফেসর, প্রফেসর হওয়ার মাধ্যমে নিজেকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষ (চবক) দেশের এধরণের মেধাবীদের বন্দরের লজিং মাস্টারের মতো ফেলে রেখে নিতান্তই তাদের অধিকার খর্ব করছেন, পাশাপাশি দেশের মেধা সম্পদ নষ্ট করছেন - যা মোটেও কাম্য নয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এই হাসপাতালের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারের বিশ সিটের একটি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনষ্টিাটউটও চালু করতে পারেন, যাতে করে আমাদের দেশের চিকিৎসক আর নার্স তৈরীর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা পুরণে সহায়ক হয়। বন্দরে নিয়োগকৃত ডাক্তারদের চাকুরীর বয়স এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে প্রমোশনের স্তর সৃষ্টিকরণ, একই ডাক্তার দিয়ে যাবতীয় জটিল রোগের চিকিৎসার সনাতনী পদ্ধতি পরিহার, প্রতিটি ডাক্তারকে আলাদা বিষয়ে নিয়োজিত করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এফসিপিএস ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ তৈরীর পথ সৃষ্টি করা যায়। এধরণের যুগোপযোগী পরিকল্পনা কিংবা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাসপাতালটির উন্নয়ণ ঘটানো গেলে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও আশ-পাশের জনসাধারন যেমন সূ-চিকিৎসার সুযোগ পাবে, তেমনি দেশে সৃষ্টি হবে বিভিন্ন রোগের ভাল ভাল বিশেষজ্ঞ। বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনতিবিলম্বে পরিবর্তন না করলে প্রতিবছরই ডাক্তার নিয়োগ হবে আর অল্প ক’দিন পর চলে যাবে অন্যত্র। অবশ্য ডাক্তারদের এই গমনাগমনে বন্দর, দেশ কিংবা চিকিৎসা পদ্ধতির বিশাল ক্ষতি সাধিত হলেও একশ্রেনীর অসাধু দুস্কৃতিকারীর লাভ আছে বলে অনেকেই মনে করেন। বর্তমানে হাসপাতালে যে সমস্ত ডাক্তাররা কর্মরত আছেন তারা অনেকটা পিঞ্জিরাবন্দী পাখি কিংবা বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গীর মাস্টাররের মতো। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা ঔষধগুলোর নাম লিখাই যেন দেশের এই সেরা মেধাবী মানুষগুলোর কাজ। চট্টগ্রামের সাংসদ, রাজনীতিবিদ, বন্দরের সিবিএ নেতৃবৃন্দ, নৌ-মন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ চট্টগ্রামের সচেতন জনগণ, সাংবাদিক ভায়েরা এগিয়ে আসলে পরিবর্তন আশা করা যায়। আসুন আমরা জাতির এই মেধাবী মানুষগুলোর মেধা ধ্বংস করা পরিহার করে মেধাগুলো আরো শানিত করে জাতীয় জীবন সমৃদ্ধ করি । মেধার সন্মান আর যথোপযুক্ত ব্যবহার ছাড়া দেশে মেধার বিকাশ কখনো সম্ভব নয়। আবহাওয়া পরিবর্তন আর ওজন স্তরের ক্ষয় হওয়ায় রোগের প্রকৃতি ও জটিলতা পরিবর্তনের সাথে সাথে চিকিৎসা পদ্ধতি বিশেষায়িত করার কোন বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল নিজেই গুরুতর অসুস্থ: জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন।



সুত্রঃ  http://prothom-aloblog.com/posts/55/158982(ঈষৎ সংক্ষেপিত)


বিস্তারিত পড়ুন ... »

২৯ মার্চ, ২০১২

মাচু পিঁচু

•
388243_10151150291740497_608590496_22718649_884191442_n
আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেসের তারা জ্বলা আকাশের নিচে চুটিয়ে আড্ডা মেরে ফুরফুরে মেজাজে নিদ্রাদেবীর কোলে নিজেকে সমর্পণ করে ছিলাম, খুশী হব নাই বা কেন- একে তো আড্ডার সঙ্গী আর পানীয়ের খানিকটা ব্যাপার আছে, তার চেয়েও ট্রিলিয়নগুণ আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে পেরুর আন্দেজের কোলের এই ছোট শহরটিই বিশ্বের বিস্ময় ইনকা সভ্যতার পাহাড়ি শহর মাচু পিঁচু যাবার পথে শেষ সভ্যতার ছোঁয়া লাগা জনপদ, এরপর বাসে চেপে বা পদব্রজে সোজা সেই পাহাড় শীর্ষে অবস্থিত শহরে গমন।
কবে থেকে শুরু হয়ে মাচু পিঁচুর সাথে এই সখ্য, সাল মনে পড়ে না কিন্তু পড়ি তখন প্রাইমারী স্কুলে, বড়দের অদ্ভুতুড়ে জগতের মায়াবী আকর্ষণ নিয়ে হাতছানি দিত কিছু আজব জিনিস, তার মধ্য একটি ছিল রহস্য পত্রিকা নামের এক আজব পত্রিকা, সেবা প্রকাশনীর মাসিক মুখপাত্র। সেটির মলাটে ছিল এক বিশ্রামরত বাঘের ছবি, সেই সাথে লেখক শওকত হোসেনের সাক্ষাৎকারের কথা। ভিতরের এক লেখাতে ছিল বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার না-পাওয়া গুপ্তধনের ফোলানো-ফাঁপানো বর্ণনা, সেখানে ছিল এক ভাঙ্গাচোরা শহরের সাদা কালো ছবি, নিচে লেখা- মাচু পিঁচু।
কেমন অদ্ভুত একটা ছন্দময় মজার নাম- মাচু পিঁচু, সেই প্রথম নামটির সাথে পরিচয়, এর পরে কত পত্রিকা, বই, তথ্যচিত্র, চলচিত্রে ( সত্যজিৎ রায়ের আগন্তকসহ) এর নাম শুনেছি তার লেখাজোখা নেই। এর মোহনীয় আকর্ষণে জড়িয়ে যাবার পর থেকেই স্বপ্ন দেখেছি একদিন, কোন এক দিন আন্দেজের পাহাড়ি এই শহরে যেতেই হবে আমাকে।
403577_10151238952950497_608590496_23023864_421166918_n
সেই লম্বা যাত্রা শেষ হয়েছিল গতকাল সন্ধ্যেয় আগুয়াস ক্যালিয়ান্তসের রেল ষ্টেশনে। কোন মতে সুপার ট্রাম্প হোস্টেলে মাথা গুজে পরের দিন ভোরে হিরাম বিংহ্যাম সড়ক ধরে মাচু পিঁচুর পথে আরোহণ চলবে এমনটাই ছিল পাকা পরিকল্পনা, সেই মোতাবেক স্থানীয় ইনকা গাইড এসে সব বুঝিয়ে দিয়ে গেল, সেই সাথে জানাল মাচু পিঁচুর পাশের সুউচ্চ শৃঙ্গ হুয়ানাপিচুতে তারা আরোহণের অনুমতি জোগাড় করে দেবে, কারণ হুয়ানা পিঁচুতে প্রতিদিন মাত্র ২৫০ জন পর্যটক প্রবেশ করতে পারে, যেখানে মাচু পিঁচুতে ৪০০০ জন, আর সেইখান থেকেই এক চিলতে স্বর্গের মতই মেঘের অপার্থিব রাজ্যে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায় মাচু পিঁচুকে। শুধু শর্ত একটাই, পরদিন কাক- চিল- শকুন ওঠার আগেই আমাদের উঠে পৌঁছাতে হবে মাচু পিঁচুর মূল ফটকে।
ভোর ৫ টায় অ্যালার্ম দেয়াই ছিল , কিন্তু বৃষ্টিপাতের প্রবল অস্তিত্ব জানান দেয়া উৎপাতে তার অনেক আগেই ঘুম ঠেলে সেই জায়গা দখল করে নিল উৎকণ্ঠা আর তার চিরসঙ্গী অধীর অপেক্ষা। এক সময় বাস ছেড়ে যাবার সময় হয়ে গেল, চলে গেল গাইডকে দিয়ে রাখা সময়টুকু, ঘড়ির কাঁটা ৫টা থেকে ৯টা পেরিয়ে গেল, কিন্তু আকাশের কান্নার বিরাম নেই, মনে হচ্ছে আদি গোষ্ঠীদের মত আমাদেরও সূর্যদেবতাকে যোগ তপস্যা বলে মেঘের আড়াল থেকে সামনে আনার জন্য যজ্ঞে বসতে হবে।
এমনিতে হয়ত খারাপ লাগত না, হোস্টেলের বারান্দা দিয়ে সবুজ পাহাড় আর মেঘের মিতালি এই ধূসর সকালেও অপূর্ব লাগছে, একটা আলসে দিন এইভাবে গড়িয়ে গেলে এমন কোন ক্ষতি নেই, কিন্তু বিকেলে মাচু পিঁচুর ট্রেনে ফিরতে হবে, টিকিটের পুরো টাকা অগ্রিম দেওয়াতো আছেই, পরের সীট আবার কবে ফাঁকা পাওয়া যাবে কেউই বলতে পারে না, তাই এত কাছে এসে এমন আবহাওয়া মানে জগতের শ্রেষ্ঠ পরিহাস- মাচু পিঁচুর নিচে এসে দর্শন না পেয়ে ফেরত যাওয়া!
ঝুম বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে যেতে কোন আপত্তি নেই, সমস্যা হচ্ছে ক্যামেরা ( স্থির ও ভিডিও) নিয়ে, ওদের ছাড়াই বা যায় কি করে! তবে সেরকম অবস্থা হলে সব ছাড়াই( এমনকি পরনের বস্ত্র) যেতে রাজী আছি, তিন বন্ধু মিলে বেশ খানিকক্ষণ ঝিমানো আড্ডা মেরে, এন্তার কোকা চা আর কফি ধ্বংস করে মোড়ের দোকানে থেকে সবচেয়ে সস্তা প্লাস্টিকের পনচো কিনে তাতেই কোনমতে ক্যামেরা সহ শরীর ঢেকে রওনা হয়ে গেলাম, জলবর্শার দলের তীব্রতা তখন অনেকটা কমে এসেছে।
398069_10151196436910497_608590496_22877126_975025360_n
একরত্তি শহরটার সাথেই বাসষ্টেশন, মিনিট পনের পরপরই বাস ছাড়ছে মাচু পিঁচুর উদ্দেশ্যে, হিরাম বিংহাম সড়ক দিয়ে একিয়ে বেঁকিয়ে চলেছে পাহাড় শীর্ষে, অনেকেই হাইকিং করে উঠে অবশ্য আবহাওয়া ভাল থাকলে, বেশী রোমাঞ্চপ্রিয়রা সাইকেলে!
394772_10151150968370497_608590496_22721783_1793478652_n
মিনিট বিশেকের যাত্রা, জলভরা পোয়াতী মেঘদের বেয়াদবিতে পথের খুব একটা ঠাহর করবার আগেই গন্তব্য চলে আসল- এখন আধুনিক সভ্যতাকে বিদায় জানিয়ে আমাদের প্রবেশ ইনকাভুবনে।
429483_10151321107790497_608590496_23249835_1843372971_n
যারা আলোকচিত্রের ব্যাপারে সবিশেষ উৎসাহী তারা আগে ছবিগুলো আরেকবার দেখে নিতে পারেন এই খানে !
মাচু পিঁচু নিয়ে তো সারা বিশ্বই মেতে আছে আর পুনরাবিষ্কারের পর থেকে, এর ইতিহাস নিয়ে এত কচকচির আলাদা ভাবে কিছু নেয়, কিন্তু বলুন তো মাচু পিঁচুর সবচেয়ে বড় রহস্যটা এখন পর্যন্ত কি? ভাবতে থাকুন, উত্তর মিলবে লেখার মধ্যেই।
401144_10151344741730497_608590496_23333449_1766050144_n
সাগর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০০০ ফিট উপরে অবস্থিত এই ইনকা শহরটি নির্মিত হয় ১৪৫০ সালে, সম্ভবত ইনকা সম্রাট পাচাকুটির নির্দেশে, কিন্তু এর মাত্র একশ বছর পরেই শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়, কেন তা আমাদের জানা নেয়, হয়ত কোন রোগের মহামারী আকারে প্রকোপের ফলে।
মূল ফটকে অবশ্যম্ভাবী ভাবে গাইডের দেখা মিলল না, বেচারির দোষ দিয়ে লাভ নেই- এমন আবহাওয়ায় কে এত ঘণ্টা বৃথা অপেক্ষা করবে! কিন্তু এর ফলে আমাদের হুয়ানা পিঁচুতে দাড়িয়ে মাচু পিঁচুর চমৎকার দৃশ্য দেখার এবং ছবি তোলার সম্ভাবনা এযাত্রায় থেমে গেল।
428720_10151265967700497_608590496_23107976_867280603_n
সেখানকার টিকেট চেকিং ব্যবস্থা বেশ কড়া, দিনে যেহেতু মাত্র হাজার চারেক দর্শনার্থী যেতে পারে তাই একেবারে নাম ডেকে ডেকে ঢোকাল! এরপরে পাথরের তৈরি রাস্তা, ইনকাদের আমলেরই, হয়ত এখানে একসময় পায়চারী করতেন ইনকা সম্রাট, শ্রমজীবী কৃষকেরা, সেই সাথে বহু শতাব্দী পরের অভিযাত্রীদের দল। এক জায়গায় মাচু পিঁচু আবিস্কারের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ধাতব ফলক বসানো ( এখন অবশ্য শত বর্ষ পূর্তি হয়েছে), আরেকটাতে হিরাম বিংহামের নাম বসানো সেই সাথে লেখা ১৯১১ সালে তার এই বিস্ময়শহরে পদার্পণের কথা।
422852_10151231149935497_608590496_22994447_1880046822_n
আমেরিকার ইয়েল বিশ্ব-বিদ্যালয়ের এই তরুণ অভিযাত্রী শিক্ষককে অনেকে মাচু পিঁচু পুনরাবিষ্কারের জন্য সবটুকুই কৃতিত্ব দেয় যা মোটেও তার প্রাপ্ত নয়, প্রথম কথা হিরাম খুঁজছিলেন ভিলকাবাম্বা নামে ইনকাদের পাহাড়ি রাজধানী, সেটি তিনি পেয়েও যান, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাবে সেটির তাৎপর্য বুঝতে পারেন নি, বরং অভিযান চালাতে চালাতে মাচু পিঁচু এসে উপস্থিত হবার পর ভাবেন এটিই ভিলকাবাম্বা! পরবর্তীতে অবশ্য তার ভুল ধারণার অবসান ঘটে।
424370_10151265967440497_608590496_23107975_172813521_n
সেই সাথে এই কথা দৃঢ় ভাবে বলা যায় হিরাম-ই এর একমাত্র আবিস্কারক নন, স্থানীয়রা অনেকেই এই ইনকানগরীর কথা জানত, এমনকি হয়ত মাঝে মাঝেই তীর্থযাত্রার মত সেখানে গমনও করত, কিন্তু আবিস্কারক হিসেবে তার স্থানীয় গাইডদের বিন্দুমাত্র কৃতিত্ব না দিয়ে সম্পূর্ণ সাফল্যের ভাগিদার হিসেবে তার নামই বলা হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত হিরাম যে একজন নিষ্ঠ গবেষক ছিলেন এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি, তিনি খানিকটা স্টান্টবাজির মাধ্যমে খ্যাতি অর্জনের চেষ্টাতেই বিভোর ছিলেন, এবং মাচু পিঁচু থেকে পাওয়া অগণিত ইনকা কীর্তি অনৈতিক ভাবে গবেষণার কথা বলে আমেরিকায় নিয়ে যান, যা নীতিগত ভাবে অত্যন্ত অন্যায়, যদিও এই বছর ইয়েল বিশ্ব বিদ্যালয় প্রায় ৫০০০ নিদর্শন পেরুর কাছে ফেরত দিবে বলে জানিয়েছে।
হিরাম বিংহাম তার জায়গায় থাক, আমরা এগিয়ে চলি অপূর্ব ভাবে পাথর বাঁধাই করা সেই রাস্তা ধরে, সামনে পিছনে মানুষের মিছিল আর স্বর্গ থেকে তো বৃষ্টি ঝরে পড়ছেই। বেশ কিছু গলি ঘুপচি পেরিয়ে ছাউনি দেয়া তিনটি চালাঘরের দর্শন মিলল, যাদের দেয়ালগুলো খোদ ইনকাদেরই নির্মিত, কিন্তু খড়ের চালা আধুনিক কালে তৈরি, কেবলমাত্র দর্শনার্থীদের একটা ধারণা দেবার জন্য যে কেমন ছিল সেই সময়ের ঘরগুলো।
400803_10151151095815497_608590496_22722204_51414982_n
কারণ, কয়েক শতাব্দী পরিত্যক্ত থাকার ফলে পচনশীল বস্তুর স্থাপনার কোন অবশিষ্টাংশ ছিল না মাচু পিঁচুতে। তাই আগের ইতিহাস ফিরিয়ে নিয়ে আসার কিছু বৃথা চেষ্টা মাত্র। সেই সাথে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরটিকে আগের অবস্থায় কিছুটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে গত একশ বছর ধরেই।
এমন ঘরগুলো মূলত ব্যবহার হত খাদ্যশস্যের গুদাম হিসেবে, কেবল কিছু ঘরে মানুষের আবাস ছিল। এদের পাশের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই আক্কেল গুড়ুম করে চোখে পড়ল লামা ! ল্যাতিন আমেরিকার উট জাতীয় এই প্রাণী মনে হয় সারা বিশ্বের কাছে অতি পরিচিত তার মাংস, পশম, পাহাড়ে চড়ার নেশা এবং ইনকা সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্য ( আলপাকা এবং ভ্যিকুনা নামের আরও দুই প্রজাতি উট আছে সেখানে, এর মধ্যে আলপাকার পশম সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এবং দামী)।
417027_10151300477440497_608590496_23200429_1223139355_n
মনের সুখে সে চরতে চরতে সবুজ লকলকে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে প্রাচীন সেই চারণভূমিতে, তার দর্শন একটু নিকট থেকে পাবার জন্যই আরো কয়েক ধাপ সিঁড়ি টপকিয়ে ফাঁকা মত জায়গাটিতে যেতেই লামার ছবি আর তোলা হলে, অবাক বিস্ময়ে বোবা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম নিচের দিকে, যেখানে কুয়াশা-মেঘের অবগুণ্ঠন খুলে উঁকি দিচ্ছে অসংখ্য বইয়ের মলাটে দেখা একটি ছবি-
399872_10151290082580497_608590496_23169241_1590129866_n
স্বপ্নের মাচু পিঁচু, সাথেই সাথেই মনে কড়া রোদে ঝকঝকে আকাশের নিচের মাচু পিঁচুকে হয়ত দেখতে ভালই লাগত, কিন্তু এর পরিপূর্ণতা যেন এমন রহস্যঘন পরিবেশে আধা উম্মুক্ত আধা দৃশ্যমান অবস্থাতেই। চারপাশে আকাশ ছোঁয়া সবুজ পাহাড়, অনেক নিচে খরস্রোতা উরুবামবা নদী, আর মেঘে ঘেরা মাচু পিঁচু, শিল্পীর আঁকা পটের ছবির মত, কেবল আকাশে উড্ডায়মান গোটাদুয়েক কনডর শকুন বাদ গেছে!
431755_10151231150320497_608590496_22994450_1318972425_n
যে কারণে এত শাপশাপান্ত করে আসা মেঘ আর তার নিক্ষেপিত সন্তান বৃষ্টিকে খানিকটে ধন্যবাদই দিলাম এমন মোক্ষম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য। কিন্তু সেই সাথে সময়ের স্বল্পতা হেতু চরকির মত পাক খেয়ে ঘুরতে থাকলাম প্রাচীন সেই নগরীর রাস্তায়, ময়দানে, শস্যক্ষেত্রে, ভাঁড়ার ঘরে, উদ্যানে, সূর্য মন্দিরে।
423310_10151238953045497_608590496_23023866_1982305124_n
পাথরের উপর পাথর মাপমত সাজিয়ে বসিয়ে কি চমৎকার দেয়ালের মাঝে টেকসই জানাল আর দরজা বানিয়ে নিয়েছিল তারা,
423204_10151265967170497_608590496_23107974_2027158237_n
423421_10151417303450497_608590496_23611260_1568061357_n
এক জায়গায় স্থানীয় বেশ কিছু গাছের সমাহার দেখা গেল,
421186_10151270462225497_608590496_23119652_616835945_n
আবার সেইখানেই দেখা মিলল কিছু পালকময় বন্ধুর, যার মাঝে ছিল একমাত্র পেরুরই বাসিন্দা বিশেষ প্রজাতির হামিংবার্ড।
409034_10151270462005497_608590496_23119651_1643440834_n
427333_10151270461810497_608590496_23119650_1267574428_n
আধা বৃত্তের মত সূর্য মন্দির, অনেক ইতিহাসবিদই মনে করে থাকেন মাচু পিঁচু অত্যন্ত পবিত্র স্থান ছিল ইনকাদের কাছে, এবং এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই হয়ত তারা এইখানে পাহাড়ি শহরটি নির্বাচন করেছিল, স্থাপন করেছিল উপাসনালয়।
399794_10151294989915497_608590496_23186099_887056208_n
সেই সাথে জল সেচের মাধ্যমে এই বন্ধুর ভূমিকেই তারা উর্বর করে তোলে, শস্যক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট ফসলের উৎপাদনের মাধ্যমে হয়ে ওঠে স্বয়ংসম্পূর্ণ তেমনি পশুপালনের মাধ্যমেও হয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে ওঠে মাংস এবং পশমের জোগাড়।
বিশাল শহরটির সর্বত্রই যেন ইতিহাসের জাদু মাখানো, অবাক লাগে, ভাল লাগে, আপ্লুত হয় বিস্ময়ে, মুগ্ধতায়, সেই সাথে বারিধারায়! একবার তো সদলবলে সূর্য বন্দনাও করা হল মেঘমুক্ততার জন্য,
422487_10151373655645497_608590496_23444210_1970137523_n
কিন্তু বিধি বাম, তাই বৃষ্টিস্নাত মাচু পিঁচুর অভিজ্ঞতা নিয়েই ট্রেন ধরার জন্য শুরু হল আমাদের দৌড় !
529148_10151439575050497_608590496_23701857_29861822_n
ও আচ্ছা, বলেছিলাম মাচু পিঁচুর সবচেয়ে বড় রহস্যের কথা, যা আমাদের কাছে আজও অজানা, সেটি হচ্ছে, আমরা যেন কোন শহর নিয়ে কথা বলছিলাম? কেন, মাচু পিঁচু ! আরে, সে তো আমাদের দেওয়া নাম, এর আসল নাম কি মানে ইনকারা শহরটিকে কি নাম ডাকত? উত্তর- আমাদের অজানা আজও !!!

সুত্রঃhttp://www.sachalayatan.com/tareqanu/43872
বিস্তারিত পড়ুন ... »

পল্টন, বই কেনা আর আমার মার্ক টোয়েন হবার গল্প

•
ছোটবেলা থেকেই আমার প্রিয় শখ গুলোর একটা হলো বই পড়া। তাই বলে আমাকে জ্ঞানের সমুদ্র ভাবলে ভুল হবে। আমার আগ্রহ ছিলো সব রকমের গল্পের বইতে। তিন গোয়েন্দা, ফেলুদা, টেনিদা, কাকাবাবু, টিনটিন এমনকি চাচা চৌধুরী পর্যন্ত। দিনের বেশীর ভাগ সময় কাটতো তাই ফেলুদা তোপসের সাথে মগনলালের পিছনে তাড়া করে, না হলে কিশোর পাশার সাথে গোলমেলে ঘড়ির রহস্য ভেদ করে। বই পড়ার পাশাপাশি আর একটা শখ ছিলো, সেটা হলো বই জমানো। স্কুলে পড়ি, এতো বই কেনার টাকা কই পাবো? তাই একমাত্র সম্বল ছিলো পুরোনো বই কেনা। ঢাকার পুরানা পল্টন, নীলক্ষেত আর সদরঘাটে পুরোনো বই পাওয়া যায়। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে কিংবা রিক্সাভাড়ার টাকা বাঁচিয়ে তাই প্রতি সপ্তাহে চলে যেতাম এসব জায়গায়। পুরনা পল্টনটা বাসার কাছে হওয়াতে এখানটাতেই বেশী যাওয়া হতো।

একবারের কথা বলি। তখন ক্লাশ এইটে পড়ি। বেশ কিছু টাকা জমিয়েছি। আমাদের বাসা তখন ফকিরেপুল এলাকায়। অসহযোগ আন্দোলন চলছে। বিএনপি বিরোধী দল ছাড়াই একা নির্বাচন করে সংসদে বসেছে। আর বিরোধী দল সব এক হয়ে জ্বালাও পোড়াও করছে। দৈনিক বাংলায় প্রতিদিন টিয়ার গ্যাস ছোড়া হচ্ছে আর আমরা বাসায় বসে হাঁপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে টিভি দেখছি। কারন স্কুল কলেজ সব বন্ধ। এর মাঝে একদিন মনে হলো সব কিছু শান্ত। মিছিল টিছিল নাই। তাই জমানো টাকা নিয়ে রওনা হলাম পুরনা পল্টনের বইয়ের ডিপোতে। আমার সাথে সবসময়ই কোন না কোন বন্ধু জুটে যেতো। সব ক্লাশেই আমার সাথে চলার জন্য একজন খুব ভালো বন্ধু থাকতো। ক্লাশ এইটে ছিলো তারেক। আমি বাসা থেকে বের হয়ে তারেককে নিয়ে হেটে চলে এলাম পুরনা পল্টনে। এই বই দেখি সেই বই দেখি। খুব হিসাব করে কয়েকটা বই কিনলাম। সব মিলিয়ে জমিয়েছি পঞ্চাশ টাকা। দরাদরি করে পাঁচটার মতো বই পাওয়া যাবে। তাই খুব হিসাব করে কিনতে হবে।
বই খুঁজতে খুঁজতে তোপখানার মোড় পর্যন্ত চলে এসেছি। খুব কাছ দিয়ে কয়েকটা মিছিল গেলো। খালেদার চামড়া তুলে নেবো আমরা টাইপের শ্লোগান দিতে দিতে।তখন সব মিছিলেরই এটা একটা কমন শ্লোগান।খালেদা আর হাসিনার চামড়ার গুনগত মান মনে হয় খুব ভালো। কেননা সব সময় দেখি এদের চামড়া তোলার জন্য সবাই খুব উৎসুক থাকে।যদিও সেই চামড়া তোলার পর সেটা দিয়ে ঠিক কি করা হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা হয় না।
মিছিল খুব একটা স্বাভবিক ব্যাপার তখন। তোপখানার কাছাকাছি একটা দোকানে পৌছানোর পর দেখি একটা হুড়াহুড়ি লাগলো। দোকানদার চিৎকার করে বললো ভাইজান ভাগেন। আমি কিছুই বুঝলাম না। পায়ের কাছে সিলিন্ডার টাইপ কিছু একটা এসে পড়লো। সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি পেছন ফিরে দিলাম দৌড়। আশে পাশে সবাই দেখলাম দৌড়ুচ্ছে। তারেক খুব লম্বা। সে দৌড়ে আমাকে ছাড়িয়ে গেলো। রাস্তার উপর বই পত্র সব ছড়াছড়ি। তরমুজের কিছু দোকান ছিলো। সব লন্ড ভন্ড। রাস্তা ভর্তি তরমুজ পড়ে আছে। পেছনে গুলির শব্দ। আমি তখনো দৌড়াচ্ছি। কোন পথ থেকে কোন পথে গেছি জানি না। এক সময় দেখলাম আমি মতিঝিল পৌঁছে গেছি। আশে পাশে কোথাও তারেককে খুঁজে পেলাম না। পড়ে অবশ্য জেনেছিলাম সে একটা দোকানে মধ্যে লুকিয়ে ছিলো। আর আমি মতিঝিলের মোড়ে টেনিদা সমগ্র নিয়ে দাড়িয়ে রইলাম। সেদিনের পর পুরো ঢাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছিলো অনির্দিষ্ট দিনের জন্য। তাতে আমার কি? আমি ঘরে বসে তখন আয়েস করে টেনিদা সমগ্র পড়ছি।
পুরনা পল্টন নিয়ে আর একটা ঘটনা বলি। ক্লাশের বই পড়ার ব্যাপারে আমার বরাবরই অনিচ্ছা। তবে পাঠ্যবইয়ের একটা লাইন খুবই মনে ধরলো। বই চুরি করা নাকি ঠিক চুরি করা নয়। মার্ক টোয়েন নামে এক বিশাল বড় মানুষ সেটা বলে গিয়েছেন। এই লাইনটা পড়ে আমার মাথায় ঢুকলো, তাহলে তো আমি বই চুরি করলে কোন সমস্যা নাই। আমি তো চাইলেই পুরনা পল্টন থেকে একটা দুইটা বই গাপ করে দিতে পারি। যেই বুদ্ধি সেই কাজ। তখন ক্লাশ নাইনে পড়ি। আমার সাথে সবসময় থাকে মাসুম। তো আমি মাসুমকে নিয়ে একদফা পুরনা পল্টন ঘুরে এলাম। আর চুরি করে নিয়ে নিয়ে এলাম তিনটা বই। বন্ধু মহলে তখন আমরা পুরা হিরো।
একবার চুরি করে সাহস বেড়ে গেলো। দু’দিন পর আবার গেলাম। এবার আরো বেশী বেপরোয়া। একটা বই কিনি তো তিনটা চুরি করি।
কিছু বই মাসুমের হাতে চালান করে দিয়ে আমি মাত্র টিনটিনের একটা বই নিজের কেনা বইয়ের ফাঁকে চালান করতে যাবো এমন সময় পাশের দোকানী ছুটে এলো। কাহিনী হলো, পাশের দোকান থেকে মাত্র ফেলুদার যত কান্ড কাঠমুন্ডুতে বইটা চুরি করে মাসুমকে দিয়েছে আর সে সেটা একদম বাইরে রেখে ঐ দোকানীর সামনেই দাড়িয়ে আছে। দোকানী তো বিশাল চিৎকার চেচামেচি জুড়ে দিলো। আমরা নাকি তার স্টল থেকে বই চুরি করেছি। কাহিনী তো সত্যই। এখন কি করি। আশে পাশে লোক জমে গেলো। আমি গলা উচিয়ে বলা শুরু করলাম ‘মোটেও না। আমি এই বই চাচামিয়ার কাছে থেকে কিনেছি।‘
ঐখানে এক চাচা মিয়া ছিলো। তার কাছ থেকে আমি অনেক বই কিনতাম। তাই বলে দিলাম তার নাম। দোকানী তো বিশ্বাসই করে না। বললো, ‘চলেন তাইলে চাচা মিয়ার কাছে।‘ আমার হাত ধরে টেনে সে চাচামিয়ার দোকানে নিয়ে গেলো। আমার কপাল এমনই খারাপ যে সেই দিন চাচা মিয়া দোকানই খুলে নি। ব্যাস পুরা হাতে নাতে ধরা।
আমার একটা সমস্যা হলো বিপদে পড়লে মাথা গরম হয়ে যায়। আর চিৎকার শুরু করি। আমি তখন বললাম আমি এই বই নীলক্ষেত থেকে কিনে এনেছি। দোকানীরা কিছুতেই বিশ্বাস করবে না। তোপখানার মোড়ে মোটামুটি একটা বিশাল ভিড় লেগে গেলো। আমি আঁড় চোখে দেখলাম তিনজন পুলিশ আসছে। মাসুমের দেখলাম মুখ টুখ শুকিয়ে আমসি হয়ে গেছে। আমি জোড় চিৎকার করা শুরু করলাম। এই দোকানী একটা পুরান বই আমাকে গছাতে চেয়েছিলো । আমি নেই নি বলে সে আমার নামে মিথ্যা বলছে। এই কাহিনী বানালাম। যদিও কাহিনীটা নিজের কাছেই রুপকথার গল্প মনে হলো।
এর মাঝে ভীড়ের মধ্যে এক কম বয়সী দেখলাম আমার পক্ষ নিলো। মনে হয় ইউনিভার্সিটিতি পড়ে। সেও বলতে শুরু করলো । ‘আসলেই এই সব দোকানদারদের কোন নীতি নাই। এরা ছোট ছোট পোলাপারনদের কাছে বেশী দামে বই বেঁচে।‘ ইত্যাদি ইত্যাদী। আমি তো হাতে চাঁদ পেলাম।আমার চিৎকার আরো বেড়ে গেলো। এই দোকানী আগে কোনদিন আমাকে ঠকিয়েছে, আগে কোনদিন আমোকে ছেড়া বই দিয়েছে সব ফিরিস্তি শুরু করলাম উৎসাহ পেয়ে। ভীড়ের মাঝে দেখলাম জনমতও আমার পক্ষে আসছে। অবশেষে সবাই মিলে দোকানদারকে খুব বকাঝকা করলো। আমার তখন খারাপ লাগা শুরু হলো। কিন্তু তখন আর কিই ই বা করতে পারি। ডজন খানেক চুরি করা বই আর মনের মাঝে তীব্র অপরাধ বোধ নিয়ে ফিরে এলাম ঘরে।
এরপর যতবারই পল্টনের ঐ জায়গাটা দিয়ে গেছি মাথা সেই দোকানদার কে খোঁজার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাই নি। যদি কোনদিন পাই অবশ্যই তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবো। হোক না দশ টাকার বই। হোক না তখন আমি ছোট মানুষ।কিন্তু আমি তারকাছে দশ হাজারগুণ ছোট হয়ে গেছি মানুষ হিসেবে। মার্ক টোয়েনের কথা মনে হয় সবসময় সত্যি নয়।
বিস্তারিত পড়ুন ... »

ফাতু-হিভা , আমার প্রিয় বই

•
ফাতু-হিভা, আমাদের গ্রহের স্বর্গ। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে, আর সব দেশ-মহাদেশের বাঁধন ছিন্ন করে অতল নীল মহাসাগরের বুকে ফুঁড়ে ওঠা চির সবুজে ছাওয়া পাথর-মাটি মেশানো কয়েকটি একরত্তি দ্বীপের সমাহার। পলিনেশিয়ায় অবস্থিত, তাহিতির খুব কাছের মারেক্কস দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত ত্রিভুবনের অমরাবতী।
নরওয়ের পাঁশুটে শহরজীবনের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে এক সোনালীচুলো যুবক ঠিক করল সারা জীবনের জন্য চলে যাবে এই শহর আর কৃত্রিম সভ্যতা ছেড়ে, ফিরে যাবে প্রকৃতির কোলে, যেখানে সময় অফুরন্ত, নেই অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য নগ্ন হাহাকারময় চাহিদা, জীবন যাপনের অত্যাবশ্যকীয় আহার, পানীয়ের নুন্যতম সংস্থান হলেই খুশী থাকে সবাই। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বজ্রের দেবতা থরের নামে নাম এই যুবকের থর হেয়ারডাল। অনেক হিসাব নিকাশ কষে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে রওনা দিলেন এই স্বর্গ পানে, কোন দিন লোকসমাজে না ফেরার প্রতিজ্ঞা নিয়ে। তাকে নিয়ে অবশ্য একটি লেখা লিখেছিলাম সচলে আগে।
সারা বিশ্ব পরবর্তীতে থর হেয়ারডালকে চিনেছে প্রাতঃস্মরণীয় অভিযাত্রী, নৃতত্ত্ববিদ, লেখক হিসেবে। কন-টিকি, রা, ইউফ্রেতিস প্রমুখ দুঃসাহসী অভিযানের দলনেতা হিসেবে। কোটি কোটি মানুষের ধারণা ভুল প্রমানিত করে স্রেফ বালসা কাঠের তৈরি ভেলায় আধুনিক সাজ-সরঞ্জাম ছাড়াই পাড়ি দিলেন প্রশান্ত মহাসাগরের বিপুল বিক্ষুদ্ধ জলরাশি, প্রমাণ করার চেষ্টা চালালেন আদি রেড ইন্ডিয়ানরা অনেক আগেই ল্যাতিন আমেরিকা থেকে একই ভাবে ভেলার মাধ্যমে যেয়ে বসতি গেড়েছিল পলিনেশিয়ায়। একই চেতনায় নলখাগড়া দিয়ে নৌকা বানিয়ে পাড়ি দিলেন আটলান্টিক মহাসাগর, দেখাতে চাইলেন প্রাচীন মিশরীয় ও মায়া সভ্যতার মধ্যকার মেলবন্ধন কিন্তু ফাতু-হিভা ছিল তার প্রথম যাত্রা- নিজের সন্ধানে, জ্ঞানের জিগীষায়, প্রকৃতির খোঁজে।
১৯৩৮ সালে নরওয়েজিয়ান ভাষায় প্রকাশিত হয় ফাতু-হিভা, ২য় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে আন্তর্জাতিক মহলের চোখে পড়বার আগেই লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় এই মহান আলেখ্য, অনেক অনেক দশক পরে ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় তা ইংরেজিতে। ব্যস, ভিনি, ভিডি, ভিসি- কোটি কোটি পাঠকের মনে চিরস্থায়ী আসন গেড়ে বসল তার সেই স্মৃতিচারণা।
থরের ঝুলিতে ছিল মুক্তোঝরা ভাষা, অভিজ্ঞ ডুবুরীর মত মনের শব্দ ভাণ্ডারের অতলে ডুব দিয়ে অনায়াসে নানা মূল্যবান শব্দ সম্ভার তুলে এনে শিল্পীর অপরিসীম দক্ষতায় ছুঁয়ে ছেনে পরিমাপমত একের পর এক স্বচ্ছ দ্যুতিশীল মায়াময় শব্দ বসিয়ে নির্মাণ করেছেন কল্পলোকের সাহিত্যদুর্গ। সেই অবারিত দ্বিধাহীন পথ বেয়ে আমিও চলে গিয়েছি অজস্রবার স্বপ্নের দ্বীপপুঞ্জে, যেখানে সবুজ নারকেল পাতার চিরল বাতাসে কেপে ওঠে ভোরের মৃদু আলো, দিগন্তে আকাশ আর সাগরের মিলনস্থানে কেবলই মন ভুলানো নীলের সহাবস্থান, দীঘল ঘাসের বনে সরসর করে ছুটে যায় মুক্ত হাওয়া, গতিতে তার বুনো ঘোড়ার উদ্যমের প্রাচুর্য, নিশিরাতে নিশাচর পাখির শব্দ ছাড়া সমস্ত বিশ্ব চরাচর নিস্তব্ধ, আকাশগঙ্গার অনন্ত নক্ষত্র বীথি নেমে আসে আমার মাথায় চাঁদোয়া খাটিয়ে দিতে প্রতিদিন সেই দূষণমুক্ত আকাশে।
তার শব্দ বিন্যাস আর রচনাগুণে নিশিগ্রস্ত মানুষের মত আমি ভিড়ে যাই থর আর তার স্ত্রী লিভের দলে, সমস্ত ধরনের কোলাহল থেকে যোজন যোজন দূরে এসে প্রথম সন্ধ্যায় তাবু খাটায় তারা, নক্ষত্রের আগুনে আলোকিত নিবিড় শান্তিময় মধ্যরাতে হঠাৎ কামানের গোলা পতনের শব্দে হতচকিত করে তোলে সবাইকে, সন্ধান করে পাওয়া যায় ঝড়ো বাতাসে উপর থেকে খসে পড়েছে ঝুনো নারকেল! নিরীহ দর্শন নারকেলগুচ্ছকে এমন মৃত্যুদূতের ভূমিকায় দেখে নিরাপদ স্থানে তাঁবু সরিয়ে ফেলে তারা, প্রথমবারের মত বিপদের সম্মুখীন হয়ে সেই পুরনো বাণী উদয় হয় তাদের চিন্তা মাঝে- স্বর্গেও সাপ আছে!!
আদিম জীবনে ফিরে যাবার প্রানান্তকর চেষ্টা চালায় তরুণ দম্পতি, লজ্জা নিবারণের যৎসামান্য আবরণ ধারণ করেই ক্ষুন্নিবৃত্তি মেটাবার তাগিদে ফল আহরণ ও মাছ শিকারে সচেষ্ট হয় তারা, রূপকথার আদম- ইভের মত। কিন্তু স্বর্গে একা নয় তারা, আছে স্থানীয় আদিবাসীরা, যারা দেখাতে লাগল মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহ এই পাগলাটে শ্বেতকায়দের ব্যাপারে, নিরিবিলি স্বেচ্ছা নির্বাসনের মূল ধারণাই ভেস্তে যায় বুঝি!
ক্রান্তীয় জঙ্গলের গভীরে কুঁড়ে বানালেন বাঁশ কেটে, ঘর ছাইলেন পাতা দিয়ে, শুরু হল অন্য ধরনের সংসার জীবন। উৎপাত হিসেবে চলতে থাকল পাগল করা জীবাণু পরিবহনকারী মশার কামড়, প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্যান্য রোগের সংক্রমণ। সেই সাথে স্থানীয়দের অসহযোগিতা।
অবশেষে কুঁড়ে ছেড়ে অন্য দ্বীপে যেয়ে তারা পাথরের গুহার আশ্রয় নেন। একইসাথে নানা দ্বীপের আদিবাসীদের সংশ্রবে এসে তাদের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার আগ্রহ জন্ম নেয় থরের মনে, সেখানে প্রাপ্ত প্রাচীন মাথার খুলি ও লোকগাথায় ল্যাতিন আমেরিকার সাথে অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পান তিনি, বিশাল সব নির্বাক প্রস্তর মূর্তি দেখে মাথার ভেতরে প্রশ্ন ফেনিয়ে ওঠে তাহলে কি প্রচলিতমতের পূর্ব এশিয়া নয়, দক্ষিণ আমেরিকাই এই দ্বীপবাসীদের আদি বাসস্থান।
সেখানে দেড় বছরের অবস্থানের এক ফাঁকে স্বপ্নদ্বীপ তাহিতি গিয়েছিলেন তিনি, মালিক বনেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রাইফেলের, কারণ সেই রাইফেলের কাঠের কুঁদোতে যে রঙচঙে ছবি আঁকা ছিল তা এঁকেছিলেন স্বয়ং পল গগ্যাঁ! ইম্প্রেশনিজমের দিকপাল এই ফরাসী চিত্রকর তার জীবনের সেরা কাজগুলো সবই করেছিলেন আলো ঝলমলে তাহিতিতে, তার সমাধিও এইখানে অবস্থিত। পরে এক বেরসিক কাস্টমস কর্মকর্তা নিরাপত্তার দোহাই দেখিয়ে রাইফেলের কুঁদোটি খুলে নেয়, লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় সেই বিশ্ব সম্পদ।
এমন ভাবে আরব্যপন্যাসের জাদুকরের মত বইয়ের খসখসে পাতায় নির্বাক পিঁপড়ার সারির মত কালো কালো অক্ষরগুলো থেকে লাল-নীল-সবুজ বর্ণময় ছন্দময় কাহিনীর জন্ম নেয় একের পর এক থরের বর্ণনার গুণে। আমাদের চারপাশের চেনা জগত একনিমিষে রঙধনুর সপ্তবর্ণা ত্রান্তীয় অঞ্চলে পরিণত হয়।
নরখাদকদের সাথেও পরিচয় ঘটে তাদের, বাস করতে হয় একই সবুজ উপত্যকায় প্রতিবেশী হিসেবে, গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাদের জীবনধারা। পান ভবিষ্যৎ গবেষণার পর্যাপ্ত রসদ, যা তাকে ব্যস্ত রাখে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
বইটির শেষ পর্যায়ে এসে ফেলে আসা শহুরে জীবনের টানে উম্মুখ হয়ে পড়েন তরুণ দম্পতি, যতটা না সেই নিরাপদ জীবনের আরাম-আয়েশের জন্য, তার চেয়ে বেশী এখানকার নানা সমস্যার কারণে।
থর ফিরে আসেন নরওয়েতে, রেখে যান তার লিগ্যাসি। আর এক অমূল্য স্মৃতিকথা, যা আমার মত পাঠকদের দিবারাত্রি নিয়ে যায় দক্ষিণের সেই স্বর্গে। ফাতু-হিভার কাছে আমার অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার প্রেরণা দেবার জন্য, নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে পড়বার জন্য, সর্বোপরি জীবনকে ও আমাদের সুন্দর গ্রহটাকে ভালবাসতে শেখাবার জন্য।
tumblr_lbxh93dR8n1qdyd55o1_500 


সুত্রঃhttp://www.sachalayatan.com/tareqanu/43215
বিস্তারিত পড়ুন ... »

বিশ্বের সবচেয়ে বড়/সেরা ৫ সমুদ্রবন্দর

•

আগেই বলে নেয়া ভাল যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেরা সমুদ্র বন্দরগুলোর বেশির ভাগই চায়নাতে অবস্থিত। আর এগুলো যে শুধু বড় তা নয়; সবচেয়ে ব্যস্থতমও বটে।
আসুন জেনে নেই তাহলে এগুলো বন্দরের খবর।
১। Shanghai (China)
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দরগুলোর মধ্যে সবার উপরে অবস্থান। ২০১০ সালের পরিসংখ্যান মতে, একমাত্র এই বন্দর (একইসাথে সমুদ্র এবং নদী) থেকেই ২৯ মিলিয়ন টি ই ইউ হ্যান্ডেল করা হয়েছিল। য গত বছর গুলোর তুলনায় অনেক বেশী।

Yangtze নদীকে ঘিরেই এখানে এত বড় ইকোনমিক সমৃদ্ধি গড়ে উঠেছে।
২। Ningbo-Zhoushan (China)
Ningbo এবং Zhoushan এই দুই যৌথ বন্দরকে ঘিরেই এর নামকরণ করা হয় ২০০৬ সালে। যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দরগুলোর মধ্যে ২য় অবস্থানে আছে।

৩। Singapore
সিংগাপুর বন্দর বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়াতে এখন এই বন্দর বিশ্বের ৩য় অবস্থানে আছে।

সিংগাপুর বন্দরটি ১০০ টির অধিক দেশের ছড়িয়ে থাকা ৬০০ টি বন্দরের সাথে যুক্ত আছে।
৪। Rotterdam (নেদারল্যান্ড)
সারা ইউরোপের একমাত্র বন্দর যা ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে। ১৯৬২ – ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই বন্দর বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন্দর হিসেবে ১ নম্বর স্থানে অবস্থা করেছিল।

৫। Tianjin (China)
এই বন্দরের অবস্থান Haihe নদীর সাথে। বর্তমানে এই বন্দরের সাথে সারা বিশ্বে প্রায় ২০০ টি দেশের ৪০০ টি বন্দর সংযুক্ত। পুরো চায়নাতে এই বন্দরের অবস্থান ৩য় তে।








সুত্রঃhttp://www.somewhereinblog.net/blog/mahbub154/29539338
বিস্তারিত পড়ুন ... »

সত্যজিৎ এর ফেলুদা ও আমার ভাবনা,সাথে ফেলুদার সকল মুভির ডাউনলোড লিংক

•

মাঝে বেশ দেখা হয়ে গেলো ফেলুদা বিষয়ক বেশ কয়েকটি মুভি।এর মধ্য আছে রয়েল বেঙ্গল রহস্য,গোরস্থানে সাবধান,টিনটোরেটোর রহস্য,বোম্বাইয়ের বোম্বেটে,কৈলাসে কেলেঙ্কারি,সোনার কেল্লা, বাক্স রহস্য।বাকি আছে শুধু জয় বাবা ফেলুনাথ ।
সেই সব মুভির উপর ভিত্তি করেই একটা সমালোচনা করার দুঃসাহস করলাম।
প্রথমে বলতে গেলে,নির্মাণ শৈলীর দিক দিয়ে সন্দীপ রায় বাণিজ্যিক খানিকটা,হয়তো এখনকার জামানায় এটাই খাটে।কিছু জায়গায় আধুনিক তথা সমসাময়িক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন।উদাহরণ স্বরূপ বলতে গেলে টিনটোরেটোর রহস্য আর গোরস্থানে সাবধানে কাহিনী থেকে সরে আসার অনেক আলামতই পাওয়া যায়।অন্যদিকে সত্যজিৎ সেটার ধারে কাছে না।কারণ তিনি নিজেই একটা ব্রান্ড ছিলেন বৈকি।তবে সন্দীপ রায়ের মেকিং খুব একটা আহামরি লাগেনি।কারণ সত্যজিৎ এমন ভাবেই গল্প সাজিয়েছেন আমার মনে হয় না তাঁর খুব মাথা খাটাতে হয়েছে ফেলুদা নিয়ে।ফেলুদার বাইরে তাঁর সৃষ্টি দেখার অপেক্ষায় আছি।দেখি তিনি নিজের স্বকীয়তায় কি করতে পারেন।
এখন আসি ফেলুদা বা প্রদোষ মিট্টির এ।সৌমিত্র থেকে সব্যসাচী আমার মতে সত্যজিৎ এর ফেলুদার চরিত্রে এঁরাই একবারে আদর্শ।তবে আমার সৌমিত্রের চেয়ে সব্যসাচী কে যথেষ্ট ক্ষুরধার আর সচল,পারফেক্ট মনে হয়েছে।৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা বাঙালী নায়ক পাওয়া আসলে ভাগ্যের ও ব্যাপার বটে।সব্যসাচীর তরুণ বয়সের ফেলুদা অর্থাৎ “বাক্স রহস্যে” যাকে আমরা পাই,বলতে গেলে তার অবয়ব গল্পে পড়া ফেলুদার সাথে একে বাড়েই মিলে যায়। তবে সব্যসাচী ঘোষণাই দিয়ে বসেছেন যে তিনি আর ফেলুদা হচ্ছেন না।গল্পের ফেলুদার তো বয়স বাড়ে না বাস্তবের ফেলুদার তো বয়স বাড়ে বৈকি।এখন দেখার বিষয় এর পরের ফেলু মিত্তির কে হন।
এবার আসি তোপসে তে।সত্যজিৎ এর ফেলুদা গল্পে তোপসে লেখক নিজেই।অর্থাৎ সত্যজিৎ ভাবতেন তিনিই তোপসে।এটা অবশ্য আমি মনে করি।তাঁর লেখায় তোপসে কে যত প্রাণবন্ত আর চৌকস লাগে কোন মুভিতে আজ অব্দই ঐ ভাবে তোপসে কে পাইনি।এটা আসলে সত্যজিৎ থেকে সন্দীপ সকলেরই ব্যর্থতা।এখন মন্দের ভালো খুঁজে হলে বলবো,পরমব্রতকে যা একটু ভালো লেগেছে অভিনয়ে।আর ছোট বেলা বিটিভিতে শাশ্বত চ্যাটার্জির তোপসে চরিত্রে খারাপ লাগেনি।বাক্স রহস্য মুভিটা ( এটা টিভির জন্য বানানো)তে সব্যসাচী আর তোপসের কেম্যাস্ট্রী আমার কাছে সবচেয়ে পারফেক্ট মনে হয়েছে।আর শেষ যে দুটো ফেলুদায় অর্থাৎ গোরস্থানে সাবধান আর রয়েল বেঙ্গল রহস্যে যেই তোপসে কে দেখলাম,ঐটা দেখে পুরোপুরি হতাশই হয়েছি।
এবার বলি জটায়ু কথন।বিভুদা আমার মতে জটায়ু চরিত্রে ভালো ভাবে উৎরে গেছেন।তাঁর সব মুভমেন্ট ফেলুদার মুভিতে শীতল পরশ যোগায়।তবে আমার সব সময়ই মনে হয়েছে এই ফেলুদা আর জটায়ুর মধ্য অদৃশ্য দেয়াল আছে।আর একজন আছেন জটায়ুতে তিনি হচ্ছে রবি ঘোষ।তাঁর অভিনয় আমাকে বাক্স রহস্যে মুগ্ধ করে দিয়েছে।তবে বিভু ভট্টাচার্য রবি ঘোষের কাছে হেরে গেছেন আমার কাছে অন্তত তাই মনে হয়েছে।বিভুদা রয়েল বেঙ্গল রহস্য এর শুটিং ডাবিং শেষ হওয়ার পর মৃত্যু বরণ করেন।ঠিক তেমনি রবি ঘোষ ও কোন এক ফেলুদার শুটিং ডাবিং শেষ করে মৃত্যু বরন করেন।বলতে গেলে কাকতালীয়।তবে এর মধ্য কেমন যেন রহস্য পেলাম।
ভাবনা গুলো একান্ত আমার,মিল অমিল হতেই পারে।ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
এখন ফেলুদার আজ অব্দই সকল মুভির ডাউনলোড লিংক দিচ্ছি
সোনার কেল্লা

ডাউনলোড লিংক
বাক্স রহস্য

ডাউনলোড লিংক
Password : lordshaw
জয় বাবা ফেলুনাথ

ডাউনলোড লিংক
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে

ডাউনলোড লিংক
কৈলাসে কেলেঙ্কারি

ডাউনলোড লিংক
টিনটোরেটোর যীশু

ডাউনলোড লিংক
গোরস্থানে সাবধান

ডাউনলোড লিংক
রয়েল বেঙ্গল রহস্য

ডাউনলোড লিংক
ডা: মুনসীর ডায়রি


ফেলুদাকে নিয়ে অন্জন দত্ত ও কবীর সুমনের গান




বিস্তারিত পড়ুন ... »

bdnews24.com - Home

ইরান বাংলা নিউজ

বিবিসি বাংলা

দৈনিক সংগ্রাম